ভিম : কাস্টমাইজেশন

আগের দুই পর্বে (১ম, ২য়) ভিমের সঙ্গে প্রাথমিক কিছু পরিচয় হয়েছে। এই পর্বে দরকারি কিছু বিষয়—যেগুলো সাধারণত একবারই কনফিগার করে নেওয়ার প্রয়োজন হবে—সেগুলো নিয়ে কিছুটা লিখেছি।

এই পর্বের সবচেয়ে দরকারি জিনিস হচ্ছে .vimrc ফাইল। ভিম ওপেন হওয়ার সময় এই ফাইলটি পড়ে বিভিন্ন কনফিগারেশন ঠিক করে নেয়। স্থায়ীভাবে কোনোকিছু সেট করতে আমাদের এই ফাইলে কনফিগারেশনগুলো লিখতে হবে। লিনাক্সে /etc/vim/vimrc বা /etc/vimrc ফাইলেও কনফিগারেশন থাকতে পারে। তবে সেগুলোতে হাত না দেওয়াই ভালো, যদি না আপনি জানেন যে আপনি ঠিক কী করছেন।

টার্মিনাল ওপেন করে নিচের কমান্ডটি এক্সিকিউট করুন –

$ vim ~/.vimrc

এতে .vimrc ফাইলটি খুলবে।

ধরে নিচ্ছি এই লেখা যারা পড়ছেন, তারা সবাই প্রোগ্রামার। তাই প্রোগ্রামিংসংক্রান্ত কিছু কাজ দিয়েই শুরু করা যাক। প্রথমেই আমাদের দরকার লাইন নম্বর। .vimrc ফাইলে লিখে ফেলুন –

set number

এবার ফাইলটি সেভ করে ভিম বন্ধ করুন। আবার ওপেন করুন। এখন লাইন নম্বর দেখা যাচ্ছে। কোডের সিনট্যাক্স হাইলাইটিংয়ের জন্য লিখুন –

syntax on

অটো ইনডেন্টেশনের জন্য লিখুন –

filetype plugin indent on

ভিমে ট্যাব ক্যারেক্টারের দৈর্ঘ ডিফল্টভাবে ৮ স্পেস, যা অনেকেরই পছন্দ না। আবার ট্যাব ক্যারেক্টারের বদলে স্পেস ব্যবহার করা একটি ভালো অভ্যাস। সুতরাং নিচের লাইনগুলোও লিখে ফেলুন –

set tabstop=4
set shiftwidth=4
set expandtab

এবার ফাইলটি সেভ করে নিন। প্রোগ্রামিংয়ের জন্য ভিম তৈরি হয়ে গেল।

কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং যারা করে, তারা প্রায়ই দ্রুত কোড লেখার জন্য টেমপ্লেট তৈরি করে রাখে। ভিমেও এ রকম টেমপ্লেট ব্যবহার করা যায়। ধরে নিলাম আপনার সি প্লাস প্লাসের একটি টেমপ্লেট লাগবে। নিচের মতো একটি ফাইল তৈরি করুন –

#include <bits/stdc++.h>

using namespace std;

// Other macros and functions

int main()
{

    return 0;
}

ফাইলটি skel.cpp নাম দিয়ে সেভ করে ~/.vim/templates/ ডিরেক্টরিতে নিয়ে রাখুন –

$ mkdir -p ~/.vim/templates/
$ mv skel.cpp ~/.vim/templates/

এবার .vimrc ফাইলটি ওপেন করে নিচের লাইনটি যোগ করুন –

autocmd BufNewFile *.cpp 0r ~/.vim/templates/skel.cpp

ফাইলটি সেভ করে নিন। এখন থেকে .cpp এক্সটেনশনের যেকোনো নতুন ফাইল তৈরি করলে এতে টেমপ্লেট ফাইলের কোডটুকু যুক্ত হয়ে যাবে। আবার আপনি যদি চান যে ফাইল তৈরির পর কার্সর কোনো নির্দিষ্ট লাইনে থাকুক (যেমন : মেইন ফাংশনের শুরুতে), তাহলে নিচের লাইনটি .vimrc-তে যোগ করতে পারেন।

autocmd BufWinEnter *.cpp call cursor(8, 1)

