Live Before You Die – স্টিভ জবস্‌

২০০৫ সালের ১২ জুন। অ্যাপল ইনকর্পোরেটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস্‌ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দেন তাঁর বিখ্যাত বক্তৃতা “How To Live Before you Die”। তাঁর এই বক্তৃতায় তিনি বলেন তাঁর জীবনের তিনটি গল্পের কথা। স্টিভ জবসের জবানিতেই আমরা আজকে এই লেখায় জানবো তাঁর সেই তিনটি গল্প।

পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমাদের সামনে আজ আসতে পেরে আমি আনন্দিত এবং সম্মানিত। আমি কলেজের গন্ডি পেরুতে পারিনি। সত্যি বলতে, আজকেই প্রথম আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েশনের সবচেয়ে কাছে আসতে পেরেছি। আজকে আমি তোমাদের আমার জীবনের ছোট্ট তিনটি গল্প বলবো।

প্রথম গল্পটির নাম আমি দিবো এক সূতোয় গাঁথা।

আমি রিড কলেজ থেকে প্রথম ৬ মাসের মাথায় ড্রপ আউট হই। কলেজ ড্রপ করার পরেও সেখানে আমি ১৮ মাসের মত ছিলাম। কিন্তু কেন আমি কলেজ থেকে ড্রপ আউট হয়েছিলাম? এই প্রক্রিয়াটি আসলে শুরু হয়েছিল আমার জন্মের আগে থেকে। আমার মা একজন অবিবাহিত কলেজ গ্রাজুয়েট হওয়ার কারণে সে সময় আমাকে দত্তক দেয়ার পরিকল্পনা করেন। আমার মা চেয়েছিলেন একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমাকে কোন শিক্ষিত পরিবারের কাছে দত্তক দিতে। সেজন্য তিনি পছন্দ করেছিলেন একজন নিঃসন্তান উকিল দম্পতিকে। কিন্তু সেই উকিল দম্পতি আসলে একটি মেয়ে সন্তানের বাবা-মা হতে চেয়েছিলেন। তাই আমার জন্মের পর তারা আর আমাকে নিতে চাননি। আমাকে নেয়ার জন্য অপেক্ষমান তালিকায় আরো এক দম্পতি ছিলেন। তাঁরা মধ্যরাতে একদিন একটা ফোনকল পান। আমার বায়োলজিক্যাল বাবা মা তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন, “অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদের একটি ছেলে হয়েছে। তোমরা কী তাকে দত্তক নিতে আগ্রহী?” আমার সেই বাবা-মা সানন্দে আমাকে তাঁদের পুত্র হিসেবে গ্রহণ করে নিলেন। যদিও আমার গর্ভধারিণী মা পরে যখন জানতে পেরেছিলেন আমাকে দত্তক নেয়া বাবা-মার দুজনের একজনও গ্রাজুয়েট নন। এমনকি তাঁরা স্কুল পাশও ছিলেন না, তখন তিনি চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে সই দিতে অস্বীকার করেছিলেন। কয়েকমাস পরে, যখন আমার দত্তক নেয়া বাবা-মা আমার মার কাছে প্রতিজ্ঞা করেন যে তাঁরা আমাকে অবশ্যই লেখাপড়া শিখাবেন এবং একদিন আমি অবশ্যই কলেজে যাবো।

এর ঠিক ১৭ বছর পরে আমি কলেজে ভর্তি হই। আমি যে কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম সেটি ছিলো এই স্ট্যানফোর্ডের মতই ব্যয়বহুল। আমার ছাপোষা চাকুরিজীবি বাবা-মা তাঁদের সারাজীবনের সঞ্চয় ব্যয় করে যাচ্ছিলেন আমার কলেজের পড়াশোনার পিছনে। ছয়মাস পর এসব আমার কাছে একদম নিরর্থক মনে হলো। আমি জীবনে কী করতে চাই সে সম্পর্কিত কোন ধারণা আমার ছিলো না এবং সেই ধারণা পেতে কলেজ আমাকে কতটুকু সাহায্য করতে পারবে সেটিও আমি বুঝতে পারছিলাম না। অর্থহীনভাবে আমি আমার বাবা-মায়ের সঞ্চয়ের টাকা শেষ করে যাচ্ছিলাম। তখন আমি কলেজ ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং সেটি ছিল সঠিক একটি সিদ্ধান্ত। যদিও সে সময় এটি ছিল বেশ ভয়ঙ্কর একটি সিদ্ধান্ত, কিন্তু আজকে আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে আমি পিছনে তাকালে বুঝতে পারি আমার এই কলেজ ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল আমার জীবনের নেয়া শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত। যে মূহুর্ত থেকে আমি কলেজ ড্রপ আউট হই, সে মূহুর্ত থেকে যেসব বিষয় পড়তে আমার ভাল লাগতো না সেগুলোর ক্লাস করা বন্ধ করে দেই এবং যেসব বিষয়ে আমার আগ্রহ ছিলো সেসব বিষয়ের ক্লাস করা শুরু করি।

অবশ্য ব্যাপারটা খুব একটা রোমান্টিক ছিলো না। সেসময় আমার কোন থাকার জায়গা ছিলো না। আমি আমার বন্ধুর ডরমেটরির রুমের মেঝেতে ঘুমাতাম। কোকের খালি বোতল কুড়িয়ে দোকানে জমা দিয়ে ৫ সেন্ট করে জোগাড় করতাম এবং সেটি দিয়ে আমার খাবার খরচ চালাতাম। প্রতি রবিবার ৭ মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতাম শুধুমাত্র একবেলা ভালো খাবারের আশায়। এসব আমি খুব পছন্দ করতাম। আমি তখন আমার যেসব কাজ করতে ভালো লাগতো সেটাই করতাম এবং আস্তে আস্তে আমার কাছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গৌণ হয়ে গেল।

ছোট্ট একটা উদাহরণ দেইঃ
রিড কলেজে সেসময় দেশের সবচেয়ে ভালো ক্যালিগ্রাফি কোর্স চালু ছিল। ক্যাম্পাসের সব পোষ্টার, ড্রয়ার, শিরোনামে খুব সুন্দর সুন্দর হাতে তৈরি ক্যালিগ্রাফি শোভা পেত। যেহেতু আমি সেসময় কলেজ ড্রপআউট ছিলাম, রেগুলার কোর্সগুলো করার কোন বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিভাবে ক্যালিগ্রাফি করা হয় এই আগ্রহ থেকে আমি ক্যালিগ্রাফির কোর্সগুলো করার সিদ্ধান্ত নেই। আমি Serif এবং San Serif ফন্ট দুইটি শিখি, অক্ষরগুলোর মাঝে স্পেসের ব্যবহার কিভাবে অপূর্ব টাইপফেসের সৃষ্টি করতে পারে সেটা বুঝতে পারি। সেটি ছিল অপূর্ব, ঐতিহাসিক এবং শৈল্পিক একটি বিষয় যা বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না এবং আমি এতে মুগ্ধতা খুঁজে পাই।

আমি ধরেই নিয়েছিলাম আমার এই শিক্ষাগুলো কখনোই আমার ব্যক্তিগত জীবনে কোন কাজে আসবে না। কিন্তু ১০ বছর পর যখন আমরা প্রথম ম্যাকিনটস কম্পিউটার ডিজাইন করি, তখন সব ফিরে এসেছিলো। আমরা সেগুলোকে ম্যাকে ব্যবহার করি। এটা ছিল সুন্দর টাইপোগ্রাফি সমৃদ্ধ প্রথম কম্পিউটার। আমি যদি তখন কলেজ ড্রপআউট না করতাম তাহলে ম্যাকিনটস কখনো এত বৈচিত্র্যময় টাইপফেস বা যথাযথ স্পেস সম্বলিত টাইপ ফন্ট পেত না। তখন থেকে উইন্ডোজ-ও এটা কপি করে আসছে, অর্থাৎ কোন পারসোনাল কম্পিউটারেই এত সুন্দর টাইপফেস আমরা পেতাম না। আমি যদি সেসময় কলেজ ড্রপ না করতাম, ক্যালিগ্রাফির সেইসব কোর্স গুলো না করতাম , তাহলে হয়ত আজকে এত সুন্দর ফন্ট আমরা কম্পিউটারে পেতাম না। অবশ্যই সামনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার বিন্দুর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করা আজ থেকে ১০ বছর আগে যখন আমি কলেজে পড়তাম তখন অসম্ভব ছিল। কিন্তু সেই বিন্দুগুলোকে সংযুক্ত করা আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আমার জন্য অনেক সহজ।

সামনের দিকে তাকিয়ে কখনোই বিন্দু সংযোগ দেয়া সম্ভব না, কিন্তু পিছন থেকে কাজটা করা অনেক সহজ। তোমাকে বিশ্বাস রাখতে হবে নিজের উপর যে, ভবিষ্যতে অবশ্যই কোন না কোনভাবে বিন্দুগুলো সংযুক্ত করা যাবেই। হতে পারে সেটা তোমার কর্মফল, তোমার ভাগ্য, তোমার পরিশ্রম, তোমার ক্ষমতা। আমার নিজের উপর এই বিশ্বাস কখনোই আমাকে পিছিয়ে পরতে দেয়নি এবং আমার এই সিদ্ধান্তই পাল্টে দিয়েছে আমার পুরো জীবনকে।

আমার দ্বিতীয় গল্পটা হচ্ছে ভালবাসা এবং হারিয়ে ফেলার গল্পঃ

আমি ভাগ্যবান ছিলাম – যা করতে ভালবাসতাম সেটি অল্প বয়সেই করতে পেরেছিলাম। ওজ এবং আমি অ্যাপল শুরু করেছিলাম আমাদের ব্যক্তিগত গ্যারেজে মাত্র ২০ বছর বয়সে। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম বলেই, গ্যারেজের দুইজনের কোম্পানি থেকে মাত্র ১০ বছরে অ্যাপল ২ বিলিয়ন ডলারের, ৪০০০ কর্মীর কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। আমরা যখন আমাদের সবচেয়ে সুন্দর আবিষ্কার ম্যাকিনটস তৈরি করলাম তখন আমার বয়স মাত্র ৩০। তখন আমাকে অ্যাপল থেকে ছাটাই করা হয়। প্রশ্ন হতে পারে, যে কোম্পানির শুরু আমি নিজে করেছি সেখান থেকে আমাকে কিভাবে ছাঁটাই করা যায় ? ধীরে ধীরে যখন অ্যাপল বড় হতে থাকলো, তখন আমি খুব মেধাবী একজনকে খুঁজতে থাকি যে কিনা আমার সাথে অ্যাপলকে আরো সমৃদ্ধ করবে। প্রথম একবছর আমাদের কাজ ভালই চলেছিল, কিন্তু যখন আমাদের লক্ষ্য আলাদা হয়ে গেল তখন আমরা ব্যর্থ হলাম। সেসময় অ্যাপলের বোর্ড অফ ডাইরেক্টরস্‌ আমার পক্ষ না নিয়ে তাঁর পক্ষ নিলো এবং ৩০ বছর বয়সে নিজ কোম্পানি থেকে আমাকে ছাঁটাই করা হলো। আমি আমার সারা জীবন যেখানে মনোনিবেশ করেছিলাম, সেটি এক মুহুর্তে চলে গেল; যা ছিল অত্যন্ত বিধ্বংসী।

