ক্যারিয়ার এডভাইজ – ৩

থেরাপ সার্ভিসেস লিমিটেড কর্তৃক আয়োজিত নিয়মিত ওয়েবিনারের একটি পর্ব ছিল প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার নিয়ে। সেখানে বক্তা ছিলেন থেরাপের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা (সিটিও) মোজাহেদুল হক আবুল হাসনাত (মাসুম)। থেরাপ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে সেই ওয়েবিনার থেকে টেক্সটে রূপান্তর করে আমার ব্লগের পাঠকদের জন্য পোস্ট করলাম।

প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তৃতীয় পর্ব

আমার মতে একজন ছাত্রের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ
প্রথম হচ্ছে, তুমি যদি প্রোগ্রামার হতে চাও, তাহলে প্রোগ্রামিং করতে হবে। প্রোগ্রামার হতে চাই, এই স্বপ্ন নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, ছাত্র অবস্থাতেই তোমার প্রোগ্রামিং করতে হবে।

kung-fu-panda-3d-film-animazione1
প্রোগ্রামিংটা হচ্ছে অনেকটা খেলাধুলার মত। যেমন ফুটবল, তুমি যদি সারাদিন ম্যারাডোনা বা পেলের জীবনী পড় তবে তুমি ভাল খেলোয়াড় হতে পারবে না। আবার এটাও ঠিক যে ফুটবল কিভাবে খেলে সেটা বই পড়ে বা কারো কাছ থেকে জানতে হবে, কিন্তু ভালো খেলোয়াড় হতে হলে তোমাকে ফুটবল খেলতে হবে। খেলতে খেলতেই তুমি খেলোয়াড় হতে পারবে। প্রোগ্রামিংও ঠিক সেইরকম, কম্পিউটার সায়েন্স যারা পড়ছ তারা কিন্তু জান যে কিভাবে প্রোগ্রামিং করতে হয় কিন্তু প্রোগ্রামার হতে হলে তোমাকে অবশ্যই প্রোগ্রামিং করতে হবে। তোমরা যদি চিন্তা করো যে তোমরা পড়াশুনা শেষ করে প্রোগ্রামিং করবা, তবে আমার মনে হয় তোমার অনেক দেরি করে ফেলেছ যদি যারা আগে থেকেই প্রোগ্রামিং করে তাদের সাথে তুলনা করা হয়। বাংলাদেশের মত জায়গায় যেখানে আইটি ইন্ডাস্ট্রি খুব ছোট, সেখানে সব কোম্পানিগুলো চায় যে ছাত্ররা বের হবে এবং তারা ইতিমধ্যে প্রোগ্রামিং জেনে থাকবে। প্রায় সব কোম্পানিই চায়, প্রোগ্রামিং জানা কেউ একজন আসবে। প্রোগ্রামিং শিখতে সময় লাগে। একজন ভালো প্রোগ্রামার হতে প্রায় ২/৩ বছর লেগে যায়। খুব ভালো হলে এবং খুব ভালো ট্রেইনিং দিলেও কমপক্ষে ১ বছর সময় লাগে একজন মোটামুটি মানের প্রোগ্রামার বানাতে। কাজেই এটার জন্য যদি কোম্পানিকে বিনিয়োগ করতে হয়, তবে বাংলাদেশের মত কোম্পানিগুলো জন্য এটা বেশ কষ্টকর হয়ে যায়। কাজেই আমি বলব, যারা সিএস বা কাছাকাছি ফিল্ডে ঢুকেছ, যারা প্রোগ্রামার হতে চাও, অবশ্যই প্রোগ্রামিং করতে হবে। আর ক্লাসে যেসব প্রোজেক্ট দেয়, ওইগুলো যথেষ্ট না। ক্লাসের প্রোজেক্টগুলো খুব সহজ হয়। তাই আরও ভাল ভাল প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধান করতে হবে। এক কথায় প্রচুর প্রোগ্রামিং করতে হবে। একা একা করার চেয়ে বন্ধুদেরকে নিয়ে করাটা আমি ভাল মনে করি। ছাত্র অবস্থাটা হচ্ছে সবচেয়ে ভালো সময়। এই সময়টা যদি সঠিক ভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে পরে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। তোমার আশেপাশের মানুষকে সাহায্য করার জন্য সফটওয়্যার বানাতে পার। পড়াশুনার ব্যাপারে বলব, বেশির বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস বেশ ভালো এবং বিশ্বমানের, কারণ বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস কিন্তু বাইরের কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে তৈরি করা। সিলেবাসের কন্টেন্টটা ভালো, সীমাবদ্ধতা হচ্ছে পড়ানোর পদ্ধতিতে।  হয়তো শিক্ষকরা যতটুকু আপ টু ডেট থাকা উচিৎ সেইরকম না। অনেকেই পড়ে শুধু জিপিএ পাওয়ার জন্য, এটা আমার মতে ভুল হবে। বিশেষ করে মূল সাবজেক্টগুলো যখন পড়ছ তখন মন দিয়ে পড়বে। তাতে যেমন জিপিএ চলে আসবে তেমনি তুমি প্রোগ্রামার বা ডাটাবেজ অ্যাডমিনিসট্রেটর হওয়ার লক্ষে এগিয়ে যেতে পারবা। শুধু যদি জিপিএর জন্য পড় তাহলে ওইটা হবে না।

