ফ্লিপড ক্লাসরুম

ক্লাসরুমে শিক্ষক বেশিরভাগ সময়ই লেকচার দিবেন, তারপরে দুইটা উদাহরণ দেখিয়ে একগাদা বাড়ীর কাজ দিয়ে দিবেন। ক্লাসরুমে পড়ানোর এটাই চিরাচরিত রীতি। আমিও কালে-ভদ্রে যখন পড়াই, এভাবেই পড়াই। উন্নত দেশে এখন কিছু কিছু জায়গায় শিক্ষকরা ফ্লিপড ক্লাসরুম (flipped classroom) পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। যেখানে শিক্ষার্থীরা বাসায় লেকচার দেখে ও পড়ে আসবে। ক্লাসে এসে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক ও প্রবলেম সলভিং করবে। আমরা উন্নত দেশ না, কিন্তু তাতে কী? এরকম এক্সপেরিমেন্ট করানোতে তো কোনো বাঁধা নাই।

আমাদের প্রোগ্রামিংয়ে হাতে খড়ি নামক অনলাইন কোর্সটি শিক্ষার্থীরা বেশ পছন্দ করেছে। অনলাইন কোর্সে ভিডিও দেখার পাশাপাশি কুইজ, অ্যাসাইমেন্ট (যেগুলো অটো গ্রেডিং করা যায়) এবং এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতির মিড-টার্ম ও ফাইনাল পরীক্ষা আছে। আর আলোচনার জন্য একটি ফোরাম আছে, তবে শিক্ষার্থীরা সেটি খুব একটা ব্যবহার করে না।

অনলাইন কোর্সে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে সার্টিফিকেশন। আমাদের হাতে আপাতত যেই টেকনোলজি আছে, সেটি দিয়ে ভেরিফাই করার উপায় নাই যে পরীক্ষা দেওয়ার সময় শিক্ষার্থী অন্য কারো সাহায্য নিচ্ছে কী না। Coursera এবং অন্য মুক (MOOC) প্রোভাইডারগুলো অবশ্য সেই চেষ্টা করছে, দেখা যাক কী হয়। সেই গবেষণায় অংশ নেওয়া বা বিনিয়োগ করার মত অর্থ আমাদের, অর্থাৎ দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুলের (https://www.facebook.com/DimikComputing) নাই।

বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং শিক্ষা আরো ভালোভাবে ছড়িয়ে দিতে ফ্লিপড ক্লাসরুম যার বাংলা আমি করেছি অন্যরকম ক্লাসরুম (আরো ভালো শব্দ থাকলে কমেন্ট করুন), সেটি খুব কার্যকরী হবে বলে আমার ধারণা। কারণ আমাদের দেশে প্রোগ্রামিং শিক্ষক খুবই অপ্রতুল। কিন্তু হাজার হাজার ছেলেমেয়ে প্রোগ্রামিং শিখতে চায়। অনেকেই প্রোগ্রামিং শেখার জন্য বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হয় এবং এইচটিএমএল শিখে মনের আনন্দে ফেরত আসে (HTML শেখা দোষের কিছু না, প্রোগ্রামিং শেখার মতো সবারই কমবেশি এইচটিএমএল জানা উচিত, তবে প্রোগ্রামিং শেখানোর নাম করে এইচটিএমএল শেখানো অবশ্যই দোষের)। যাই হোক, আমরা যেসব অনলাইন কোর্স তৈরি করছি (ইতিমধ্যে ৪ টা কমপ্লিট, সামনে আরো ৩টা আসছে), সেগুলোর ডিভিডিও তৈরি করেছি [১]। ডিভিডিতে কেবল ভিডিও লেকচার আছে। এই ডিভিডিগুলো শিক্ষার্থীরা কিনছে, তবে ভিডিও দেখার সময় তাদের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হতে পারে, যেসব প্রশ্ন করার জন্য ফেসবুকে গ্রুপ তৈরি করে দিয়েছি। কিন্তু এখনও আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী অনলাইনে কিভাবে প্রশ্ন করতে হয় বা কোনো কিছু জিজ্ঞেস করতে হয়, সেই ব্যাপারটি জানে না।

তাই আমি যেই উদ্যোগটি নিতে যাচ্ছি, সেটি হচ্ছে অন্যরকম ক্লাসরুম। দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিং কোর্স করবে এভাবে : বাসায় ভিডিও লেকচার দেখবে, কোনো প্রশ্ন থাকলে সেটি ক্লাসে এসে করবে। ক্লাসে একজন সমন্বয়ক থাকবেন, যিনি সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন, অন্য শিক্ষার্থীরাও সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে। আর উত্তর দিতে না পারলে সেই প্রশ্ন অনলাইনে আমাদের কাছে চলে আসবে (2nd level support)। এছাড়া আমরা অনেক প্রবলেম দিয়ে দিবো, যেগুলো শিক্ষার্থীরা সমাধানের চেষ্টা করবে এবং একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেই সমাধানগুলো পরীক্ষা করা হবে।

অন্যরকম ক্লাসরুমের বিষয়টি সবার জন্যই লাভজনক। যেসব ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে যোগ্য শিক্ষক নেই, তারা আমাদের সিস্টেম ব্যবহার করে আরো ভালো ট্রেনিং দিতে পারবে, তাই তারা শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করতে পারবে। শিক্ষার্থীর লাভ হচ্ছে, তারা অনেক কম খরচে মানসম্মত ট্রেনিং ম্যাটেরিয়াল পাবে এবং একটি উঁচুমানের পরীক্ষার মাধ্যমে সার্টিফিকেটও পাবে। আর দেশের লাভ হচ্ছে, দেশে দক্ষ প্রোগ্রমার তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা কি না দেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি ও তদুপরি সারা দেশের জন্যই লাভজনক।

প্রথম এক্সপেরিমেন্টটা করার জন্য ঢাকার বাইরে একটি প্রতিষ্ঠান রাজি হয়েছে। তবে তাদের কাজ শুরু করার আগে আমি একটি মিনি এক্সপেরিমেন্ট করবো কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে, যেখানে আমি নিজে ক্লাসরুমে উপস্থিত থাকবো, কিন্তু লেকচার দিবো না। কেবল প্রশ্নের উত্তর দিবো আর প্রবলেম সলভিং সেশনে সাহায্য করবো। এটি করা হবে দ্বিমিক ক্লাসরুমে (https://www.facebook.com/DimikClassroom)। বিস্তারিত দ্বিমিক ক্লাসরুমের ফেসবুক পেজে দেওয়া আছে। দেখা যাক কী হয়। নতুন কিছু করাটা সবসময়ই আনন্দদায়ক, আর সেটা যদি হয় অন্যরকম কিছু, তাহলে আনন্দের মাত্রাটা বেড়েই যায়।

[১] দ্বিমিক কম্পিউটিং থেকে প্রকাশিত ডিভিডগুলো পাওয়া যাবে রকমারি ডট কম এবং নীলক্ষেতের হক লাইব্রেরিতে।
রকমারির লিঙ্ক : http://rokomari.com/publisher/2565

সিএস, সিএসই, এসই নাকি আইসিটি?

