সাক্ষাৎকার : রুহুল আমীন সজীব

রুহুল আমিন সজীব – শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের এসিস্টেন্ট প্রফেসর। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করছেন। সাস্টে শিক্ষক থাকাকালীন কিছু আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব প্রজেক্ট সে হাতে নিয়েছে এবং সাফল্য লাভ করেছে। সজীব আমার ভার্সিটির এক ব্যাচ জুনিয়র। গুগল টকে নক করলাম, ইন্টারভিউ দিতে রাজি হয়ে গেলো। আশা করি তাঁর চিন্তা, কথা ও কাজ থেকে আমাদের তরুণরা অনুপ্রাণিত হবে।

সজীব (বামে)
সজীবের (ছবির দিকে তাকালে বামে) সাথে আমি, পিপীলিকা টিমের একটি অনুষ্ঠানে।

সুবিন : সজীব, কী খবর?
সজীব : এই তো সুবিন ভাই। খবর সব কিছু মিলিয়ে ভালই। আপনি কেমন আছেন?

সুবিন : আমি ভালো আছি। তুমি এখন কোথায় পড়াশোনা করছ? (যদিও আমি জানি, পাঠকরা তো জানে না।)
সজীব : আমি এখন স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটি তে পিএইচডি করছি। আমার পিএইচডি এর প্রথম দিকে আমি বায়োইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করছি।

সুবিন : শুনলাম এক বিখ্যাত প্রফেসরের সাথে কাজ করছ?
সজীব : আমি কাজ করছি স্টিভেন স্কিইনা এর সাথে। উনি এলগরিদম আর ডাটা সায়েন্স নিয়ে কাজ করেন।

সুবিন : স্কিইনা তো আমাদের পরিচিত। মানে তাঁর Algorithm Design Manual বইটি আমরা অনেকেই পড়েছি। তিনি লোক কেমন?
সজীব : স্কিইনা খুবি মজার লোক। উনি এখানে এলগরিদম এর সেমিনার পরিচালনা করেন। স্টোনি ব্রুক সিএস এর এসিএম এর গ্রুপগুলি দেখাশোনা করেন।

সুবিন : স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলে কিভাবে? আমাদের যেসব শিক্ষার্থী বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে, তারা নিজেদের কিভাবে প্রস্তুত করবে?
সজীব : প্রথমত, বাইরে পড়াশোনা করার জন্য সব থেকে যেটা বেশী দরকার তা হল তা হল গবেষণা করার আগ্রহ, অথবা খুব ভালো অর্গানাইজেশনে কাজ করার আগ্রহ; যেমন সিলিকন ভ্যালির কোন কোম্পানি। দ্বিতীয়ত, আন্ডারগ্রেডে একটু ভালো করে প্রোগ্রামিং এবং ম্যাথ করাটা জরুরী। খুব ভালো গবেষনা অনেক সময় আমাদের দেশে হয় না তাই আমি এর উপর জোর দিব না। তবে সুযোগ মত প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট বা সফটওয়্যার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করার উপর জোর দিতে বলব। আমি এই কথা গুলি বলছি মূলত মাঝারি মানের ছাত্র-ছাত্রীর জন্য। খুব ভালো যারা তারা এমনিতেই ভালো রিসার্চ করে এবং তাদের পাব্লিকেশন থাকে। তৃতীয়ত, আমি বলব, জিআরই এবং টোফেলে ভালো স্কোর করার জন্য। অনেকেই আলসেমি করে অথবা সময়ের অভাবে এই দুইটি পরীক্ষা দিতে পারেনা। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কালচার নেই বলে তারা আমেরিকায় না গিয়ে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বা ইউরোপে যায়। আমেরিকার জন্য এই দুইটি পরীক্ষা ম্যান্ডেটরি। তাই আলসেমিটা ঝেড়ে ফেলে আন্ডারগ্রেডের শেষ বছর বা আন্ডারগ্রেড শেষ করে এর দুইটি পরীক্ষার জন্য প্রিপারেশান নেওয়া উচিৎ। আমার আমেরিকায় পড়তে আসার জন্য এক বছর আগে থেকে প্ল্যান করতে হয়েছে।

সুবিন : তুমি কোন ভার্সটিগুলাতে অ্যপ্লাই করেছিলে?
সজীব : আমি প্রায় ৮ টি টপ স্কুলে এপ্লাই করেছি। মাঝারি মানের ৪ টি তে এপ্লাই করেছি। অফার পেয়েছি কার্নেগি ম্যালন (মাষ্টার্স ফলোড বাই পিএইচডি), স্টোনি ব্রুক (পিএইচডি উইথ ফেলোশীপ), ইউএমবিসি বাল্টিমোর (পিএইচডি) তে।

সুবিন : স্টোনি ব্রুকে কেন ভর্তি হলে?
সজীব : আমি যেখানেই এপ্লাই করেছি, সেখানে আমার রিলেটেড কাজ হয় কিনা সেই ব্যাপারটিতে প্রাধান্য দিয়েছি। স্টোনি ব্রুক এর সিএস অনেক বড় ডিপার্টমেন্ট। এখানে কমবেশী প্রায় সব কিছু নিয়েই কাজ হয়। আমার আগ্রহ ছিল এনএলপি (NLP), আইআর (IR) বা এলগরিদম নিয়ে।  স্টোনি ব্রুকে আমার পছন্দের কয়েকজন প্রফেসর ও আছেন। স্টিভেন স্কিইনা তাদের মধ্যে অন্যতম। আমি মূলত স্টিভের ডাটা সায়েন্স ল্যাবের কথা মাথায় রেখে এপ্লাই করি। পাশাপাশি আমার আগ্রহের সাথে রিলেটেড আরো কয়েকটা ল্যাবের কথাও আমি আমার স্টেটমেন্ট অব পারপাসে উল্লেখ করি। যাই হোক, প্রথমত আমাকে এক্সেপ্ট করেন প্রফেসর মাইকেল কিফার। উনি নলেজ রিপ্রেজেন্টেশান নিয়ে কাজ করেন।

সুবিন : স্টেটমেন্ট অব পারপাস যাকে সংক্ষেপে SOP বলে, সেটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ? এটি লেখার ব্যাপার কোনো টিপস্ ?
সজীব : পিএইচডিতে যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লিকেশনের জন্য SOP এর উপর অন্তত ৫০% গুরুত্ব আরোপ করা হয়। তাই SOP অবশ্যই খুব ভালো করে লিখতে হবে। আমি SOP নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা করেছি। অনেকের অভিজ্ঞতা জেনেছি। তারপরে নিজের SOP লিখেছি।
এতে মূলত নিচের ব্যাপার গুলি থাকে :
১। আমি কি করতে চাই
২। আমার আগ্রহের কাজ করার জন্য আমি আন্ডারগ্রেডে কি পড়েছি, বা করেছি, আমার কোন অভিজ্ঞতা
৩। এই কাজ নিয়ে আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
৪। এবং আমার এই গবেষনা করার জন্য যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাই করছি তার কি প্রয়োজন
এই সব নিয়েই সাধারণত একটি SOP লেখা হয়। এক কথায়, SOP তে নিজেকে কেউ আইন্সটাইন প্রমাণ করার থেকে নিজের যে পজটিভ দিকগুলো এবং অভিজ্ঞতা আছে এবং সেগুলো কিভাবে একজনের আগ্রহের বিষয়বস্তুতে গবেষণা করতে সাহায্য করতে পারবে তাই তুলে ধরতে হয়।

সুবিন : তুমি যেহেতু বেশ কিছুদিন শিক্ষকতা করেছ, নিশ্চয়ই এমন প্রশ্ন ছাত্রছাত্রীরা তোমাকে কর, ‘স্যার, প্রোগ্রামিং করতে গিয়ে লেখাপড়া করার সময় পাই না, তাই ভালো রেজাল্ট করতে পারি না’। কিংবা ‘স্যার, প্রোগ্রামিং করলে আমার লেখাপড়ার ক্ষতি হয়, তাই প্রোগ্রামিং করি না।’ এদেরকে তুমি কী উত্তর দাও?
সজীব : আমি কখনোই মনে করিনা যে প্রোগ্রামিং একজনের পড়ালেখায় সময় নষ্ট করে। প্রোগ্রামিং করার সময়ে একজন মাথা খাটিয়ে, কাগজে আঁকিবুকি করে, বা একটি এলগরিদম ডিজাইন করার সময়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে, তা যেকোন ধরনের বুকিস পড়ালেখার থেকে ভালো। সিএস (CS : Computer Science)-এ যেকোন ধরনের পড়ালেখার ৭০% কাজ হল প্রব্লেম সল্ভিং রিলেটেড। আর আমরা প্রব্লেম সল্ভ করি প্রোগ্রামিং করে। অতএব, আমি মনে করি প্রোগ্রামিং না জানলে সিএস এর বেশীরভাগ কাজ করা অনেক দূরহ হয়ে পরে।

সুবিন : তুমি তো এসিএম আইসিপিসি ও অন্যান্য Competitive প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিতে। সেগুলোর গুরুত্ব কেমন? তোমার কর্মজীবনেই বা সেগুলোর প্রভাব কেমন?
সজীব : আমাদের বাংলাদেশে বেশীরভাগ ছাত্র-ছাত্রী সঠিক উপায়ে শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। কিন্তু সিএস এর ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এসিএম আইসিপিসি সেই বঞ্চনা থেকে মুক্তি দিয়েছে। এখানে যে কোন ছাত্র-ছাত্রী নিজে থেকে পড়ালেখা করে, কনসাল্ট করে, প্রবলেম সল্ভ করে বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। তাই এসিএম ও অন্যান্য প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আমাদের জন্য সব থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই যে আমাদের দেশের সব ছাত্র-ছাত্রী যেন এসিএম এর সাথে যুক্ত হয়ে প্রবলেম সল্ভিং করে। দেশের বাইরের যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেকোন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এসিএম প্রব্লেম সল্ভিং অভিজ্ঞতা বা প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার ফলাফলের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

সুবিন : যদিও মেয়েদের বয়স আর ছেলেদের সিজিপিএ জিজ্ঞাসা করতে হয় না, তবুও, তোমার সিজিপিএ কত ছিল? এটি হয়ত পাঠকদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।
সজীব : হা হা। আমার সিজিপিএ ৩.৯৬। এতে করে কেউ যেন আবার ভেবে না বসে যে এই জন্যই আমি উপরের অনেক বড় বড় কথা বলেছি। আমি যা বলেছি তা আমার নিজের এবং আশেপাশের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের অভিজ্ঞতার থেকেই বলেছি।