সামনের কয়েকমাস কী করে আমার কাটবে, আমি বুঝতে পারছিলাম না। আমার মনে হয়েছিল আমি আমার পূর্ববর্তী প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের পিছনে ফেলে দিয়েছিলাম, সেটা ঠিক কাজ হয়নি। আমি বব নয়েস এবং ডেভিট পাকার্ডের সঙ্গে দেখা করি এবং তাঁদের কাছে ক্ষমা চাই। যদিও এটা ছিল বড় ধরণের একটা ভুল এবং আমি একসময় সিলিকন ভ্যালি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তাও করেছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে আমি আমার আমিতে ফিরে এলাম এবং আবার নিজের কাজকে ভালবাসতে শুরু করলাম। আমার প্রস্থানে অ্যাপলে তেমন কোন পরিবর্তন হলো না। যদিও আমাকে বাতিল করা হয়েছিল অ্যাপল থেকে আমি, কিন্তু আমি তখনো আমার কাজকে ভালবাসতাম। তাই আমি আবারো নতুন করে সবকিছু শুরু করার সিদ্ধান্ত নেই।

তখন বুঝতে না পারলেও আমি পরে বুঝেছিলাম যে, অ্যাপল থেকে বিতাড়িত হওয়া আমার জীবনে ঘটা সর্বোত্তম একটি ঘটনা ছিল। সাফল্যের চূড়া থেকে হঠাৎ করেই ছিটকে যাওয়া এবং আবারো নিজেকে একদম তলানিতে আবিষ্কার করেছিলাম আমি; যেখানে নিশ্চিত ছিল না কোন কিছুই। এই ঘটনাটি আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল সময়টিতে পৌঁছে দেবার রাস্তাটাকে সহজ করে দিয়েছিলো।

পরবর্তী পাঁচ বছরে আমি NeXT এবং Pixar নামক দুইটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করি এবং অসাধারণ একজন নারীর প্রেমে পরি , যিনি পরবর্তীতে আমার স্ত্রী হন। পিক্সার তখন বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার এ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম Toy Story তৈরি করে এবং এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বের সবচেয়ে সফল এ্যানিমেশন স্টুডিও। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের কারণে, অ্যাপল তখন NeXT-কে কিনে নেয়। আমি আবার অ্যাপলে ফিরে আসি। টেকনোলজি, যা NeXT এ তৈরি করা হয়েছিলো, এটি বর্তমান অ্যাপল যুগের প্রাণ। এবং লরেন্স ও আমি তখন একটি সুন্দর পরিবার গঠন করেছিলাম।

আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, এসবের কিছুই হতো না যদি না আমাকে অ্যাপল থেকে বের করে দেয়া হতো। তিক্ত ওষুধ খাওয়ার অভিজ্ঞতা কোন রোগীর জন্য সুখকর না হলেও, রোগীর জন্য সেটি আবশ্যক। কখনো কখনো জীবন ইট দিয়ে তোমার মাথায় আঘাত করবে। বিশ্বাস হারানো যাবে না। আমি বিশ্বাস করতাম যে, একটি জিনিসই আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তা হলো নিজের কাজকে ভালবাসা। কী করতে তুমি ভালবাসো, সেটা তোমাকেই খুঁজে বের করতে হবে। এটা যেমন তোমার কাজের জন্য সত্য, তেমনি সত্য তোমার ভালবাসার মানুষের জন্যও। তোমার কর্ম তোমার জীবনের বিরাট একটি অংশকে পূর্ণ করবে, তাই পরিপূর্ণ সন্তুষ্টির জন্য তুমি যে কাজকে শ্রেষ্ঠ কাজ বলে মনে করো, সেটিকেই বেঁছে নাও। এবং শ্রেষ্ঠ কাজ করার সর্বোত্তম উপায় হলো নিজের বর্তমান কাজকে ভালবাসা। যদি তুমি এখনো সেটি খুঁজে না পাও, খুঁজতে থাকো। কখনো বসে পরো না। একসময় না একসময় তুমি ঠিকই তাকে খুঁজে পাবে। যেকোন সুন্দর সম্পর্কের মত যতদিন যাবে সেটি সুন্দর থেকে সুন্দরতর হতে থাকবে। তাই খুঁজে যাও তোমার তোমার ভালবাসার কাজটিকে, যতক্ষণ না পাও। হাল ছেড়ো না।

আমার শেষ গল্পটি মৃত্যু নিয়ে।
যখন আমার বয়স ১৭, তখন আমি একটি বাণী শুনেছিলাম এমন যে, “তুমি যদি তোমার জীবনের প্রতিদিনকে তোমার জীবনের শেষ দিন মনে করে কাজ করো, তাহলে একদিন তুমি অবশ্যই সফল হবে।” এই কথাটি আমাকে এতটাই মুগ্ধ করেছিলো যে, গত ৩৩ বছর আমি প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করি, “যদি আমি জানি যে আজকে আমার জীবনের শেষ দিন, তাহলে কী আমি সেই কাজ করবো যা আমি আজকে করতে চাচ্ছি?” পরপর কয়েকদিন যদি উত্তর পেতাম “না”, তখন আমি মনে করতাম কিছু পরিবর্তন করা আবশ্যক।

আমি খুব তাড়াতাড়ি মারা যাবো, এই কথাটি ছিল আমার জীবনে বড় বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার মূল চালিকাশক্তি। কারণ, বলতে গেলে প্রায় সব কিছুই – সব ধরণের চাওয়া-পাওয়া, অহম, ভয়-ভীতি, লজ্জা, ব্যর্থতা সব কিছুই মৃত্যুর কাছে তুচ্ছ; সব কিছুই মূল্যহীন শুধুমাত্র যা সত্যিকার অর্থেই যা দরকার সেটা ছাড়া। যখন তুমি মনে করবে তুমি মরে যাচ্ছো, তখন তোমার কাছে মনে হবে না, তোমার হারাবার কিছু আছে। যখন তুমি নিঃস্ব, তখন নিজের মনের কথা শোনা ছাড়া আর কোন উপায়ই তোমার নেই।

একবছর আগে, আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত হই। সকাল ৭ঃ৩০ এ স্ক্যান করে আমার অগ্ন্যাশয়ে একটি টিউমারের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। তখন আমি জানতাম অগ্ন্যাশয় কী জিনিস। আমার চিকিৎসক আমাকে বললেন, এই ক্যান্সারটি অনিরাময়যোগ্য ক্যান্সারগুলোর একটি এবং আমার আয়ু বড় জোড় ৩-৬ মাসের মত। আমার ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন বাড়ি চলে যেতে এবং মৃত্যুর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে। প্রস্তুতি বলতে ছিলো নিজের সন্তানদের কয়েক মাসের মধ্যে সবকিছু বলা যা আমি গত ১০ বছরে তাঁদের বলতে পারিনি। এটা ছিলো মূলত নিজের পরিবারকে বুঝানো যে, সময় সন্নিকটে যেন সবকিছু গ্রহণ করা তাঁদের জন্য সহজ হয়। ব্যাপারটা আসলে ছিলো পরিবারকে চিরবিদায় জানানো।

ঐদিন সারাদিনই আমার নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে। সন্ধ্যায় আমার একটি বায়োপসি করানো হয়। আমার অগ্ন্যাশয়ের টিউমার থেকে কিছু কোষ নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। আমি সেসময় অচেতন ছিলাম। জ্ঞান ফেরার পরে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে আমি জানতে পারি যে, যখন আমার টিউমারের কোষগুলো মাইক্রোস্কোপের নিচে ধরা হয়, তখন হঠাৎ করে ডাক্তার কাঁদতে শুরু করে। কারণ, ক্যান্সারটি ততদিনে অপারেশনের মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য একটি বিরল ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। আমার অপারেশন করার ফলে এখন আমি সুস্থ।

সেসময় খুব কাছ থেকে আমি মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করেছিলাম। মৃত্যুর কাছাকাছি যেয়ে আমি বুঝতে পেরেছি এটা নিখাদ এবং একটি আধ্যত্নিক ভাবনা। কোন মানুষই মরতে চায় না। এমনকি যারা স্বর্গে যেতে চায়, তারাও মৃত্যুকে হাসিমুখে গ্রহণ করে স্বর্গে যেতে চায় না। তারপরেও, এটি এমন একটি ঠিকানা, যেখানে আমরা সবাই একদিন পৌঁছে যাবো। কেউ সেখান থেকে পালাতে পারবে না। মৃত্যু জীবনের সুন্দরতম আবিষ্কারগুলোর একটি। পুরোনোকে মুছে ফেলে এটা নতুনদের জন্য পথকে পরিষ্কার করে। বর্তমানে নতুন হচ্ছো তোমরা, কিন্তু ধীরে ধীরে তোমরা বুড়ো এবং পুরোনো হতে থাকবে এবং একসময় মুছে যাবে। দার্শনিক মন্তব্য দেয়ার জন্য দুঃখিত, কিন্তু এটাই নিয়তি।

তোমার সময় সীমিত, সেসময়কে অন্যের জীবনের মত যাপন করে নষ্ট করো না। মানুষের চিন্তার ফলাফলের ফাঁদে নিজেকে আটকে রেখো না। অন্যের মতামতের চিৎকারে নিজের ভেতরকার আওয়াজকে থমকে যেতে দিও না। এবং অবশ্যই সাহস রাখো নিজের মনের কথা এবং অনুমানশক্তির উপর। কারণ, তারা সত্যিকার অর্থেই জানে তুমি কী হতে চাও। বাকিসব কিছুই সেখানে গৌণ।

আমার যুবক বয়সে একটি বই বেশ সাড়া ফেলেছিল। বইটির নাম দ্যা হোল আর্থ ক্যাটালগ (The Whole Earth Catalog), যাকে আমরা সেসময়ের তরুণ সমাজ বাইবেল জ্ঞান করতাম। স্টুয়ার্ড ব্রান্ড তাঁর কাব্যিক ছোয়ায় এটিকে মানুষের কাছে নিয়ে এসেছিল। এটা ১৯৬০ সালের ঘটনা, যখন পারসোনাল কম্পিউটার এবং ডেস্কটপ আবিষ্কার হয়নি। তাই এই বইটিতে ছিল টাইপরাইটার, কাঁচি, পোলারয়েড ক্যামেরার ছোঁয়া। এটাকে বলা যায় “গ্রন্থাকৃতির গুগল”।