তোমরা অনেকেই এখন উচ্চমাধ্যমিক পার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছ। আর প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি ভালোলাগার কারণেই হোক, কিংবা পাশের বাসার বড় ভাইয়ের প্রভাবেই হোক, তোমাদের কেউ কেউ হয়ত কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে চাচ্ছ। এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে বেশ কিছু বিভাগ আছে, যেগুলোর নাম দেখে তুমি দ্বিধাগ্রস্ত। যেমন : সিএস (কম্পিউটার সায়েন্স), সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং), এসই (সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং), আইসিটি (ইনফরমেশন ও কমিউনিকেশন টেকনোলজি) ইত্যাদি। তোমাদের প্রশ্নটি হচ্ছে কোন বিভাগে ভর্তি হলে ভালো প্রোগ্রামার হওয়া যায়? কিংবা, পাশ করার পরে যদি আমি সফটওয়্যার প্রকৌশলী বা নির্মাতা হিসেবে চাকরি করতে চাই, এসব বিভাগের মধ্যে কোনটি পড়া ভালো হবে?

আমি যেহেতু অনেক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তাই আমি ‘প্রোগ্রামিং স্কুল'[১] গ্রুপে একটি পোস্ট দেই এবং সেখান থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস জোগাড় করি। বিভাগের নামগুলো ভিন্ন হলেও সিলেবাস কিন্তু খুব কাছাকাছি। এখন চল, একটু জেনে নিই, আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে কোন কোন বিষয়গুলো ভালোভাবে পড়লে সেটা একজনকে ভালো সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে?

প্রথমেই জানতে হবে কম্পিউটার সম্পর্কে মৌলিক ধারণা, আর সেটি পাওয়া যাবে Introduction to Computer নামক কোর্সে। তারপর Structure Programming (স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং)। সাধারণত আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই বিষয়টি পড়ানোর সময় সি ল্যাঙ্গুয়েজ শেখায়। আর সেই সাথে Discrete Mathematics (ডিসক্রিট ম্যাথমেটিক্স)। এটিও দেখবে সিলেবাসে আছে।

তারপরে আমাদের শিখতে হবে Object Oriented Programming (অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং), Data Strucutre (ডাটা স্ট্রাকচার) ও Digital Logic (ডিজিটাল লজিক)। সেগুলোও দেখবে সব বিষয়ের সিলেবাসেই আছে।

এর পরের ধাপ রয়েছে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং (Computer Networking), মাইক্রোপ্রসেসর ও অ্যাসেম্বলি ল্যাঙ্গুয়েজ (Microprocessor and Assembly Language), কম্পিউটার আর্কিটেকচার (Computer Architecture) ও অপারেটিং সিস্টেম (Operating System)। এগুলোও আবশ্যিক বিষয়, মানে জানতেই হবে। তাই তোমরা যদি ভার্সিটির সিলেবাসগুলো খেয়াল করো, দেখবে যে এই বিষয়গুলো আছেই, থাকতেই হবে।

আর বাকি রইল ডাটাবেজ (Database), অ্যালগরিদম (Algorithm), আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (Artifical Intelligence) ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং (Software Engineering)। এই বিষয়গুলোও না জানলেই নয়।

এখন তুমি যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স সংশ্লিষ্ট কোনো বিভাগে ভর্তি হতে চাও, তাহলে সেই বিভাগের (মানে ডিপার্টমেন্টের) সিলেবাসটি দেখে নাও, যদি উপরে যেসব বিষয়ের কথা উল্লেখ করলাম, সেগুলো থাকে, তাহলে নিশ্চিন্তে ভর্তি হয়ে যাও।

তবে একটি বিষয়, তোমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো অনেক বিষয় পড়তে হবে। আমি শুধু সেই বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করলাম যা তোমাকে ভালো সফটওয়্যার নির্মাতা হতে সাহায্য করবে।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তুমি যেখানেই পড় না কেন, তোমার লেখাপড়ার দায়িত্বটা নিজের উপরই নিয়ে নাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ও শিক্ষকদের আশায় বসে থাকলে তোমার নিরাশ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আমি যেসব বিষয়ের কথা বলেছি, সেগুলো নিজে নিজে পড়ে আগেভাগেই একটু ধারণা নিয়ে রাখো। বিশেষ করে ক্লাস শুরুর আগেই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজটা শিখে ফেলো, নইলে বিপদে পড়বে। বিভিন্ন রকমের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নাও। সারা পৃথিবীর খোঁজ খবর রাখো। প্রোগ্রামিংয়ের মাঝে আনন্দ খুঁজে নাও। পরিশ্রম করো। বিজয় সুনিশ্চিত।

আরো একটা কথা না বললেই নয়। ভার্সিটিতে পড়ার সময় দেখবে তোমার অমুক বন্ধু অনেক জানে, তমুক ক্লাসমেট প্রতি মাসে একটা নতুন ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে ফেলে, আরেক বন্ধু বা বান্ধবী প্রতি মাসে ফ্রিল্যান্সিং করে ডলার ইনকাম করে। তাদেরকে অভিনন্দন জানাবে এবং তাদেরকে শ্রদ্ধা করবে। তবে কখনও তাদের মতো হওয়ার চেষ্টা করবে না। তোমার কাজ তুমি করবে। ভালো করে পড়বে, শিখবে, প্রোগ্রামিং চর্চা করবে, ফাইনাল ইয়ারে ভালো প্রজেক্ট ও ইন্টার্নশীপ করার চেষ্টা করবে। এছাড়া ঘুরে বেড়াবে, বিভিন্ন জায়গায় ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করবে, খেলাধূলা করবে, প্রেম করার চেষ্টাও করতে পারো। মোট কথা জীবনটা উপভোগ করো, কারণ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাই মানুষের শ্রেষ্ঠ সময়, যা আর কখনও ফিরে আসবে না।

[১] https://www.facebook.com/groups/programming.school/

[২] https://www.facebook.com/DimikComputing (কম্পিউটার সায়েন্সের কিছু বিষয় সহজভাবে বোঝানের জন্য তৈরি করা হয়েছে দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল। সেখানে ইতিমধ্যে প্রোগ্রামিংয়ে হাতেখড়ি, ওয়েব কনসেপ্টস ও ডিসক্রিট ম্যাথের উপর বাংলায় অনলাইন কোর্স আয়োজন করা হয়েছে। সামনে আরো কিছু কোর্স আসছে।)

