ক্যারিয়ার এডভাইজ – ২

সফটওয়্যার টেস্টিং
প্রোগ্রামার যারা, তারা সফটওয়্যার তৈরি করবে এবং তৈরি করার পর (খুব ছোট সফটওয়্যার না হলে) সেই সফটওয়্যারে অনেক বাগ থাকে, সমস্যা থাকে, অন্যান্য ইস্যু থাকে। গ্রাহককে সফটওয়্যার দেওয়ার আগে এগুলো টেস্ট করে বাগগুলো দূর করতে হয় এবং তারপর গ্রাহককে দিতে হয়। তাই প্রায় যেকোনো সফটওয়্যার কোম্পানিতে সফটওয়্যার টেস্টারদের প্রয়োজন। তুমি যে কমার্শিয়াল সফটওয়্যার দেখ বা ব্যবহার কর, এটা অবশ্যই টেস্টিং হয়ে এসেছে। কাজেই যেই পরিমান প্রোগ্রামার প্রয়োজন প্রায় সেই পরিমান টেস্টারও প্রয়োজন।

অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারণা আছে যে, সফটওয়্যার টেস্টার হতে হলে প্রাগ্রামিং জানতে হবে না বা অনেকের যাদের প্রোগ্রামিং ভালো লাগে না, তারা হয়ত ভাবে আমি সফটওয়্যার টেস্টার হব। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো টেস্টারদের প্রোগ্রামিং জানতে হয় না, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই টেস্টারদের প্রোগ্রামারদের মত অত প্রোগ্রামিং না জানলেও বেসিক কিছু প্রোগ্রামিং জানতেই হবে। অনেক টেস্টিংই করতে হয় বিভিন্ন অটোমেশন টুলের মাধ্যমে। টেস্টিংএ দুইটা জনপ্রিয় অটোমেশন টুল হচ্ছে রুবি আর পাইথন। অনেক ফ্রেমওয়ার্ক আছে, কিন্তু বেসিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের নাম বললাম। কাজেই যারা টেস্টার হতে চাও, তারা যদি রুবি বা পাইথন শিখো তবে এটা অনেক উপকারি হবে। সফটওয়্যার ডেভেলপারদের মত সফটওয়্যার টেস্টারও পরবর্তীতে বিভিন্ন ফিল্ডে যেতে পারে। যেমন, শুরু করতে পারে টেস্টিং ক্যারিয়ার দিয়ে এবং তারপরে বিজনেস এনালিস্ট হতে পারে, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টে যেতে পারে, সফটওয়্যার লিড ম্যানেজমেন্টে যেতে পারে।

ডাটাবেজ
ডাটাবেজের প্রধান দুটি ট্র্যাক হচ্ছে ডাটাবেজ অ্যাডমিনিসট্রেশন আরেকটা হচ্ছে প্রোগ্রামিং এবং আরও বেশ কিছু ছোট ছোট ট্র্যাক আছে। ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্র্যাসনে প্রধানত ডাটাবেজ ম্যানেজ করতে হয়। বেসিক্যালি ডাটাবেজ প্রোগ্রামাররা, প্রোগ্রামারদের সাথে খুব ক্লোজলি কাজ করে। আরেকটা জিনিস যেটা আমাদের ছাত্র অনেকই জানে না যে, ডাটা এনালাইটিকস একটা সম্ভাবনাময় ফিল্ড। ফিল্ডটা আগে থেকেই ছিল, কিন্তু এখন খুব জনপ্রিয় হচ্ছে এবং এটার চাহিদা অনেক বেড়ে গিয়েছে। ডাটা সাইন্স, ওয়ারহাউজিং এসবের চাহিদা অনেক বেড়ে গিয়েছে। আর ডাটা একটু মজার এই কারণে যে, যারা সিএস পড়েছে, তাদের জন্য তো অবশ্যই এবং যারা পরিসংখ্যান পড়েছে, তাদের জন্যও ভালো একটা ক্যারিয়ার পাথ। কাজেই এখানে দুই ফিল্ড থেকেই লোক আসে, আইটি থেকেও আসে আবার পরিসংখ্যান ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেও লোকজন আসে। তবে দুইজন দুই রকমের কাজ করে হয়তো। যারা পরিসংখ্যান থেকে এসেছে তারা হয়ত ডিজাইন করে, আর যারা আইটি থেকে আসে তারা হয়ত ডাটা ওয়ারহাউজিং এর কাজ করে। তোমরা প্রচলিত ডাটাবেজগুলোর নাম জান, যেমন ওরাকল, এসকিউএল সার্ভার, মাইএসকিউএল, পোস্টগ্রেজএসকিউএল। তাই এগুলো নিয়ে কিছু বলছি না। কিন্তু নতুন বলতে প্রায় ১০ বছর ধরে যেটার কথা বাংলাদেশের অনেকে হয়তো জানত না যে, নোএসকিউএল নামের এক ধরনের ডাটাবেজ আছে। এগুলো এসকিউএল ডাটাবেজ না। কিন্তু এগুলো এখন বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। বেশকিছু প্রোজেক্টে এগুলো খুব কার্যকরী। নতুন নতুন অনেক স্টার্টআপ তৈরি হচ্ছে, যারা এই নোএসকিউএল ডাটাবেজ ব্যবহার করে।

