ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং

রজনীকান্তের “রোবট” সিনেমাটার কথা মনে আছে? যেখানে চিট্টি নামের এক রোবট ছিল যাকে বলা হয়েছিল টিভি খুলার জন্য আর সে মাটিতে টিভিটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলেছিল, “আমাকে তো খুলতে বলা হয়েছে টিভি অন করতে তো বলা হয় নাই”।

আমরা কম্পিউটার বা মেশিন যাই বলি না কেন এদের নিজেদের কোন বোধশক্তি নেই। এদের যা নির্দেশনা দেয়া হয় এরা সেই নির্দেশনা (command) মত কাজ করে শুধু। আমরা মানুষরা সাধারণত  যে ভাষায় কথা বলি তা এরা বুঝতে পারে না। কম্পিউটারকে মানুষের ভাষা ঠিকমত বোঝানোর জন্য বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে চলেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্তর্গত এই শাখাটির নাম হলো ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং, সংক্ষেপে এনএলপি।

কম্পিউটার ও মানুষের যোগাযোগ
কম্পিউটার ও মানুষের যোগাযোগ

ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং কী
ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP) হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)-এর একটি শাখা যা মানুষের ভাষার বিশ্লেষণ করে সেটা বুঝে মানুষ এবং কম্পিউটারের সাথে মিথস্ক্রিয়া (Interaction) করে। এর অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কম্পিউটারকে শেখানো যে কিভাবে মানুষ শিখে এবং ভাষার ব্যবহার করে। বিষয়টা কিন্তু অভিধান ব্যবহার করার মত সহজ-সরল কাজ নয়। অনেকসময় দেখা যায় একটি শব্দ ভিন্ন ভিন্ন বাক্যে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করে।
যেমনঃ
অরুনা ‘ভাল’ রান্না করে (বিশেষণ)।
আপন ‘ভাল’ সবাই চায় (বিশেষ্য)।
এই দুটি বাক্যতে ভাল শব্দটা আছে কিন্তু বাক্য দুটিতে শব্দটির পদ (Parts of speech) ভিন্ন।
এখন কথা হচ্ছে আমরা তো জানি এবং বুঝি বিশেষ্য কী জিনিস, বিশেষণ কী জিনিস। কিন্তু কম্পিউটার তো বুঝে না। তাই কম্পিউটারকে মানুষের ভাষা বোঝানোর জন্য ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং-এর উদ্ভব।

ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং এর টুলস
স্টানফোর্ড ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং গ্রুপ (The Stanford Natural Language Processing Group) ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং এর জন্য অনেক সফট্‌ওয়্যার তৈরি করেছে যেগুলো সবার জন্য সহজলভ্য। এর একটি উল্লেখযোগ্য সফট্‌ওয়্যারের নাম কোর এনএলপি (Stanford CoreNLP). এর মধ্যে ইংরেজি, স্প্যানিশ এবং চাইনিজ ভাষার প্রসেসিং এর টুলস্ (tools) রয়েছে। স্টানফোর্ড এনএলপি (Stanford NLP) সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এই লিঙ্কে

এনএলপি কেন প্রয়োজন
অনেকের মনে এই পর্যায়ে মনে হতে পারে, কম্পিউটারকে মানুষের ভাষা বোঝানোর দরকার কী? সে থাকুক না প্রোগ্রামিং করা আর গেমস খেলা নিয়ে। কিন্তু, এমন যদি হতো যে কম্পিউটারকে কোডের ইন্সট্রাকশন বলা মাত্র সে ঘটঘট করে কোডটা নিজেই লিখে ফেলতো! মজার ব্যাপার হচ্ছে স্পীচ রিকগনিশন (speech recognition) টেকনিকের এর মাধ্যমে কম্পিউটার এই কাজটা কিছুটা করতে পারে। IBM VoiceType হচ্ছে প্রায় এমনই একটা সিস্টেম। যেটা মানুষের বলা শব্দগুলোকে বিশ্লেষণ করে সাথে সাথে কম্পিউটারের স্ক্রিনে দেখায়।

আমাদের কাছে বর্তমানে Google Translate একটা জনপ্রিয় নাম। এটাও ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং এর একটা খুবই সুন্দর অ্যাপ্লিকেশন। খুব দ্রুত কোন শব্দের যে কোন ভাষার অনুবাদ এটি খুব সহজে করে দেয়।

তথ্য খোঁজার চিরুনি অভিযান
ইনফরমেশন রিট্রাইভাল (Information Retrieval) নামক ন্যাচারাল  ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং এর আরেকটি টেকনিক আছে, যার মাধ্যমে বিশাল একটা তথ্য ভান্ডার থেকে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় তথ্য বের করে আনা হয়। এই ধরনের সিস্টেমের কাজ শুরু করে যখন ইউজার সিস্টেমে একটা কুয়েরি (query) দেয়। সেই  কুয়েরি (query)-এর উপর ভিত্তি করে সিস্টেম শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক তথ্যসমূহ প্রদান করে থাকে। যেমনঃ বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন।