স্টুয়ার্ট এবং তাঁর দল বইটিতে নানা ধরণের বিষয়ের অবতারণা করেছিলেন। বইটির শেষে তারা বলে গেছেন আসল কথা। এটা ৭০’ দশকের মাঝামাঝি সময়, তখন আমি তোমাদের বয়সী। তাঁদের বইয়ের শেষ পাতায় সকালের রাস্তার একটি সুন্দর আলোকচিত্র ছিল। তোমাদের মধ্যে যারা অভিযানপ্রিয় তারা এমন ছবি প্রায়ই দেখে থাকো। ছবির নিচে লেখা ছিল, “Stay Hungry. Stay Foolish.” এটা ছিল তাঁদের বিদায় সম্ভাষণ। Stay Hungry. Stay Foolish, যা আমি নিজে সবসময় নিজের জন্য কামনা করি। আজকে এখানে সবাই তোমরা প্রাজুয়েট হয়েছো। আজ আমি তোমাদের জন্যও বলছি, Stay Hungry. Stay Foolish

সবাইকে ধন্যবাদ।

[ Stay Hungry: কখনো তৃপ্ত হয়ো না এই ভেবে যে , তুমি সব জেনে গেছো। নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাও।
Stay Foolish: কাজ করে যাও এবং চেষ্টা করতে থাকো সেসব কাজ করার যেসব ব্যাপারে মানুষ বলে “কখনো এটা হবে না” ]

লেখকঃ তামান্না নিশাত রিনি


তথ্যপ্রযুক্তিতে নারী – ২০১৮ সালের সেরা দশ

অন্যান্য পেশার মত প্রযুক্তি অঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ কম থাকা সত্ত্বেও, পৃথিবীর কিছু নারী প্রকৌশলীর রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি জগতে বর্নাঢ্য পদচারণা। নিজেদের পেশাজীবন সফল করার পাশাপাশি তাঁরা প্রতিনিয়ত তথ্যপ্রযুক্তিকে নিয়ে যাচ্ছেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষের কাছে। সেইসব নারীদের বিশ্বে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য প্রতিবছর “বিজনেস ইনসাইডার” পত্রিকা তাঁদের তালিকা প্রকাশ করে। তাহলে দেখে নেয়া যাক ২০১৮ সালে কারা স্থান করে নিয়েছেন সেই তালিকায়ঃ
১. গোয়েন শটওয়েলঃ
শ্রেষ্ঠ নারী প্রকৌশলীর তালিকার প্রথমে জায়গা করে নিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট এবং COO গোয়েন শটওয়েল। ২০০২ সালে স্পেসএক্স যাত্রা শুরুর সময় থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্মরত। ২০০৮ সালে তিনি এই কোম্পানির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান। ২০১২ সালের মধ্যে শটওয়েলের সহযোগিতায় স্পেসএক্স প্রথম বেসরকারি অর্থায়নে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস ষ্টেশনে মহাকাশযান প্রেরণের মাধ্যমে একটি মাইলফলকের সূচনা করে। তাঁরই নেতৃত্বে স্পেসএক্স প্রথমবারের মত একটি স্যাটেলাইট (বঙ্গবন্ধু-১) পাঠাতে সক্ষম হয়।
গোয়েন শটওয়েল প্রকৌশলীর হওয়ার প্রেরণা পান “সোসাইটি অফ ওম্যান ইঞ্জিনিয়ারস্‌”- এর একটি অনুষ্ঠানে পোশাক-আশাকে সুসজ্জিত একজন মেক্যানিকাল ইঞ্জিনিয়ারের বক্তৃতা শুনে। তখন তাঁর মাত্র ১৫ বছর বয়স। এই সম্পর্কে তিনি বলেন, “তখন আমার মাত্র ১৫ বছর বয়স। অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তৃতা শুনে আমি যতটা না মুগ্ধ হই, তারচেয়ে বেশি পছন্দ করি তাঁর স্যুটটিকে। যদিও আমি এই ব্যাপারে কথা বলতে গেলে খুব লজ্জা পাই, তারপরেও বলতে পছন্দ করি এই কারনে যে, এই ঘটনাটির কারণেই আজকে আমি একজন সফল প্রকৌশলী হতে পেরেছি।”
২. প্রিয়া বালাসুব্রামানিয়ামঃ
অ্যাপলের আইফোন অপারেশন্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রিয়া বালাসুব্রামানিয়াম আছেন তালিকার  চতুর্থ অবস্থানে। তিনি আইফোন উৎপাদনের জন্য Supply Chain তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি আইফোনের মূল যন্ত্রাংশগুলোর গুণগতমান এবং ত্রুটি সংশোধনের কাজ পরিচালনা করে থাকেন। ২০০১ সাল থেকে অ্যাপলে কর্মরত এই প্রকৌশলী ২০১৭ সালেও এই তালিকায় ছিলেন।
গত বছর, ২০১৭ সালে তিনি মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন, যেখান থেকে প্রিয়া ২০০১ সালে Supply Chain Management এর উপর এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। সেখানকার উদ্বোধনি বক্তৃতায় তিনি ক্যারিয়ার শুরুর দিকে তাঁর সংগ্রামের কথা বলেন। একবার এক কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দেয়ার সময় তাকে ম্যানাজার বলেছিল, “একটি ফ্যাক্টারি চালানো কোন মেয়ে মানুষের কর্ম নয়। মেয়েরা যা করতে পারে একটি ফ্যাক্টারি চালানো সেসব থেকে অনেক বেশিকিছু”। ভাগ্যিস! প্রিয়া সেইসব নিন্দুকদের কথা শোনেননি।
৩. ডায়ান ব্রায়ান্টঃ 
গুগল ক্লাউডের চিফ অপারেটিং অফিসার (COO) হিসেবে ডায়ান ব্রায়ান্ট যোগাদান করেন ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে। তিনি এর আগে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আরেক টেকজায়ান্ট কোম্পানি ইনটেলের ডাটা সেন্টার গ্রুপে কর্মরত ছিলেন। ইনটেল ছেড়ে গুগলে যাবেন কী না, এই চিন্তা করার জন্য তিনি বেশ কিছুদিন ইনটেল থেকে ছুটি নিয়েছিলেন।
গুগলে তিনি এটিকে সর্ববৃহৎ ক্লাউড কম্পিউটিং সাইট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং Amazon এবং Microsoft এর উপরে স্থান দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। গৃহহীন কিশোরি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়া এবং সেখান থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এক অন্যন্য উদাহরণ ডায়ান ব্রায়ান্ট।
৪. ডেনিশ ডুমাসঃ
ডেনিশ ডুমাস “রেড হ্যাট” এর অপারেটিং সিস্টেম প্ল্যাটফর্মের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত। রেড হ্যাট এন্টারপ্রাইজ লিনাক্স, লিনাক্সের সবচেয়ে সফল বাণিজ্যিক সংস্করণ হিসেবে বাজারে প্রচলিত। ডুমাসের টিম এই রেড হ্যাটের বর্তমান সংস্করণগুলোর হালনাগাদ এবং নতুন সংস্করণ তৈরির কাজ করে থাকে। একই সাথে সেই সংস্করণগুলো রেড হ্যাট কোম্পানি এবং কোম্পানির বাইরে ঠিকমত কাজ করছে কিনা সেটি নিশ্চিত করে থাকে।
ডেনিশ ডুমাস অনুপ্রেরণা পান একজন কর্মীকে নতুন কোন পরীক্ষামূলক কাজে সাহায্য করে এবং সেখান থেকে দ্রুত কোন আইডিয়া নিয়ে সেটিকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে। অবসর সময়ে তিনি বাগান করতে খুব ভালবাসেন এবং নিজেকে “পাগলা মালী” হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।
৫. আঞ্জুল ভামভ্রিঃ
এডোবের ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন আঞ্জুল ভামভ্রি। ৩০০ জনের একটি টিমের টিম লীডার হিসেবে তিনি  এডোবের ক্রেতাদের ক্লাউডে ডাটা রাখার মাধ্যমে তাদের ব্যবসায় সহায়তা করে থাকেন। এছাড়াও আঞ্জুলের টিম পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি যেমনঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করে।
নিজের কাজকে ভালবাসার পাশাপাশি আঞ্জুল কুকুর অনেক পছন্দ করেন। পোজো নামের তাঁর একটি পোষা ল্যাব্রাডর কুকুর আছে। পোজোর সাথে খেলাধুলা এবং হাঁটাহাঁটি করার মধ্য দিয়ে তিনি প্রতিদিন নতুন করে কাজ করা প্রেরণা পান।
৬. জয় চিকঃ 
মাইক্রসফটের ক্লাউড এবং এন্টারপ্রাইজ গ্রুপের কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত জয় চিক জায়গা করে নিয়েছেন এই তালিকায়। তাঁর নেতৃত্বে মাইক্রসফটে তাঁর টিম অফিস ৩৬৫, এক্সবক্স, এজুরে, উইনডোজ এবং সারফেস-এ এর ব্যবহারকারীদের ডাটার নিরাপত্তার জন্য কাজ করে থাকে। ১৯৯৮ সালে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে মাইক্রসফটে তিনি পা রাখেন। এরপর সেখান থেকে ধীরে ধীরে মাইক্রসফটের উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিচালক এবং পরবর্তীতে কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান।
ভ্রমণপ্রিয় জয় চিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। তিনি এন্টার্টিকা মহাদেশ ছাড়া বাকি ৬টি মহাদেশের মোট ৬০ টি দেশে ভ্রমণ করেছেন।
৭. ক্যাথি উইন্টারঃ 
 ইনটেলের অটোমেটেড ড্রাইভিং সল্যুশন ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাথি উইন্টার দখল করেছেন এই তালিকার ১৭ নম্বর স্থান। ক্যাথি উইন্টার ২০১৬ সালের শেষের দিকে ইনটেলের অটোমেটেড সল্যুশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। তখন তিনি স্বয়ংক্রিয় গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের চিপ তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। এর আগে ডেলফিতে তিনি এই নতুন ধরণের কাজটির সাথে যুক্ত ছিলেন, যেখানে ক্যাথেরিন এবং তাঁর টিম স্বয়ংক্রিয় অর্থাৎ চালকবিহীন গাড়িতে চড়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিউইয়র্কে ৯ দিনের একটি ট্রিপ সম্পন্ন করেন।
ইনটেলে ক্যাথি এ্যাডভান্স ভেহিকেল ল্যাবের কাজ তত্ত্বাবধান করেন। এছাড়াও স্বয়ংক্রিয় গাড়ির পরীক্ষামূলক চালনার কাজ তিনি পরিচালনা করে থাকেন। ক্যাথি বলেন, “আমি ড্রাইভিং এর সময় নিরাপত্তাকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। একটি স্বয়ংক্রিয় গাড়ির সুবিধা হলো, এটি চলার সময় বিভ্রান্ত হয় না, কাউকে টেক্সট মেসেজ পাঠায় না এবং উচ্চশব্দে গানও শুনতে পারে না।”
৮. আঁচল গুপ্তাঃ
ফেসবুকের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে আছেন আঁচল গুপ্তা, যেখানে তিনি একাধিক টিমের টিম লীডার হিসেবে ফেসবুককে সুরক্ষিত রাখার কাজ তদারক করেন। এছাড়াও তিনি ফেসবুকের কর্পোরেট অবকাঠামো সুশৃঙ্খল রাখার কাজও করে থাকেন।
আঁচলের সাইবার সিকিউরিটির উপর রয়েছে প্রায় দুই দশকের অভিজ্ঞতা। ফেসবুকে যোগদান করার আগে তিনি স্কাইপের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের চিফ ইনফরমেশন অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কাজের পাশাপাশি তিনি বৃহত্তর ইকো সিস্টেম সিকিউরিটি এবং গ্রেস হোপার রিভিউ কমিটির সক্রিয় সদস্য।
আঁচল গুপ্তা তাঁর টিমের নারীদের বিভিন্ন সভা সেমিনারে অংশগ্রহণ করা, বক্তৃতা দেয়া এবং নিজেরদের গল্প অন্যদের শোনানোর ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে থাকেন। তিনি মনে করেন , এসব থেকে অন্য মেয়েরাও ভাল কিছু করার অনুপ্রেরণা পায়।
৯. সোফিয়া ভেলাস্টেগুইঃ 
মাইক্রসফটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন পণ্য বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার সোফিয়া ভেলাস্টেগুই জায়গা করে নিয়েছেন এই তালিকায়। দক্ষিন কোরিয়ান নাগরিক সোফিয়ার রয়েছে জর্জিয়া টেক কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এ একাধিক পেটেন্ট এবং আসন। তিনি ২০১৭ সালে মাইক্রসফটে যোগদান করেন এবং সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বিভিন্ন ধরণের পণ্য তৈরি এবং উন্নয়নের কাজ করে থাকেন।
মাইক্রসফটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন পণ্যের মধ্যে মাইক্রসফট ট্রান্সলেটর এবং মাইক্রসফট কর্টানা ডিজিটাল এ্যাসিস্ট্যান্ট অন্যতম। মাইক্রসফটে যোগদান ক্রয়ার আগে সোফিয়া স্মার্ট হেডফোন কোম্পানি ডপলার ল্যাব, নেস্ট, এ্যালফাবেট স্মার্ট হোম কোম্পানি এবং অ্যাপলে কর্মরত ছিলেন। তিনি মনে করেন, ক্যারিয়ার গড়ার জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার পাশাপাশি একই পেশার অন্যান্য মানুষদের সাথে নেটওয়ার্কিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১০. ইয়েল গার্টেনঃ 
অ্যাপলের সিরি ডাটা সায়েন্স এবং এ্যানালাইটিকের পরিচালক ইয়েল গার্টেন, যিনি অ্যাপলের ভয়েস এসিস্ট্যান্ট সিরির ডাটা প্রসেস করে সিদ্ধান্ত প্রদানে সাহায্য করে। ইয়েল এবং তাঁর টিম ডাটা ব্যবহার করে কিভাবে “সিরি”-এর উন্নয়ন এবং কিভাবে এই প্রোগ্রামটিতে আরো নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা যায় সেই কাজ করে থাকেন। ডাটা সায়েন্স নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁকে একজন বিশেষজ্ঞ মনে করা হয়।
২০১৭ সালের আগস্ট মাসে অ্যাপলে যোগদান করার আগে গার্টেন লিংকডইনের ডাটা সায়েন্স বিভাগের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি ২০১১ সাল থেকে ডাটা সায়েন্স নিয়ে কাজ করে গেছেন। নিজের কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে খুব সহজেই টেকনোলজি পৌঁছে দিতে পারাকেই নিজের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করেন ইয়েল গার্টেন।
লেখকঃ তামান্না নিশাত রিনি।

