লারাভেল ফ্রেমওয়ার্ক

লারাভেল অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক। এটি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে লেখা হয়েছে।

প্রথমেই প্রশ্ন আসে ফ্রেমওয়ার্ক কী? যারা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের সাথে জড়িত, তাদের প্রায় প্রত্যেকটা অ্যাপ্লিকেশন তৈরির সময়ই কিছু কমন জিনিস বার বার লিখতে হয়। যেমন, ইউজারের অথেনটিকেশন, সেসন হ্যান্ডেলিং, ক্যাশ-কুকি হ্যান্ডেলিং, ডেটাবেজ স্কিমা তৈরি করা, বিভিন্ন ডেটাবেজ অপারেশন ইত্যাদি। এখন যেহেতু এ কাজগুলো প্রায় প্রত্যেকটা অ্যাপ্লিকেশনেই করতে হয়, তাই ডেভেলপাররা একটা অ্যাপ্লিকেশন বয়েলারপ্লেট ব্যবহার করে, যেখানে আগে থেকেই এ কাজগুলো করা থাকে।  এটিই আসলে ফ্রেমওয়ার্ক নামে পরিচিত।

laravel-architecture-simple
লারাভেল আর্কিটেকচার

বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষার জন্য বিভিন্ন ফ্রেমওয়ার্ক রয়েছে, যেমন- পাইথনের জন্য জ্যাঙ্গো(Django), রুবির জন্য রুবি অন রেইলস, জাভার জন্য হাইবারনেট, স্প্রিং ইত্যাদি। পিএইচপি ল্যাংগুয়েজের জন্যও অনেকগুলো ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক রয়েছে, যেমন- কোডইগনিটার, লারাভের, সিম্ফোনি, জেন্ড ফ্রেমওয়ার্ক, ফ্যালকন, ই(Yii) ইত্যাদি। এগুলো সবই জনপ্রিয় ফ্রেমওয়ার্ক। এগুলো ছাড়াও প্রচুর ফ্রেমওয়ার্ক আছে পিএইচপিতে যেগুলো আসলে ততটা জনপ্রিয় নয়।

এখন কথা হচ্ছে, এতগুলো ফ্রেমওয়ার্ক মধ্যে আমরা কোনটা শিখবো? এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হচ্ছে লারাভেল শেখা। যদিও লারাভেল তুলনামূলক নতুন ফ্রেমওয়ার্ক, তবুও এর অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার কারনে খুব অল্পদিনের মধ্যেই লারাভেল জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে এসেছে। জনপ্রিয় ডেভেলপার ম্যাগাজিন, সাইটপয়েন্ট এর জরিপে ২০১৫ সালের সেরা ফ্রেমওয়ার্ক নির্বাচিত হয়েছে লারাভেল।

সেরা ফ্রেমওয়ার্ক লারাভেল
সেরা ফ্রেমওয়ার্ক লারাভেল

চলুন একনজরে চোখ বুলিয়ে নেই লারাভেলের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য –