বাংলা ভাষা এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং
বর্তমানে ইংরেজিতে ন্যাচারাল লাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং এর কাজ অনেক এগিয়ে গেলেও বাংলা ভাষায় এর কাজ ইংরেজির তুলনায় অনেক কম। বাংলা ভাষার জন্য গবেষণার কাজটি তো বিদেশীরা এসে করে দিবে না, বাংলাদেশের মানুষকেই সেটা করতে হবে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার গবেষণার জন্য গবেষণাগার আছে। যেখানে বাংলা ভাষার প্রসেসিং নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা করা হয়। বাংলাদেশের সার্চ ইঞ্জিন “পিপীলিকা” বাংলা ভাষার প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র সার্চ ইঞ্জিন। পিপীলিকা তৈরি করার সময় ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং নিয়ে বেশ কিছু কাজ করতে হয়েছে। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ গ্রামীণফোন আইটি  লিমিটেডের সহায়তায় তৈরি করেছে এই বাংলা সার্চ ইঞ্জিন। এটির উন্নয়ন কার্যক্রম এখনও চলছে।

ভবিষ্যৎ গবেষণার ক্ষেত্র
যদিও ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং এর অনেক অ্যাপ্লিকেশন বর্তমানে আছে, কিন্তু সেসব অ্যাপ্লিকেশনের এর ফলাফল খুব একটা সন্তোষজনক নয়। মানুষ সাধারণত যে ভাষায় কথা বলে সেসব কথা কোন NLP যন্ত্রের পক্ষে বিশ্লেষণ করে সঠিক অর্থ প্রকাশ করা যথেষ্ট কঠিন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের মানুষের ভাষা ভিন্ন, কথা বলার স্টাইল ভিন্ন। তবে মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। হয়ত ভবিষ্যতে আমরা শতভাগ সঠিক কোন ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং সিস্টেম দেখতে পারবো। যা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাফল্যের একটি মাইলফলক।

লেখকঃ তামান্না নিশাত রিনি।

গুগল এর ৭টি ব্যর্থ প্রোডাক্ট

মূলত সার্চ ইঞ্জিন হলেও এখন পর্যন্ত অনেক প্রোডাক্ট তৈরি করেছে বিশ্বখ্যাত কোম্পানী গুগল। তাদের মধ্যে বেশ কিছু প্রোডাক্ট তারা বন্ধও করে দিয়েছে। সেসব প্রোডাক্টগুলোর কয়েকটি নিয়ে এই লেখা।

১। গুগল হেল্পআউটসঃ
গুগল হেল্পআউটস হচ্ছে গুগলের একটি সহযোগী সেবা যার মাধ্যমে সরাসরি ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে কোন সাহায্য নেওয়া যায়। গুগল হেল্পআউটসের মাধ্যমে মিউজিক, কম্পিউটার, রান্নাবান্না, শিক্ষা, ফ্যাশন, স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের উপর সাহায্য পাওয়া যায়। গুগল হেল্পআউটস সেবা নিতে হলে ব্যবহারকারীদের গুগলকে নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হত।

Google-helpoutsচালু হয়ঃ গুগল হেল্পআউটস ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে চালু হয়।

বন্ধ হয়ঃ ১৩ই ফেব্রুয়ারী ২০১৫তে গুগল অফিসিয়ালি ঘোষণা করে যে ২০ই এপ্রিল ২০১৫ গুগল হেল্পআউটস বন্ধ করে দিবে।

বন্ধ হওয়ার কারণঃ যেহেতু হেল্পআউটস পেইড ছিল, আর একই ধরণের সেবা ইউটিউবে ফ্রি পাওয়া যেত। এটাই হয়ত গুগল হেল্পআউটস বন্ধ হওয়ার কারণ ছিল।

Google_Glass_with_frame
২। গুগল গ্লাসঃ
গুগল গ্লাস হচ্ছে অপটিক্যাল হেড-মাউন্টেড ডিসপ্লে (OHMD) সমৃদ্ধ এক ধরণের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি। নাম দেখেই বোঝা যায়, এটার ডেভেলপারও গুগল। গুগল গ্লাস এক ধরণের পরিধানযোগ্য কম্পিউটারও বটে। এটার অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে আন্ড্রয়েড। ডুয়াল কোর  প্রসেসর, ২ জিবি র‍্যাম, ১৬ স্টোরেজ , ৫এমপি’র ছবি এবং ৭২০পি’র ভিডিও, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, মাইক্রো ইউএসবি সবই আছে।