একজন টিম বার্নার্স লী, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এবং একটি টুরিং পুরষ্কার

স্যার টিম বার্নার্স লী

সম্প্রতি স্যার টিম বার্নাস লী কম্পিউটার বিজ্ঞানের নোবেল পুরষ্কার হিসেবে খ্যাত টুরিং পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। এই বছর ছিল টুরিং পুরষ্কারের ৫০ বছর পূর্তি। গত ৪ মে, বৃহস্পতিবার এ্যাসোশিয়েন অফ কম্পিউটিং মেসিনারিজ (ACM) ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (www), প্রথম ওয়েব ব্রাওজার এবং ওয়েবকে মানসম্মত করার জন্য যে মৌলিক নিয়মনীতি ইত্যাদি তৈরির জন্য প্রফেসর স্যার টিম বার্নাস লী-কে টুরিং পুরষ্কারে ভূষিত করেন ( “inventing the World Wide Web, the first web browser, and the fundamental protocols and algorithms allowing the web to scale”)।

টুরিং পুরষ্কার কমিটি লী এর এই আবিষ্কারকে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী কম্পিউটিং উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত করেছে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রতিদিন এক বিলিয়নের বেশি মানুষ যোগাযোগ, তথ্যের আদান-প্রদান, ব্যবসায়িক কাজের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

টুরিং পুরষ্কার

১ মিলিয়ন ইউএস ডলার এসিএম টুরিং অ্যাওয়ার্ডের পুরষ্কার হিসেবে দেয়া হয়, যার আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে গুগল ইনকর্পোরেট। ব্রিটিশ গণিতবিদ অ্যালান টুরিং এর নামানুসারে এই পুরষ্কার দেয়া হয়ে থাকে। কম্পিউটার বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই পুরষ্কার দেয়া হয়ে থাকে।

এসিএম প্রেসিডেন্ট ভিকি এল হ্যানসন টিম লী এর টুরিং পুরষ্কার প্রাপ্তি সম্পর্কে বলেন, “ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব সর্বপ্রথম অনলাইনে আসে ১৯৯১ সালে। যদিও খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, তারপরেও স্যার লী এর আবিষ্কারের আগের পৃথিবীর কথা ভাবাটা আমাদের জন্য কষ্টকর। বিভিন্ন দিক থেকে, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের অসামান্য প্রভাব সুস্পষ্ট। তারপরেও অনেকেই, WWW এর অন্তর্নিহিত প্রযুক্তিগত অবদানের স্বতঃস্ফূর্ত প্রশংসা করেন না। টিম বার্নাস লী, শুধুমাত্র ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মূল অংশটুকু উদ্ভাবন করেননি, একই সাথে তিনি URI (Uniform Resource Identifier) এবং ওয়েব ব্রাউজারও উদ্ভাবন করেছেন, যার দ্বারা Web এর ব্যবহার আমাদের কাছে সহজতর হয়েছে। WWW এর সামগ্রিক অংশের প্রতিটি উপাদান কিভাবে আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করবে তার একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন স্যার টিম বার্নাস লী।”

গুগলের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, অ্যান্দ্রেই ব্রোডার বলেন, “আমরা যেভাবে আইডিয়া এবং তথ্যের আদান-প্রদান করি, সেটির আমূল পরিবর্তন এনেছে এই ওয়েব এবং সেইসাথে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সম্ভাবনার চালিকাশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে।” ভ্যানুভার বুশের একটি প্রবন্ধে ১৯৪৫ সালে ওয়েবের ধারণা পাওয়া গেলেও পরবর্তী কয়েক দশকে হাইপারটেক্সট, ইন্টারনেট, পারসোনাল কম্পিউটার ইত্যাদি নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। কিন্তু টিম বার্নাস লী যখন Unified User Interface এর ধারণা দেন, তখন থেকেই মূলত ওয়েবের বিস্ফোরক বিকাশের সূচনা হয়।

১৯৮৯ সালে টিম বার্নার্স লী একাধারে এমআইটির কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ল্যাব এবং ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রিনিক্স প্রকৌশল বিভাগে কর্মরত ছিলেন, তখন এই ওয়ার্ড ওয়াইড ওয়েবের চিন্তা তাঁর মাথায় আসে। তাঁর চিন্তা ছিল পৃথিবী জুড়ে বিজ্ঞানীরা যেন সহজেই নিজেদের মধ্যে আইডিয়া এবং তথ্যের আদান প্রদান করতে পারে।

নিজের টুরিং পুরষ্কার পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে লী বলেন, “একজন কম্পিউটার অগ্রদূতের নামাঙ্কিত পুরষ্কার অর্জন করে নিজেকে আমি অত্যন্ত সম্মানিত মনে করছি, যিনি দেখিয়েছেন কম্পিউটার দিয়ে একজন প্রোগ্রামার কী করতে পারেন।” তিনি আরো বলেন যে, টুরিং পুরষ্কার, যা কিনা পৃথিবীর সর্বোচ্চ মেধাবিদের দেয়া হয়ে থাকে, সেই পুরষ্কার অর্জন করার থেকে সম্মানের আর কিছুই হতে পারে না।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিম বার্নার্স লী World Wide Web Consortium এর প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক, যা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড স্থাপনের জন্য কাজ করে। একই সাথে তিনি World Wide Web Foundation এর প্রতিষ্ঠাতা, যার মূল লক্ষ্য জনস্বার্থে ওয়েবের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ওয়েবের ব্যবহারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

CASIL এর ডিসেন্ট্রালাইজ ইনফরমেশন গ্রুপের পরিচালক, লী Http with Accountability (HTTPA) তৈরি করেন, যা Private-data এর ট্রান্সমিশন কিভাবে হচ্ছে সেটির উপর নজর রাখে এবং কিভাবে মানুষের দেয়া তথ্যের ব্যবহার হচ্ছে সেটি অনুসন্ধান করতে পারে। লী Solid (Social Linked Data) নামের একটি প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন, যেটি একজন ব্যক্তিকে তার নিজস্ব ডাটা নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দেয় এবং পছন্দসই অ্যাপ্লিকেশনে সেসব ডাটা ব্যবহারের জন্য যোগ্য করে তোলে।

এমআইটির প্রেসিডেন্ট এল র‍্যাফেল রেইফ বলেন, “টিম বার্নাস লী এর বর্নাঢ্য ক্যারিয়ার MIT এর মূল আসক্তি – প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যকেই ব্যাখ্যা করছে। আজ আমরা উদযাপন করছি আমাদের মানবজীবনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রাপ্তি, যা টিম লী আমাদের জন্য করেছে এবং তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এই সুন্দর পুরষ্কার প্রাপ্তিতে যা কিনা সত্যিকার অর্থেই তাঁর প্রাপ্য ছিল।”

