সিঙ্গাপুরে ক্যারিয়ার – ১ম পর্ব

বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী First World Country হচ্ছে সিঙ্গাপুর। বেশিরভাগ মানুষই সিঙ্গাপুরের নাম জানে একারণে যে মন্ত্রী পর্যায়ের কেউ কিংবা বিখ্যাত কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে যান। আবার গ্রামবাংলার মানুষও এই দেশটির নাম জানে, কারণ এখানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া তাদের বিখ্যাত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণেও কিছু শিক্ষার্থী তাদের নাম জানে।

এই লেখার পাঠকদের জন্য যেটি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হচ্ছে, সিঙ্গাপুরে টেকনোলজি নিয়ে কাজের বাজার ক্রমশই প্রসারিত হচ্ছে। তাদের দরকার হাজার হাজার বিশ্বমানের সফটওয়্যার প্রকৌশলী। এজন্য তারা অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভরশীল, কারণ তাদের দেশটি ছোট, তাই তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রয়োজনীয়সংখ্যক কম্পিউটার সায়েন্স গ্রাজুয়েট সরবরাহ করতে পারছে না। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে চীনা ও ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের আধিপত্য। ইউরোপ থেকে অনেকে এখানে কাজ করতে আসে, বিশেষ করে যারা গরম আবহাওয়ার থাকতে চায়। আর আশেপাশের দেশগুলোর মধ্যে যারা খুব ভালো মানের সফটওয়্যার ডেভেলাপার, তারাও এখানে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যায়। সেই তুলনায় আমাদের উপস্থিতি একেবারে নগন্য, ২০১৯ সালে বাংলাদেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের সংখ্যা আনুমানিক একশ হবে।

এখন আসা যাক, সিঙ্গাপুরে কী কী বড় কোম্পানী আছে, যেখানে সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা কাজ করতে পারে? প্রথমত, গুগল (Google), ফেসবুক (Facebook), টুইটার (Twitter) ও পেপালের (Paypal) ডেভেলাপমেন্ট সেন্টার। তারপরে আছে স্ট্রাইপ (Stripe), ইনডিড (Indeed.com), জেনডেস্ক (ZenDesk) ও অটোডেস্কের (AutoDesk) মতো প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠিত স্টার্টআপগুলোর মধ্যে আছে গ্র্যাব (Grab), শপি (Shopee), গো-জ্যাক (GoJek), ট্রাভেলোকা (Traveloka) ইত্যাদি। এছাড়াও আরো অনেক ছোট-বড় কোম্পানী সেখানে রয়েছে, যারা হন্যে হয়ে প্রোগ্রামার খুঁজছে (মানে খুব ভালো মানের প্রোগ্রামার আর কী)।

কোম্পানীগুলো কখন হায়ার (hire) করে? কিছু কিছু কোম্পানী সারাবছর হায়ার করে, আবার কিছু কোম্পানী তাদের প্রয়োজনমতো হায়ার করে, মাঝে মাঝে হায়ারিং বন্ধ থাকে। বিভিন্ন কোম্পানীর ওয়েবসাইটের ক্যারিয়ার পেজে গেলে জানা যাবে এখন কোন কোন পজিশনে তারা হায়ার করছে। ওসব কোম্পানীতে পরিচিত কেউ থাকলে, তাকে অনুরোধ করতে হবে সিভি ফরোয়ার্ড করার জন্য। আর পরিচিত কেউ না থাকলেও হতাশ হওয়ার দরকার নাই, সরাসরি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও আবেদন করা যায়।

সিঙ্গাপুরের ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি পেতে হলে জোর প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। আমি এই ভিডিওতে একটি গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি –

পরবর্ত পর্বে আলোচনা করব, কেউ যদি চাকরি পেয়ে যায়, তখন তার সিঙ্গাপুরে আসার আগে কী কী কাজ করতে হবে।

প্যালিনড্রোম

একটি স্ট্রিংকে উল্টে দিলে যদি সেই স্ট্রিংটি আবার পাওয়া যায়, তাকে বলা হয় Palindrome (প্যালিনড্রোম)। বেশিরভাগ প্রোগ্রামারই এর সঙ্গে পরিচিত, বিশেষ করে প্রথম প্রোগ্রামিং শেখার সময় অনেক বইতেই এই বিষয়ের ওপর অনুশীলনী বা উদাহরণ দেওয়া থাকে।

source – https://www.deviantart.com/rose-xx-15412/art/Palindrome-Cow-364640478

একটি স্ট্রিং প্যালিন্ড্রোম কী না, সেটি পরীক্ষা করার উপায় কী? একটি উপায় হচ্ছে, স্ট্রিংটি উলটে দিয়ে আরেকটি স্ট্রিং তৈরি করা। তারপর তাদের মধ্যে তুলনা করে দেখা।

কাজটি আমরা পাইথন ব্যবহার করে খুব সহজেই করে ফেলতে পারি।

def is_palindrome(s):
    return s == s[::-1]

আবার আমরা স্ট্রিংয়ের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে একটি একটি করে অক্ষর তুলনা করেও প্যালিনড্রেম পরীক্ষা করতে পারি।

def is_palindrome(s):
    l = len(s)
    indx1 = l // 2 - 1
    indx2 = (l + 1) // 2
    while indx1 >= 0 and indx2 < l:
        if s[indx1] != s[indx2]:
            return False
        indx1, indx2 = indx1 - 1, indx2 + 1

    return True

দুটি ফাংশনই একই উদ্দেশ্য সাধন করবে, কিন্তু একটু আলাদভাবে। এখন পাঠকদের কাছে প্রশ্ন – প্রথম ও দ্বিতীয় ফাংশনের টাইম ও স্পেস কমপ্লেক্সিটি কত?