সুবিন : আমি জিজ্ঞাসা করলাম এই কারণে যে তুমি তো প্রোগ্রামিংয়ের প্রচুর সময় দিতে, আবার ক্যাম্পাসের নানান কাজে (আসলে অকাজে) উপস্থিত থাকতে। তোমার স্কুল-কলেজ কোনগুলো ছিল?
সজীব : আমার স্কুল ছিল মতিঝিল গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল, ঢাকা। কলেজ ছিল নটর ডেম কলেজ, ঢাকা।

সুবিন : সিএসই পড়লে কেন?
সজীব : আমি মোটেও সুপার ডুপার ছাত্র ছিলাম না। প্রথম দিকে সিএস নিয়ে তেমন কোন ফেসিনেশন ও ছিলনা। তবে সমসাময়িক অনেক কিছু নিয়ে পড়াশোনা করার সময় দেখেছি সিএস এর প্রোগ্রামিং ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং। কিন্তু সত্য কথা হল, কলেজে থাকতে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ার সময় আমি প্রোগ্রামিং প্রায় কিছুই বুঝতাম না। কিন্তু কম্পিউটারের বিবর্তন যেভাবে হচ্ছে, সেটা আমার কাছে অনেকটা সায়েন্স ফিকশান পর্যায়ের মনে হয়েছে সব সময়। তাই সাহস করে এই বিষয়ে পড়ার জন্যই মনস্থির করি। তারপরে, বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে প্রোগ্রামিং শিখেছি (অনেক চেষ্টার পরে) এবং তা দিয়ে আসলেই সায়েন্স ফিকশান পর্যায়ের কিছু কাজ করি।

সুবিন : সাস্ট থেকে পাশ করার পর ক্যারিয়ার শুরু করলে কোথায়? সেখানে কী কাজ করতে?
সজীব : পাশ করার পরে আমি ক্যারিয়ার শুরু করেছি এসডিএসএলে। সেখানে আমি অনেক ধরনের কাজ করেছি। আমি প্রথম কাজ করেছি ফ্লেক্স এর উপর ম্যাপ সার্ভার টিমের ক্লায়েন্টের জন্য। এই টিমে আমি উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারিনি। তবে অনেক কোড ঘেটে কিছু বাগ বের করেছিলাম। তারপরে কাজ করি, জেটুএমই টিমে, লাইভ নামের একটি ভিডিও স্ট্রিমিং প্রজেক্টে। আমি এই টিমে কাজ করার সময় বুঝতে পারি আমার মূল আগ্রহ সব সময় নতুন ধরনের সমস্যা সমাধানে যেই গুলো করতে একটু গবেষনা লাগে। তারপরে আমি কাজ শুরু করি লাইভের সার্ভার ডিজাইনের। এর মাঝে আমি ছোট ছোট কয়েকটা আরএনডি করি এবং অন্য কয়েকটা প্রজেক্টের জন্য ডাটাবেইজ ডিজাইন করি। সেই সাথে গ্রিড প্রজেক্টের জন্য চ্যাটিং এপ্লিকেশন ডিজাইন এন্ড ডেভেলপ শেষ করি। অতঃপর আমার হাতে কাজ আসে গ্রিডের ক্লাস্টার ডিজাইন এন্ড ডেভেলপ করার। এই সময়ে সাউথ আফ্রিকার জন্য একটি সার্চ ইঞ্জিন তৈরীর কথা শুরু হয়। আমি এবং সিদকী (মানযুরুর রহমান খান) প্রথমে এই সার্চ ইঞ্জিনের জন্য ১৮ দিনের একটি গবেষণা শুরু করি। তারপরে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য টিম গঠন থেকে শুরু করে তার ডেভেলপম্যান্ট এ যুক্ত ছিলাম পরের এক বছর। এর মধ্যেই গ্রিডের লোকেশন বেইসড সার্চের কাজ শেষ করি। সার্চ প্রোডাক্ট ম্যাচিউর হলে পরে আমি এসডিএসএল থেকে সাস্টে সুইচ করি।

সুবিন : সেখানে সার্চ ইঞ্জিন প্রজেক্টে কাজ করার অভিজ্ঞতাই কি পরবর্তিতে সাস্টে এসে পিপীলিকা তৈরির মূল কারণ?
সজীব : পিপীলিকা তৈরীতে যে অভিজ্ঞতা লেগেছে সেটা এসেছে এসডিএসএল থেকেই। কারণ আমার সহকর্মীরা সবাই বেশ ভালো প্রবলেম সল্ভার এবং বন্ধু ছিল। আমি তাদের থেকে অনেক কিছু শিখেছিলাম। তবে পিপীলিকা তৈরীর মূল কারন আসলে বাংলা কম্পিউটেশনের পথটিকে সুগম করা। আমি প্রথমে বুঝতেও পারিনি আমি শেষমেষ পিপীলিকা তৈরী করতে পারব।

সুবিন : বাংলা সার্চ ইঞ্জিন তৈরিতে কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল, এবং সেটি কিভাবে অতিক্রম করেছ?
সজীব : প্রায় তিন বছরে আমি ৩০ জনেরও বেশী ছাত্রের সাথে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য প্রয়োজনীয় টুলস নিয়ে কাজ করেছি। এর প্রায় সবই পরবর্তীতে এই ইঞ্জিন তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয়তা অভিজ্ঞতা যুগিয়েছে। আমি প্রথম যে থিসিস গ্রুপগুলির সাথে কাজ করার সুযোগ পাই, তারা সাস্ট ২০০৪ ব্যাচের। এদের মধ্যে দুইটি গ্রুপ ছিল যারা ওয়েব ক্রলার এবং লোকেশন বেসড সার্চ নিয়ে কাজ করে আমার সাথে। এই ব্যাচের এআই সাবজেক্ট আমি পড়িয়েছিলাম। এর ল্যাব প্রজেক্টে একটি গ্রুপ আমার সাথে এডাপ্টিভ স্পেল চেকার নিয়ে কাজ করে। সাস্ট ২০০৫ এর অনেকগুলি গ্রুপ পরবর্তীতে আই আর নিয়ে কাজ শুরু করে। একটি গ্রুপ ওয়েব ক্রলার কন্টিনিউ করে। একটি গ্রুপ বাংলা ডকুমেন্টের কি-ওয়ার্ড ডিটেকশান নিয়ে কাজ করে। একটি গ্রুপ ওপেনসোর্স এর লুসিনি (lucene)-তে বাংলা ইউনিকোড সাকসেসফুলি সাপোর্ট দেয়। সেই সাথে ওয়েব ক্রলারের ক্রল করা ডাটা লুসিনিতে সার্চেবল করে। সেই সাথে তৈরী হয় পিপীলিকার ইউজার ইন্টারফেস। একই রকম ভাবে সাস্ট ২০০৬ ব্যাচের অনেকগুলি গ্রুপ আই আর নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা স্টেমিং, কি-ওয়ার্ড ডিটেকশান, লোকেশান বেইসড সার্চের উপর কাজ শুরু করে। সাস্ট ২০০৭ ব্যাচ স্ট্যামিং এবং কি-ওয়ার্ড এর কাজে বেশ অগ্রগতি নিয়ে আসে। তারপরেই আমি বুঝতে পারি যে পিপীলিকা আমরা লাইভ করতে পারব। এর মধ্যে ২০০৫ ব্যাচ এর পিপীলিকার নামকরন সহ উইজার ইন্টারফেস এর মাধ্যমে বাংলা কন্টেন্ট সার্চ করার বেসিক টুলসটি আমি সব জায়গায় প্রেজেন্টেশনে দেখাই। এই টুলসটি পরে একটি সফটওয়্যার কম্পিটিশনে প্রথম হয় এবং জিপিআইটি এই প্রোডাক্ট এর ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়, যার জন্য আমরা সবাই এখন পিপীলিকা ব্যাবহার করতে পারছি। যদিও আমি যতদূর ভেবে রেখেছি ততদূর পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য আমাদের অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হবে তবুও আমাদের হাতে স্মল স্কেলে একটি সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে তা মোটেও কম কথা নয়।

সুবিন : তার মানে আমরা বুঝতে পারছি, কেবল প্রযুক্তিই নয়, সাথে বাংলা ভাষার উপরও তোমারদের গবেষণা করতে হয়েছে।
সজীব : অবশ্যই। এখানে আই আর এর উপর কাজ সহ বেঙ্গলি এনএলপি, এবং লিঙ্গুইস্টিকের উপর অনেক বেসিক কাজ আমাদের করতে হয়েছে। শুধু মাত্র তাই নয়। এই কাজের জন্য আমাকে মেশিন লার্নিং নামক একটি কোর্স ডিপার্টমেন্টে পড়াতে হয়েছে, যাতে করে আমার ছাত্ররা এনাফ নলেজ গেইন করে পিপীলিকায় কাজ করতে পারে।

সুবিন : বাংলাদেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে, এমন কারো কারো ধারণা, সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েবসাইট থেকে ডাটা ডাটাবেজে সেভ করা হয়, আর কোনো কিছু জানতে চাইলে ডাটাবেজের উপর কুয়েরি চালানো হয়, তাতেই একটি সার্চ ইঞ্জিন তৈরি হয়ে যায়। বিষয়টা হয়ত তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না, কিন্তু ফেসবুকে আমি সেটি দেখেছি। তুমি কি ভবিষ্যতে আমার ব্লগের পাঠকদের জন্য সার্চ ইঞ্জিনের আর্কিটেকচার নিয়ে একটা লেখা দিবে? এতে শিক্ষার্থীরা যেমন শিখতে পারবে, তেমনে সেসব ডেভেলাপারদেরও চোখ খুলবে বলে আমার ধারণা।
সজীব : অবশ্যই লিখব। আমি আমেরিকা চলে আসার কারনে পিপীলিকার কাজের উপর ডকুমেন্টেশান করে উঠতে পারিনি। তবে আশা করছি এবার শুরু করব।

সুবিন : পিপীলিকা ছাড়াও সাস্টে আরো প্রজেক্টে তুমি কাজ করেছ। সেগুলো সম্পর্কে একটু বলো।
সজীব : সাস্টে অনেকগুলি প্রজেক্টে আমি কাজ করার সু্যোগ পেয়েছি। তার মাঝে এডমিশন সিষ্টেম নিয়ে কিছু কাজ করেছি, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য মঙ্গলদীপ আর সুবচন নিয়ে কাজ করেছি, এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর অটোমেশান এর কাজ করেছি। এডমিশন সিষ্টেমের জন্য আমি কী-ওয়ার্ডলেস ডাটাবেস ম্যাপিং এর এলগরিদম ডিজাইন করেছি।