আউটসোর্সিং গন্তব্যের শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশ

বিশ্বের নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠান AT Kearney-এর শীর্ষ ৫০টি আউটসোর্সিং গন্তব্যের দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্থান করে নিল বাংলাদেশ। কয়েকবছর পরপর এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এই তালিকা তৈরি করে, যেটি সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান সারা পৃথিবীতে ২৬, আর এশিয়ার মধ্যে ১০!

akterney-ranklist

এই তালিকায় স্থান করে নেওয়ার ব্যাপারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আজকে বেসিসের সংবাদ সম্মেলনে জানান বেসিসের শীর্ষ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে বেসিসের প্রেসিডেন্ট শামীম আহসান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক সহ বেসিসের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও আইটি ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। এর ফলে বাংলাদেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

basis-pc
ছবি : বেসিস

বেসিসেের সাবেক সভাপতি ও বিডিজবস্-এর সিইও ফাহিম মশরুর ফেসবুক বার্তায় বলেন, ‘এই অর্জনের প্রধান কৃতিত্ব বাংলাদেশের হাজার হাজার আই-টি তরুণ উদ্যোক্তা আর আউটসোর্সিং পেশাজীবিদের।’ বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান ফেসবুকে বলেন, ‘এটিকার্নির শীর্ষ ৫০ তালিকায় স্থান পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সকল তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীকে অভিনন্দন জানাই্’।

তালিকায় শীর্ষ তিনটি দেশ হচ্ছে ভারত, চীন ও মালয়েশিয়া। তালিকা তৈরিতে মূলত তিনটি বিষয় প্রাধান্য পায় – দেশের অর্থনীতির আবেদন (Financial attractiveness), কর্মীদের সংখ্যা ও দক্ষতা (People skill and availability) এবং ব্যবসার পরিবেশ (Business Environment)।

সম্পূর্ণ রিপোর্টটি দেখা যাবে এখানে : http://goo.gl/Dq45Km

একজন প্রোগ্রাম প্রহরীর গল্প : ডোনাল্ড নুথ (Donald Knuth)

এই লিখাটার শিরোনামটি অদ্ভুত – প্রোগ্রাম প্রহরীর গল্প। হয়তো শিরনামটি দেখেই অনেকে নড়ে চড়ে বসেছেন, আবার অনেকেই হয়তো তার নিচের নামটি দেখেই বুঝে ফেলেছেন যে আজকের এই লেখাটি কাকে নিয়ে। এই লেখায় এমন একজনকে নিয়ে আজ কথা বলব যিনি কম্পিউটার প্রোগ্রামিংকে দিয়েছেন এক নতুন মাত্রা – সেই ব্যক্তিটির নাম হল ডোনাল্ড নুথ, যিনি অনেক কিছুই করেছেন এই প্রোগ্রামিং জগতের জন্য কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেরই হয়তো তাঁর নামটি অজানা।

ডোনাল্ড নুথ

আসুন সংক্ষেপে ডোনাল্ড নুথ সম্পর্কে কিছু মজার ও আকর্ষনীয় তথ্য জেনে নিই-
প্রথমেই শুরু করছি একটি মজার তথ্য দিয়ে –আজ আমরা যেই নুথকে দেখছি , মাধ্যমিক এর ছাত্র থাকাকালীন নুথ ছিলেন সম্পুর্ন আলাদা। জীবনের সেই পর্যায়ে প্রোগ্রামিং এর প্রতি তার কোন আগ্রহ ছিল না, তখনকার নুথ ছিলেন সঙ্গীতপ্রেমী। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি তাঁর বাদ্যযন্ত্রের সাথেই সময় কাটাতেন। পাইপ অর্গান ছিল তার সবথেকে প্রিয় বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে একটি। যেই হাত কখনও হয়তো পিয়ানো বাজিয়েছে, সেই হাত আজ কি-বোর্ডের বোতাম চেপে চেপে কোড লিখছে- কি অবাক করা ব্যাপার, তাই না?

ডোনাল্ড নুথ এর পুরো নাম হচ্ছে ডোনাল্ড এরভিন নুথ। ১৯৩৮ সালের ১০ই জানুয়ারিতে আমেরিকাতে জন্মগ্রহন করেন তিনি। তিনি কেইস ইন্সটিটিউট হতে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন এবং ১৯৬৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট থেকে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন এবং সেখানেই শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৬৮  সালে তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং সেই সনেই তার রচিত বিখ্যাত বই “The Art of Programming” এর প্রথম খন্ড বের হয় । এই বইটি কম্পিউটার জগতের একটি উজ্জ্বল পথ-প্রদর্শক হিসেবে আজও স্মরণীয়। বইটি সংকলনের জন্য তিনি ACM(Association of Computing Machinery) কর্তৃক Turing Award লাভ করেন। নুথ এর আরও একটি  উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হল টেক্স নামক টাইপসেটিং সিস্টেম যা গাণিতিক ফর্মুলা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

নুথ সম্পর্কে আরো একটি মজার তথ্য আছে – কোন ব্যাক্তি যদি নুথ এর বই-এ কোনো ভুল ধরিয়ে দেন, তাহলে নুথ ওই ব্যাক্তিকে $২.৫৬ পুরষ্কার দিয়ে থাকেন, আর কেউ যদি তাকে তার কাজ-সম্পর্কিত কোনধরনের সদুপদেশ দিয়ে থাকেন তিনি পান $০.৩২ । বাংলাদেশ থেকেও একাধিক ব্যক্তি নুথের বইয়ের ভুল ধরে পুরষ্কার পেয়েছেন।

আর একটি অবাক করা বিষয় হল -ডোনাল্ড নুথ এখন আর ই-মেইল ব্যবহার করেন না । কারো সাথে যোগাযোগের মাধ্যম এখন তাঁর জন্য ডাকচিঠি। কারন তাঁর ধারণা, তিনি তাঁর জীবনের খুব বড় একটি সময় এই ইমেইল ব্যবহারের পিছনে ব্যয় করে ফেলেছেন। উল্লেখ্য, নুথ ১৯৭৯ সালে আমেরিকার জাতীয় বিজ্ঞান এওয়্যার্ড লাভ করেন।

পরিচয়পর্ব আজ এই পর্যন্তই । আশা করি,আগামীতে ডোনাল্ড নুথের আবিষ্কৃত টেক্স ও তার সংকলিত বই “The Art of Programming” নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে পারব । সবাই ভাল থাকুন আর প্রোগ্রামিং এর সাথেই থাকুন, প্রোগ্রামিং এর মাঝেই থাকুন। আল্লাহ হাফেজ ।