– লারাভেল মডার্ন পিএইচপির ফিচারগুলো ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। লারাভেল তৈরি করা হয়েছে কম্পোজার নামক ডিপেন্ডেন্সি ম্যানেজারের উপর ভিত্তি করে। পিএইচপি কমিউনিটিতে উল্লেখযোগ্য প্যাকেজগুলো যেমন- কার্বন, সিম্ফোনী এইচটিটিপি ফাউন্ডেশন, মনোলগ, ফ্লাইসিস্টেম, সুইফটমেইলার ইত্যাদি ব্যবহার করে লারাভেল তৈরি করা হয়েছে।
– লারাভেলে অত্যন্ত শক্তিশালী একটা কমান্ড লাইন টুল আছে যার নাম আর্টিসান। এর মাধ্যমে কোড জেনারেট, এনভায়রনমেন্ট পরিবর্তন, টেস্টিং, ডেপ্লয়মেন্টসহ বহু কাজ কমান্ড লাইন থেকেই করে ফেলা যায়।
– ডেটাবেজ স্কিমা তৈরি, পরিবর্তন, এবং ডেটাবেজ প্রিপপুলেটেড ডেটা দেয়ার জন্য রয়েছে চমৎকার মাইগ্রেশন এবং সিডিং এপিআই।
– লারাভেলের রয়েছে অত্যন্ত সহজ এবং সুন্দর সিনট্যাক্স যা সহজেই মনে রাখা যায়।
– লারাভেল রয়েছে অত্যন্ত চমৎকার রাউটিং লাইব্রেরি, যা সিম্ফোনির রাউটিং কম্পোনেন্টের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা। এটি রেস্টফুল রাউটিং সাপোর্ট করে।
– লারাভেলে রয়েছে অত্যন্ত চমৎকার কোয়েরি বিল্ডার এবং অবজেক্ট রিলেশনার ম্যাপার(ORM) লাইব্রেরি। এই ওআরএম ইলোকোয়েন্ট নামে পরিচিত। এটি একটিভ রেকর্ডস প্যাটার্ন অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। এটি বাই-ডিফল্ট মাইসিক্যুয়েল, সিক্যুয়ালাইট, পোস্টগ্রেস এবং মাইক্রোসফটের সিক্যুয়েল সার্ভার সাপোর্ট করে। এছাড়া কম্পোজার প্যাকেজের মাধ্যমে আপনি অন্যান্য স্কিমালেস নোসিক্যুয়াল ডেটাবেজ যেমন মংগোডিবিও ব্যবহার করতে পারবেন।
– লারাভেলে রয়েছে খুবই চমৎকার কিউ সিস্টেম। এর মাধ্যমে আপনি আপনার যে কোন প্রসেসকে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাঠিয়ে ইউজার ইন্টারঅ্যাকশন বাড়িয়ে আপনার অ্যাপ্লিকেশনকে আরো বেশি কার্যকর করতে পারবেন।
– লারাভেলে আপনি খুব সহজেই ইমেইল পাঠাতে পারবেন। এটি ইমেইল পাঠানোর জন্য জনপ্রিয় সুইফটমেইলার লাইব্রেরি ব্যবহার করে।
– রেস্টফুল এপিআই তৈরির জন্য লারাভেল একদম পারফেক্ট। এটি যে কোন ডেটাবেজ কোয়েরি, পিএইচপি এরে বা অবজেক্ট অটোমেটিক জেসনে রিটার্ন করতে পারে। সিঙ্গেল পেজ অ্যাপ্লিকেশন তৈরির জন্য লারাভেল হবে বেস্ট চয়েস।
– লারাভেলে রয়েছে অত্যন্ত চমৎকার টেমপ্লেটিং লাইব্রেরি যেটার নাম ব্লেড। এটির চমৎকার এক্সপ্রেসিভ সিনট্যাক্স আপনার এইচটিএমএল কোডকে সুন্দর এবং রিডেবল করবে।
– লারাভেলের রয়েছে ফ্রন্টএন্ড রিসোর্স ম্যানেজ করার জন্য ইলিক্সির নামে চমৎকার একটি ইউটিলিটি টুল। এর মাধ্যমে আপনি আপনার সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট ফাইলগুলোকে আরো সুন্দরভাবে ম্যানেজ করতে পারবেন।
– লারাভেলের আছে খুবই সুন্দর এবং বিশাল একটি কমিউনিটি। আপনি বিভিন্ন টিউটোরিয়াল, ভিডিও পাবেন এর উপর। এছাড়া কোন সমস্যায় পড়লে আপনি গুগলে সার্চ করলেই সমাধান পেয়ে যাবেন।
– লারাভেলের চাকুরির বাজারে খুব কদর আছে। আপনি লারাভেল শিখলে চাকুরি পেতে পারবেন খুব সহজেই।

তাহলে আর দেরি কেন? এক্ষুনি শুরু করে দিন লারাভেল শেখা।

লেখক : নুরুজ্জামান মিলন, লারাভেল পিএচইপি ফ্রেমওয়ার্ক বইটির লেখক।

Facebook Comments

Leave a Reply