চালু হয়ঃ সীমিত সময়ের জন্য আমেরিকাতে ১৫ই এপ্রিল ২০১৩ তে ১৫০০ ডলারে প্রথম গুগল গ্লাস বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে ১৫ই মে ২০১৪তে একই দামে আমেরিকাতে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

বন্ধ হয়ঃ ১৫ই জানুয়ারী ২০১৫তে গুগল ঘোষণা করে যে তারা আর গুগল গ্লাস তৈরি করবে না।

বন্ধ হওয়ার কারণঃ নতুন করে উৎপাদন বন্ধ রেখে তারা গুগল গ্লাসের ডেভেলপমেন্টের কাজ করতেছে। হয়ত অদূর ভবিষ্যতে গুগল গ্লাস আবার চালু হতে পারে।
google-wave-logo৩। গুগল ওয়েভঃ
গুগল ওয়েভ যা অ্যাপাচি ওয়েভ নামেও পরিচিত। গুগল ওয়েভ হচ্ছে একটি ওয়েব ভিত্তিক কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম এবং কমিউনিকেশন প্রোটোকল যা ডিজাইন করা হয়েছিলো ই-মেইল, ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং, উইকিস এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর মত মাধ্যম গুলোকে একত্র করার জন্য।

চালু হয়ঃ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালে শুধুমাত্র ডেভেলপারদের জন্য গুগল ওয়েভ রিলিজ করা হয়। এরপর ১৯ মে ২০১০ সালে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

বন্ধ হয়ঃ ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে গুগল ওয়েভ বন্ধ হয়ে যায়।

বন্ধ করার কারণঃ ব্যবহারকারী স্বল্পতার কারণে গুগল ওয়েভ বন্ধ করা হয়।

৪। গুগল নলঃ
নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর লিখিত আর্টিকেলের উপর ভিত্তি করে ২৩ জুলাই ২০০৮ সালে গুগল নল প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন প্রায় হাজার খানেক আর্টিকেল ছিল যার বেশির ভাগই ছিল স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা বিষয়ক। অনেক বিশেষজ্ঞরা মনে করতেন উইকিপিডিয়া’র সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য গুগল নলের উদ্ভব হয়।

Knol-logoচালু হয়ঃ ১৩ ডিসেম্বর ২০০৭ সালে ঘোষণা করা হলেও ২৩ জুলাই ২০০৮ সালে গুগল নল উন্মুক্ত করা হয়।

বন্ধ হয়ঃ ৩০ এপ্রিল ২০১২ সালে গুগল নল বন্ধ করা হয়।

বন্ধ করার কারণঃ মূলত একই রকম আর একটা সেবা “অ্যানোটাম” এর ডেভেলপ করার জন্যই গুগল নল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
orkut-byGoogle-logo
৫। অরকুটঃ
অরকুট ছিল গুগলের একটি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট। এটা মূলত ব্যবহারকারীদের নতুন পুরাতন বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ডিজাইন করা হয়। অরকুটের স্রষ্টা অরকুট বুয়ুকোকটেন এর নাম অনুসারে এটার নামকরণ করা হয়, যিনি গুগলের একজন কর্মী ছিলেন। ভারত এবং ব্রাজিলের ২০০৮ সালের সব চেয়ে বেশি ভিজিটেড সাইটের মধ্যে অরকুট ছিল।

চালু হয়ঃ ২৪ জানুয়ারী ২০০৪ সালে অরকুট চালু হয়।

বন্ধ হয়ঃ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে অরকুট বন্ধ হয়।

Google_Buzz_logo_new৬। গুগল বাজঃ
গুগল বাজ ছিল গুগলের সামাজিক যোগাযোগ, মাইক্রোব্লগিং এবং ম্যাসেজিং টুল যা জিমেইল এর সাথে ইন্টিগ্রেটেড অবস্থায় ছিল। গুগল বাজ এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন লিঙ্কস, ফটো, ভিডিও ইত্যাদি শেয়ার করতে পারত। অনেক বিশেষজ্ঞরা মনে করতেন যে, সামাজিক যোগাযোগের সাইট “ ফেসবুক” এবং মাইক্রোব্লগিং সাইট “টুইটার” এর সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য গুগল বাজের জন্ম।

চালু হয়ঃ ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১০ সালে গুগল বাজ চালু হয়।

বন্ধ হয়ঃ ১৫ ডিসেম্বর ২০১১ সালে গুগল বাজ বন্ধ হয়।

বন্ধ হওয়ার কারণঃ গুগল বাজ বন্ধ করে পরবর্তীতে গুগল প্লাস এ স্থানান্তর করা হয়।
480px-Google_Reader_logo৭। গুগল রিডারঃ
গুগল রিডার ছিল গুগলের একটি আরএসএস/এটম ফিড এগ্রেগেটর। (ফিড এগ্রেগেটর হচ্ছে একটি ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার বা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশান যা অনলাইন পত্রিকা, ব্লগস, পডকাস্টস এবং ভিডিও ব্লগ গুলোকে সহজে দেখানোর জন্য এক জায়গায় একত্র করে রাখে।) গুগলের ইঞ্জিনিয়ার ক্রিস ওয়েদেরেল গুগল রিডার তৈরি করেছিল।