গনিতের প্রতি আগ্রহ থেকেই টিম বার্নার্স লী এর প্রোগ্রামিং এর প্রতি আগ্রহ জন্মায়। অবশ্য, এর সাথে পারিবারিক যোগসূত্রও ছিল; কারণ লী এর বাবা-মার ছিল পৃথিবীর প্রথম General Purpose কম্পিউটারে কাজ করার অভিজ্ঞতা। এর পরের বছর, তিনি একটি প্রোগ্রাম লিখেন, যেটি বিভিন্ন আইডিয়া এবং প্রজেক্টের সাথে কীরূপ সম্পর্ক আছে সেটি চিহ্নিত করতে পারতো, যেটি কিনা পরোক্ষভাবে ওয়েবের প্রথম পদক্ষেপ ছিল।

CSAIL এর পরিচালক ড্যানিয়েলা রুস বলেন, “টিমের উদ্ভাবনী এবং স্বপ্লীল কাজগুলো আমাদের জীবনে এনেছে অভাবনীয় পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের প্রভাব ছড়িয়ে গেছে যোগাযোগ এবং বিনোদন থেকে কেনাকাটা এবং ব্যবসা পর্যন্ত। তাঁর কাজ সারা বিশ্বের মানুষের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, এজন্য আমরা CSAIL সকল সদস্য তাঁর কম্পিউটার বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ সম্মান টুরিং পুরষ্কার প্রাপ্তিতে অত্যন্ত গর্ববোধ করছি।”

টিম বার্নার্স লী তাঁর কাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তন্মধ্যে রানী এলিজাবেধের পক্ষ থেকে পাওয়া নাইট উপাধি অন্যতম। এছাড়াও টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে একবিংশ শতাব্দির ১০০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির একজন হিসেবে সম্মানিত করেছে। আসছে জুন মাসের ২৪ তারিখ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্র্যান্সিসকোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ACM কর্তৃক টুরিং পুরষ্কার গ্রহণ করার মাধ্যমে টিম বার্নার্স লী এর মুকুটে যুক্ত হবে আরেকটি পালক।

লেখকঃ তামান্না নিশাত রিনি।

মার্গারেট হ্যামিলটনঃ অ্যাপোলো-১১ এর নেপথ্য বীর

margaret_hamilton_in_action

মার্গারেট হ্যামিলটন

সম্প্রতি নাসার অ্যাপোলো চন্দ্রাভিজানের কোড ডেভেলপার মার্গারেট হ্যামিলটন, আমেরিকার সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কার “প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম” লাভ করেছেন। মার্গারেট হিয়েফিল্ড হ্যামিলটন এই বছর ২২ নভেম্বর, অ্যাপোলো চন্দ্রাভিজানের “অন-বোর্ড ফ্লাইট ডেভেলপমেন্ট”-এর কাজের জন্য বারাক ওবামা কর্তৃক এই পুরষ্কার লাভ করেন।

হ্যামিলটন, নিজের সফটওয়্যার কোম্পানী “হ্যামিলটন টেকনোলজিস ইনকর্পোরেট” প্রতিষ্ঠা করার আগে MIT-এর লিঙ্কন ল্যাবরেটরিতে কম্পিউটার বিজ্ঞানী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেন। লিঙ্কন ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সময় তিনি asynchronous সফটওয়্যার, priority scheduling, priority displays এবং “human-in-the-loop decision capability” উপর যে মতবাদ প্রদান করেন, তা বর্তমান আধুনিক এবং নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার ডিজাইন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এর মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

“প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম” যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কার, যেটি ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য শিল্পকলা, ব্যবসা ও অর্থনীতি, কম্পিউটিং, মানবতামূলক কার্যক্রম, চিকিৎসা এবং অন্যান্য আরো কিছু সরকারী ও বেসরকারী খাতে এই পুরষ্কার প্রদান করা হয়ে থাকে।

MIT এর অ্যারোনটিক্স ও অ্যাস্ট্রোনটিক্স বিভাগের প্রধান, প্রফেসর জাইমি পিয়ারে, হ্যামিলটনের এর পুরষ্কার পাওয়া সম্পর্কে বলেন, “এটি মার্গারেট হ্যামিলটনের জন্য একটি অসাধারণ প্রাপ্তি”। তিনি আরো বলেন, “সে একজন সত্যিকার সফটওয়্যার অগ্রদূত এবং একইসাথে বলতে সংকোচ নেই যে, তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত MIT-এর ইন্সট্রুমেন্টেশন ল্যাবের সফটওয়্যার ডিভিশনই আমাদের চাঁদে নিয়ে গিয়েছিল।”

বস্তুত, MIT ইন্সট্রুমেন্টেশন ল্যাবের অ্যাপোলো পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল অ্যাপোলো প্রোগ্রামের প্রথম চুক্তি, যা ১৯৬১ সালের ৯ আগস্ট ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার ১০ সপ্তাহ পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ ক্যানেডি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে মানুষের চাঁদে অবতরণের কথা ঘোষণা করেন।

মার্গারেট হ্যামিলটন যুক্তরাষ্ট্রের ইরহাম কলেজ থেকে গণিতে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং MIT থেকে আবহাওয়াবিদ্যা (meteorology) তে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি MIT এর লিঙ্কন ল্যাবে “ Semi-Automatic Ground Environment Air Defense System” বা SAGE প্রকল্পে যোগ দেন। SAGE ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিমান প্রতিরক্ষামূলক প্রকল্প, যা কিনা ছিল পারমানবিক বোমার প্রকল্প “ম্যানহাটন প্রজেক্ট”-এর চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল এবং পঞ্চাশ-ষাট দশকের ডিজিটাল কম্পিউটিং-এর উন্নয়নের যুগান্তকারী পদক্ষেপ। SAGE এবং Apollo প্রজেক্টে কাজ করার পর, হ্যামিলটন নাসার স্পেস শাটল এবং স্কাইল্যাব প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত হন।

অ্যাপোলো-১১ কোডের প্রিন্ট কপির সাথে মার্গারেট হ্যামিলটন
অ্যাপোলো-১১ কোডের প্রিন্ট কপির সাথে মার্গারেট হ্যামিলটন

মার্গারেট হ্যামিলটন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে “আইকন লেডি” হিসেবে পরিচিতি পান অ্যাপোলো কোডের প্রিন্ট আউটের সাথে তাঁর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরার পর। গত বছর (২০১৫ সালে), মার্গারেট হ্যামিলটনের ডেভেলপ করা সম্পূর্ণ অ্যাপোলো কোডটি, কোড শেয়ারিং সাইট গিটহাবে যুক্ত করা হয়ঃ সেখানে কোডের প্রথম লাইনে লেখা হয়ঃ
“SUBMITTED: MARGARET H. HAMILTON DATE: 28 MAR 69 / M.H.HAMILTON, COLOSSUS PROGRAMMING LEADER / APOLLO GUIDANCE AND NAVIGATION”

"প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম" পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মার্গারেট হ্যামিলটন
“প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম” পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মার্গারেট হ্যামিলটন

এই বছর (২০১৬) ১৬ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা “প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম” প্রাপ্ত ২১ জনের নাম ঘোষণা করেন। এই ২১ জনের তালিকায় আরো অনেকের সাথে কম্পিউটার বিজ্ঞানের আরেকজন পথিকৃৎ প্রয়াত গ্রেস হোপার, MIT-এর “রে অ্যান্ড মারিয়া স্টাটা সেন্টার ফর কম্পিউটার, ইনফরমেশন অ্যাণ্ড ইন্টিলিজেন্স” -এর ডিজাইনার ফ্র্যাঙ্ক গেরি, বিল গেটস্‌, মেলিন্ডা গেটসের নাম রয়েছে। ২২ নভেম্বর ওয়াশিংটনে এই পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান মঞ্চায়িত হয়।

লেখকঃ তামান্না নিশাত রিনি।

ফ্লো চার্ট (Flow Chart)

ফ্লো চার্ট (বাংলায় প্রবাহ চিত্র)-এর নাম আমরা সবাই কমে বেশি শুনে থাকি। এখন ফ্লো চার্ট জিনিসটা কী, এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে। ফ্লো চার্ট হচ্ছে এক ধরণের ডায়াগ্রাম বা চিত্র যা কোনো অ্যালগোরিদম, কাজের ধারা বা প্রসেস-কে চিত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জ্যামিতিক চিহ্ন বা symbol দ্বারা প্রকাশ করে এবং সেই জ্যামিতিক চিহ্ন বা symbol গুলো তীরচিহ্ন দ্বারা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে।

ফ্লো চার্টের মাধ্যমে একটি প্রোগ্রামের খুঁটিনাটি অংশগুলো খুব সহজেই বুঝানো যায়। যেমনঃ বাড়ি তৈরি করার সময় একজন আর্কিটেক্ট বাড়ির ডিজাইন করে আমাদের খুব সহজেই দেখাতে পারেন যে বাড়িটির কোথায় কী কী জিনিস থাকবে। ফ্লো চার্টের মাধ্যেমেই এই একই কাজই করা হয়। অর্থাৎ, একটি ফ্লো চার্ট বানানোর উদ্দেশ্য হলো একটি প্রোগ্রাম কীভাবে সমাধান করা হয়েছে, সেটি বিভিন্ন ডায়াগ্রাম বা চিহ্নের সাহায্যে অন্যকে বুঝানো।

ফ্লো চার্টের দুইটি প্রকারভেদ আছেঃ

  • ডাটা ফ্লো চার্ট ।
  • প্রসেস ফ্লো চার্ট।

প্রোগ্রামাররা ডাটা ফ্লো চার্ট ব্যবহার করে থাকে। কোন জায়গা থেকে ডাটা আসছে, ডাটা কিভাবে পরিবর্ধন হচ্ছে এবং কোথায় জমা হচ্ছে এসব চিহ্নিত করার জন্য প্রোগ্রামাররা ডাটা ফ্লো চার্ট ব্যবহার করে।

প্রসেস ফ্লো চার্ট কোন প্রসেস বা কাজকে ডকুমেন্ট আকারে দেখানোর জন্য, একটি কাজের কার্যকারিতা বা efficiency বুঝানোর জন্য, কোন প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং এর জন্য ব্যবহার করা হয়।

ফ্লো চার্ট ছোটখাট প্রসেস বা প্রোগ্রামের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফ্লো চার্টে সাধারণত দুই ধরণের বাক্স ব্যবহার করা হয়ঃ

  • প্রসেসিং স্টেপঃ এই ধাপকে এ্যাকটিভিটি বা কার্যক্রম ধাপও বলা হয়ে থাকে। একে আয়তাকার বাক্স দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
  • ডিসিশন স্টেপ বা সিদ্ধান্ত ধাপঃ এই ধাপকে ডায়মন্ড বা হীরক আকৃতি দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