সুবিন : তোমাদের এসব প্রজেক্টে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা কেমন ছিল?
সজীব : মঙ্গলদীপ সুবচনের জন্য আমার কাজ মূলত আর্কিটেকচার লেভেলের। এই দুইটি কাজের জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারের সায়েন্স এন্ড আইসিটির ফান্ড পেয়েছি। এই ফান্ড ব্যবহার করে আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সুবচন এবং মঙ্গলদীপ সফটওয়্যার হিসেবে প্রকাশ করি। এডমিশন সিষ্টেমের জন্য আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরাই প্রথমবার সিষ্টেম ইমপ্লিমেন্ট করে। পরে আমরা প্রায় ৮ জন শিক্ষক মিলে একে প্রফেশনাল প্রোডাক্টে রুপ দেই। আর পরবর্তীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আমরা ক্লাউড বেইসড এডমিশন সিস্টেম প্রবর্তন করি। যেখানে আপনিও আমাদের সাথে ছিলেন। তাছাড়া, বিআইডব্লিঊটিএ (BIWTA) এর প্রজেক্টেও আপনি ও আপনার কোম্পানী আমাদের সাথে কাজ করেছে। তাই আপনি ভালোই জানেন।

সুবিন : বিআইডব্লিউটএ-এর অটোমেশন প্রজেক্টের একটা অংশ ছিল ভেসেল ট্র্যাকিং ডিভাইস বানানো। যেই কাজটা অর্থায়ন করে আমার কোম্পানী, মুক্ত সফটওয়্যার লিমিটেড। কাজটি তোমার তত্ত্বাবধানে দুজন ছাত্র সম্পন্ন করে। সেখানে আমি দেখেছি, গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থের বেশিরভাগই তুমি তোমার ছাত্রদের দিয়ে দিয়েছ। সেটির কারণ কী?
সজীব : এটা সবসময়েই হয়েছে। আমার ছাত্র-ছাত্রীরা সবসময় আমার থেকে বেশী আয় করেছে। আমি সবসময় সেটি বেশ এঞ্জয়ও করেছি। আমার প্রায় সবগুলো প্রজেক্টের মূল্যমান ছিল চার কোটি টাকা। এই প্রজেক্টে যারাই কাজ করেছে আমি চেষ্টা করেছি তাদেরকে ঢাকার সফটওয়্যার কোম্পানী গুলির কাছাকাছি সম্মানী দেওয়ার জন্য। আমি চেষ্টা করেছি তাদেরকে মনের দিক থেকে, মানের দিক থেকে এবং মূল্যায়নের দিক থেকে যথার্থ সম্মান দেওয়ার জন্য।

সুবিন : এবারে একটু অন্য আলাপে আসি। তোমার শিক্ষকতা পেশায় আসার কারণ কি?
সজীব : এসডিএসএলে আমি প্রায় সবকিছুই পেয়েছিলাম এই কথাটা সত্যি। কিন্তু তবুও, সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে আমি যতখানি কাজ করতে চেয়েছিলাম তা পারিনি। আমার মনে হয়েছে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুবাদে আমি সেই সুযোগ পাব। কিন্তু শাবিপ্রবি এবং সিএসই ডিপার্টমেন্ট আমার এই ভাবনা কে কয়েকটি ছোট ঘটনার মাধ্যমে ভিন্ন মাত্রা দেয়। আমি ২০০৯ সালে আমাদের ডিপার্টমেন্টের সিএসই কার্নিভালে গিয়ে বুঝতে পারি সবাই মানে আমার শিক্ষক এবং জুনিয়র ছাত্র-ছাত্রীরা ধরেই নিয়েছে যে আমি সাস্টে যাব। এই ব্যাপারটি আমাকে সাস্টের সাথে ইমোশনাল এটাচমেন্ট এনে দেয়। যেই কারনে আমি আমার তখনকার বেতনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সেলারীতে জয়েন করি। আমি আমার ফ্যামিলির ব্যায়ভার বহন করি আমার পুরনো কোম্পানির সেলারী একাউন্ট থেকে। আমি কখনো ভাবিনি আমি কোনো প্রজেক্ট পাব। শুধুমাত্র সাস্ট এর ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আর সাস্টের সাথে ইমোশনাল এটাচমেন্টের কারনেই আমি সিএসই তে জয়েন করে ফেলি।

সুবিন : তোমার কি মনে হয় যে  ছাত্র হিসেবে এবং পরবর্তি সময়ে শিক্ষক হিসেবে সাস্টের সিএসই বিভাগে থাকার কারণে তুমি বাড়তি অনেক সুবিধা পেয়েছ, যা অন্য জায়গায় হয়তো পাওয়া যেত না?
সজীব : অবশ্যই। আমি মনে করি ব্রিলিয়ান্ট বা জিনিয়াস শব্দগুলো আমার সাথে যায়না। তবে সাস্টে আমি খুব উদ্দীপনামূলক একটা পরিবেশ আমি পেয়েছিলাম যে কারনে খুব আগ্রহ নিয়ে পরিশ্রম করে নিজের মেরিটকে আমি একটু হলেও প্রকাশ করতে পেরেছি। ছাত্র জীবনে আমি অনেক পড়ালেখা করেছি আর অনেক বেশী জানার আগ্রহের সাথে এর একটি অন্যতম কারণ ছিল কম বুঝতে পারা। সাস্ট সবসময়ই আমাকে যেকোন শূণ্যস্থান পূরন করে নেওয়ার জন্য প্রেরণা দিয়েছে। যখন শিক্ষক হয়েছি তখনও আমি একই রকম অনুভূতি পেয়েছি। তবে এই কথাগুলি যেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীকে কষ্ট না দেয়। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের একটা নিজস্ব সুর আছে। সেই সুরে নিজেকে ঠিকমত টিউন করে নিলে আর নিজের আগ্রহ অনুযায়ী পরিশ্রম করতে পারলেই সবার উন্নতি আসবে। সাস্টে আমার শিক্ষকরা, আমার সিনিওর, বন্ধু এবং জুনিয়র সবাই আমাকে আমার নিজের মত করে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

সুবিন : তুমি যে মেশিন লার্নিং কোর্সের কথা বললে, আমাদের সময়ে তো সেই কোর্সটি ছিল না। পরে অবশ্য আমি Coursera থেকে প্রফেসর Andew Ng-এর মেশিন লার্নিংয়ের কোর্সটি করি। চমৎকার বিষয়। তোমার কি মনে হয় MOOC (Massive Open Online Course) থেকে আমাদের শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষকরা উপকৃত হতে পারেন?
সজীব : অবশ্যই উপকৃত হতে পারবে। আমি নিজে মেশিন লার্নিং এর জন্য এই রকম কয়েকটা কোর্সের সাহায্য নিয়েছি। আমি যদি মেশিন লার্নিং এ পড়ার জন্য মাষ্টার্স বা পিএইচডি এর জন্য অপেক্ষা করতাম তবে তা কোনদিনও সম্ভব হতোনা। আমি ততটুকুই শিখেছি যতটুকু আমার প্রয়োজন এবং তারপরে আমি তা শিখিয়েছি। MOOC সবাইকে এই সুযোগটি করে দিয়েছে। যে কেউ তার প্রয়োজন অনুযায়ী একটা কোর্স করে, আনুষঙ্গিক হোম ওয়ার্ক করে নিজের জন্য দরকারী অভিজ্ঞতাটুকু নিয়ে নিবে। এটাই MOOC এর একটা শক্তিশালী দিক।

সুবিন : বাংলাদেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে যদিও তুমি খুব বেশিদিন সরাসরি কাজ করো নি, কিন্তু সাস্টের শিক্ষক থাকাকালীন তুমি বেশ কিছু সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করেছে। সেগুলোকে কাছ থেকে দেখেছ। দেশের সফটওয়্যার শিল্প নিয়ে তোমার মূল্যায়ন কী?
সজীব : মূল্যায়ন মিশ্র। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক মেধাবী লোকজন আছে। এটা শুধুমাত্র আমি নই সবাই জানে। কিন্তু এদেরকে সত্যিকার অর্থে কাজে লাগানোর জন্য আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো সামনে এগিয়ে আসতে রাজি না। অনেকেই মনে করে সফটওয়্যার বিনামূল্যে পাওয়া যায়। শুধুমাত্র এই কারনে দেশে সত্যিকার অর্থে ব্যবসা করাটা কঠিন। তবে এত কিছুর পরেও অনেকে শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিং করে এখনো নিজের কোম্পানিটিকে টিকেয়ে রাখছেন। এতে করে আমাদের এখন পর্যন্ত কিছু সুনাম হয়েছে। আমি বলব এই সুনামটুকু নিয়ে আমাদের উচিৎ মধ্যম আয়ের অন্যান্য দেশে নিজেদের সফটওয়্যার বা সার্ভিস সেল করার জন্য সবার এক যোগে এগিয়ে আসা। এতে করে আমাদের বাজারের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে।

সুবিন : তুমি যেহেতু বাংলা সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে নিজের উদ্যোগে কাজ করেছ, তাতে খানিকটা বোঝা যায় যে বাংলা ভাষার প্রতি টানটা তোমার একটু বেশিই। তো বাংলা ভাষা শিক্ষা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ব্যাপারে তোমার কি অভিমত?
সজীব : আমার নিজের মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা অনেকটা ব্যক্তিগত। আমি বরং আমার জানামতে কয়েকটা গবেষণার কথা বলি। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাতৃভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবারই নিজের ভাষার প্রতি একটা দূর্বলতা থাকে। প্রায় সবাই মনে করে নিজের ভাষায় পড়তে পারলে কোন একটা কঠিন টপিক হয়তো আরেকটু সহজ মনে হতো। এজন্যই অনেক উন্নত দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্ট গুলিকে তাদের মাতৃভাষায় পড়ানো হয়। আমাদের দেশেও একজন ছাত্র বা ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন একটি বিষয়ে চার বছর ইংরেজী মাধ্যমে পড়ালেখা করেও তার বিষয় সম্পর্কে ইংরেজীতে প্রায় কিছুই বলতে পারেনা। এদেরকে যদি অন্তত কয়েকটা বেসিক বিষয়ে বাংলায় পড়িয়ে তার সাথে ইংরেজীর টার্ম গুলিও পরিচয় করানো যেত তবে হয়তো ভালো ফল পাওয়া যেত। তাই আমি মনে করি মাতৃভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পড়ার সুযোগ করার জন্য আমাদের সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে আসা উচিৎ।