চালু হয়ঃ ৭ অক্টোবর ২০০৫ সালে গুগল রিডার চালু হয়।

বন্ধ হয়ঃ ১ জুলাই ২০১৩ সালে গুগল রিডার বন্ধ হয়।

বন্ধ হওয়ার কারণঃ মূলত ব্যবহারকারী কমে যাওয়ার কারণেই গুগল রিডার বন্ধ করা হয়।

লেখক : ইমরান হোসেন।

গণিতে দূর্বল?

অনেকেই আমার কাছে বা বিভিন্ন ফোরামে এরকম একটা প্রশ্ন করে, “ভাই, আমি তো গণিতে দূর্বল, আমি কি প্রোগ্রামিং শিখতে পারব?” প্রশ্নটা যারা করে, বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী। এখন কথা হচ্ছে গণিতে দূর্বলতা কোনো স্থায়ী জন্মগত সমস্যা নয় যে সেটা ঠিক করা যাবে না। তাই প্রোগ্রামিং শেখার আগে সেই সমস্যাটা ঠিক করে ফেলাই ভালো নয় কি? তো কীভাবে কী করা যায়, সেটা নিয়ে আমার দীর্ঘদিন গণিত পড়ানোর অভিজ্ঞতার আলোকে তোমাদের জন্য এই লেখা।

Image Source : http://blogs.discovermagazine.com/inkfish/2012/11/02/math-phobes-experience-arithmetic-like-bodily-pain/

প্রথম কথা হচ্ছে তোমার ম্যাথ জিনিয়াস হওয়ার দরকার নাই। তুমি তো আর আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে যাচ্ছ না, কিংবা এসিএম আইসিপিসির ওয়ার্ল্ড ফাইনালসে প্রতিযোগিতা করতে যাচ্ছে না। তোমার উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রোগ্রামিং শেখা এবং ভালো লাগলে সেটার উপর ক্যারিয়ার গড়া। এবং তুমি গণিতে নিজেকে দূর্বল মনে করছ, তাই আমার এই আর্টিকেলটি পড়ছ। তুমি গণিতে দূর্বল মানে তোমার বেসিক যথেষ্ট শক্ত নয়, তুমি স্কুলে ফাঁকিবাজি করেছ। অথবা জীবনে কখনও ভালো গণিত শিক্ষকের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয় নাই। তো এখন স্কুলজীবন শেষ, তার মানে এই না যে স্কুলের বইগুলো আবার পড়া যাবে না। তুমি প্রথমে অষ্টম শ্রেণীর গণিত বই পড়া শুরু কর। বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলবে। সাথে সাথে উদাহরণের অঙ্কগুলো নিজে নিজে করবে। অনুশীলনী করার দরকার নাই। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই বইটা শেষ করতে পারা উচিত। তুমি স্কুলের বই পড়ছ দেখে বাসায় লোকজন হাসাহাসি করতে পারে, পাত্তা দিও না।

এরপর নিজেকে প্রশ্ন করবে? ক্লাস এইটের বই পড়ার সময় কী সবকিছু ঠিকঠাক বুঝতে পেরেছ নাকি কোথাও কোথাও একটু সমস্যা হয়েছে? যদি সমস্যা হয়, তাহলে ক্লাস ফাইভের বই থেকে শুরু কর। তারপর ক্লাস সিক্স ও সেভেনের বই। প্রতিটা বই পড়তে এক সপ্তাহের মত সময় লাগবে। পড়ার সাথে সাথে উদাহরণগুলো করতে ভুলবে না।

ক্লাস এইট পর্যন্ত গণিতের বেসিক শক্ত করার পরে তুমি জাফর ইকবাল স্যারের লেখা “গণিত এবং আরো গণিত” বইটা পড়তে পার। বইটা আসলে ইংলিশ মিডিয়ামের (ও লেভেলের) গণিত বই অবলম্বনে লেখা। পড়তে এক মাসের মতো সময় লাগবে।

উপরের কাজগুলো করার পরে তুমি প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করে দাও। আর প্রোগ্রামিং শেখার সময়, প্রোগ্রামিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে ডিসক্রিট ম্যাথ শিখে ফেলো। এর জন্য বাংলায় কোনো ভালো বই নাই। তবে হাম্মাদ আলী স্যারের অনলাইন কোর্স আছে, সবার জন্য ফ্রি।