নিচের ছবিতে আমি একটি ফ্লো চার্টের বিভিন্ন আকৃতির পরিচয় দিয়েছিঃ

table

আমরা একটা ছোট্ট উদাহরণের মাধ্যমে ফ্লো চার্টের ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করি। ধরা যাক, তুমি একজন সৌখিন মানুষ। তোমার শখ গলফ খেলা। তুমি মনে করলে শুক্রবার গলফ খেলতে বের হবে, যদি আবহাওয়া ভাল থাকে। বাংলাদেশে আজকাল আবার হুটহাট বৃষ্টি চলে আসে। তাই বের হওয়ার আগে তুমি আবহাওয়ার সর্বশেষ খোঁজ খবর নিয়ে বের হবে। এর জন্য তোমাকে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে সেটি হলো আবহাওয়ার চ্যানেলে গিয়ে বা মোবাইলের অ্যাপস থেকে weather forecast দেখতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যদি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তুমি কী করবে আর না থাকলেই বা কী করবে। বৃষ্টি থাকলে তুমি ঘর থেকে বের হবে না আর বৃষ্টি না থাকলে বের হবে। এখন এই পুরো বিষয়টা যদি আমরা ফ্লো চার্টের মাধ্যমে দেখি তাহলে চিত্রটা হবে এমনঃ

sampfc

এই ফ্লো চার্টটিতে প্রথমেই আমরা ফ্লো চার্টের নিয়মানুযায়ী start দিয়ে শুরু করেছি , ওভাল বাক্স দিয়ে সেটিকে চিহ্নিত করেছি। তারপর আমরা ওয়েদার চ্যানেল দেখার কাজটি করেছি। এখানে আমরা প্রসেসিং এর জন্য আয়তাকার চিহ্ন ব্যবহার করেছি, কারণ এখান থেকেই আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত বা ডিসিশন নেয়ার ধাপের দিকে যাবো। পরের ধাপে আছে ডিসিশন বা সিদ্ধান্ত ধাপ। সেখানে লেখা আছে “Rain Predicted?”, এখানে লক্ষ্য করে দেখো, ডিসিশন বা সিদ্ধান্ত ধাপে আমাদের অ্যারো বা তীর চিহ্ন আছে দুইটি; যা yes/no দিয়ে চিহ্নিত করা। যদি yes হয় তাহলে আমরা বলছি “Stay Home” এবং সেখান থেকে আরেকটি অ্যারো দিয়ে ফ্লো চার্টটি Stop করে দিচ্ছি। আবার যদি “Rain Predicted”-এ ডিসিশন হয় no, তাহলে আমরা “Play Golf” এর কাজ প্রসেসিং করে Stop ধাপে চলে যাচ্ছি। এখানে মনে রাখার বিষয় যে, ফ্লো চার্চের ডিসিশন সবসময় হয় ডান-বাম অথবা নিচের দিকে যাবে। কখনো উপরের দিকে যাবে না। কারণ, কোন কিছুর Flow সবসময় উপর থেকে নিচের দিকে আসে।

একটি সহজ প্রোগ্রামিং সমস্যার মাধ্যমে আমরা একটি ফ্লো চার্ট তৈরি করার চেষ্টা করি । ধরা যাক, আমরা দুইটি সংখ্যা যোগ করার জন্য একটি প্রোগ্রাম লিখবো। প্রোগ্রামটি হবে এমনঃ

#include<stdio.h>
int main()
{
    int a,b,total;
    scanf("%d %d", &a, &b);
    total = a + b;
    printf("%d\n",total);
    return 0;
}

প্রোগ্রামটির জন্য আমরা যদি ফ্লো চার্ট লিখি তাহলে হবে এমনঃ

enflowchartm_clip_image004

অন্যান্য ফ্লো চার্টের মতই এটা start দিয়ে শুরু হয়েছে। যেহেতু দুইটি নাম্বার ইনপুট নেয়ার দরকার আছে আমাদের, তাই আমরা এখানে Input A, Input B নিয়েছি এবং সেটিকে সামান্তরিক চিহ্নের মাধ্যমে দেখিয়েছি। তবে, আলাদা আলাদা ভাবে এভাবে ইনপুট না নিয়েও পাশাপাশি Input A,B অথবা Read A,B এভাবেও ফ্লো চার্টে ইনপুট নেয়ার কাজটি দেখানো যায়। তারপর আমরা a,b দুইটি যোগ করে একটি Total ভ্যারিয়েবলে রেখেছি এবং এর পরের ধাপে Total প্রিন্ট করেছি। সবশেষে আমরা stop দিয়ে ফ্লো চার্টটি শেষ করেছি।

এবার যদি আমরা লুপ সংক্রান্ত একটি কোডের কথা চিন্তা করি, যেখানে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত বিজোড় সংখ্যা বের করার প্রোগ্রাম লিখতে হবে। প্রোগ্রামটি হবে এমনঃ

#include<stdio.h>
int main()
{
    int i=0;
    while(i<=100)
    {
        if(i%2 != 0)
        {
            printf("%d\n",i);
        }
        i++;
    }
    return 0;
}

এই প্রোগ্রামটিতে আমরা while লুপের সাহায্যে 100 পর্যন্ত লুপটি চালিয়েছি এবং লুপের ভিতরে বিজোড় সংখ্যা বের করার কন্ডিশন দিয়েছি। বিজোড় সংখ্যা বা odd numbers বের করার জন্য if কন্ডিশনটিতে i এর যেসকল মানকে 2 দ্বারা ভাগ করলে ভাগশেষ শূন্য হবে না সেই সংখ্যাগুলোকে আমরা প্রিন্ট করেছি। এই প্রোগ্রামটির ফ্লো চার্টে আমাদের ডিসিশন স্টেপ আসবে দুইটিঃ একটি while এর জন্য এবং একটি if এর জন্য। ফ্লো চার্টটি নিম্নরূপঃ
odd-numsএখানে প্রথমেই আমরা i এর মান 0 এ্যাসাইন করে দিয়েছি, যেহেতু পরবর্তীতে আমরা i এর মান এক করে ইনক্রিমেন্ট করবো। তারপর আমরা while (i<=100) reached ডিসিশন ধাপে গিয়েছি। খেয়াল করে দেখো, এই ডিসিশন থেকে yes/no দিয়ে দুইটি তীর চিহ্ন বের হয়েছে। আমাদের প্রোগ্রামের লজিক আমাদের বলছে যতক্ষণ না i এর মান ১০০ এর সমান বা এর থেকে ছোট থাকছে , ততক্ষণ আমাদের if(i%2 !=0) কন্ডিশন তার কাজ করে যাচ্ছে এবং odd নাম্বার বা বিজোড় সংখ্যাগুলো প্রিন্ট করে যাচ্ছে। একই সাথে লুপটি সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, i এর মান compute i= i+1 এ যেয়ে এক এক করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যখন i এর মান 100 এর বড় হয়ে যাবে, তখন ফ্লো চার্ট stop হয়ে যাবে।

প্রশ্ন আসতে পারে, ফ্লো চার্ট ব্যবহার করার সুবিধা কী? প্রবলেম সল্ভিং এর সময় ফ্লো চার্ট ব্যবহার করে আমরা একটি প্রবলেমকে ছোট ছোট অনেকগুলো সুস্পষ্ট ভাগে ভাগ করতে পারি। অনেক সময় দেখা যায়, প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধান করার সময় আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ কোন কিছু বাদ দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যদি ফ্লো চার্টের মাধ্যমে আমরা আগে প্রবলেমটি analysis করি তাহলে আমাদের খুঁটিনাটি জিনিস বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা কমে। সেইসাথে অতিরিক্ত জিনিস, যা আমাদের প্রোগ্রামের requirements এ নেই, সেগুলো বাদ দেয়ার মাধ্যমে একটি প্রোগ্রামকে আরো বেশি efficient করা যায়।

লেখকঃ তামান্না নিশাত রিনি।

ফ্লোচার্ট নিয়ে ভিডিও লেকচার :

শেখার জন্য পড়া

“সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত” – অনেক বছর আগে কথাটি বলেছিলেন প্রমথ চৌধুরী। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বেশ চমৎকার কিছু কথা বলেছেন খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সালমান খান। সেখানেও তিনি এই কথাটিই বোঝাতে চেয়েছেন। সুবিন ডট কম-এর পাঠকদের জন্য বক্তব্যটির লিখিত রূপ দিয়েছেন তামান্না নিশাত রিনি।

খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা- সালমান খান
খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা- সালমান খান

আজ আমি এখানে এসেছি খান একাডেমিতে পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে দুইটি বিষয় সম্পর্কে বলতে, যা শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বা শেখার মূল উদ্দেশ্য। বিষয় দুইটি হচ্ছেঃ

  • দক্ষতা অর্জনের চিন্তা এবং
  • শেখার জন্য নিজের ইচ্ছা।

আমি প্রথমদিকে আমার কাজিনদের সাথে কাজ করার সময় দেখেছি, তাদের অনেকে গণিতে প্রথমদিক থেকেই বেশ দুর্বল ছিলো। গণিতের জ্ঞানের এই ঘাটতি তাদের শেখার প্রথম ধাপেই থেকে গিয়েছিল। এইসব কারণে তাদের জন্য একটি অ্যালজেব্রা ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, কারণ অ্যালজেব্রার প্রাথমিক বা বেসিক শিক্ষা তাদের নড়বড়ে ছিল। সব মিলিয়ে তারা মনে করতো গণিত শেখার জন্য তাদের মেধা নেই। ক্যালকুলাসের ক্ষেত্রেই একই রকম বেসিকের ঘাটতি তাদের ছিল। এই জিনিসগুলো আমি দেখলাম যখন আমি প্রথমদিকে ইউটিউবে এই সংক্রান্ত ভিডিওগুলো আপলোড দেয়া শুরু করি। সেই সাথে আমি আরো দেখলাম আমার কাজিনরা ছাড়াও অন্য অনেকেই আমার আপলোড করা ভিডিওগুলো দেখছে।

প্রথমদিকে আমি শুধু ধন্যবাদসূচক মন্তব্যই ইউটিউবে বেশি পেয়েছি। আমি তখন এই মন্তব্যগুলোকে বিশাল কিছু ভেবে ছিলাম। লেকচারগুলো ছিলো বেশ স্পষ্ট ধারণাযুক্ত, কিন্তু সে অনুযায়ী মন্তব্যগুলো দারুণ রকমের ছিলো না। কমেন্টগুলো স্পষ্ট হলো যখন শিক্ষার্থীরা বলতে শুরু করলো তারা বড় হয়েছে গণিতকে প্রচন্ড রকমের অপছন্দ করে। ব্যাপারগুলো আরো কঠিন হয়ে উঠলো যখন তারা গণিতের আরো উচ্চতর টপিকের দিকে অগ্রসর হলো। যখন তারা এ্যালজেব্রা শেখা শুরু করলো, তখন তাদের এই বিষয়ের জ্ঞানের এতটাই ঘাটতি ছিল যে, তারা এই বিষয়টি আর পড়তে চাইতো না। কিন্তু যখন তারা একটু বুঝতে পারলো এবং শেখার একটা মাধ্যম পেলো, তখন তারা এই অ্যালজেব্রা কোর্সে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিলো। শিক্ষার্থীরা “খান একাডেমি” এর মত রিসোর্স পেলো, যেখানে তারা বেসিক জ্ঞানের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন করতে পারলো। একইসাথে তাদের মনের বদ্ধমূল যে ধারণাটি ছিল যে, তারা গণিত শেখার উপযুক্ত নয়, সেটি দূর হলো এবং তারা বুঝতে পারলো আসলেই তাদের গণিত শেখার যথাযথ যোগ্যতা আছে।