সুবিন : আমাদের দেশে অনেক ছেলেমেয়ে আছে, যারা কারণে-অকারণে নিজেদের বঞ্চিত মনে করে। আমি যদি তাদের মনে করিয়ে দেই যে সাস্টে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ার সময় তোমার নিজের কোনো কম্পিউটার ছিল না, তারপরেও তুমি ছিলে ভার্সিটির সেরা প্রোগ্রামারদের একজন, আবার সেই সাথে তোমার ক্লাসের ফার্স্ট বয়, তাতে তুমি নিশ্চয়ই মাইন্ড করবে না। এ ব্যাপারে তোমার কী বক্তব্য?
সজীব : প্রথমত, আমি অবশ্যই মাইন্ড করবনা। আমি বরং খুশী মনেই এই কথাটা স্মরণ করি। এমনকি ৪র্থ সেমিষ্টার পরে আমার আর শাবিপ্রবিতে পড়ালেখা করারও কথা ছিল না। তবু সবকিছু কেমন করে মিলে যায়। যারা মনে করে তারা বঞ্চিত তাদেরকে এমন অনেক উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। আমি নিজেকে যখন এই অবস্থায় পেয়েছি তখন আমি কি করতে পারি তা নিয়ে অনেক ভেবেছি। কখনো খারাপ লেগেছে, আবার ঠিক তারপরেই ব্যাপারটিকে আমার নিজের কাছে এডভেঞ্চার মনে হয়েছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটিং রিসোর্স ব্যাবহার করে বড় হয়েছি। বন্ধুরাও আমাকে সাহায্য করেছে। অনেক বড় ভাইদের কাছে আমি বই চেয়ে নিয়ে এসেছি। আমার প্রথম বড় প্রোগ্রামটি লিখি আমার খাতায়। সেটা ডিবাগ করি খাতায়। পড়ে তার একটা অংশ আমি কোড করে সঠিক উত্তর পেয়েছি। এতে করে আমি প্রোগ্রামিং পারব কিনা সেই ভূতটা চিরতরে বিদায় নিয়েছিল। যারা নিজেকে বঞ্চিত মনে করে তাদেরকেও আমি বলব নিজের আশেপাশের যতটুকু সুযোগ আছে ততটুকুই কাজে লাগানোর জন্য। একসময় এই অভিজ্ঞতাগুলি আসল কাজের ক্ষেত্রে বিশাল এক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে। আমি শিক্ষক হওয়ার পরেও খুব একটা রিসোর্স পাইনি। কিন্তু আমি কখনোই অভিযোগ করিনি। বরং বিভিন্ন মাধ্যমে গবেষণার প্রপোজাল লিখে ফান্ড জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। সেই ফান্ডের করা কাজ থেকে লভ্যাংশ আমার ডিপার্টমেন্টকে অনেকদিন সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। যে কেউ চাইলেই অভিযোগটুকু বাদ দিয়ে নিজের চারপাশের রিসোর্স দিয়ে একজনের প্রয়োজনীয়তাকে ধীরে ধীরে মেটাতে পারে। এতে হয়তো সময় লাগবে কিন্তু যেই অভিজ্ঞতাটুকু অর্জন হবে তা সারা জীবনের জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।

এরকম ১২টি সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে “প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন : এক ডজন প্রোগ্রামারের কথা”। বইটি পাওয়া যাচ্ছে নীলক্ষেতের হক লাইব্রেরি ও রকমারি ডট কম-এ। বিস্তারিত জানতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন।

সুবিন : সজীব, তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ তোমার ব্যস্ত জীবন থেকে তিন ঘণ্টা সময় দেওয়ার জন্য।
সজীব : আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। এত ধৈর্য্য নিয়ে আমার কথা শোনার জন্য।

ওয়ার্ডপ্রেস থিম থেকে স্বপ্নের বাড়ি!

একজন ডেভেলপার নিজেকে নানা ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারে। সকল ক্ষেত্রেই যে নিমেষে সফলতা আসে তা নয়। কিন্তু যদি শুধুমাত্র একটি থিম ডেভেলপ করেই সফলতা লাভ করতে পারে তবে? এখানে প্রশ্ন আসতে পারে যে সফলতা বলতে কি বুঝান হচ্ছে। এই ডেভেলপারের ক্ষেত্রে বলা যায় তার স্বপ্নের বাড়ি বানাবার সামর্থ্য অর্জন করাই হল সফলতা। আর পাকিস্তানের এক ডেভেলপার মুহাম্মদ হারিস তাই অর্জন করতে পেরেছেন শুধুমাত্র একটি থিমের মাধ্যমে।

muhammedharris[1]

অ্যাভাডা, (http://theme-fusion.com/avada/) হল অস্ট্রেলিয়ার একটি বিখ্যাত থিম বিক্রয়কারি সাইট থিমফরেস্টের সর্বোচ্চ বিক্রিত থিম। এই একটি থিমের মাধ্যমেই থিমফিউশন নামের একটি প্রতিস্থান এখন পর্যন্ত আয় করেছে প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার। আর এই থিম ফিউশনের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা হল মুহাম্মদ হারিস যার নিবাস হল পাকিস্তানের লাহোরে। হারিস আমেরিকাবাসী আরেক ডিজাইনার লিউক বেক এর সাথে মিলে তাদের এই প্রতিষ্ঠান থিমফিউশন প্রতিষ্ঠা করে।

থিমফিউশনের এখন পর্যন্ত মাত্র একটি থিমই বিক্রি করেছে আর তাই হল অ্যাভাডা। থিমফিউশনের দেয়া তথ্যমতে এখন পর্যন্ত এই থিমের প্রায় ৮৩,১৩৭ কপি বিক্রি হয়েছে। আর এই বিক্রি থেকে যে অর্থ উঠে এসেছে হারিস তা দিয়ে তার পরিবারের জন্যে পাকিস্তানে তার স্বপ্নের তিনতলার বাড়ি তৈরি করছে।

এই ক্ষেত্রে হারিস জানিয়েছে যে, “আমরা একটি বিস্তৃত পরিবারে বাস করি। আমরা এই বাড়ি বানাতে সক্ষম হয়েছি শুধুমাত্র থিমফরেস্টে একটি মাত্র থিম বিক্রয় করে।”

এনভাটো এর সিইও, কলিন টাইয়িড ( মূলত যারা থিম ফরেস্টের মালিক ) এ বিষয়ে অ্যাভাডাকে ওয়েবসাইট থিমের ‘সুইস আর্মি নাইফ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “থিমটি সব করতে সক্ষম। আর ওয়ার্ডপ্রেস থিম একটি ব্যবসা ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখে মূলত।”

হারিসের নিজের মুখেই শোনা যাক তাঁর অভিজ্ঞতার কথা :

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং

ফ্রিল্যান্সিং শব্দটা নিয়ে আমাদের দেশে বেশ সোরগোল হচ্ছে কয়েক বছর ধরেই। কাজটা শুরু করেছিল বিডিওএসএন, তারপরে বেসিস থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের অ্যাওয়ার্ড দেওয়ায় সেটা অন্য মাত্রা পায়। কিন্তু বিষয়টা নিয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই।

ফ্রিল্যান্সিং পেশাটা কিন্তু নতুন না, ফ্রিল্যান্স কলাম লেখক আছেন, সাংবাদিক আছেন, ফটোগ্রাফার আছেন। তাঁরা যেটা করেন, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাকরি করেন না, তাদের নিজের দক্ষতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন, যখন যেখানে কাজ পান। এখন, ইন্টারনেটের কল্যাণে বিষয়টা বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে গেছে। লন্ডনের কেউ হয়ত নতুন ব্যবসা খুলবে, তার লোগো ডিজাইন করা দরকার, সেটা সে যদি লন্ডনে কাউকে দিয়ে করাতো, তাহলে তার খরচ হতো হয়ত ২০০০ ডলার, কিন্তু বাংলাদেশের একটি মেয়ে, যে কী না ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার, সেটি করে দেবে ১০০ ডলারে। কিংবা আমেরিকায় কোনো কোম্পানী মোবাইল অ্যাপ তৈরি করবে, সেটি যদি তারা কোনো আমেরিকান সফটওয়্যার কোম্পানীকে দিয়ে করাতো, হয়ত ৫০,০০০ হাজার ডলার খরচ হতো, বাংলাদেশি সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানী সেটি করে দিবে ৫০০০ ডলারে। আবার এমনও হয় যে কানাডার কোনো সফটওয়্যার কোম্পানীতে কাজের চাপ বাড়ছে, তারা সেখানে বাড়তি লোক না নিয়ে অতিরিক্ত কাজ স্বল্প আয়ের কোনো দেশের কোম্পানীকে দিয়ে করালো। শেষের এই ব্যাপারটাকে বলে আউটসোর্সিং। মানে নিজে না করে, বা নিজের কোম্পানীতে অতিরিক্ত লোকবল না নিয়ে, কোনো কাজ অন্য কোম্পানীকে দিয়ে করানো।

ইন্টারনেটের কারণে এই ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের বিষয়টা ভৌগলিক সীমারেখার বাইরে চলে গেছে। বেশ কিছু অনলাইন মার্কেটপ্লেস আছে, যেখানে বিড করে কাজ পাওয়া যায়, আর কাজ ঠিকঠাক শেষ হলে অর্থ প্রাপ্তিরও নিশ্চয়তা থাকে। সেজন্য সেই মার্কেটপ্লেস একটা কমিশন রাখে (সাধারনত ১০% বা তার আসেপাশে)। বাংলাদেশেও অনেক তরুণ-তরুণী এখন ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে ইন্টারনেটে অনেক কনটেন্ট আছে, বাংলাতেও আছে, এমনকী বইও আছে।

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আরো জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন।

আমি লেখাটি যখন শুরু করেছিলাম, কাকতালীয়ভাবে তার কিছুক্ষণ পরে প্রথম অলোর অনলাইন সংস্করণে এই লেখাটি প্রকাশিত হয়: http://www.prothom-alo.com/technology/article/194983/, এখানে অনেক সুবিধার কথা বলা আছে, তাই আমি সুবিধার বিষয়গুলো আর লিখলাম না।

এবার কয়েকটি অসুবিধার কথা বলি।

১) নিজের মেধার পূর্ণ ব্যবহার না করা।
অনেকের মধ্যেই অনেক ভালো কাজ করার মতো মেধা ও যোগ্যতা আছে। দরকার কেবল একটু পরিশ্রম। এখন কেউ ২ মাস ঘাঁটাঘাঁটি করে ফ্রিল্যান্সিংয়ে নেমে পড়ল, তার বয়স হয়ত ১৫। ঘণ্টায় ২ ডলার আয় করেই অনেক খুশি। মাসে ১০০ ঘণ্টা কাজ করলে ২০০ ডলার, মানে ১৫ হাজার টাকা! সে তার বেশিরভাগ সময়ই ব্যায় করতে লাগলো এসব কাজে। নতুন কিছু শেখা হলো না, নিজে উন্নত হলো না, তাহলে উন্নতিও হবে না। ১৫ বছর বয়সে ১৫ হাজার টাকা অনেক বেশি মনে হবে, কিন্তু আরো ১৫ বছর পরে, ৩০ বছর বয়সে ৩০ হাজার টাকা কিন্তু খুব বেশি নয়। তাহলে কী মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করবে না? করবে, কিন্তু সেটা প্রয়োজন হলে। খুব দরকার না হলে ওই বয়সে ফ্রিল্যান্সিং না করে বরং বিভিন্ন জিনিস শিখে নিজের ভিতটা শক্ত করা প্রয়োজন, যাতে ২ ডলার রেটের কাজগুলো করতে না হয়, ঘণ্টায় ১০ ডলার রেটে যেন শুরু করতে পারে। তীর অনেক সামনে যেতে চাইলে শুরুতে তাকে বেশ পেছনে টানা লাগে।

