A/B টেস্টিং

এ/বি টেস্ট

যারা মাঝে-মধ্যে টেলিভিশন দেখে, তারা নিশ্চয়ই একটি বিজ্ঞাপণের সাথে পরিচিত। যেখানে দেখানো হয় যে একদল ছোট ছেলেমেয়েকে দুটি দলে ভাগ করা হয়। তারপর একদলকে দেওয়া হয় হরলিকস্ মেশানো দুধ, আর আরেকদলকে দেওয়া হয় হরলিকস্ ছাড়া দুধ। কয়েকমাস পরে দেখা যায় যে, যারা হরলিকস মেশানো দুধ খেয়েছে, তারা টলার (Taller – লম্বা), স্ট্রংগার (stronger – শক্তিশালি) আর শার্পার (sharper – মেধাবী অর্থে) হয়েছে। তো এরকম মিথ্যা বিজ্ঞাপণ কেবল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতেই প্রচার করা সম্ভব। ইংল্যান্ডে নাকি এই বিজ্ঞাপণটি নিষিদ্ধ করেছে। তবে বিজ্ঞাপণ নিয়ে আলোচনা করা আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। লেখার বিষয়বস্তু হচ্ছে A/B টেস্টিং।

অনেক সময়, যখন একটা কাজ করার জন্য দুইটা উপায় বের হয়, তখন কোন কাজটি করলে ভালো হবে, সেটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যাদের জন্য কাজটি করা হচ্ছে, তাদেরকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। একভাগের ওপর প্রথম পদ্ধতিটি পরীক্ষা করা হয়, আরেকভাগের ওপর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি। তারপর সেখান থেকে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে কোনটি ভালো। একেই বলে A/B টেস্টিং। ওপরের হরলিকসের বিজ্ঞাপণটিও (যদিও মিথ্যা) A/B টেস্টিংয়ের উদাহরণ।

এবি টেস্টিং
এবি টেস্টিং

A/B টেস্টিং অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়। যেমন, ইমেইল মার্কেটিং। বিভিন্ন পণ্যের তথ্য দিয়ে সম্ভাব্য গ্রাহকদেরকে ইমেইল করার রেওয়াজ আছে। তো সবাই তো আর ইমেইল পড়ে না, আবার যারা পড়ে, তাদের মধ্যে সবাই ইমেইলের বিষয়বস্তুতে আগ্রহ নাও পেতে পারে। এখন ধরা যাক, আমি আমার বইয়ের জন্য ইমেইল মার্কেটিং করবো। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর ইমেইল ঠিকানা আমি যোগাড় করলাম। এখন আমরা তিন রকমের ইমেইল ডিজাইন করলাম, কোনোটায় কথা বেশি, কোনোটায় ছবি বেশি। এখন রাফির কাছে মনে হলো যে এই ইমেইলটা ভালো, আমার কাছে মনে হলো, না ওইটা ভালো। আর সালমানের মনে হলো এই দুটোর চেয়ে তৃতীয়টি ভালো। এখন আমরা এখানে যুক্তি-তর্ক না করে যেটা করতে পারি, লটারির মতো একটা প্রোগ্রাম লিখে সেটি দিয়ে তিনটি ইমেইলের তালিকা তৈরি করলাম, প্রতি তালিকায় এক হাজার ইমেইল ঠিকানা। এখন প্রথম তালিকায় রাফির পছন্দের ইমেইল, দ্বিতীয় তালিকায় আমার পছন্দের ইমেইল আর তৃতীয় তালিকায় সালমানের পছন্দের ইমেইল পাঠালাম। কয়েকদিন পরে গ্রাহকদের রেসপন্স (কতজন ইমেইল খুলে লিঙ্কে ক্লিক করলো) দেখে আমরা সহজেই সিদ্ধান্ত কোন ইমেইলটি ভালো ছিল। তারপরে বাকী ৪৭ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে সেই ইমেইলটিই পাঠাবো।

এখন আমি কেন লটারির মতো প্রোগ্রাম লিখে ইমেইল তালিকা তৈরি করলাম? কারণ আমি যখন ইমেইলগুলো সংগ্রহ করি, সেগুলো কোনো একটা অর্ডারে (বা ক্রমে) থাকার সম্ভাবনাই বেশি। একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ইমেইল পরপর থাকবে, আর তাদের মধ্যে কোনো মিলও থাকতে পারে, যেমন এরা সবাই বই কেনার ব্যাপারে সিরিয়াস, তাই এদেরকে যেই ইমেইলই পাঠানো হোক না কেন, এরা লিঙ্কে ক্লিক করবে। এজন্যই Random ভাবে তালিকা তৈরি করতে হয়েছে, যেন এরকম ঘটনা না ঘটে যে এক তালিকায় সবাই কাছাকাছি মানসিকতার শিক্ষার্থী থাকে।

মোবাইল এবি টেস্ট
মোবাইল এবি টেস্টিং

ওয়েব বা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ইমেইল মার্কেটিং কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে এবি টেস্টিং ব্যবহার করে সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। কোন জায়গায় বিজ্ঞাপণ দিলে মানুষ বেশি ক্লিক করবে, বাটনগুলোতে কী ছবি থাকবে নাকি টেক্সট, রংটা কী গাঢ় নীল হবে নাকি আকাশি, SIGN UP NOW লিখব নাকি Join Today! – এই ধরণের নানান সিদ্ধান্তের জন্য A/B টেস্ট খুবই কার্যকরি। এজন্য হরেক রকম টুলস্ বা ফ্রেমওয়ার্কও রয়েছে (A/B Testing Tools, A/B Testing Framework এসব লিখে গুগলে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে)। নির্দিষ্ট কোনো টুলস্ বা ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে সহজেই টেস্ট ডিজাইন করা যায় এবং তার ফলাফল বিশ্লেষণ করা যায়। এই বিষয়ে ইন্টারনেটে অনেক লেখা রয়েছে। আমি কেবল এবি টেস্টিংয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। আরো জানতে হলে গুগল সার্চ করে বিভিন্ন আর্টিকেল পড়ে জেনে নিতে হবে।

 

Facebook Comments

Leave a Reply