টাচ টাইপিং

ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার আগে, যখন আমি কম্পিউটারে প্রচুর গেম খেলতাম এবং প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করি নাই, তখন আমি মাঝে মাঝে বিভিন্ন সফটওয়্যার দিয়ে টাইপিং প্র্যাকটিস করতাম। এর মূল কারণ ছিল নিজেকে একটু সান্ত্বনা দেওয়া যে আমি কেবল গেম খেলে সময় নষ্ট করছি না, মাঝে-মধ্যে একটু ভালো জিনিসও শিখছি। পরবর্তি সময়ে এই টাচ টাইপিং স্কিল আমার জীবনকে অনেক সহজ করে দেয়।

দ্বিমিক ক্লাসরুমে বা অন্য কোথাও মাঝে মাঝে যখন পড়াই (এখন আর পড়াই না), তখন দেখি যে অনেক শিক্ষার্থী ১০ লাইনের কোড দেখে দেখে টাইপ করতে ২০ মিনিট সময় নিয়ে নিচ্ছে। এতে আমি অত্যন্ত বিরক্ত হই এবং শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ আমি যদি দুই ঘণ্টা ক্লাস নেই, আর সেখানে ১০ টা প্রোগ্রামিং সমস্যা নিয়ে কাজ করার প্ল্যান করি, তো দেখা যায় কেবল দ্রুত টাইপিং করতে না পারার কারণেই ক্লাসে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে।

QWERTY-home-keys-position.svg
টাচ টাইপিং কী?

টাচ টাইপিং হচ্ছে টাইপ করার একটা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে হাতের সবগুলো আঙ্গুল ব্যবহার করা হয় এবং টাইপ করার সময় কিবোর্ডের দিকে তাকানোর প্রয়োজন পড়ে না। আজ থেকে একশ বছরেরও বেশি সময় আগে এই পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়। এই সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে এই উইকিপিডিয়া আর্কটিকেল পড়া যেতে পারে।

টাচ টাইপিং কেন করা উচিত?

১) সময় বাঁচানোর জন্য। ধরা যাক তোমার বয়স হচ্ছে ২০ বছর। এবং তুমি আরো কমপক্ষে ৪০ বছর কম্পিউটারে কাজ করবে। তো পেশা ভেদে কম্পিউটারে কাজ করার সময়টা বিভিন্ন হতে পারে তবে সব পেশার মানুষেরই কম-বেশি কম্পিউটার ব্যবহার করার দরকার হয়। আর পেশাগত কাজ ছাড়াও ব্যক্তিগত অনেক কাজে আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করি। এখন ধরা যাক কোডিং, লেখালেখি (রিপোর্ট লেখা, ইমেইল, চ্যাটিং, ফেসবুকে পোস্ট  করা, কমেন্ট করা, টুইট করা ইত্যাদি) এসব কাজে গড়ে প্রতিদিন চার ঘণ্টা সময় ব্যায় হয়। এখন এমনিতে কিবোর্ড দেখে দেখে এক বা দুই আঙ্গুলে টাইপ করলে গড় স্পিড হবে ৩০ – ৩৫ wpm (ওয়ার্ড পার মিনিট)। আর টাচ টাইপিং করলে মিনিটপ্রতি  স্পীড ৫০ থেকে  ৮০ শব্দ পর্যন্ত হয়। তো ধরি মিনিটপ্রতি স্পীড ৬০ শব্দ (৬০ ধরলাম যেহেতু আমার নিজের ইংরেজি টাইপিং স্পীড মিনিটপ্রতি ৬০ শব্দ)। এখন এই চার ঘণ্টার কাজ কিন্তু তিন ঘণ্টায় (বা আরো কম সময়ে) করে ফেলা যাচ্ছে। তাহলে বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে যদি ৩০০ দিন কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়, এবং গড়ে প্রতিদিন টাইপিংয়ের কারণে এক ঘণ্টা সময় বাঁচে, তাহলে বছরে ৩০০ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হয়। তাহলে ৪০ বছরে সাশ্রয় হবে ৪০ x ৩০০ = ১২০০০ ঘণ্টা (বার হাজার ঘণ্টা)! এই অতিরিক্ত সময়টায় আরো বেশি কাজ করা যেতে পারে কিংবা অনেকগুলো ফুটবল ম্যাচ বা সিনেমা দেখা যেতে পারে। কতগুলো সেটা হিসাব আর আমি করে দিলাম না।

২) প্রোগ্রামিং করার সময় টাইপ করার দিকেই যদি আমার বেশি শ্রম ও মনোযোগ দিতে হয়, তাহলে সেটা প্রোগ্রামিং শেখার গতিকে ধীর করে দেয়। তাই প্রোগ্রামিং শেখার জন্যও টাচ টাইপিং উপকারি।

Computer_Workstation_Variables
৩) শেষ উপকার হচ্ছে স্বাস্থ্য বিষয়ক। আমরা যদি সঠিকভাবে চেয়ারে বসে কাজ করি এবং হাতের পজিশন ঠিকভাবে কিবোর্ডের উপর রাখি, তাহলে ইনজুরির সম্ভাবনা অনেক কমে যায় (কারো যদি মনে হয় যে আমি শুধু শুধু ভয় দেখাচ্ছি, সে Repetitive strain injury লিখে গুগল সার্চ করতে পারে)।

টাচ টাইপিং কীভাবে শিখব?

সফটওয়্যার ব্যবহার করে শিখতে হবে। ডেস্কটপ ভিত্তিক কিংবা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, যেকোনো ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করলেই হয়। গুগলে সার্চ করলে টাচ টাইপিং শেখার অনেক ফ্রি সফটওয়্যার পাওয়া যাবে।

সুস্থ থাকো, আনন্দে থাকো, জ্ঞান অর্জন করো, টেকাটুকা কামাও – শুভকামনা রইল।

Facebook Comments

Leave a Reply