কমিনিউকেশন স্কিলস
যেকোনো প্রোগ্রামারকে, টেস্টারকে কমিনিউকেশন স্কিলে ভাল হতে হবে। ধর, তোমার মাথায় একটা ডিজাইন আছে কিন্তু তুমি যদি এটা ব্যাখ্যা করতে না পার, তখন হয়তো তুমি নিজে নিজে সফটওয়্যারটা তৈরি করতে পারবে, কিন্তু যখন তুমি এটা কিনে কাজ করবে তখন সমস্যা হবে। এই কমিনিউকেশন স্কিলটা আমাদের বেশ অভাব আছে, আমাদের ছাত্রদের।

ইংলিশ
আমাদের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজে কলমে শিক্ষার মাধ্যম হচ্ছে ইংলিশ। কিন্তু বেশির ছাত্রদেরকে আমরা দেখি, যাদের ইংলিশের অবস্থা খুবই খারাপ। সবাই ১২ বছর ধরে ইংরেজি পড়ে এসেছে, কিন্তু ইংরেজিতে আসলে তেমন কমিউনিকেট করে না। কাজেই ইংরেজিতে ভালো করতে হবে। অনেক সময় মন দিয়ে ইংলিশ মুভি দেখলেও ইংরেজি শেখা যায়।

প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন
এটা সত্য যে, আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরও আমাদের চেষ্টা করা উচিৎ এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে কি করতে পারি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আপ টু ডেট থাকা আইটি ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে। বাংলাতে অনেক আইটি ম্যাগাজিন আছে, এগুলো পড়েও আইটি ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে আপ টু ডেট থাকা যায়। পাশাপাশি অনেক ওয়েবসাইট আছে, ওগুলোতেও অনেক তথ্য পাওয়া যায়। তোমার শিক্ষককে অনুরোধ করো যেন কোন সফটওয়্যার কোম্পানি থেকে লোকজন এনে কোন ক্লাসে অংশগ্রহন করতে, অথবা ক্লাস নিতে। কারণ, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ইন্ডাস্ট্রিতে কী হয়, এই ব্যাপারে আপ টু ডেট না বা বর্তমানে কী হয়, ওইটা সম্পর্কে হয়তো অতটা সচেতন না। কিছু কোর্স যেমন, সফটওয়্যার, সিস্টেম এনালাইসিস এসব কোর্সে যদি ইন্ডাস্ট্রি থেকে লোকজন এনে লেকচার দেয়ানো যায়, তবে সেটা অনেক উপকারি হবে। দেশের বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানিতে কর্মরত তোমাদের সিনিয়র ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ রাখ এবং বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে আলাপ আলোচনা করো।

শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Facebook Comments

1 thought on “ক্যারিয়ার এডভাইজ – ৩”

Leave a Reply