মার্গারেট হ্যামিলটনঃ অ্যাপোলো-১১ এর নেপথ্য বীর

margaret_hamilton_in_action

মার্গারেট হ্যামিলটন

সম্প্রতি নাসার অ্যাপোলো চন্দ্রাভিজানের কোড ডেভেলপার মার্গারেট হ্যামিলটন, আমেরিকার সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কার “প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম” লাভ করেছেন। মার্গারেট হিয়েফিল্ড হ্যামিলটন এই বছর ২২ নভেম্বর, অ্যাপোলো চন্দ্রাভিজানের “অন-বোর্ড ফ্লাইট ডেভেলপমেন্ট”-এর কাজের জন্য বারাক ওবামা কর্তৃক এই পুরষ্কার লাভ করেন।

হ্যামিলটন, নিজের সফটওয়্যার কোম্পানী “হ্যামিলটন টেকনোলজিস ইনকর্পোরেট” প্রতিষ্ঠা করার আগে MIT-এর লিঙ্কন ল্যাবরেটরিতে কম্পিউটার বিজ্ঞানী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেন। লিঙ্কন ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সময় তিনি asynchronous সফটওয়্যার, priority scheduling, priority displays এবং “human-in-the-loop decision capability” উপর যে মতবাদ প্রদান করেন, তা বর্তমান আধুনিক এবং নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার ডিজাইন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এর মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

“প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম” যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কার, যেটি ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য শিল্পকলা, ব্যবসা ও অর্থনীতি, কম্পিউটিং, মানবতামূলক কার্যক্রম, চিকিৎসা এবং অন্যান্য আরো কিছু সরকারী ও বেসরকারী খাতে এই পুরষ্কার প্রদান করা হয়ে থাকে।

MIT এর অ্যারোনটিক্স ও অ্যাস্ট্রোনটিক্স বিভাগের প্রধান, প্রফেসর জাইমি পিয়ারে, হ্যামিলটনের এর পুরষ্কার পাওয়া সম্পর্কে বলেন, “এটি মার্গারেট হ্যামিলটনের জন্য একটি অসাধারণ প্রাপ্তি”। তিনি আরো বলেন, “সে একজন সত্যিকার সফটওয়্যার অগ্রদূত এবং একইসাথে বলতে সংকোচ নেই যে, তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত MIT-এর ইন্সট্রুমেন্টেশন ল্যাবের সফটওয়্যার ডিভিশনই আমাদের চাঁদে নিয়ে গিয়েছিল।”

বস্তুত, MIT ইন্সট্রুমেন্টেশন ল্যাবের অ্যাপোলো পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল অ্যাপোলো প্রোগ্রামের প্রথম চুক্তি, যা ১৯৬১ সালের ৯ আগস্ট ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার ১০ সপ্তাহ পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ ক্যানেডি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে মানুষের চাঁদে অবতরণের কথা ঘোষণা করেন।

মার্গারেট হ্যামিলটন যুক্তরাষ্ট্রের ইরহাম কলেজ থেকে গণিতে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং MIT থেকে আবহাওয়াবিদ্যা (meteorology) তে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি MIT এর লিঙ্কন ল্যাবে “ Semi-Automatic Ground Environment Air Defense System” বা SAGE প্রকল্পে যোগ দেন। SAGE ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিমান প্রতিরক্ষামূলক প্রকল্প, যা কিনা ছিল পারমানবিক বোমার প্রকল্প “ম্যানহাটন প্রজেক্ট”-এর চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল এবং পঞ্চাশ-ষাট দশকের ডিজিটাল কম্পিউটিং-এর উন্নয়নের যুগান্তকারী পদক্ষেপ। SAGE এবং Apollo প্রজেক্টে কাজ করার পর, হ্যামিলটন নাসার স্পেস শাটল এবং স্কাইল্যাব প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত হন।

অ্যাপোলো-১১ কোডের প্রিন্ট কপির সাথে মার্গারেট হ্যামিলটন
অ্যাপোলো-১১ কোডের প্রিন্ট কপির সাথে মার্গারেট হ্যামিলটন

মার্গারেট হ্যামিলটন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে “আইকন লেডি” হিসেবে পরিচিতি পান অ্যাপোলো কোডের প্রিন্ট আউটের সাথে তাঁর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরার পর। গত বছর (২০১৫ সালে), মার্গারেট হ্যামিলটনের ডেভেলপ করা সম্পূর্ণ অ্যাপোলো কোডটি, কোড শেয়ারিং সাইট গিটহাবে যুক্ত করা হয়ঃ সেখানে কোডের প্রথম লাইনে লেখা হয়ঃ
“SUBMITTED: MARGARET H. HAMILTON DATE: 28 MAR 69 / M.H.HAMILTON, COLOSSUS PROGRAMMING LEADER / APOLLO GUIDANCE AND NAVIGATION”

"প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম" পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মার্গারেট হ্যামিলটন
“প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম” পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মার্গারেট হ্যামিলটন

এই বছর (২০১৬) ১৬ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা “প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম” প্রাপ্ত ২১ জনের নাম ঘোষণা করেন। এই ২১ জনের তালিকায় আরো অনেকের সাথে কম্পিউটার বিজ্ঞানের আরেকজন পথিকৃৎ প্রয়াত গ্রেস হোপার, MIT-এর “রে অ্যান্ড মারিয়া স্টাটা সেন্টার ফর কম্পিউটার, ইনফরমেশন অ্যাণ্ড ইন্টিলিজেন্স” -এর ডিজাইনার ফ্র্যাঙ্ক গেরি, বিল গেটস্‌, মেলিন্ডা গেটসের নাম রয়েছে। ২২ নভেম্বর ওয়াশিংটনে এই পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান মঞ্চায়িত হয়।

লেখকঃ তামান্না নিশাত রিনি।

Facebook Comments

2 thoughts on “মার্গারেট হ্যামিলটনঃ অ্যাপোলো-১১ এর নেপথ্য বীর”

Leave a Reply