সিজার সাইফার

তথ্য আদান-প্রদান করার সময় এর নিরাপত্তার একটি দিক হচ্ছে তথ্য যার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হচ্ছে, সে ছাড়া আর কেউ যেন সেই তথ্য পেতে না পারে। এখন এই জিনিসটি বেশিরভাগ সময়ই নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না, কারণ যেই মাধ্যমে তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনাকাঙ্খিত কেউ সেই তথ্য পেয়ে যেতে পারে। তাই তথ্যকে বিশেষ কোনো সংকেতে বদলে দেওয়া হয় যেন কেবল যাকে তথ্য পাঠানো হচ্ছে, সে ছাড়া অন্য কেউ যেন সেই তথ্য পেলেও তার মর্মোদ্ধার করতে না পারে। এই তথ্যকে একটি বিশেষ রূপ দেওয়ার কাজটিকে বলা হয় এনক্রিপশন। আর এনক্রিপ্ট করা তথ্য থেকে মূল তথ্য বের করার কাজটিকে বলা হয় ডিক্রিপশন।

ওপরের চিত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মূল টেক্সট (Plaintext)-কে এনক্রিপ্ট করলে তাকে বলে সাইফারটেক্সট (Ciphertext). আর সাইফারটেক্সট ডিক্রিপ্ট করলে আমরা আবার মূল টেক্সট অর্থাৎ প্লেইনটেক্সট পাই।

বর্তমানে ডেটা এনক্রিপশনের জন্য অনেক জটিল অ্যালগরিদম আছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে শত শত বছর আগেও মানুষ ডেটা এনক্রিপ্ট করতো। এরকম পুরনো একটি পদ্ধতি হচ্ছে সিজার সাইফার, যা রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের আমলে প্রচলিত হয়।

সিজার সাইফার পদ্ধতিতে একটি টেক্সটের সঙ্গে একটি সংখ্যা দেওয়া হয়, যাকে কি (key) বলা হয়। কি-এর মান যত, টেক্সটের অক্ষরগুলো তত ঘর পরের অক্ষর দিয়ে বদলে দেওয়া হয়। যেমন, কি-এর মান যদি 2 হয়, তখন abc-কে লেখা হবে cde (a-এর জায়গায় c, b-এর জায়গায় d, c-এর জায়গায় e)। এই কি এর মান কেবল প্রেরক ও প্রাপক জানে, যার ফলে অন্য কেউ এই টেক্সটের মর্মোদ্ধার করতে পারে না। যদিও বর্তমান প্রেক্ষিতে এটি অত্যন্ত দুর্বল একটি অ্যালগরিদম, কিন্তু ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অবশ্যপাঠ্য।

ধরা যাক, প্লেইনটেক্সট হচ্ছে Kill the King. আর কি হচ্ছে 1. তাহলে প্রতিটি অক্ষর ইংরেজি বর্ণমালায় তার পরবর্তী অক্ষর দিয়ে বদলে দেওয়া হবে। তখন সাইফারটেক্সট হবে Ljmm uif Ljoh. আবার কেউ যদি জানে যে কি-এর মান হচ্ছে 1, তখন সে সহজেই সাইফারটেক্সট থেকে প্লেইনটেক্সট বের করে ফেলতে পারবে।

এখন কেউ যদি এতদূর পড়ার পরে নিজেই একটি প্রোগ্রাম লিখে কাজটি করতে চায়, তার জন্য দ্বিমিক অনলাইন জাজে দুটি সমস্যা আছে –

সমস্যাগুলো সি, সিপ্লাস প্লাস, জাভা কিংবা পাইথন ব্যবহার করে সমাধান করা যাবে।

Facebook Comments

Leave a Reply