২) আরেকটা অসুবিধা হচ্ছে কাজের পরিবেশ ও একাকীত্ব। ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণত বাসায় বসে কাজ করে। এতে বেশ কিছু সমস্যা হয়। যেমন বাসায় হয়ত বুঝতে চাইবে না যে সে কাজ করছে। হুটহাট বিভিন্ন কাজের ফরমায়েশ দেওয়া হবে। কিংবা সে যদি বিবাহিত হয়, তাহলে তার স্ত্রী মনে করবে যে সে তার দিকে যথেষ্ট মনোযোগ না দিয়ে কম্পিউটার নিয়ে বসে আছে। আর বাচ্চা-কাচ্চা হলে তো কথাই নেই। ল্যাপটপে হিসু করে দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে। তাহলে কী মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করবে না? করবে, তবে কাজের জন্য বাসার আলাদা একটা রুম ঠিক করে নিলে ভালো হয় যেখানে অন্যরা সহজে আসবে না। আরো ভালো হয় বাইরে শেয়ারড অফিস নিলে। বিদেশে এরকম অনেক কোওয়ার্কিং স্পেস ( co-working space ) আছে। যেখানে রুম কিংবা টেবিল ভাড়া নিয়ে কাজ করা যায়। সেখানে কাজের পরিবেশ ভালো থাকে। আবার অন্যদের সাথে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ মেলে। নিয়মিত বাইরে গেলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এমন কোওয়ার্কিং স্পেস চালু হচ্ছে। সামনে হয়তো আরো বাড়বে। আর এমন ব্যবস্থা না থাকলে কয়েকজন ফ্রিল্যান্সার মিলে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে ফেলা যায়!

৩) সামাজিক স্বীকৃতি। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যারা এখনও বিয়ে করে নি, তারা হয়তো টের পাচ্ছে না বিষয়টা। তবে এক্ষেত্রে বিডিওএসএন ও বেসিসকে ধন্যবাদ দিতে হয়, কারণ তারা এটা নিয়ে হৈচৈ করার কারণে ধীরে ধীরে মানুষ বিষয়টা সম্পর্কে জানতে পারছে।

৪) শেষ অসুবিধাটা হচ্ছে রাত জাগা। যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমেরিকার লোকজনের সাথে কাজ করতে হয়, আর সেটা পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের ঠিক উল্টো দিকে, তাই রাত না জেগে উপায় নেই। এটা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে এ থেকে পরিত্রাণের সহজ উপায় আমার জানা নেই।

মূল লেখাটি ফেসবুকে নোট আকারে লিখেছিলাম এপ্রিল ১৮, ২০১৪ তারিখে।

মারুফ মনিরুজ্জামান এর সাক্ষাৎকার

মারুফ মনিরুজ্জামান একজন সফটওয়্যার নির্মাতা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে লেখাপড়া করেছেন। তারপর ঢাকায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও, মাইক্রোসফটে চাকরি পেয়ে কানাডা চলে যান। এখন তাঁর বসবাস যুক্তরাষ্ট্রে। মনির ভাই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই, আমার চেয়ে ২ ব্যাচ সিনিয়র। তাই তাঁর কাছ থেকে দুইঘণ্টা সময় বের করতে কোনো সমস্যা হলো না। আশা করি আমাদের দেশের উদীয়মান প্রোগ্রামাররা তাঁর কথা থেকে উপকৃত ও অনুপ্রাণিত হবে।

সুবিন : মনির ভাই, এখন কোথায় কাজ করছেন?
মনিরুজ্জামান : আমি এখন Caradigm নামে একটা কোম্পানিতে কাজ করি। এটা মাইক্রোসফট আর জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানির হেলথ কেয়ার ভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ।

সুবিন : এখানে আপনি কী ধরণের কাজ করেন? আপনার প্রজেক্ট সম্পর্কে একটু বলুন।
মনিরুজ্জামান : আমি যে প্রজেক্টে কাজ করি সেটা হেলথ কেয়ারের জন্য একটা প্লাটফর্ম। এটা বিভিন্ন উৎস এবং ডিভাইস থেকে তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেসব প্রযুক্তি দরকার হয়, সেগুলোর জন্য একটা প্লাটফর্ম সরবরাহ করে। যেটার উপর ভিত্তি করে অন্য ছোটবড় কোম্পানি সফটওয়্যার লিখতে পারে। এখানে মূলতঃ মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি ব্যবহার হয়। যেমন ল্যাংগুয়েজের জন্য C#, প্লটাফর্মের জন্য Windows Server, SQL Server, Windows Azure, এছাড়া Natural Language Processing ইত্যাদি ব্যবহার হয়।

সুবিন : Caradigm-এ কবে থেকে কাজ করছেন? এখানে চাকরি পেলেন কিভাবে?
মনিরুজ্জামান : Caradigm এ কাজ করি প্রায় দেড় বছর। এখানে কাজ পেয়েছি মূলতঃ আমার আগের মাইক্রোসফটে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায়। আমি এর আগে ২০০৮ সনে মাইক্রোসফট অফিসে (যারা Word, Excel, Exchange এই সফটওয়্যারগুলো বানায়) যোগ দেই। সেখানে কিভাবে কাজ পেলাম সেটা বলা যায়। আমি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জাভা ভার্চুয়াল মেশিন বানিয়েছিলাম একটা প্রোজেক্টের অংশ হিসাবে। সেটা নিয়ে আমি ২০০৮ এ codeproject এ একটা আর্টিকেল লিখি। সেটা ওই মাসে সেরা আর্টিকেল হিসাবে প্রথম হয়। এরপর ওরা আর্টিকেলের লিংকটা ওদের প্রায় ৫০ লক্ষ (৫ মিলিয়ন) সদস্যের কাছে পাঠায়। তাদের মধ্যে একজন মাইক্রোসফটের রিক্রুটার ছিল। উনি আমাকে রিজিউমি পাঠাতে বলেন। এরপর হংকংএ আমার ইন্টারভিউ হয়। এরপর আমি মাইকোসফট থেকে অফার পাই।

সেই আর্টিকেলের লিঙ্ক : http://www.codeproject.com/Articles/24029/Home-Made-Java-Virtual-Machine

সুবিন : বাংলাদেশে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে কত বছর কাজ করেছেন?
মনিরুজ্জামান : আমি বাংলাদেশে কাজ করেছি প্রায় ৩ বছর। সাইক্রাফট সল্যুশন এবং কাজ সফটওয়্যার-এ।

সুবিন : এবারে একটু পেছনের দিকে যাই। প্রথম কম্পিউটারের সাথে পরিচয় কবে? প্রোগ্রামার হওয়ার সিদ্ধান্তটি কখন নিলেন?
মনিরুজ্জামান : কম্পিউটার প্রথম হাতে পাই শাহজালার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর, ১৯৯৮ সনে। তবে কম্পিউটার নিয়ে আমার আগ্রহ ছিল স্কুলে পড়ার সময় থেকে। একটা কম্পিউটার হাতে পাওয়ার জন্য আমি অনেক চেষ্টা করেছি স্কুলে এবং কলেজে পড়ার সময়। তখন সি এন্ড ই জার্নাল নামে একটা পত্রিকা বের হত। সেটার ১৯৯৭ সংখ্যায় আমার একটা চিঠি ছাপা হয় যেটায় আমি জানতে চেয়েছিলাম Z80 কম্পিউটার বানানোর পার্টস কোথায় পেতে পারি। ওরা লিখেছিল এখন সেগুলো পাওয়া যাবে না। এর চেয়ে ১৫০০০ টাকা দিলে ওরা আমাকে একটা পুরোনো কম্পিউটার দিতে পারে। আর প্রথম প্রোগ্রামটা আমি “খাতায়” লিখেছিলাম সম্ভবত ১৯৯৪ সনে ক্লাস নাইনে পড়ার সময়। যেটা ছিল একটা কার্ড গেম। ১৯৯৮ সনে সেটা প্রথম কম্পিউটারে রান করে দেখি। প্রোগ্রামার হওয়ার সিদ্ধান্ত কবে নিলাম এটা বলা অনেক মুশকিল – তাই একটু ইতিহাস বলে দিলাম।

সুবিন : কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার সিদ্ধান্তটি কি আপনার নিজের ছিল? নাকি বাবা-মা বলে দিয়েছে যে আপনাকে কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে হবে?
মনিরুজ্জামান : আমার নিজের অবশ্যই। আমার “একটা কম্পিউটার থাকা মানুষের জীবনে কত জরুরী” এইটার বিবরণ শুনতে শুনতে আমার বাবা মা মোটামুটি অতিষ্ঠ হয়ে ছিলেন প্রায় ৫ বছর। আমি কম্পিউটার সায়েন্সে না পড়লেও সম্ভবত প্রোগ্রামার হওয়ার চেষ্টা করতাম।

সুবিন : আপনার প্রথম স্কুল কোনটি ছিল? কত বছর সেখানে পড়েছেন?
মনিরুজ্জামান : আমার প্রথম স্কুল ছিল কাজীপুর, সিরাজগঞ্জের একটি গ্রামে। খুকশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে চার বছর লেখাপড়া করি।

সুবিন : তারপর আর কোন কোন স্কুলে পড়েছেন? কোন কলেজে পড়েছেন?
মনিরুজ্জামান : তারপর হৈমবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এসবি রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি। আমার কলেজ হচ্ছে রাজশাহীর নিউ গভ: ডিগ্রী কলেজ।

সুবিন : আমাদের দেশে অভিভাবকরা তো নামীধামী স্কুলে সন্তানকে পড়ানোর জন্য মরিয়া। সেখানে না পড়লে জীবন শেষ। এই ব্যাপারে আপনার কী মতামত?
মনিরুজ্জামান : আমি নামি-দামি স্কুলে পড়ি নাই। সেকারণে আমি কী হারিয়েছি এটা চিন্তা করা মুশকিল। তবে আমার যত মানুষের সাথে পরিচয়, তার বেশিরভাগই নামীদামী স্কুলে পড়ে নাই। শেষ পর্যন্ত মানসিক উন্নতিটাই আসল। ইচ্ছা থাকলে যেকোনো জায়গা থেকে শেখা যায় বলেই আমার ধারণা।