লেখক : মোহাম্মাদ দিদারুল ইসলাম রাব্বি (Mohammad Didarul Islam Rabbi)

সাক্ষাৎকার : আল-মামুন সোহাগ

আল-মামুন (সোহাগ) সাস্টে আমার ক্লাসমেট ছিলো। এসিএম প্রতিযোগিতায়ও আমরা বেশ কিছুদিন একই দলে ছিলাম। সাস্টের সিএসই বিভাগ থেকে পাশ করার পরে আস্তে আস্তে গেম প্রোগ্রামিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বাংলাদেশের যেই অল্প কয়েকজন প্রোগ্রামাদেরকে আমি চিনি, তাদের মধ্যে সোহাগ হচ্ছে সেরা গেম প্রোগ্রমার। তাই আমার ব্লগের পাঠক, বিশেষ করে যারা গেম তৈরিতে আগ্রহী, তাদের জন্যই সোহাগের একটি সাক্ষাৎকার নিলাম। সোহাগ খুব বেশি ব্যস্ত থাকায় এটি চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে না নিয়ে ইমেইলের মাধ্যমে নিতে হয়েছে। তাতে এর প্রাণ একটু কমে গেলেও গেম তৈরিতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা সোহাগ বলেছে।

al-mamun

সুবিন : বর্তমান কাজ কোথায় এবং কী নিয়ে?
আল-মামুন : আমি বর্তমানে কানাডা তে অবস্থান করছি। Ratrod Studio, Inc এ Senior গেম ডেভেলপার হিসাবে দায়িত্বরত আছি। প্রধানত আমি গেম ডেভেলপার, মোবাইল ডিভাইস এর জন্য গেম বানাই। iOS/Android/Windows8/Windows Phone এবং Console এর জন্য sports/racing টাইপ এর গেম গুলোই বর্তমান কোম্পানি তৈরি করে থাকে।

সুবিন : গেম তৈরিতে আগ্রহী হওয়ার কারণ কী?
আল-মামুন : আমি গেম ডেভেলপার হবো, এই বিষয়টা Aim in Life রচনায় কখনও লিখি নাই। তবে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা ছিল। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম কম্পিউটারে টাচ করেছিলাম। এর আগে শুধু TV আর সিনেমাতে কম্পিউটার দেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর একটা কোম্পনি তে ইন্টারভিউ দেই, ওরা বাংলাদেশে AAA ধরনের গেম বানাতে ডেভেলপার খুঁজছিল কিন্তু কাউকে পাচ্ছিল না। আমি গেম ডেভেলপার হিসাবে ইন্টারভিউ দেই, পরে ওরা আমাকে সিলেক্ট করে। যদিও আমি ইন্টারভিউ এর পরে একটা ছোট একটা গেম এর ডেমো বানিয়ে দেই দুই দিনে। হয়ত ওইটা ওদের আমাকে পছন্দ করার কারণ।

সুবিন : এখন পর্যন্ত বানানো সেরা গেম?
আল-মামুন : এখন পর্যন্ত অনেক গেমই বানিয়েছি। সব সেরা গেমগুলোই মোবাইল ডিভাইসের জন্য। যদিও ফেইসবুক সহ অনেক প্লাটফর্মে আমার বানানো গেম আছে। আমার বেস্ট কিছু গেম নিচের লিঙ্ক পাওয়া যাবেঃ
https://itunes.apple.com/us/artist/ratrod-studio-inc./id355894663
https://play.google.com/store/search?q=ratrod%20studio%20inc

সুবিন : সোশ্যাল গেম, ডেস্কটপ গেম এবং মোবাইল গেম, সব প্ল্যাটফর্মেই কাজ করা হয়েছে। এগুলোতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কোনটার কেমন?
আল-মামুন : এক একটা প্লাটফর্ম এ এক এক রকম ফান এন্ড চ্যালেঞ্জে। সোশ্যাল গেম এর ইউজার casual গেম খেলতে পছন্দ করে, তাই সিম্পল কিন্তু addicting করা লাগে। দুনিয়াতে সিম্পল কিছু করা সবচে কঠিন কাজ, কারণ এক এক জন এক একটা ব্যাপারে simplicity খুঁজে পায়। ডেস্কটপ আর কনসোল হলো গেমারদের সবচেয়ে প্রিয়। সব Next Gen technology সবার প্রথমে এই ২ টা তে আসে। AAA গেম এখনও বানানোর সৌভাগ্য হয় নাই। ওইটার জন্য অনেক বড় বাজেট এবং টিম লাগে। আমি সবচে বেশি কাজ করেছি মোবাইল প্ল্যাটফর্মে। এই প্লাটফর্মটা এখন সব থেকে প্রমিজিং। তার অবশ্য অনেক কারণ আছে। এখন সবার হাতে মোবাইল, সবাই এটাকে এন্টারটেইনিং ডিভাইস হিসাবে নিয়েছে। মোবাইল ডিভাইসগুলো দিন দিন পাওয়ার হাউস এ পরিণত হচ্ছে। তার পরেও মেমোরি, গ্রাফিক্স এবং ফিজিক্স গণনা অনেক চিন্তা ভাবনা করে করতে হয়। বর্তমানএ আমি শুধু গেম নিয়ে আর কাজ করছি না, অ্যাড সিস্টেম, মনেটাইজেশন এবং নেটিভ সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন নিয়ে কাজ করছি।

সুবিন : একটা বড় গেম তৈরি করতে কী ধরনের লোক দরকার হয়? খরচই বা কেমন?
আল-মামুন : আমরা যদি ডেস্কটপ অর কনসোল গেমের কথা বলি তাহলে ওইটার হিসাব সম্পূর্ণ আলাদা। একটা ডেস্কটপ অর কনসল গেম বানাতে মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়। NFS টাইপ এর একটা গেম বানাতে অন্তত ২ থেকে ৩ বছর ডেভেলপমেন্ট টাইম ধরতে হবে, যেখানে ২০০ থেকে ৩০০ প্রোগ্রামার, আর্টিস্ট, প্রডিউসাররা কাজ করবে। মোবাইল এর জন্য একটা ত্রিমাত্রিক গেম বানাতে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লাগে, কিন্তু সব কিছুই নির্ভর করবে ডিজাইন এর উপর। কোন প্রোফেশনাল গেম বানানোর খরচ ৩০,০০০ – ৫০,০০০ ডলার এর নিচে হয় না (সবকিছুই নির্ভরশীল ডিজাইন এর উপর)। আবার ছোট 2D গেম ৪০০০ থেকে ৫০০০ ডলার এ করা যায়।