জীবনে বিভিন্নভাবে অনেক অনেক বিষয়ে এভাবে ধীরে ধীরেই মানুষ দক্ষ হয়ে উঠে। যেমনঃ মার্শাল আর্ট। মার্শাল আর্ট শেখার সময় প্রথমে হোয়াইট বেল্টের জন্য চর্চা চালিয়ে যেতে হয় যতদিন প্রয়োজন ততদিন। হোয়াইট বেল্ট পাওয়ার জন্য যেসব বিষয়ের চর্চা করতে হয়, যখন সেসব বিষয়ে একজন পরিপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করে, তখন তাকে “ইয়েলো বেল্টের” জন্য দক্ষতা অর্জনের যোগ্য মনে করা হয় এবং হোয়াইট বেল্ট থেকে ইয়েলো বেল্টে উত্তীর্ণ করা হয়। একই ঘটনা ঘটে যেকোনো বাদ্যযন্ত্র বা সঙ্গীত শেখার ক্ষেত্রেও। প্রাথমিক বা বেসিক জিনিসগুলো বার বার চর্চা করে আয়ত্বে এনে পরবর্তীতে উচ্চতর ধাপে অগ্রসর হতে হয়।

কিন্তু, যেটা দেখা যায় আমাদের একাডেমিক শিক্ষাব্যবস্থা কিন্তু এমন নয়। আমরা সবাই যে গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষাগ্রহণ করি, সেখানে এই ধাপে ধাপে কোন কিছু শিখে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন করে উচ্চতর ধাপে যাওয়ার সুযোগ নেই। গতানুগতিক শিক্ষাব্যবস্থায় কী হয়? সেখানে বয়স এবং মুখস্থ করার ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের একটা গ্রুপ করা হয়। একজন শিক্ষক তাদের সবাইকে একইদিকে একইভাবে পরিচালনা করেন। ধরা যাক আমরা প্রাথমিক- অ্যালজেব্রা ক্লাসের কথা চিন্তা করি, যেখানে পড়ানো হচ্ছে exponents। শিক্ষক প্রথমদিন exponents সম্পর্কে লেকচার দিলেন, কিছু বাড়ির কাজ দিলেন, আমরা বাসায় গেলাম, বাড়ির কাজ করলাম। পরের দিন সকালে সেই বাড়ির কাজ শিক্ষক রিভিউ করলেন, আবার exponents এর কিছু লেকচার দিলেন আবার বাড়ির কাজ দিলেন পরের দিনের জন্য, লেকচার-বাড়ির কাজ, লেকচার-বাড়ির কাজ এভাবে চলতে থাকলো। দুই-তিন সপ্তাহ এভাবে চলার পর একটা পরীক্ষা নেয়া হলো। সেখানে আমি হয়ত ৭৫ পেলাম, তুমি ৯৫ পেলে, আবার কেউ ৯০ শতাংশ নম্বর পেলো। যদিও এই পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা আমাদের জ্ঞানের অপ্রতুলতা শনাক্ত করতে পারি, তারপরেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ২৫ ভাগ বিষয়ই অজানা থেকে যায়।

যদিও শেখার সময় আমাদের কিছু ঘাটতি থেকে যায়, তা সত্ত্বেও, পুরো ক্লাস পরের টপিকে চলে যায় যেখানে আরো Advanced বিষয় অপেক্ষা করছে। সে বিষয়টি আবার আগে আমরা যা বেসিক কোর্সে শিখে আসি নি, সেগুলোর উপর ভিত্তি করেই তৈরি। যেমনঃ লগারিদম বা নেগেটিভ Exponents। ঐ একই বাড়ির কাজ-লেকচার প্রক্রিয়ায় এই কোর্সও অগ্রসর হতে থাকে। একটা সময় আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করি বিষয়গুলো বেশ অদ্ভুত। যেখানে আমি এই বিষয়ের ২৫ শতাংশ মূল বিষয়ই জানি না, সেখানে আমাকে অনেক জটিল জিনিস দেখানো হচ্ছে। অ্যালজেব্রার মূল বিষয় যে কঠিন তা কিন্তু নয়, বা শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট মেধা নেই তাও সত্যি নয়। একমাত্র কারণ, বেসিক জ্ঞানের ঘাটতি, যেখানে একটা ইক্সপোনেন্টের ইকুয়েশন লেখা হচ্ছে যার ৩০ শতাংশ বিষয়-ই আমি জানি না। এবং সেখান থেকেই গণিতের সাথে আমার বিচ্ছিন্নতার সূচনা হয়।

যদি আমরা এই জিনিসের সাথে আমাদের দৈনন্দিন কাজের তুলনা করি, তাহলে বুঝা যায় ব্যাপারটা কতটা অদ্ভুত। যেমনঃ বাড়ি তৈরি করা। আমরা একজন কনট্রাকটারকে ডেকে এনে বললাম, “দুই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের বাড়ির ফাউন্ডেশন তৈরি হতে হবে। তুমি যা পারো কর।” সুতরাং, তাদের যা করার তারা করলো। হয়ত এই দুই সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি হলো, বাড়ি তৈরির উপকরণগুলো ঠিকঠাকমত সাইটে পৌঁছালো না। দুই সপ্তাহ পর পর্যবেক্ষক এলেন এবং এসে বললেন, “এখানে কংক্রিট ঠিকমত জমেনি, একটু ভিজে আছে, এখানে ইট ঠিকমত বসেনি। ঠিক আছে আমি এটাকে ৮০% ঠিকঠাক সার্টিফিকেট দিলাম।” তুমি বললে, “WOW, চলো দোতলা বানানো শুরু করি।” একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি হয় দোতলা বানানোর ক্ষেত্রেও। আমরা যা করার করি , পর্যবেক্ষককে দেখাই তিনি এবার হয়ত ৭৫% ঠিকঠাক বললেন। এভাবে দুইতলা, তিনতলা করে বানানো চলতে লাগলো। হঠাৎ, তিনতলা বানানোর সময় পুরো বিল্ডিংটা ধপাস করে পরে গেল। তখন যদি আমাদের প্রতিক্রিয়া হয় এমন, যেমনটি আমরা শিক্ষাব্যবস্থায় দেখাই, যেমন আমরা বলতে পারি, আমাদের কন্ট্রাকটার ভালো ছিলো না, পর্যবেক্ষক ঠিকমত কাজ করেনি। আরো ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করার দরকার ছিলো। কিন্তু ততক্ষণে পুরো প্রসেসটাই ভেঙ্গে পরেছে। কারণ আমরা জানতাম যে সেখানে ঘাটতি আছে তারপরেও আমরা এই ঘাটতির উপর ভিত্তি করেই নির্মানকাজ চালিয়ে গিয়েছিলাম।

কোনোকিছু শেখার সময় সেই বিষয়ের উপর সম্পূর্ণ পাণ্ডিত্য অর্জন করার প্রক্রিয়া কিন্তু সম্পূর্ণ এর বিপরীত। শেখার জন্য কাউকে বাধ্য না করে, কেউ যখন একটি বিষয় শিখছে তখন যদি তার কোনো সমস্যা হয়, সেটি তখনই দূর করে দেয়া হয়, তবে সেটি বেশি ফলপ্রসূ হবে। একটি বিষয়ের উপর কতক্ষণ এবং কতটুকু সময় দিতে হবে সেটাই মূল বিষয় এবং এভাবে যেটা হয় একজন শিক্ষার্থী তার দুর্বলতা কাটিয়ে একটি বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠে।

এটা বুঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, এভাবে শিখলে একজন শিক্ষার্থী শুধুমাত্র একটি বিষয়ে পারর্দশী হবে না, সেই সাথে তার মানসিকতা দৃঢ় হবে। এটি তাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে, যদি কোন বিষয়ে তুমি ২০ নম্বর কম পাও, তার মানে এই নয় যে তুমি সি গ্রেড ছাত্রের ডিএনএ নিয়ে জন্ম নিয়েছো । এর অর্থ হচ্ছে, এই বিষয়ের উপর তোমার আরো অনেক বেশি সময় দিতে হবে। তোমার মনের জোর দৃঢ় করতে হবে; তোমার অধ্যবসায় থাকতে হবে; তোমার শেখার উপর তোমাকে কর্তৃত্ব করতে হবে।

এখন অনেক সংশয়বাদী বলবে, এই ব্যবস্থা অবশ্যই সুন্দর। যেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্তৃত্ব অর্জনের ব্যাপার আছে, মানসিক দৃঢ়তার সম্পর্ক আছে । ব্যাপারটা যথেষ্ট অর্থপূর্ণ হলেও, অবাস্তব। এভাবে করলে প্রতিটা শিক্ষার্থী তাদের নিজস্ব পথে থাকবে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যক্তিগত করতে হবে, প্রতিটি ছাত্রের জন্য আলাদা আলাদা প্রাইভেট টিউটর এবং ওয়ার্কশীটের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কর্তৃত্ব-ভিত্তিক এই ধরণের শিক্ষার ধারণা কিন্তু নতুন না। ১০০ বছর আগে Winnetka, Illinois-এ পরীক্ষামূলকভাবে এই শিক্ষানীতি চালানো হয়েছিল। পরে সেখান থেকে বলা হয়, কারিগরিভাবে এটা আসলেই সম্ভবপর না। সেই প্রজেক্টে প্রত্যেকটি ছাত্রকে আলাদা আলাদা ওয়ার্কশীট দিতে হতো এবং চাহিদা মোতাবেক তাদের মূল্যায়ন করতে হতো।

কিন্তু এখন এই ব্যাপারটা অসম্ভব না। আমাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ আছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের সময় এবং দরকার অনুযায়ী দেখার সময় পাচ্ছে কী? হ্যাঁ, পাচ্ছে কারণ তাদের দরকার মত ভিডিও আছে। তাদের অনুশীলন দরকার? তাদের অনুশীলনের ফলাফল দরকার? সেখানে তাদের জন্য বিভিন্ন অনুশীলন করার বিষয় তৈরি করা আছে। এর ফলে সব সুন্দর সুন্দর ঘটনা ঘটে। প্রথমত, শিক্ষার্থীরা নিজেদের শেখার বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করে, আসলে কিন্তু এর মাধ্যমে তারা নিজেদের মানসিক ক্ষমতাকে দৃঢ় করে গড়ে তোলে, তারা অধ্যবসায়ী হয়ে উঠে। আনন্দদায়ক ঘটনা ঘটে তাদের শ্রেণিকক্ষে। শিক্ষকের লেকচারের উপর মনোযোগ দেয়ার বদলে তারা একে অন্যের সাথে মত বিনিময় করতে শিখে। তারা তাদের শেখার বিষয়ের উপর গভীর জ্ঞান অর্জন করে।