সুবিন : আমাদের যে পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, এ নিয়ে আপনার কী মন্তব্য? কর্মজীবনে সিজিপিএ কতটা দরকারি?
মনিরুজ্জামান : পরীক্ষা তো থাকতেই হবে, নাহলে মূল্যায়ন করা মুশকিল। তবে পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার জন্য পড়াশোনা করাটা আমার কাছে সময়ের অপচয় মনে হয়। শেখার জন্য পড়া জরুরী আর কতটুকু শিখলাম, সেটার জন্য পরীক্ষা দরকার। যেন কতটুকু শেখা হলো সেটা অন্যদের সাথে তুলনা করা যায়। কর্মজীবনে এখন পর্যন্ত কেউ আমার কাছে সিজিপিএ জানতে চায় নাই, সুতরাং আমার ধারণা খুব বেশি দরকারি না। পিএইচডি করতে চাইলে মনে হয় লাগে, কিন্তু সেটা নিয়ে আমার কোনো অভিজ্ঞতা নাই।

সুবিন : যেসকল কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার হিসেবে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নিতে চায়? তাদের প্রতি আপনার কী পরামর্শ?
মনিরুজ্জামান : প্রথমে দেখতে হবে বিষয়টাতে আপনার উৎসাহ আছে কিনা। আমি মনে করি, কোন বিষয় ভাল না লাগলে সেটা করা উচিৎ নয়। আপনি যদি প্রোগ্রামিং আগ্রহী হন এবং এটাকে পেশা হিসাবে নিতে চান তাহলে প্রথমে সময় নিয়ে চর্চা করুন। ভালভাবে না শিখে কাজ শুরু করলে কখনওই আর শেখা নাও হতে পারে। প্রচুর চর্চা করলে চাকরি নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। আমি অনেক কষ্টে (আসলে সহজে, পড়াশোনাই করতাম না- কষ্ট হল কিভাবে?) কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রি পেয়েছি। কিন্তু আমি সারাদিন কম্পিউটারে বিভিন্ন কাজ করতাম। আমার কাজে লাগবে সেকারনে করতাম না। মজা লাগত বলে করতাম। কয়েকটি বিষয় ঠিক করুন কী কী করতে চান। একটা কার্টুন সফটওয়্যার বানান। নির্দোষ ভাইরাস বানিয়ে বন্ধুকে পাঠিয়ে দিন। কম্পিউটারকে ১ থেকে ১০০০ বিলিয়নের মধ্যে সবগুলো প্রাইম নাম্বার বের করতে লাগিয়ে দিন। দাবা খেলার প্রোগ্রাম লিখুন, যেটা ১০০০ লাইনের মধ্যে করা সম্ভব বা প্রেয়সীর ছবি দিয়ে গেম বানান, যেটা ছবির বিভিন্ন অংশ এলোমেলো ব্লকে রাখবে। আনন্দ আর কাজ একসাথে করা যাবে না কেন? তারপর একদিন দেখবেন মাইক্রোসফট রিক্রুটারের মেইল পেয়ে গেছেন। আমার ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

সুবিন : ভালো প্রোগ্রামার হতে গেলে অ্যালগরিদমভিত্তিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, যেমন এসিএম আইসিপিসি-তে অংশগ্রহন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মনিরুজ্জামান : ভালো প্রোগ্রামার হতে অবশ্যই ডাটা স্ট্রাকচার এবং অ্যালগরিদম জানতে হবে। ডাটা স্ট্রাকচার এবং অ্যালগরিদম না জেনে সফটওয়্যার বানালে সেটার  মধ্যে কাঠামোগত ত্রুটি থাকবে। এই ত্রুটিগুলোর কারণে সফটওয়্যারে নতুন ফিচার যোগ করা বা অধিক সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য ব্যবহার উপযোগী করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারনভাবে জটিল ডাটা স্ট্রাকচার এবং অ্যালগরিদম নিত্যদিনের কাজে দরকার হয় না। কিন্তু অনেক ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নিতে হয় যেগুলোতে ডাটা স্ট্রাকচার এবং অ্যালগরিদম জানা একজন প্রোগ্রামারের সিদ্ধান্ত অনেক উন্নতমানের হয়। একারনে মাইক্রোসফট, ফেসবুক, গুগলের মত কোম্পানি ডাটা স্ট্রাকচার এবং অ্যালগরিদমের উপরই মূলতঃ ইন্টারভিউ নিয়ে থাকে। ডাটা স্ট্রাকচার এবং অ্যালগরিদমে দক্ষ যে কেউ অন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সহজেই আয়ত্ব করতে পারে। এসিএম আইসিপিসি মূলতঃ কতটুকু ডাটা স্ট্রাকচার এবং অ্যালগরিদমে শেখা হল সেটার একটা পরীক্ষা। এখানে ভাল করলে ধরে নেয়া যায় যে, শেখা হচ্ছে ঠিকমত। যাদের সুযোগ আছে তাদের এসিএম আইসিপিসি তে অংশগ্রহন করা উচিত এবং প্রতিযোগীতায় ভাল করার চেষ্টা করা উচিত। শেষ পর্যন্ত সবাই প্রথম স্থান পাবে না বা প্রথম ১০ এর মধ্যে থাকতে পারবে না। কিন্তু অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে অনেককিছু শেখা হবে যেটা পরবর্তীতে অবশ্যই কাজে লাগবে। তবে কেউ যদি ইচ্ছা করে তবে জীবনের যে কোনো পর্য়ায়েই যে কোনো কিছু শিখতে পারে। তাই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের সুযোগ না থাকলেও পূর্বের বিভিন্ন প্রতিযোগীতার প্রশ্নগুলো দেখা যেতে পারে। এই প্রশ্নগুলো বিভিন্ন বাউন্ডারি কেস নিয়ে চিন্তা করতে শেখায়। যেটা পরবর্তীতে উন্নতমানের সফটওয়ার তৈরির জন্য কাজে লাগবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে http://ace.delos.com/usacogate সাইটের প্রশ্নগুলো সমাধান করতাম। এখানে ১০০ এর মত প্রশ্ন আছে যেগুলো জানা একজন কম্পিউটার প্রকৌশলীর জন্য জরুরী।

সুবিন : কম্পিউটার সায়েন্সে না পড়ে কি সফটওয়্যার নির্মাতা হওয়া সম্ভব?
মনিরুজ্জামান : হ্যাঁ, সম্ভব। কম্পিউটার সায়েন্সে যে বিষয়গুলো পড়ায় তার মধ্যে বিভিন্ন ল্যাংগুয়েজ, কম্পিউটার আর্কিটেকচার সম্পর্কে ধারনা, সফটওয়্যার ডিজাইন, ডাটাবেজ সিস্টেমস, ডাটা স্ট্রাকচার, অ্যালগরিদম এই বিষয়গুলো সরাসরি কাজে লাগে। যে কেউ এগুলো নিজে নিজে শিখতে পারে যদি আগ্রহ থাকে। কিন্তু মনে রাখতে হবে বিষয়গুলো কয়েক বছর ধরে পড়ানো হয়। তাই শর্টকাট খুঁজলে হবে না। সময় নিয়ে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো শিখতে হবে। মাইক্রোসফট অফিসে আমার একজন কলিগ ছিলেন যিনি পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। এখন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করছেন। অল্প দিনেই প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যাবেন সম্ভবত। মাইক্রোসফট অফিসে কেউ যদি কম্পিউটার সায়েন্সে না পড়ে কাজ করতে পারেন, তাহলে আমার ধারনা, যে কোনো যায়গাতেই সেটা সম্ভব।

সুবিন : একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কী কী দক্ষতা থাকা উচিত? দক্ষতা বলতে আমি টেকনিক্যাল স্কিল এবং সফট্ স্কিল দুটোই বুঝাচ্ছি।
মনিরুজ্জামান : প্রথমত, প্রচুর পরিমান অনুশীলন করতে হবে। বিষয়টা অনেকটা ব্যয়াম করার মত। কেউ যদি ১০ টা বুকডন (বা অন্য যে কোন ব্যায়াম) দিয়ে বলে আমি বুকডন দেয়া শিখে গেছি, আমার আর বুকডন দেয়ার দরকার নাই তাহলে যেমন শোনাবে – যখন কেউ বলে আমি এই ল্যাংগুয়েজ শিখে ফেলেছি সুতরাং আমার আর প্রোগ্রামিং করার দরকার নাই তাহলে সেরকমই শোনাবে। অনেক চর্চা করতে হবে। ব্যাপারটাকে ব্যায়ামের মত দেখতে হবে। কম্পিউটারের ভাষায় পুরোপুরি দক্ষতা থাকতে হবে। সফটওয়্যার তৈরি কবিতা লেখার মত। কবিতা লেখার সময় কবি কখনও ভাষা নিয়ে চিন্তা করেন না। ভাষা পুরোপুরি জানা না থাকলে কেউ কবিতা লেখার চেষ্টা করেন না।

আবার শুধু বুকডন চর্চা করলে যেমন ব্যায়ামের লক্ষ্য পূরন হয় না তেমনি শুধুমাত্র একটা বিষয় শিখলে ভাল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায় না। কয়েকটা বিভিন্ন ধরনের ভাষা জানা জরুরী। প্রত্যেকটা ভাষার কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। বৈশিষ্ট্যগুলো জানা থাকা দরকার। আমি Python, C, C# বা Java, Javascript, Erlang, Assembly অন্তত এই কয়েকটা ল্যাংগুয়েজ শেখার পরামর্শ দেব। প্রত্যেকটা ভাষারই কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে। এবং কেউ যদি শুরু করতে চান তাহলে প্রথমে পাইথন দিয়েই শুরু করুন। তারপর বাকিগুলো শেখা যেতে পারে। ভাষা শেখার জন্য ৫০০-১০০০ ঘন্টা ব্যায় করা হলে এরপর ডাটা স্ট্রাকচার এবং অ্যালগরিদমের দিকে সময় দেয়া দরকার। যদিও ১০০০ ঘন্টা চর্চা করলে কিছু ডাটা স্ট্রাকচার এবং অ্যালগরিদম শেখা হয়ে যাবে।

এরপর দরকার কাঠামো তৈরি শেখা। সেজন্য ডিজাইন প‌্যাটার্ন (http://en.wikipedia.org/wiki/Design_Patterns) শিখতে হবে। এটাও মূলতঃ অনেকদিন ধরে চর্চার মাধ্যমেই আয়ত্ব করতে হয়।

এরপর নেটওয়ার্কিং, প্যারালাল প্রসেসিং এবং সিকিউরিটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।

এছাড়া আর যে বিষয়গুলো লাগে সেগুলো হল বিভিন্ন ধরনের ডাটাবেজ সম্পর্কে ধারনা (SQL, NoSQL), বিভিন্ন ফ্রেমওয়ার্ক (ASP .NET, Angular JS ইত্যাদি) সম্পর্কে ধারনা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সোর্স কোড কন্ট্রোল (Team Foundation Server, Git), Continuous Integration এবং বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট মেথড (যেমন agile) ইত্যাদি। এগুলো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা থাকলে কাজ করতে করতে শিখে ফেলা যায়।