সুবিন : বাংলাদেশের একটা ছেলে বা মেয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে গ্রাজুয়েশন করার পরে কীভাবে গেম ডেভেলাপমেন্ট-এ আসতে পারে? দেশে এবং বিদেশে কাজের সুযোগ কেমন?
আল-মামুন : গেম ডেভেলপার হওয়ার জন্য গ্রাজুয়েশন করতে হবে এমন কোনো কথা নাই। একজন ভালো গেম ডেভেলপার হওয়ার জন্য আগে ভালো গেমার হওয়া দরকার। আমরা সবাই গেম খেলতে চাই বা পছন্দ করি, কিন্তু কয়জন এটা কিভাবে করা হয়েছে বা কিভাবে কাজ করছে সেটা নিয়া চিন্তা করছি? যে মানুষগুলা এটা নিয়ে আনালাইসিস করে, তারা আস্তে আস্তে এর কোনো একটা পার্টে কাজ করা শুরু করে। কেউ ডেভেলপার, কেউ আর্টিস্ট আর কেউ ডিজাইনার হয়। প্রত্যেকটা গ্রুপ আবার অনেক ভাগে বিভক্ত। যেমন, কেউ গ্রাফিক্স প্রোগ্রামার, কেউ UI প্রোগ্রামার, কেউ গেম প্লে প্রোগ্রামার। বাইরে এটা হল নরমাল পাথ, গেম ডেভেলপমেন্ট এ আসার। অনেকেই হাই স্কুলের পরে আর প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া করে নাই।

এখন আসি কম্পিউটার সায়েন্সে গ্রাজুয়েশন করার পরে কীভাবে গেম ডেভেলাপমেন্ট-এ আসা যায়। আমি যেমন গেমার থেকে ডেভেলপার হই নাই, তাই অনেক কিছু আস্তে আস্তে নিজের চেষ্টায় শিখতে হইছে। তেমনি, যার প্রোগ্রামিং লজিক আছে, কোড করতে জানে, ডাটা স্ট্রাকচার জানে, এলগরিদম জানে, সে গেম প্রোগ্রামর হতে পারে। বেসিকটা হল সবচেয় গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে গেম ডেভেলপার করতে হলে, অসম্ভব ইচ্ছা দরকার। তাছাড়া গেম হতে হবে ১০০% পরিপূরণ প্রোডাক্ট। একটা ওয়েবসাইট অথবা একটা সফটওয়ারে বানিয়ে কিছু ফিচার পরেও দেওয়া যায়, কিন্তু গেম এর ক্ষেত্রে তা করা সম্ভব না। প্রতিটা কাজ ১০০% সম্পন্ন হতে হবে। তাছাড়া একটা গেম এর কাজ এ অনেকগুলা স্কিল এর লোকের দরকার হয়। যেমন প্রোগ্রামার, আর্টিস্ট, ডিজাইনার। তাই খুব passion না থাকলে টিকে থাকা কঠিন।

কাজের সুযোগ দেশে বিদেশে এ সব জায়গায় আছে। বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক কোম্পানি 2D এবং 3D গেম বানাচ্ছে। দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে কারণ মানুষ তার মোবাইল ডিভাইস শুধু কথা বলার জন্য ব্যবহার করেনা, এটা এখন বিনোদনের যন্ত্র। আর বিনোদনের অন্যতম অংশ হচ্ছে গেম। কেও যদি যেকোনো একটা পার্ট এ এক্সপার্ট হয়, প্রোগ্রামিং অথবা ডিজাইন অথবা মডেলিং, তাহলে তার জব নিয়া চিন্তা করতে হবে না। তবে এক্সপার্ট হতে গেলে নিষ্ঠার সাথে পরিশ্রম করতে হবে।

সুবিন : যারা এখনও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী, তারা ভবিষ্যতে গেম তৈরির কাজে আসতে চাইলে এখন থেকেই কি তাদের কোনো প্রস্তুতির দরকার আছে? যদি থাকে, তাহলে সেগুলো কী কী?
আল-মামুন : গেম ডেভেলপমেন্টে আসতে হলে সবার আগে বের করতে হবে, সে গেম এর কোন বিষয়ে নিজেকে এক্সপার্ট হিসাবে দেখতে চায়। এক এক জন এক একটা ব্যাপারে আনন্দ খুঁজে পায়। তারপর সেই বিষয়ের উপরই ধ্যান-জ্ঞান করতে হবে। যেমন, গেম প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য সবার আগে একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জানতে হবে। কোন ল্যাঙ্গুয়েজ তা ব্যাপার না, জানতে হবে কিভাবে লজিক দাঁড় করতে হয়। যে ধরেনের গেম খেলতে পছন্দ করে, সেগুলা নিয়া টেকনিকাল এনালাইসিস করতে হবে। বুঝতে হবে, কী ভাবে কাজগুলা হয়, আর্ট পাইপ লাইন বুঝতে হবে। আর্টিস্ট এর সাথে কমিউনিকেট করতে জানতে হবে। টুলস সম্পর্কে জানতে হবে। তারপর নিজে নিজে ডেমো বানাতে হবে। চেষ্টা করতে হবে একটা প্রোডাক্ট বানানোর। কেউ যদি এই স্টেপ ফলো করে তাহলে নিজের চাকরি নিয়া কখনো চিন্তা করতে হবে না, চাকরি তার কাছে চলে আসবে। ধরা যাক একটা ছেলে বা মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার আগে একটা Angry Bird টাইপ এর একটা গেম বানিয়ে তার প্রোফাইল হিসাবে দেখালো, তাহলে কোনো কোম্পানি তাকে নিতে দ্বিধা বোধ করবে না।

সুবিন : বাংলাদেশে গেমিং ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কেমন?
আল-মামুন : আমরা এই ইন্ডাস্ট্রির তে পদার্পণ করছি, তাও মোবাইল ডিভাইসে। আমাদের কমিউনিটি এর অভাব। যদিও আমি জানি আমরা সেই জায়গায় এক সময় পৌঁছে যাব। আমাদের অনেক প্রোগ্রামার আছে, কিন্তু শুধু গেম ডেভেলপার হিসাবে যদি কাওকে খুঁজি তাহলে হাতে গোনা কয়েকজনকে পাওয়া যাবে। কমিউনিটির কথা বললাম কারণ এইটা গেম ডেভেলপার, গেম আর্টিস্ট তৈরি করবে। যখন ডেভেলপার, আর্টিস্ট পাওয়া যাবে, ভালো কমেউনিটি থাকবে, তখন বড় বড় কোম্পানি বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ ওপেন করতে চাইবে। যদিও অনেক কোম্পানি ছোট পরিসর এ কাজ শুরু করেছে। ইন্ডাস্ট্রি একদিনে তৈরি হয়না, আস্তে আস্তে হয়। তবে সেটা শুরু হয়ে গেছে। যদিও আমার ভুল হতে পারে কারণ আমি দেশের বাইরে, তাই পুরা চিত্রটা বলতে পারব না।

