ওয়েবসাইট বিপর্যয় ও মুক্তির উপায় – পর্ব ১

বাংলাদেশে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় ফল প্রকাশের সাথে সাথেই একটি বিপর্যয় শুরু হয়ে যায়। তবে সেটি কিন্তু ফলাফল বিপর্যয় নয়, সেটি হচ্ছে ওয়েবসাইট বিপর্যয়। ওয়েবসাইটে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হলেও বেশিরভাগ মানুষই ওয়েবসাইট থেকে রেজাল্ট দেখতে পারে না। মনে হয় ওয়েবসাইটটি যেন হ্যাং হয়ে আছে।

এই সমস্যা হওয়ার কারণ হচ্ছে ওয়েবসাইটের আর্কিটেকচার। সাধারণত ওয়েবসাইটগুলো বানানো হয় এভাবে : সবার পরীক্ষার ফলাফল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। ওয়েবসাইটে কোনো ফর্ম সাবমিট করা হলে (যেমন বোর্ড এবং রোল নাম্বার সিলেক্ট করে সাবমিট করলে) সেই রিকোয়েস্ট সার্ভারের কাছে যায়। সার্ভার তখন ডাটাবেজে কুয়েরি করে রেজাল্ট আনে নিজের কাছে। তারপর সেটা প্রসেসিং করে পাঠিয়ে দেয়। তখন ব্যবহারকারি ওয়েবসাইটে পরীক্ষার ফল দেখতে পারে।

webarch

এখানে দুটো জিনিস লক্ষ করতে হবে। ওয়েবসাইট থেকে রিকোয়েস্ট প্রথমে যখন সার্ভারের কাছে যায়, সেখানে একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন সার্ভার (যেমন : এপাচি কিংবা ইঞ্জিন-এক্স) সেটি হ্যান্ডেল করে। সেই ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন সার্ভারের রিকোয়েস্ট হ্যান্ডেল করার একটি ক্যাপাসিটি থাকে, যেই ক্যাপাসিটির বেশি রিকোয়েস্ট সে হ্যান্ডেল করতে পারে না। দ্বিতীয়ত হচ্ছে ডাটাবেজ সার্ভার (যেমন : মাইএসকিউএল, পোস্টজিআরই এসকিউল, ওরাকল)। সেটিরও রিকোয়েস্ট বা কানেকশন হ্যান্ডেল করার একটা সীমা থাকে। একই সাথে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক কানেকশনের বেশি সে হ্যান্ডেল করতে পারে না। তাই ফলাফল প্রকাশের পর যখন লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক ওয়েবসাইটে ফল দেখার চেষ্টা করতে থাকে, সার্ভারের ওপর তৈরি হয় প্রচন্ড চাপ, যেই চাপ সে সামলাতে পারে না এবং ওয়েবসাইটি থেকে আর ফলাফল দেখা সম্ভব হয় না।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কী? উপায় হচ্ছে ডিসট্রিবিউটেড কম্পিউটিং (distributed computing), যা ক্লাউড কম্পিউটিং (cloud computing) ব্যবহার করে সহজে করা যায়। আগামী পর্বে লিখব ২০১১-২০১২ সালের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের ওয়েবসাইটের জন্য  ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহারের অভিজ্ঞতার কথা।

দ্বিতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Facebook Comments

1 thought on “ওয়েবসাইট বিপর্যয় ও মুক্তির উপায় – পর্ব ১”

Leave a Reply