আর সফটওয়্যার তৈরি শুরু করার আগে মোটামুটি একটা খসড়া ডিজাইন ডকুমেন্ট বানাতে হয়। যেটা পরবর্তীতে পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু কাজ শুরু করার জন্য একটা থাকতেই হবে। এই বিষয়টা অভ্যাস করলে ভাল হয়।

একটা বিষয় যেটা বাংলাদেশে গুরুত্ব দেয়া হয় না সেটা হচ্ছে যোগাযোগ দক্ষতা। অন্য মানুষের সাথে কিভাবে সঠিকভাবে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে, বা কিভাবে কোনো বিষয়ে মতের অমিল হলে সেটা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে – এগুলো শেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে কোনভাবে আক্রমন বা অসম্মান করলে তার থেকে ভবিষ্যতে কোন সহায়তা পাওয়া অসম্ভব।

আর সবশেষে আরকবার বলি শব্দটা হচ্ছে দক্ষতা – মেধা নয়। মাসে একদিন ৮ ঘন্টা ব্যায়ম করলে হবে না। প্রতিদিন করতে হবে। আর প্রতিদিন কতটুকু পেশি বাড়ল সেটাও মাপা যাবে না। একবছর পর মাপতে হবে কতটুকু উন্নতি হল। প্রোগ্রামিং বা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রেও তাই। কাজটা অনেক মজার সুতরাং আশা করি সেটা আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হবে।

সুবিন : বাংলা ভাষায় প্রোগ্রামিং শিক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ?
মনিরুজ্জামান : পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ নিজের ভাষায় পড়াশোনা করে। আমাদের জন্য সেটা বাংলা ভাষা। প্রোগ্রামিং এর সাথে বাংলা বা ইংরেজি বা অন্য ভাষার সরাসরি কোন সম্পর্ক নাই। যদি ভাল মানের বই থাকে তবে নিজের ভাষায় যে কোন কিছু শেখা সহজ। সেটা প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রেও সত্য। আর বাংলা ভাষায় বই অবশ্যই দরকার আছে। অনেকেই শুধু ইংরেজি ভাষায় দুর্বল থাকার কারনে প্রোগ্রামিং শেখার উৎসাহ পায় না।

সুবিন : আপনি তো প্রোগ্রামিং শিক্ষা নিয়েও কাজ করেন। শিক্ষক ডট কম-এ আপনার সি প্রোগ্রামিংয়ের একটি কোর্স আছে। এই কাজগুলো সম্পর্কে যদি একটু বলতেন।
মনিরুজ্জামান : আমি যদি কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ার সুযোগ না পেতাম তাহলে নিজে নিজে শেখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু সেটা মোটেও সহজ হত না। সেকারনে আমি পরিকল্পনা করেছিলাম ১/২টা ভাষা, ডাটা স্ট্রাকচার, অ্যালগরিদম, কম্পিউটার আর্কিটেকচার ইত্যাদি কোর্স আকারে তৈরি করা। আমি মূলত ইউটিউবে ভিডিওগুলো আপলোড করা শুরু করেছিলাম। এরপর ডক্টর রাগিব হাসান ওনার শিক্ষক.কম সাইট চালু করেন এবং আমার ভিডিওগুলো সেখানে দিতে শুরু করি। যেহেতু শিক্ষক.কমে আর্টিকেলও দিতে হয় সেকারনে আমি আর্টিকেলও লিখতে থাকি। তবে আর্টিকেল লিখতে অনেক সময় লাগে। সেকারনে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর্টিকেল না লিখে এখন থেকে শুধু ভিডিও আপলোড করব আর আগের মত http://u.lekhoni.com সাইটে সেগুলো রাখব। এরপর লেখার কাজটা করা যাবে সময় পেলে। আমি এখন ডাটা স্ট্রাকচার আর অ্যালগরিদমের ভিডিওগুলো তৈরি করছি। আর বাংলায় এই বিষয়ে একটা বই লিখছি। তবে এই বিষয়ে আারো অনেকে এগিয়ে আসছেন যারা আমার চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। এটা অনেক আশার কথা।

সুবিন : এবারে অন্য প্রসঙ্গে যাওয়া যাক। আপনি তো বাংলাদেশে একটি উদ্যোগের (iFeri.com) সাথে জড়িত? সেটি নিয়ে যদি একটু বিস্তারিত বলতেন।
মনিরুজ্জামান : iFeri.com আমরা তিন বন্ধু (আমি, শামস, নাসির) মিলে শুরু করেছি ২০১১ সনে। এটা একটা অনলাইন শপিং উদ্যোগ। ঢাকায় কোনকিছু কিনতে কোথাও যেতে হলে যত সময় রাস্তায় আটকে থাকতে হয় সেটা খুবই অসুবিধাজনক। কেউ যদি বাসায় জিনিসটা ডেলিভারি দিয়ে যায় তাহলে জীবনের অনেক মূল্যবান সময় বাঁচে । এটাই শুরু করার আগে আমাদের “আমরা কি সুবিধা দিতে পারি” এই প্রশ্নের উত্তর ছিল। এটা আসলে একটা ব্যবসা উদ্যোগ। সফটওয়ার উদ্যোগ নয়। একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কোন একটা কোম্পানিতে কাজ করলে, সেটা যত বড়বা ছোট কোম্পানিই হোক, সেটা নিজের দাবি করা যায় না। আর পুরোপুরি স্বাধীনতাও পাওয়া যায় না কখনও।

Wolfram এর তধ্য অনুযায়ী ঈদের মাসে ১৫ লক্ষ হিট হয়েছে আমাদের সাইটে। ১ লক্ষ এর বেশি মানুষ এসেছে। কম খরচে এইরকম লোড সাপোর্ট দেয়ার জন্য আমরা বেশকিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। যেটা নিয়ে iFeri.com এ লেখার ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে।

এরকম ১২টি সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে “প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন : এক ডজন প্রোগ্রামারের কথা”। বইটি পাওয়া যাচ্ছে নীলক্ষেতের হক লাইব্রেরি ও রকমারি ডট কম-এ। বিস্তারিত জানতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন।

সুবিন : ভবিষ্যতে কী বাংলাদেশে এসে কাজ করার কোনো পরিকল্পনা আছে?
মনিরুজ্জামান : বাংলাদেশে শারিরিক ভাবে উপস্থিত না থাকলেও এখনও আমি বিভিন্ন কাজ করছি বাংলাদেশে। ভবিষ্যতে পুরোপুরি অনলাইন ভিত্তিক একটা আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় করার ইচ্ছা আছে। যেটার জন্য আমি মূলতঃ উদ্যোক্তা হব। শিক্ষক হিসাবে যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ কাজ করবেন। সবাই বাসায় বসে পড়াশোনা করতে পারবে। কিভাবে পরীক্ষা নেয়া হবে, কি কি বিষয় থাকবে সেটা নিয়েও ভেবে দেখতে হবে। আর এটা হবে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। তবে এটা করতে অবশ্যই বেশ সময়ের প্রয়োজন।

কোন ভার্সিটিতে সিএসই পড়ব ?

সিএসই পড়ব, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোর মধ্যে কোনটা ভালো হবে? এই প্রশ্ন আমার ইনবক্সে, বইয়ের ফেসবুক পেজে, বিভিন্ন গ্রুপে দেখতে দেখতে আমি হয়রান। উত্তরটা লিখে দেই এখানে। উত্তর পছন্দ হলে কেউ এই প্রশ্নটা করলে তাকে উত্তরটা দিয়ে দিবেন। লক্ষ রাখতে হবে, আমার বক্তব্য কেবল সিএসই বা অনুরূপ বিষয়ের জন্য প্রযোজ্য, আর এগুলো আমার ব্যক্তিগত মতামত।

বাংলাদেশে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার দুইটা উদ্দেশ্য থাকতে পারে, এক কম্পিউটার বিজ্ঞানী হওয়া, দুই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। আরেকটা অবশ্য আছে, সার্টিফিকেট পাওয়া, তবে তারা আমার আলোচনার বিষয়বস্তু না।

যারা কম্পিউটার বিজ্ঞানী হবে, তারা যেকোনো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেই হয়, কারণ আমাদের দেশের কোনো প্রাইভেট ভার্সিটিই বিদেশে খুব পরিচিত নয়। তাই এখানে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা পাবে না। যেখান থেকেই পড়, জিপিএ ভালো থাকলে এবং জিআরই-টোফেলে ভালো স্কোর থাকলে তোমার সুযোগ থাকবে।

এবার আসি যারা সফটওয়্যার তৈরির কাজ করতে চাও। ভালো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির সুযোগ অনেক (দেশে এবং বিদেশে) আর বেতনও ভালো। আমি যদ্দূর জানি, এই কারণেই পোলাপান সিএসই পড়তে চায়।

ধরা যাক, বাংলাদেশে ৮০টা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে, এবং সেগুলোর একটা ranking করা হলো। এখন সমান মেধার দুই বন্ধুর একজন ১ নম্বর ভার্সিটিতে পড়ল, আরেকজন পড়ল ৮০ নম্বর ভার্সিটিতে। ৮০ নম্বরেরটায় যে পড়বে, সে যদি ঠিকমতো প্রোগ্রামিং শেখে, চর্চা করে, সফটওয়্যার তৈরির কলাকৌশল সম্পর্কে খোঁজখবর রাখে, আর ১ নম্বর ভার্সিটিতে পড়ুয়া বন্ধু যদি কেবল গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রথম জন, যে ৮০ নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, সে অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। কারণ সফটওয়্যার প্রকৌশলবিদ্যায় ভালো করতে হলে কাজ জানা প্রয়োজন এবং পরিশ্রমীরাই এখানে ভালো করে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে প্রথমেই জানতে হবে, শিক্ষকরা কেমন। কথা হচ্ছে, কম্পিউটার সায়েন্স কিন্তু অন্য বিষয়ের মতো নয়, যে অমুক ভার্সিটিতে ভালো পড়ায়, তাই সেখানের শিক্ষার্থীরা ভালো। বেশিরভাগই নিজে নিজে শিখতে হয়, শিক্ষক কেবল অনুপ্রেরণা দেন। এখানে একজন তরুণ শিক্ষকও অনেক অনুপ্রেরণা দিতে পারেন, আবার পিএচইডি করা শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়বস্তু বোরিং করে তুলতে পারেন। তাই ডিগ্রীর দিকে না তাকিয়ে খোঁজ নিতে হবে, কোন ভার্সিটিতে এমন শিক্ষক বেশি যারা মনমানসিকতায় তরুন, শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুর মতো ব্যবহার করেন – অনেকটা Dead Poets Soceity-এর মিস্টার কিটিংসের মতো। শিক্ষকরাই পারেন অন্যরকম একটি কালচার তৈরি করতে।