সুবিন : বাংলাদেশি কোনো কোম্পানী যদি আমেরিকা-কানাডার কোম্পানীর জন্য গেম তৈরি করতে চায়, তাহলে তাদের করণীয় কী? সেখানে প্রতিযোগিতা কেমন?
আল-মামুন : আমেরিকা-কানাডার কোম্পানি প্রফেশনাল কাজ দেখতে চায়, সেইটা করতে পারলেই হবে। আমাদের পাশের দেশ ভারত অনেক এগিয়ে গেছে, কারণ তারা অনেক আগে কাজ শুরু করছে। ওরা এখন প্রফেশনাল গেম বানায়, ওদের অনেক ভালো কমিউনিটি আছে। বাইরের কোম্পানি এর কাজ করতে হলেঃ
=> পারসোনাল স্কিল বাড়াতে হবে
=> টেকনিকাল লেভেল বাড়াতে হবে
=> সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল ম্যানেজমেন্ট লেভেল বাড়াতে হবে। আমরা টাইম, টাস্ক আর কস্ট ম্যানেজমেন্টে পারদর্শী না।

সুবিন : গেমিং সেক্টরে ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ কেমন?
আল-মামুন : ফ্রিল্যান্সিং একটা কঠিন কাজ। একজন ফ্রিল্যান্সারকে নিজে প্রোডাক্ট ডেভেলপ করতে হয়, ম্যানেজমেন্ট করতে হয় আবার যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। গেম এর কাজ একা একা সব করতে পারা খুব কঠিন, একা ডেভেলপার আবার ডিজাইনার আবার আর্টিস্ট হওয়া কঠিন, তাই সব সমই গ্রুপ করে চলতে হয়। ভালো নেটওয়ার্ক থাকলে অবশই অনেক কাজ করা সম্ভব। ওডেস্কে সার্চ দিলে দেখা যায়, টপ লেভেল গেম ডেভেলপার ঘণ্টায় ৪০ ডলার বা তারো বেশি আয় করে। তবে এটা একদিনে হয় নাই, কেউ যদি লেগে থাকে তবে অনেক কাজ করা সম্ভব। তবে ফ্রিল্যান্সিং ব্যাপারটা ওয়েব ডেভেলপার এর জন্য যত সহজ, গেম ডেভেলপার এর জন্য তত সহজ না। কিন্তু একবার কেউ যদি তার পারসোনাল লেভেল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে তাহলে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

সুবিন : এবার আসি একটু অন্য প্রসঙ্গে। কোন কোন স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া করা হয়েছে? [আমি এই প্রশ্নটা সবাইকেই করছি, যাদের ইন্টারভিউ নিচ্ছি। এর একটা কারণ আছে।]
আল-মামুন : আমার স্কুল এর নাম রাওতরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আমি জানি আমার পরিচিত কেউ এই নাম শুনে নাই। শোনার কথাও না। ঢাকা থেকে ৩০০ কিমি. দুরের একটা গ্রাম এর স্কুল। উচ্চ মাধ্যমিক অবশ্য মাগুরা গভ কলেজে করেছি। সাকিব আল হাসান এর মাগুরা, তাই সারা দেশ নামটা জানে।

সুবিন : ভার্সিটিতে লেখাপড়া শুরুর সময় তো হঠাৎ করেই আমাদের সব বই ইংরেজিতে পড়তে হয়। এতে যারা বাংলা মাধ্যম থেকে আসে, তাদের সবারই কম-বেশি অসুবিধা হয়। এ বিষয়ে তোর মন্তব্য কী?
আল-মামুন : আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারি। স্কুল ও কলেজে বাংলা মাধ্যমে পড়াশুনা করেছি, ইংরেজি সাবজেক্টে অনেক দখল ছিল, তা নয়। ভার্সিটিতে ক্লাস শুরু হওয়ার পর বেশ প্রব্লেম হত, কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে ব্যাপারগুলা ঠিক হতে শুরু করে। ভালো ইংরেজি জানা থাকলে ভালো, কিন্তু সেটা আবশ্যক কিছু না।

এরকম ১২টি সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে “প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন : এক ডজন প্রোগ্রামারের কথা”। বইটি পাওয়া যাচ্ছে নীলক্ষেতের হক লাইব্রেরি ও রকমারি ডট কম-এ। বিস্তারিত জানতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন।

সুবিন : ভালো প্রোগ্রামার হতে গেলে তো লজিকে ভালো হতে হয়। এ বিষয়ে স্কুলগুলো কী ভূমিকা রাখতে পারে?
আল-মামুন : প্রোগ্রামিং মানে হল সঠিক ভাবে সাজানো। সঠিক মানে কি? লজিক তৈরি করে সাজাতে পারা মানেই সঠিক ভাবে সাজানো। কেউ যদি লজিকে ভালো না হয় অথবা লজিক নিয়া কাজ না করতে চায়, তাহলে প্রোগ্রামর হওয়ার প্রশ্নই আসে না। স্কুল হল সব কিছুর শুরু, যাকে আমরা বলি সুতিকাগার। স্কুল যদি কাউকে লজিক নিয়া খেলাধূলা শিখিয়ে দেয়, তা হলে তাকে আর GPA নিয়া চিন্তা করতে হবে না। লাইফে এমন কিছু নাই যে সে করতে পারে না। শুধু প্রোগ্রামিং না, সে যে দিকেই যাক না কেন, কোন কিছুই তার কাছে সমস্যা মনে হবে না। আমাদের স্কুলগুলো GPA এর জোর না দিয়ে, যদি গণিত ও যুক্তির উপর জোর দিত, তা হলে কত কিছু যে change হয়ে যেত!