পৃথিবীর ৯৫% প্রফেশনাল প্রোগ্রামারই জীবনে এমন কিছু করবে না, যার জন্য এর চেয়ে বেশি গণিত শেখার দরকার হবে। বাকী ৫% এর অনেক কিছু শিখতে হবে। সেগুলো কী কী, এটা তাদের আলাদাভাবে বলে দেওয়া লাগবে না, তারা সামনে এগুতে থাকলে এমনিতেই জানতে পারবে। আর ৯৫%, যাদের মধ্যে তোমার থাকার সম্ভাবনা বেশি, তুমি নিশ্চিন্তে প্রোগ্রামিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পার, যদি প্রোগ্রামিং ভালো লাগে। তোমার জন্য শুভকামনা।

বি.দ্র. তোমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, আমি কেন গণিত নিয়ে লিখলাম? আমি যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম, তখন সিলেট প্যারালাল ম্যাথ স্কুল প্রতিষ্ঠা করি, যেখানে স্কুলের বাচ্চাদের পড়াতাম, প্রতি শুক্রবার এবং বিনামূল্যে। আমার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দুইজন পরবর্তি সময়ে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দলে সুযোগ পায়। পরে ঢাকায় এসে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করি এবং সেখানেও গণিতের একটা কোর্স পড়িয়েছিলাম। এছাড়া ২০০৭ ও ২০০৮ সালে আমি জাতীয় গণিত ক্যাম্পে ক্লাস নেই। পরেও মাঝে মাঝে ক্লাস নিয়েছি। আর ২০১১ সালে দুইটা জাতীয় প্রাইমারি গণিত ক্যাম্পের আমি ক্যাম্প ডিরেক্টর ছিলাম। আর ২০০৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে টানা ছয়মাস প্রথম আলোর গণিত ইশকুল পেজে গণিতের উপর আর্টিকেল লিখেছি। বর্তমানে গণিত নিয়ে কিছু করা হয় না, তাই এখন আমি বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির একজন একাডেমিক কাউন্সিলর।

ট্যুরিং টেস্ট – মানুষ বনাম কম্পিউটার

ছোটবেলায় কমিকস্‌ পড়ার সময় প্রায়ই একটা লেখা চোখে পরত, “চাচা চৌধুরীর মগজ কম্পিউটারের চেয়েও প্রখর” । চোর-ডাকু, বড় বড় ক্রিমিনাল সবাই উনার বুদ্ধির কাছে কাবু। তখন মনে করতাম, হ্যাঁ চাচাজীর তো আসলেই অনেক বুদ্ধি! কিন্তু  কম্পিউটার কি আসলেই মানুষের থেকে বুদ্ধিমান? অথবা আদৌ কি তার কোন বুদ্ধি আছে? একটু পেছনে ফিরে দেখা যাক।

১৯৯৭ সালের কথা। ডিপ ব্লু (Deep Blue) নামের এক সুপার কম্পিউটার দাবা খেলায় হারিয়ে দিয়েছিল বিশ্বসেরা দাবাড়ু গ্যারি কাসপারভ (Garry Kasparov) সাহেবকে। মানব মস্তিষ্ক এবং কম্পিউটারের যুদ্ধে কম্পিউটার জয়ী। তাহলে কি এখন আমরা বলবো, যে মানুষের থেকে কম্পিউটারের বুদ্ধি বেশি?

বুদ্ধির দাঁড়িপাল্লাঃ
মানুষের বুদ্ধিমত্তা মাপার জন্য যেমন আইকিউ (IQ) পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে, তেমনি কোন যন্ত্রের চিন্তাশক্তি বা বুদ্ধিমত্তা আছে কিনা, সেটা মাপার জন্য রয়েছে ট্যুরিং টেস্ট (Turing Test) নামক একটি পদ্ধতি। এক কথায় ট্যুরিং টেস্ট হচ্ছে এমন একটি পরীক্ষা যার মাধ্যমে জানা যায় কোন যন্ত্রের চিন্তা করার ক্ষমতা আছে কিনা। যদি কোন যন্ত্র এই পরীক্ষায় পাশ করে যায়, তাহলে বলা যায় যন্ত্রটির চিন্তাশক্তি আছে বা বুদ্ধিমত্তা আছে।

অনেক আগে থেকেই মানুষের মনে কৌতুহল ছিল যে কোনো যন্ত্র কি পারবে মানুষের মত চিন্তা করতে এবং সেই চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে?