এছাড়া যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে :
খরচ : শুধু টিউশন ফি ছাড়াও ভার্সিটিতে আরো অনেক খরচ থাকে। তাই খুব ভালো করে খোঁজ নিতে হবে।
যাতায়াত : বাসা থেকে দূরত্বের ব্যাপারটিও হিসাবে আনতে হবে। ভার্সিটিতে যাতায়াত করতে প্রতিদিন রাস্তার তিনঘণ্টা সময় ব্যায় করা কোনো সৃজনশীল ছাত্রের কাজ হতে পারে না। ব্যপারটি অস্বাস্থ্যকরও বটে।
বন্ধু : তোমার ভালো বন্ধুরা কোথায় পড়বে, সেটাও একটা বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।

আর ভর্তি হওয়ার পরে ক্লাস শুরুর আগ পর্যন্ত যে সময়টা পাওয়া যায়, সেসময়ে একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে ফেললে সবচেয়ে ভালো হয়। তাহলে ক্লাস শুরু হলে কোনো চাপ পরে না, নইলে প্রোগ্রামিং নিয়ে হিমশিম খেতে হয়। আর এই বিষয়গুলো শিক্ষক ক্লাসে পড়ান আর নাই পড়ান, নিজে নিজে পড়ে বা বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে আয়ত্বে আনতে হবে। এগুলো না শিখলে রেজাল্ট ভালো হলেও বিপদে পড়বে।

স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং, অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং, ডিসক্রিট ম্যাথমেটিকস, ডাটা স্ট্রাকচার, অ্যালগরিদম, ডাটাবেজ, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স, ওয়েব প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার অ্যানালাইসিস ও ডিজাইন। মোটামুটি সব ভার্সিটিতেই এগুলো পড়ায়। এসব বিষয়ে ওস্তাদ হয়ে যেতে হবে।

আর ক্যারিয়ার বিষয়ক এই লেখাটাও দেখতে পারো :  http://blog.subeen.com/?p=175

তোমাদের জীবন সুন্দর হোক, ভালো প্রোগ্রামার হও, পাশ করে ভালো চাকরি পাও, অনেক টেকাটুকা কামাও, এই দোয়া রইল। 🙂

প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার গড়তে ৫টি টিপস্

ধরা যাক, তুমি প্রোগ্রামিং ভালোই পারো। তোমার হয়ত কম্পিউটার সায়েন্সের উপর কোনো ডিগ্রী নেই, কিন্তু তুমি প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী।  কিংবা ডিগ্রী নিচ্ছ কিন্তু বুঝতে পারছ না যে কিভাবে তুমি তোমার সিভিতে নিজেকে এমনভাবে তুলে ধরতে পারবে যাতে কোম্পানীগুলো বুঝতে পারে যে তুমি আসলেই কাজ জানো। প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ারে কাজ করতে পারাটাই আসল, ডিগ্রী না থাকলেও চলে।

কিভাবে নিজের দক্ষতা প্রকাশ করবে?

১) প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন : তুমি যদি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী হও, তাহলে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাগুলোতে নিয়মিত অংশগ্রহন করতে পারো। এসিএম আইসিপিসি’র ঢাকা রিজিওনাল প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দুই বা তিনটি দলের মধ্যে থাকলে তোমার গুগল বা ফেসবুকে ইন্টারভিউ দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়। তুমি কম্পিউটার সায়েন্সে পড় নাকি ফিজিক্সে পড়, এটি নিয়ে তাদের মাথাব্যাথা থাকবে না। আরেকটি সুবিধা হবে, দেশের শীর্ষ প্রোগ্রামারদের সাথে তোমার জানাশোনা হবে।

২) প্রোগ্রামিং ব্লগ : তুমি প্রোগ্রামিং বিষয়ক ব্লগ লেখতে পারো। প্রতিদিন প্রোগ্রামিং করতে গিয়ে তুমি যা শেখো, সেগুলো লিখে রাখতে পারো নিজের ভাষায়। কোনো সমস্যায় পড়লে কিভাবে সেই সমস্যার সমাধান করলে, সেটিও লিখে রাখতে পারো। এতে অন্যরা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি তোমার একটি পরিচিতি তৈরি হবে এবং সিভিতে তুমি তোমার ব্লগের লিঙ্ক দিয়ে দিবে। এতে যিনি তোমার ইন্টারভিউ নিবেন, তিনি সেটি দেখে তোমার দক্ষতা সম্পর্কে খানিকটা ধারণা পাবেন। কিন্তু খবরদার, নিজের ব্লগে অন্যের লেখা চুরি করবে না।

৩) ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি : তুমি নিজে বিভিন্ন ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে সেগুলো ইন্টারনেটে হোস্ট করে রাখতে পারো। আর নিজের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে সবকিছু সাজিয়ে রাখো, এটাকে পোর্টফোলিও (Portfolio) বলে। তুমি কোন লেভেলের ওয়েব ডেভেলাপার, সেটা তোমার পোর্টফোলিওই বলে দেবে।

৪) মোবাইল অ্যাপ : তুমি যদি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে পারো, তাহলে নিজে নিজে কিছু আইডিয়া বের করে, বা অন্যের আইডিয়া দেখে কয়েকটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বানিয়ে ফেলো এবং হোস্ট করে রাখো। আর ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় একটি অ্যান্ড্রয়েড (বা আইফোন, তুমি যেই প্ল্যাটফর্মে কাজ করো) মোবাইল সাথে রাখবে যেখানে তোমার তৈরি অ্যাপগুলো ইনস্টল করা থাকবে।

৫) বিভিন্ন ফোরামে অংশগ্রহন : বিভিন্ন ফোরামে কিংবা গ্রুপে মাঝে-মধ্যে সময় দাও। সেখানে অন্যরা যেসব সমস্যা দিয়ে সাহায্য চেয়েছে, সেগুলো সমাধান করে দাও (ক্লাশের এসাইনমেন্ট করে দিবে না কিন্তু!)। এতে তোমার দক্ষতা যেমন বাড়তে, তেমনি অন্য প্রোগ্রামারদের নজরেও তুমি পড়ে যাবে!

তোমার জন্য শুভকামনা রইল।

বি.দ্র. আরো কোনো টিপস্ জানা থাকলে দয়া করে মন্তব্যে লিখুন। ধন্যবাদ।

দশ লক্ষ টাকা ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নতুন উদ্যোগের আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা এখন ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ১০%। রবিবার (আগস্ট ৩) তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এই সুযোগ ঘোষণা করা হয় এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আরো ৩২ টি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি টাকার অর্থায়ন তহবিল থেকে টাকা প্রদান করার জন্য একটি লিখিত চুক্তি স্বাক্ষর করেন ।

ব্যক্তিগত গ্যারান্টি এবং কিছু সহজ শর্ত সাপেক্ষে এই তাহবিল থেকে ঋণ প্রদান করা হবে সেই সব উদ্যোক্তাকে যারা নির্বাচিত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছেন। একই সাথে কিছু উদ্যোক্তা এই তাহবিলের ব্যাংক থেকে ২৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহন করতে সক্ষম হবেন। তবে এই ঋণ শুধু মাত্র সেই সব উদ্যোক্তাদের প্রদান করা হবে, যারা ইতিপূর্বে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহন করেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রাহমান বলেন,  উদ্যোক্তাদের ব্যবসার শুরুতে পর্যাপ্ত মূলধন কিংবা আমানতযোগ্য সম্পদের অভাব একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন স্নাতক ডিগ্রীধারী চাকরীর সন্ধান করেন। যার মধ্যে অর্ধেক চাকরী খুঁজে পায় ।

তিনি আরো বলেন ব্যাংক শুধুমাত্র একজন অংশগ্রহণকারী ভূমিকা পালন করবে না বরং তারা নতুন উদ্যোক্তাদের আবিষ্কারে সক্রিয় হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ, অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন ২০০০ উদ্যোক্তা তৈরি করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত এই উদ্যোগের পেছনের শক্তি হিসেবে কাজ করার জন্য ডিসিসিআই এর প্রশংসা করেন তিনি। তিনি আরো বলেন একবার যদি এই উদ্যোগ সফল হয় তাহলে আর এই ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্ণর আব্দুল কাশেম বলেন, উদ্যোক্তাদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেবার পরে ডিসিসিআই দ্বারা একটি ছোট তালিকা তৈরি করা হবে।

ফ্রি প্রোগ্রামিং ডিভিডি

প্রতিটি ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ কম্পিউটার কিনলে সাথে দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল থেকে প্রকাশিত ‘প্রোগ্রামিংয়ে হাতে খড়ি’ অথবা ‘ওয়েব কনসেপ্টস্’ এর ডিভিডি ফ্রি দিবে প্যানারোমা কম্পিউটার্স। আজ সোমবার ঢাকার এলিফেন্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে এই ঘোষণা দেন প্যানারোমা কম্পিউটার্সের পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন এবং দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুলের সিইও তাহমিদ রাফি।

প্যানারোমা কম্পিউটার্সের পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন জানান: “প্যানারোমা থেকে যারা কম্পিউটার কেনে, তাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। তাই শিক্ষার্থীদের যদি ডিভিডি দেওয়ার মাধ্যমে প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী করা যায়, তাহলে সেটা দারুণ ব্যপার হবে।”

এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্যানারোমাকে ধন্যবাদ জানান দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুলের সিইও তাহমিদ রাফি।

প্যানারোমা কম্পিউটার্সের ঠিকানা: লেভেল ৮, মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার,  নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
ওয়েবসাইট : http://www.panaromabd.com/

ডিসক্রিট ম্যাথমেটিকস্ -এর ডিভিডি

সম্প্রতি ডিসক্রিট ম্যাথমেটিকস্-এর উপর একটি অনলাইন কোর্স আয়োজন করে দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল। কোর্সটি পরিচালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হাম্মাদ আলী। প্রায় তিন হাজারের মতো শিক্ষার্থী কোর্সটিতে অংশগ্রহন করে।

কোর্সের সবগুলো ভিডিও লেকচার নিয়ে একটি ডিভিডি বের করেছে দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল। আগামী মঙ্গলবার (আগষ্ট ৪) থেকে এটি পাওয়া যাবে রকমারি ডট কম-এ এবং ঢাকার নীলক্ষেতের হক লাইব্রেরিতে। বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে রকমারি ডট কম-এ ডিভিডি অর্ডার করলে ওরা বাসায় পৌঁছে দিবে মাত্র ৩০ টাকার বিনিময়ে।রকমারি ডট কম থেকে অর্ডার করার লিঙ্ক : http://goo.gl/dYGrxu