লিনাক্স

কম্পিউটারের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রাংশকে যদি দেহের সাথে তুলনা করি, তবে অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে এর প্রাণ। অপারেটিং সিস্টেমের কাজ হচ্ছে কম্পিউটারকে চালানো। কম্পিউটার দিয়ে আমরা কত রকম কাজ করি, কত রকম সফটওয়্যার ব্যবহার করি – এগুলো সম্ভব হয় অপারেটিং সিস্টেমের কারণেই। যেটি না থাকলে  সফটওয়্যারগুলো চলতে পারত না। আমাদের দেশের কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ ব্যবহার করেন। তবে তাদের অনেকেই লিনাক্স শব্দটি কখনও না কখনও শুনে থাকবেন। লিনাক্সও হচ্ছে একটি অপারেটিং সিস্টেম, যা দিয়ে কম্পিউটার চালানো যায়। তবে শুধু কম্পিউটার নয়, আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড চালিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন, সেই অ্যান্ড্রয়েডও এক ধরণের লিনাক্স, যার কাজ হচ্ছে সেই মোবাইল ফোনকে চালানো। শুরুতে সার্ভার ও মেইনফ্রেম কম্পিউটারে লিনাক্সের ব্যবহার চালু হলেও ধীরে ধীরে ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, নোটবুক, মোবাইল ও নানান ধরণের যন্ত্রের প্রাণ এনে দেওয়ার কাজে লিনাক্স জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

 লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমটি তৈরি করেন ফিনল্যান্ডের নাগরিক লিনাস টোরভাল্ডস্, আজ থেকে প্রায় ২৩ বছর আগে, ১৯৯১ সালে। তার আগে ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম চালু থাকলেও সেটির সোর্স কোড উন্মুক্ত ছিল না। লিনাক্সের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি ওপেন সোর্স, অর্থাৎ এর সোর্স কোড উন্মুক্ত। যে কেউ এই সোর্স কোড ডাউনলোড করতে পারবে, প্রয়োজন অনুসারে এর কোনো অংশ পরিবর্তন করতে পারবে (এর জন্য অবশ্যই প্রোগ্রামিং জানতে হবে), আবার সেই পরিবর্তিত সোর্স কোড বিতরণও করতে পারবে। তাই লিনাসের তৈরি লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের রয়েছে অসংখ্য ডিস্ট্রিবিউশন – যেমন আর্চ লিনাক্স, ডেবিয়ান, ফেডোরা, উবুন্টু, লিনাক্স মিন্ট, সেন্ট ওএস, ওপেন সুসে ইত্যাদি। এগুলোর একেকটা দেখতে একেক রকম হলেও মূলে রয়েছে লিনাক্সের কার্নেল – মানে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের মূল অংশ। লিনাক্স কার্নেলের উপর ভিত্তি করে আরো প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরি করে সেই ডিস্ট্রিবিউশনগুলো সাজানো হয়।

একসময় লিনাক্সে কোনো গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (সংক্ষেপে গুই) ছিলো না। তখন কমান্ড লাইনেই বিভিন্ন কমান্ড দিয়ে কাজ করতে হতো। যেকারণে সাধারন ব্যবহারকারীরা তাদের ডেস্কটপে উইন্ডোজই ব্যবহার করতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সে চিত্র পাল্টাতে থাকে। বিশেষ করে গত এক দশকে অনেকখানি সহজ হয়ে উঠেছে লিনাক্স। এখনকার দিনের বিভিন্ন লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনে রয়েছে চমৎকার গুই – সাধারণ বা দৈনন্দিন কাজগুলো করতে আর কমান্ড লেখার প্রয়োজন হয় না। লিনাক্সের গুই এখন উইন্ডোজের মতই সহজ। তাই সাধারণ ব্যবহারকারিদের মাঝে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লিনাক্স।

বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি কয়েকটি আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) চালু হয়। সেগুলো প্রত্যেকেই লিনাক্সের উপর নির্ভরশীল ছিল। বিডিকম অনলাইন লিমিটেডের সুমন আহমেদ সাবির বলেন, “সেই সময় আমরা কার্ণেল ১.০ তে কাজ শুরু করি। শেখার জন্য কিছু বই আর ডকুমেন্টেশন ছিল, সেগুলো ঘেঁটে ঘেঁটেই আমাদের শেখা। সার্ভারের কাজের জন্য ইউনিক্সই তখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ছিলো, কিন্তু ওগুলোর দাম ছিল অনেক বেশি, তাই আমাদের জন্য লিনাক্স ব্যবহারের কোনো বিকল্প ছিলো না।” বর্তমানেও বাংলাদেশের আইএসপিগুলোর প্রথম পছন্দ লিনাক্স। তবে এখন কাজ অনেক সহজে করা যায়, আগে যেই কাজ করতে হয়ত তিন-চার দিন সময় চলে যেত, সেই কাজ এখন তিন-চার ঘণ্টায় করে ফেলা যায়। আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার জন্য নতুন কিছু শিখে নিতে তেমন বেগ পেতে হয় না।

বাংলাদেশে সার্ভারে লিনাক্সের ব্যবহার বেশ আগে থেকে শুরু হলেও পিসিতে লিনাক্সের ব্যবহার ছিল বেশ কম। কারণ লিনাক্সের ব্যবহার ছিলো বেশ ঝামেলার। আর ইন্টারনেটও তেমন একটা সহজলভ্য ছিলো না যে সেখান থেকে সবসময় সাহায্য পাওয়া যাবে। ১৯৯৯ সালে তৈরি হয় বিডিলাগ (বাংলাদেশ লিনাক্স ইউজার গ্রুপ)। একটি ইয়াহু গ্রুপের মাধ্যমে সেখানে সদস্যরা একে অপরকে সাহায্য করতেন। তারপর নতুন সহস্রাব্দের শুরুর দিকে আরো কিছু সংস্থা বাংলাদেশে লিনাক্সভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অঙ্কুর। লিনাক্সের বাংলা অনুবাদ (লোকালাইজেশন)-এর কাজটি তারা করে বেশ ভালোভাবেই। পরবর্তিতে বিডিওএসএন (বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক) গঠিত হলে লোকালাইজেশনের কাজে বেশ গতি আসে। ওপেন সোর্সকে জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে দেশের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক গঠিত হয়। তাদের অন্যতম কাজ ছিলো ওপেন সোর্সকে জনপ্রিয় করা আর সেটি করতে গেলে লিনাক্স ব্যবহারের বিষয়টিই চলে আসে সবার আগে। তবে উইন্ডোজেও কিন্তু অনেক ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায়।