১৬৩৭ সালে রেনে ডে কার্তে নামক একজন বিজ্ঞানী বলেছিলেন যে মানুষ হয়ত বুদ্ধিমান ঘুর্ণন যন্ত্র আবিষ্কার করতে পারবে, কিন্তু মানুষের মত বিভিন্ন তথ্যের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা এটির পক্ষে কখনোই সম্ভব হবে না।
কিন্তু বিজ্ঞান তো মানুষের কথা শুনে বসে থাকার জিনিস না। বিজ্ঞানীরা শুরু করলেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। অবশেষে ইংরেজ গণিতবিদ এবং গবেষক অ্যালান ট্যুরিং (Alan Turing) যন্ত্রের চিন্তাশক্তি নির্ণয়ের এক পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন যার নাম হল ট্যুরিং টেস্ট।

Alan_Turing_photo১৯৫০ সালে অ্যালান ট্যুরিং তাঁর গবেষণাপত্র “Computer Machinery & Intelligence”-এ প্রথম Turing Test এর কথা বলেন। তাঁর এই গবেষণাপত্রটি মূলত Artificial Intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল-এর প্রধান সম্মাননা “ট্যুরিং পুরষ্কার” তাঁর নামে। এই পুরষ্কারকে কম্পিউটার বিজ্ঞানের নোবেল পুরষ্কারও বলা হয়ে থাকে।

অ্যালান ট্যুরিং-এর মজার পরীক্ষাঃ
আলান ট্যুরিং তাঁর গবেষণা পত্রে একটি মজার পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেন। সেই পরীক্ষাটির নাম ছিল ইমিটেশন গেম (Imitation Game)। গেমটিতে মনে করা যাক, দুইটি ভিন্ন ভিন্ন বদ্ধ ঘরে একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে আছে। একজন তৃতীয় ব্যক্তিকে বের করতে হবে কোন ঘরে ছেলে আছে এবং কোন ঘরে মেয়ে।

মেয়ে নাকি ছেলে?
মেয়ে নাকি ছেলে?

অনেকের মনে হতে পারে, ধুর এটা কোন ব্যাপার হলো নাকি। কণ্ঠস্বর শুনেই তো বলে দেয়া যাবে কে ছেলে আর কে মেয়ে। কিন্তু ট্যুরিং স্যারের শর্ত ছিল তৃতীয় ব্যক্তিকে ছেলেটি এবং মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করতে হবে লিখিত আকারে এবং ছেলেটিকে এবং মেয়েটিকেও তৃতীয় ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে হবে লিখিত আকারে। তৃতীয় ব্যক্তি বিভিন্ন প্রশ্ন করবে লিখিত আকারে এবং ছেলে ও মেয়েটি লিখিত আকারে সেইসব প্রশ্নের উত্তর দিবে। প্রশ্নের উত্তর বিশ্লেষণ করে তৃতীয় ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিবে কোন ঘরে ছেলে আছে এবং কোন ঘরে মেয়ে। যেহেতু এখানে তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপার আছে, তাই এখানে বাহ্যিক বুদ্ধিমত্তার দরকার। এটি মূলত ট্যুরিং টেস্ট এর প্রথম ধাপ।

দ্বিতীয় ধাপে তৃতীয় ব্যক্তিকে একই পদ্ধতিতে যন্ত্র এবং মানুষকে আলাদা করতে হয়। যদি পরীক্ষার্থী যন্ত্রটি গ্রহণযোগ্য যুক্তি দিয়ে মানুষ এবং যন্ত্রকে আলাদা করতে পারে তাহলেই বলা যাবে যন্ত্রটির বুদ্ধিমত্তা আছে।

যন্ত্র নাকি মানুষ?
যন্ত্র নাকি মানুষ?

ট্যুরিং টেস্টের ফলাফলঃ
কিছুদিন আগে রাশিয়ার তৈরি Eugene Goostman সুপার কম্পিউটার ট্যুরিং টেস্টে একজন ১৩ বছরের বালকের সমান বুদ্ধির প্রমাণ দেয়। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক প্রতিযোগিতায় এই সুপার কম্পিউটার ‘ট্যুরিং টেস্টে’ ৩৩ শতাংশ সময় বিচারকদের কাছে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়৷ ট্যুরিং টেস্টে কোন যন্ত্রের সাফল্য এই প্রথম।বিজ্ঞানীরা এই সাফল্যকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

এদিকে বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার স্টিফেন হকিং বলছেন ভিন্ন কথা। উনার ধারণা মতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ঘটানোর তৎপরতা মানবজীবনের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। বুদ্ধিমান যন্ত্র মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করবে মানুষকে। জৈব বিবর্তনের দিক থেকে ধীর গতির মানুষ এ সব যন্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত যন্ত্র মানুষকে অতিক্রম করবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা সত্যি কী না, তার জন্য আমাদের আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য উপায় নেই।

– তামান্না নিশাত রিনি

একুয়ারিস ই৪.৫ – উবুন্টু ফোন

উবুন্টু অনেক বছর ধরেই স্মার্টফোন এবং স্মার্টডিভাইস মার্কেটে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছে। তবে তাদের এই চেষ্টা সত্ত্বেও, খুব একটা সফল তারা হয়ে উঠতে পারেনি কোনো ডিভাইস প্রস্তুতকারক কোম্পানিকে তাদের স্মার্টডিভাইসকেন্দ্রিক ওএস এর প্রতি আকৃষ্ট করতে। তবে তারা তারপরও হাল ছাড়েনি। দেড় বছর আগে তারা ক্রাউডসোর্সের মাধ্যমে উবুন্টু এজ নামে একটি স্মার্টফোন আনার চেষ্টা করেছিল যা কিনা একই সাথে স্মার্টফোন এবং ডেস্কটপের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। যদিও তা বিফলে যায় তাদের বিশাল ৩২ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায়।