linux-unix_logo
সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
সিস্টেম অ্যাডমিনিসট্রেশন সম্পর্কে অনেকে হয়তো জানে বেসিক্যালি অপারেটিং সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্র্যাট করতে হয়, মেশিন অ্যাডমিনিস্ট্র্যাট করতে হয়, ডাটা অ্যাডমিনিস্ট্র্যাট করতে হয়। এখানে বিশেষীকরণের সুযোগ থাকে, কেউ লিনাক্স সাইডে থাকে, কেউ উইন্ডোজ সাইডে যায়। ডেভঅপস হচ্ছে নতুন একটা ফিল্ড যেখানে ডেভেলপার আর অপারেশনাল কাজ হয়। এটা একটা সম্ভাবনাময় ফিল্ড। কেউ যদি ডেভঅপস হতে চায়, তবে তাকে প্রোগ্রামার হতে হবে আবার সিস্টেম অ্যাডমিনিসট্রেটরও হতে হবে। কিছুটা নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিসট্রেশনও জানতে হবে। যারা সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেসনে আসতে চায়, তারা সিকিউরিটি নিয়েও কাজ করতে পার। বিভিন্ন কারণে আজকাল এটাও বেশ হট টপিক।

নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিসট্রেশন সম্পর্কে তেমন কিছু কাভার করছি না। নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিসট্রেশন মানে হচ্ছে নেটওয়ার্ক সেটআপ করানো। বাংলাদেশে বেশ কিন্তু কোম্পানি আছে যারা নেটওয়ার্ক ডিজাইন এবং প্লানিং করে দেয়। এখানেও সিকিউরিটি আছে।

3666796961_0ab03e7c49

এনালিস্ট
সিস্টেম এনালিস্ট এবং বিজনেস এনালিস্ট, এরা সব সময় সিএস থেকে আসে না, ননসিএস ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেও আসতে পারে, কিন্তু সিএস ব্যাকগ্রাউন্ড বা আইটি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসলে অবশ্যই সুবিধা বেশি হয়। একজন প্রোগ্রামার ৫/৭ বছর কাজ করার পর এনালিস্ট হতে পারে, আবার কেউ এনালিস্ট হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারে। এনালিস্টের কাজ হচ্ছে, গ্রাহকদের সাথে কথা বলতে হয়, গ্রাহকের কি প্রয়োজন তা বুঝতে হয় এবং এটা সফটওয়্যার কোম্পানির উপর নির্ভর করে। যেসব কোম্পানি আউটসোর্সিং করে তাদের গ্রাহকের সত্যিকার প্রয়োজন বুঝে সেই সিস্টেমটা প্রোগ্রামারদের বুঝিয়ে দিতে হয়, অথবা কিছুটা ডিজাইন করে দিতে হয় যেন প্রোগ্রামাররা প্রোগ্রামটা তৈরি করতে পারে। আমাদের মত যেসব কোম্পানি যারা প্রোডাক্ট তৈরি করে এদের এখানে এনালিস্ট জবটা বেশ ইন্টারেস্টিং। এরা বিভিন্ন বিষয় এনালাইসিস করে বের করে কি প্রোডাক্ট হলে গ্রাহকের কাজ সহজ হবে। এই রোলটা হচ্ছে সবচেয়ে সৃজনশীল, প্রোগ্রামিংও সৃজনশীল। গ্রাহকের সব চাহিদার কথা মাথায় রেখে তারপর ডেভেলপমেন্ট টিমকে কাজ বুঝিয়ে দেয়।

প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট
এই ফিল্ডেও আইটি ও ননআইটি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে লোকজন আসে। কিন্তু আইটি থেকে আসলে আলাদা সুবিধা পাওয়া যায়।

পরবর্তী পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

বিশেষ দ্রষ্টব্য : থেরাপ সার্ভিসেস লিমিটেড কর্তৃক আয়োজিত নিয়মিত ওয়েবিনারের একটি পর্ব ছিল প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার নিয়ে। সেখানে বক্তা ছিলেন থেরাপের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা (সিটিও) মোজাহেদুল হক আবুল হাসনাত (মাসুম)। থেরাপ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে সেই ওয়েবিনার থেকে টেক্সটে রূপান্তর করে আমার ব্লগের পাঠকদের জন্য পোস্ট করলাম।

Facebook Comments

1 thought on “ক্যারিয়ার এডভাইজ – ২”

Leave a Reply