আমাদের এই চিন্তাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য, এখন আমি একটা চিন্তা পরীক্ষার কথা বলবো। চিন্তা করা যাক, ৪০০ বছর আগের শিক্ষা সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ পশ্চিম ইউরোপের কথা। তখন তাদের জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ পড়তে পারতো। সে সময়ের কাউকে যদি প্রশ্ন করা হতো, “তোমাদের জনসংখ্যার কত শতাংশ মানুষ পড়তে পারে?” উত্তর পাওয়া যেতঃ “হয়ত ১৫-২০ শতাংশ।” বর্তমানে এই জরিপ চালালে তোমারাই জানো ফলাফল আসবে যথেষ্ট ইতিবাচক, সম্ভাবনা এতই ভাল যে বলা যায় ১০০ শতাংশ লোকই পড়তে পারবে। কিন্তু যদি এই প্রশ্নটা একটু ঘুরিয়ে করা হয় যে, “জনসংখ্যার কত শতাংশ ক্যালকুলাস বা জৈব রসায়ন বুঝে? কত শতাংশ ক্যান্সারের গবেষণায় অবদান রাখতে পারবে? ” অধিকাংশই উত্তর দিবে, “অত্যাধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত জনগণের হয়ত ২০-৩০ শতাংশ”।

কেমন হবে যদি এই পরীক্ষার হিসাব গতানুগতিক শিক্ষা কাঠামোয় নিজের অভিজ্ঞতার উপর হিসাব করে করা হয় অথবা নিজের বন্ধুদের নিয়ে করা হয়ঃ যেখানে সবাইকে ক্লাসের সাথে একই গতিতে নিয়ে যাওয়া হয়, শেখার ঘাটতিকে সাথে নিয়ে। এক্ষেত্রে যখন তুমি ৯৫ শতাংশ নম্বর পাচ্ছো, তখনো তুমি কিন্তু জানো না কোন ৫% তুমি জানো না।এভাবে ধীরে ধীরে জ্ঞানের ঘাটতি বাড়তে থাকে- তুমি উপরের আরেকটি ক্লাসে চলে যাও। একসময় তোমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, তুমি বল, “আমি ক্যান্সার গবেষক হতে পারবো না; আমি পদার্থবিদ হতে পারবো না; আমি গণিতজ্ঞ হতে পারবো না।” কর্তৃত্ব-ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় যদি তোমাকে চালানোর সুযোগ দেয়া হয়, যদি তোমাকে তোমার শেখার সঠিক মাধ্যমটি দেয়া হয়, তখন যদি শেখার সময় তুমি কোনো ভুল কর – ভুলের এই মুহূর্তটিকে শেখার মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা কর। তারপর তখন যে নম্বর, যে শতকরা নম্বরটি জৈব রসায়ন বা ক্যালকুলাসে তুমি পাবে সেটিতে তোমার দক্ষতার হার অবশ্যই হবে ১০০ এর অনেক কাছাকাছি।

এটি শুধুমাত্র দেখতে সুন্দর নয়, আমি মনে করি এটি সামাজিকভাবে অপরিহার্য। বলতে খুবই শিহরণ জাগে, শিল্প বিপ্লবের মত এখন তথ্য বিপ্লব আমরা ঘটাতে পেরেছি। শিল্পযুগে সমাজ ছিল একটি পিরামিডের মত। যে পিরামিডের নিম্নাংশে ছিল শ্রমজীবি মানুষের শ্রম, মাঝে ছিল ইনফরমেশন প্রসেসিং এবং পিরামিডের চূড়ায় ছিল মূলধন এবং উদ্যোক্তারা। কিন্তু আমরা তথ্য বিপ্লবের এই যুগের দিকে তাকালে দেখি, এর প্রথমেই রয়েছে অটোমেশন এবং পরে আছে ইনফরমেশন প্রসেসিংঃ যা করতে কম্পিউটার অতিমাত্রায় পারদর্শী।

আমি সত্যিকার অর্থেই মনে করি, কর্তৃত্ব ভিত্তিক শিক্ষায় একজন মানুষের ভিতরের শক্তিকে তাতিয়ে দেয়া হয়, যেন তারা তাদের শেখার মাধ্যমের উপর চর্চা চালিয়ে একটি বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠে। যখন একজন বিশ্ব নাগরিক হিসেবে তুমি এই ব্যাপারটি চিন্তা করবে, তুমি অনেক বেশি আনন্দিত হবে। আমি মনে করি বেঁচে থাকার জন্য সামনে অনেক সুন্দর সময় আসতে যাচ্ছে।

দশ লক্ষ টাকা ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নতুন উদ্যোগের আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা এখন ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ১০%। রবিবার (আগস্ট ৩) তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এই সুযোগ ঘোষণা করা হয় এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আরো ৩২ টি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি টাকার অর্থায়ন তহবিল থেকে টাকা প্রদান করার জন্য একটি লিখিত চুক্তি স্বাক্ষর করেন ।

ব্যক্তিগত গ্যারান্টি এবং কিছু সহজ শর্ত সাপেক্ষে এই তাহবিল থেকে ঋণ প্রদান করা হবে সেই সব উদ্যোক্তাকে যারা নির্বাচিত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছেন। একই সাথে কিছু উদ্যোক্তা এই তাহবিলের ব্যাংক থেকে ২৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহন করতে সক্ষম হবেন। তবে এই ঋণ শুধু মাত্র সেই সব উদ্যোক্তাদের প্রদান করা হবে, যারা ইতিপূর্বে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহন করেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রাহমান বলেন,  উদ্যোক্তাদের ব্যবসার শুরুতে পর্যাপ্ত মূলধন কিংবা আমানতযোগ্য সম্পদের অভাব একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন স্নাতক ডিগ্রীধারী চাকরীর সন্ধান করেন। যার মধ্যে অর্ধেক চাকরী খুঁজে পায় ।

তিনি আরো বলেন ব্যাংক শুধুমাত্র একজন অংশগ্রহণকারী ভূমিকা পালন করবে না বরং তারা নতুন উদ্যোক্তাদের আবিষ্কারে সক্রিয় হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ, অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন ২০০০ উদ্যোক্তা তৈরি করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত এই উদ্যোগের পেছনের শক্তি হিসেবে কাজ করার জন্য ডিসিসিআই এর প্রশংসা করেন তিনি। তিনি আরো বলেন একবার যদি এই উদ্যোগ সফল হয় তাহলে আর এই ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্ণর আব্দুল কাশেম বলেন, উদ্যোক্তাদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেবার পরে ডিসিসিআই দ্বারা একটি ছোট তালিকা তৈরি করা হবে।

ন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ২০১৪

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) আয়োজনে ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সহযোগিতায় গত শুক্রবার ‘ড্যাফোডিল জাতীয় কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (এনসিপিসি) ২০১৪ অনুষ্ঠিত হয় ৷ এই প্রোগ্রামিং কনটেস্টে অংশগ্রহণ করে দেশের ৫২ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫টি দল।

National Colegiate Programme

এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ম্যাক্স+৭ এই দলটি মোট ১১ টি সমস্যার মধ্যে ৭ টি সমস্যার সমধান করে ৭২৬ পয়েন্ট পেয়ে প্রথমস্থান অধিকার করে৷ এ দলের সদস্যরা হলেন প্রত্যয় মজুমদার, প্রসেনজিৎ বড়ুয়া ও মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দীন। রানারআপও হয়েছে বুয়েট৷ এ দলটির নাম ওনিয়ন এরা মোট ৬টি সমস্যার সমধান করে (মো. কায়সার আবদুল্লাহ, সাদিয়া নাহরিন ও সাকিব সাফায়াত)৷

প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাস্ট ব্যাট বিট্যান্স (ধনঞ্জয় বিশ্বাস, দেওয়ান মাহমুদ রায়হান, যীশু ব্যানার্জি) মোট ৫ টি সমস্যার সমাধান করে। চতুর্থ স্থান অর্জন করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিআইইউ প্রাইমেটিভ দল (মো. সামিউল ইসলাম, শরীফ আহমেদ ও শুভ কর্মকার) যারা মোট ৫ টি সমস্যার সমাধান করে ৷

সমস্যা গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমাধান হয়েছে A, C,এবং J নং সমস্যাটি, তবে ৭ টি সমস্যার মধ্যে B , D এবং H এই তিনটি সমস্যা কোন দলই সমধান করতে পারেনি। সম্পূর্ণ ফলাফল এখানে পাওয়া যাবে : https://algo.codemarshal.com/contests/bd-ncpc-2014/standings

বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কার্ড চালু হচ্ছে!

বাংলাদেশের মোবাইল ফোন এ্যাপ্লিকেশন ডেভেলাপারদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যুক্ত হতে এতদিন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিলো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি অন লাইনে লেনদেনের সুযোগ না থাকা। এই অসুবিধাটি অনুধাবন করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রচেষ্টায় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বাংলাদেশে অনুমোদন পেল ভার্চুয়াল কার্ড।

ভার্চুয়াল কার্ড

জুন ০২, ২০১৪ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায় যে ইন্টারনাশনাল চেম্বার অব কমার্স-এর অর্ন্তভূক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ ব্যক্তিগত পর্যায়ে মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন এবং গেম নির্মাণকারীদের আর্ন্তজাতিক ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের জন্য ‘ভার্চুয়াল কার্ড’ ইস্যু করবার সুবিধা প্রদান করবে। জাতীয় পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপস উন্নয়নে সচেতনতা ও দক্ষতাবৃদ্ধি কর্মসূচীর আওতায় অংশগ্রহণকারী ডেভেলাপার, বেসিস বা এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং অন্যান্য স্বীকৃত একাডেমিক বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আয়োজিত নানা ধরণের বুট ক্যাম্প, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ইত্যাদিতে সনদপ্রাপ্ত ডেভেলপার ও ফ্রীল্যান্সারগণ অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এই কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সংযুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশী ডেভেলাপারদের প্রধান বাঁধা দূর হলো।

তবে এ ধরণের কার্ড দিয়ে এক বছরে ৩০০ মার্কিন ডলার বা তার সমমূল্যের বেশি অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হবে না। তবে বিভিন্ন ফী এর জন্য বছরে ৩০০ ডলার যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন অ্যাপ ডেভেলাপার।

নিচের ছবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিটি যুক্ত করে দেওয়া হলো।

vcard_circular