একজন সাধারণ ব্যবহারকারি কেন লিনাক্স ব্যবহার করবে? প্রথম কথা হচ্ছে, এর ব্যবহার উইন্ডোজের মতোই সহজ, বাড়তি কোনো জটিলতা নেই। আর এটি টাকা দিয়ে কিনতে হয় না। উইন্ডোজ কিন্তু টাকা দিয়ে কিনতে হয়, কপি করে উইন্ডোজ ব্যবহার, তাদের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট অনুমোদন করে না। আমরা যেসব উইন্ডোজ ব্যবহার করি, বিভিন্ন ভার্শনের উপর ভিত্তি করে তার দাম আট থেকে চোদ্দ হাজার টাকা হতে পারে (দামটা একটু চেক করে নিয়েন)। এখন আমরা সাধারণত কম্পিউটার দিয়ে কী কী কাজ করি? আমরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করি, ডকুমেন্ট তৈরির কাজ করি, স্প্রেডশীট ব্যবহার করি, প্রেজেন্টেশন তৈরি করি, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সফটওয়্যার ব্যবহার করি (চ্যাটিং করার জন্য), আর বিনোদনের জন্য গান শুনি, ভিডিও দেখি আর গেম খেলি। এই সবগুলো কাজের জন্যই কিন্তু ওপেন সোর্স সফটওয়্যার রয়েছে, যেগুলো লিনাক্সে ব্যবহার করা হয়। এবং সেগুলো বিনামূল্যে। আর কম্পিউটার ব্যবহারকারিরা সবচেয়ে বেশি ভুগেন ভাইরাস সংক্রান্ত সমস্যায়। বিভিন্ন এন্টিভাইরাস কিনে, সেগুলো নিয়মিত আপডেট করেও ভাইরাসের যন্ত্রণা থেকে সবসময় রেহাই পাওয়া যায় না। কিন্তু লিনাক্সে এই সমস্যাগুলো নেই। বিষয়টি এমন না যে লিনাক্সে ভাইরাস বানানো অসম্ভব, বাস্তবে লিনাক্সের জন্য খুব কম মানুষই ভাইরাস তৈরির চেষ্টা করে। তাই সব লিনাক্স ব্যবহারকারিই বছরের পর বছর নিশ্চিন্তে তার কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন। আরেকটি সুবিধা হচ্ছে লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনগুলো নিয়মিত আপডেট হয়। তাই আপনার যদি ইন্টারনেট সংযোগ থাকে, তাহলে আপনি আপনার লিনাক্সকে সবসময়ই হালনাগাদ করে রাখতে পারবেন। বিভিন্ন সফটওয়্যারের নতুন ফিচারগুলোও ব্যবহার করতে পারবেন। আর বর্তমানের সব কম্পিউটারের সাথে সংশ্লিষ্ট যন্ত্র (যেমন : প্রিন্টার, স্ক্যানার, ওয়েবক্যাম ইত্যাদি) লিনাক্সে ব্যবহার করা যায়, কোনো ঝামেলা ছাড়াই। আবার লিনাক্সের কিছু কিছু ডিস্ট্রিবিউশন (যেমন লুবুন্টু) আছে, যেগুলো বেশ পুরনো বা কম কনফিগারেশনের কম্পিউটারেও চলে। এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও লিনাক্সের ব্যবহার কম, কারণ হচ্ছে বেশিরভাগ মানুষই লিনাক্স সম্পর্কে জানে না।

বিভিন্ন ওপেন সোর্স সফটওয়্যার :
ব্রাউজার : মজিলা ফায়ারফক্স, ক্রোমিয়াম (গুগল ক্রোমের ওপেন সোর্স ভার্শন)
ডকুমেট প্রসেসর : লিব্রা অফিস রাইটার
স্প্রেডশীট : লিব্রা অফিস ক্যাল্ক
মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন : লিব্রা অফিস ইমপ্রেস
ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং : পিজিন
ইমেজ এডিটিং : গিম্প
ভিডিও প্লেয়ার : ভিএলসি

বাংলাদেশে সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারকারিদের কাছে লিনাক্স এখনও জনপ্রিয় না হলেও সফটওয়্যার ডেভেলাপারদের অনেকেই কিন্তু লিনাক্স ব্যবহার করেন। সি, সিপ্লাসপ্লাস, জাভা, পার্ল, পাইথন, পিএচইচপ, রুবি ইত্যাদি ওপেন সোর্স প্রোগ্রামিং ভাষায় কাজ করার জন্য লিনাক্স হচ্ছে আদর্শ অপারেটিং সিস্টেম। একলিপ্স (eclipse), নেটবিনস্ (netbeans)-এর মত বড় বড় আইডিই (IDE)-গুলো লিনাক্সে চলে ভালোমতোই। এছাড়া ওয়েব ডেভেলাপমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার যেমন এপাচি বা ইঞ্জিনএক্স ওয়েব সার্ভার, ডাটাবেজ সার্ভার, বিভিন্ন টুল, প্যাকেজ এগুলো খুব সহজেই লিনাক্সে ইনস্টল করা যায়। যেহেতু পৃথিবীর বেশিরভাগ সার্ভার লিনাক্সে চলে, তাই ওয়েব ডেভেলাপারদের কাজ করার জন্য প্রথম পছন্দই হচ্ছে লিনাক্সভিত্তিক কোনো একটি অপারেটিং সিস্টেম। এছাড়া কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী, যাদের জানতে হয় একটি অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে, তাদের জন্যও লিনাক্স আদর্শ।

বিভিন্ন দেশের সরকারি কাজেও লিনাক্সের ব্যবহার বাড়ছে। ব্রাজিল ও চীন সরকার তো লিনাক্সকে নিজেদের মতো করে নিজের ভাষায় পরিবর্তন করে নিয়ে সব সরকারি অফিসে ব্যবহার করছে। ভারতের কেরালা রাজ্যে সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিনাক্সের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। পর্তুগালেরও নিজস্ব লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন আছে। ফ্রান্স ও জার্মান সরকার সম্প্রতি সরকারি কাজে লিনাক্স ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তগুলো কেবল পয়সা বাঁচানোর জন্যই যে নেওয়া, তা কিন্তু নয়। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাও একটি বড় কারণ। তবে বাংলাদেশ সরকারের এখনও এরকম কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। খুব নিকট ভবিষ্যতে যখন আমাদের দেশে লাইসেন্স ছাড়া কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে, তখন কেবল সরকারি অফিসের কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম ও অফিস প্যাকেজের লাইসেন্স কিনতে গিয়েই হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে বের হয়ে যাবে। তাই সরকারের উচিত এখনই এগিয়ে আসা এবং সরকারিভাবে লিনাক্সের একটি ডিস্ট্রিবিউশন তৈরি করে ফেলা। কাজটি মোটেও কঠিন কিছু নয় এবং আমাদের দেশের প্রোগ্রামাররাই এটি খুব ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধির সাথে সাথে আরো দুটি কাজ হবে. প্রথমত, কয়েক হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার ব্যাপারটি ঠেকানো যাবে। দ্বিতীয়ত, কম্পিউটার সাধারণ মানুষের কাছে আরো আপন হয়ে উঠবে। প্রযুক্তি যখন আপন হয়ে যায়, নিজের হয়ে যায়, তখন মানুষ তার সৃজনশীলতা দিয়ে কত ভাবে যে এর ব্যবহার করতে পারে, সেটি হয়ত আমরা এখন কল্পনা করতে পারবো না।

নোট : আমার এই লেখাটি প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয় আগষ্ট ২৯, ২০১৪ তারিখে। লিঙ্ক : http://www.prothom-alo.com/technology/article/304102/