তবে উবুন্টু আবার স্মার্টডিভাইস প্রস্তুতের মাধ্যমে এই বাজারে প্রবেশ করার পরিকল্পনা করছে। অবশ্য তাদের এই ফোন তাদের প্রস্তাবিত উবুন্টু এজের মতন মনিটরের সাথে সংযোগ দিলে ডেস্কটপ কম্পিউটারে পরিনত হবে না। তাদের এই নতুন ফোন, যা কিনা একুয়ারিস ই৪.৫ নামে পরিচিত হবে, মূলত প্রথম দিককার ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপারদের কথা চিন্তা করে প্রস্তুত করা। এই নতুন ফোন একটি নতুন কার্ড এর ন্যায় ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করবে যা কিনা বর্তমান অ্যাপকেন্দ্রিক ওএস এর চেয়ে খানিকটা ভিন্ন।

উবুন্টু এই ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে চায়নার বিখ্যাত ব্র্যান্ড শাওমি, যা কিনা বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক হিসেবে পরিচিত, তার বিক্রয় পদ্ধতি অনুসরন করার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ তারা শাওমি এর মতন একাধিক ফ্ল্যাশ সেল করবে। এর মাধ্যমে তারা ফোন সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করবে। ফলে ফোনের প্রস্তুতকরণের উপর চাহিদা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হবে। উবুন্টুর এই সংস্করণের প্রস্তুতকারক ক্যানোনিক্যাল আগামী সপ্তাহ থেকেই ইউরোপে এই বিক্রয় ব্যবস্থা শুরু করবে। এটির মাধ্যমে দ্রুত ফিডব্যাক নিয়ে তার ফলাফল দিয়ে ওএস এ দ্রুত কাজ করাও সম্ভব হবে।

ক্যানোনিক্যালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান পারিনো বলেন, “এই একটি প্রতিষ্ঠিত পরিকল্পনা যা কিনা ফোনটি সঠিক মানুষের কাছে পৌছতে সাহায্য করে।” তিনি আরও বলেন যে, আমরা জানি আমরা পরিবেশকের কাছ থেকে সরে আসছি তবে আমরা এই পরিল্পনা নিয়েই এগোতে চাচ্ছি।”

নতুন এই উবুন্টু ফোন অ্যাপকে এইচটিমিএল৫ অথবা সরাসরি তার ন্যাটিভ কোড কিউএমএল এ চালাতে সক্ষম। তবে এর অপারেটিং সিস্টেম পুরো প্রক্রিয়াকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে এর ইন্টারফেসের মাধ্যমে। আর এর ইন্টারফেস সচরাচর অ্যাপ গ্রিড ভিউ এর পরিবর্তে থিম কার্ড পদ্ধতি অনুসরণ করে যার ফলে কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা একেকটি কার্ড প্রদান করে। ক্যানোনিক্যাল একে স্কোপ বলে যা কিনা খানিকটা গুগলের কার্ড সিস্টেম ইউজার ইন্টারফেস গুগল নাও এর সোয়াইপ কে প্রয়োগ করে বাস্তবায়িত। এটিকে তারা স্কোপস নাম দিয়েছে।

ফোনের হোম স্ক্রিন এখানে হবে আজকের স্কোপ, যেখানে কিনা এমন সব উইজগেট থাকবে যা কিনা ব্যবহারকারী ফোনের সাথে সচরাচর যে কাজ করে থাকে তা তুলে ধরবে। এর মধ্যে থাকতে পারে আবহাওয়া বার্তা , সেদিনকার হেডলাইন অথবা অন্য কোন খবর, টুইটার বার্তা অথবা ব্যবহারকারীর যাদের সাথে সর্বোচ্চ যোগাযোগ করে তা।

উবুন্টু একুয়ারিস ই৪.৫

এছাড়া ডান দিকে সোয়াইপ করলে অন্যান্য স্কোপস এ যাওয়া যাবে যেমন,

  • মিউজিক স্কোপ, যা কিনা সাউন্ডক্লাউড এবং অন্যান্য মিউজিক স্ট্রিমিং সাইট থেকে গান লোদ করে দেখাবে। কোথায় কি কনসার্ট হচ্ছে তা দেখাবে সংকিক অ্যাপ দ্বারা।
  • ভিডিও স্কোপ, যা কিনা ইউটিউব এবং অন্যান্য ভিডিও সার্ভিসের ভিডিও দেখাবে।
  • ফটো স্কোপ, যা কিনা ব্যবহারকারীর সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবি নিয়ে দেখাবে।
  • নিয়ার স্কোপ, যা কিনা আসেপাশের সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ে তথ্য দিবে। যেমন কোথায় ট্রাফিক জ্যাম, কোথায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পাওয়া যাবে এবং রেস্টুরেন্ট।
  • অ্যাপ স্কোপ, যা কিনা ক্যামেরা, ক্যালেন্ডার এবং অন্যান্য প্রোগ্রামে যেতে সাহায্য করবে।

ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব স্কোপও বানাতে পারবে এবং একটি নির্দিষ্ট সেবা তার নিজের স্কোপও পাবে চাইলে। এর মাধ্যমে ক্যাননিক্যালের মতে, ব্যবহারকারীরা যেমন কোন ধরনের বাধা ধরা ছাড়াই কাজ করতে পারবে ফোনে্, ডেভেলপাররা তেমন তাদের অ্যাপ কম খরচে স্কোপের মাধ্যমে তৈরি করতে পারবে যা কিনা একটি পুরনাঙ্গ অ্যাপের ন্যায় কাজ করতে পারবে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট পারিনো বলেন, আপনি যদি আরেকটা ওএস নিয়ে আসেন যার নিজের অ্যাপ এবং আইকন আছে তাহলে আপনার এবং অন্যান্য ওএস এর মধ্যে সত্যিকার অর্থে কোন পার্থক্য নেই। এতে আপনি শুধুমাত্র তখনই ডেভেলপারদের আকৃষ্ট করবেন যখন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যবহারকারী আপনার ওএস ব্যবহার করবে। শুধুমাত্র তখন তারা আপনার ওএস জন্যে অ্যাপ বানানোর কথা চিন্তা করবে আর এতে আপনি ব্যবহারকারীর কাছে তখনই ভাল হবে যখন আপনার অ্যাপ ভাল হবে।

আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে এই মডেল থেকে বের হয়ে আসা এবং এমন একটি অভিজ্ঞতা দেয়া যা কিনা নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবে। সুতরাং আপনি যতই বেশি সেবা প্রদান করবেন আপনার ফোন ততই ভাল হবে। তবে কিছু সেবা এখন পাওয়া যাবে না যেমন ওয়াটসঅ্যাপ, স্কাইপ, এবং ইন্সটাগ্রামের কিছু নির্দিষ্ট ফিচার।

ক্যানোনিক্যাল এখানে লাভ করবে প্রতিষ্ঠানকে সাপোর্ট সার্ভিস প্রদান করে। এই ফোনটি মূলত প্রস্তুত করেছে স্প্যানিশ এক প্রতিষ্ঠান বিকিউ যাদের কিনা ইতোমধ্যে ফোনটির একটি অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ রয়েছে। বিকিউ মুলত প্রায় অজানা একটি ট্যাবলেট এবং ই-রিডার প্রস্তুতকারক।

ফোনটির স্পেসিফিকেশন তেমন আকর্ষণীয় নয়। ৪.৫ ইঞ্চি (৫৪০x৯৬০ রেজুলেশন) স্ক্রিন সাইজের এই ফোনে আছে ১.৩ গিগাহার্জ কোয়াড কোর কর্টেক্স এ৭ ভিত্তিক মিডিয়াটেক প্রসেসর, মালি ৪০০ জিপিউ, ১ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ। ক্যামেরা হিসেবে আছে, ৮মেগাপিক্সেল রিয়ার এবং ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফোনে আরও ডাটা রাখতে এতে রয়েছে মাইক্রোএসডি কার্ড সাপোর্ট এছাড়া আছে ডুয়াল সিম সাপোর্ট। ব্যাকআপ দিতে এতে আছে ২১৫০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফোনটির দাম পড়বে প্রায় ১৯৫ ডলার।

ফোনটি মুলত যারা নতুন কিছু অভিজ্ঞতা করতে চায় এবং উবুন্টুর ভক্তদের মধ্যে একটি যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিষয়টি দ্রুত এমন হতে পারে যখন এসকল ব্যবহারকারী অ্যাপ এর ন্যায় অভিজ্ঞতা এই ফোনগুলো থেকে পেতে যাবে বর্তমান বাজার প্রেক্ষিতে। তবে ইতোমধ্যে দাম হিসেবে এই ফোনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে মটোরলা, মাইক্রোসফট লুমিয়ার মতন ফোন। এখন এবার ক্যানোনিক্যাল সফল হতে পারে কিনা তাদের এই উবুন্টু ওস দিয়ে তাই হল দেখার বিষয়।

আপডেট:

একজন ইউটিউবার প্রথম একটি উবুন্টু ফোনের আনবক্সিং ভিডিও রিলিজ করেছে।

– এহসানুল হক নিটোল।