এতে কার্সরটি ৮নং লাইনের শুরুতে থাকবে। আপনি আপনার টেমপ্লেট অনুযায়ী এখানে লাইন নম্বর ঠিক করে দিন। এতে নতুন ফাইল তৈরির পর নেভিগেট করে মেইন ফাংশনে যেতে হবে না, কার্সর আগে থেকেই সেখানে থাকবে। আপনি কেবল i চেপে কোড করা শুরু করবেন।

[ছোট্ট দুটি তথ্য এখানে দেওয়া দরকার বলে মনে করি। ভিমে কমান্ড মোডে o (ছোট হাতের O) চাপলে কার্সর যে লাইনে অবস্থিত, তার নিচে একটি নতুন লাইন ইনসার্ট হয়। আবার ইনসার্ট মোডে যাওয়ার জন্য i না চেপে a চাপা সুবিধাজনক।]

ভিমের ডিফল্ট কালারস্কিম পরিবর্তন করতে চাইলে কমান্ড মোডে গিয়ে লিখুন :colo, তারপর একটি স্পেস দিন, তারপর Ctrl + d চাপুন। কালারস্কিমের একটি তালিকা দেখা যাবে, নিচের ছবির মতো –

এখন পছন্দমতো একটি কালারস্কিমের নাম লিখে এন্টার চাপুন। যেমন : blue কালারস্কিম সেট করতে চাইলে লিখতে হবে :colo blue। এখানে colorscheme-কে সংক্ষেপে colo লেখা হয়েছে। পুরোটা লিখলেও হবে। কালারস্কিম স্থায়ীভাবে সেট করতে চাইলে .vimrc ফাইলের শেষে নিচের লাইনটি যোগ করতে হবে –

colorscheme blue

এখানে যদিও মাত্র কয়েকটি কালারস্কিম রয়েছে, ইন্টারনেট থেকে আরো অনেক কালারস্কিম ডাউনলোড করে নেওয়া যায়। কালারস্কিম ফাইল ~/.vim/colors ফোল্ডারে রেখে .vimrc ফাইলে ওপরের মতো করে colorscheme <name> লিখে দিলেই হলো। কালারস্কিম প্লাগইন হিসেবেও ডাউনলোড করা যায়।

ভিমের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে শত শত প্লাগইন গিটহাবে রয়েছে। কিন্তু এগুলো নিজে নিজে ডাউনলোড করে ম্যানেজ করা কঠিন। সেজন্য একটি প্লাগইন ম্যানেজার ব্যবহার করা ভালো। ভিমের অনেকগুলো প্লাগইন ম্যানেজার রয়েছে। আমি এখানে Vundle (Vim bundle) ইনস্টল করা এবং এটি দিয়ে প্লাগইন ইনস্টল করার পদ্ধতি দেখাচ্ছি।

Vundle ইনস্টল করতে চলে যেতে পারেন এর গিটহাব পেজে। বুঝতে অসুবিধা হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন :

টার্মিনাল খুলে নিচের কমান্ডটি এক লাইনে লিখে (বা কপি করে) রান করুন –

$ git clone https://github.com/VundleVim/Vundle.vim.git ~/.vim/bundle/Vundle.vim

এবার .vimrc ফাইল খুলে ফাইলের একেবারে শুরুতে নিচের লাইনগুলো যোগ করুন –

set nocompatible
filetype off
set rtp+=~/.vim/bundle/Vundle.vim
call vundle#begin()
Plugin 'VundleVim/Vundle.vim'

call vundle#end()

লাইনগুলো অবশ্যই ফাইলের শুরুতে যোগ করতে হবে। ফাইলটি সেভ করে নতুন করে ভিমে প্রবেশ করুন। কমান্ড মোডে লিখুন :PluginInstall। দেখবেন নিচে Done লেখা এসেছে। তার মানে প্লাগইন ম্যানেজার সফলভাবে ইনস্টল হয়েছে। :qa লিখে ভিম থেকে বের হয়ে আসুন।

আপনি এখন চলে যেতে পারেন https://vimawesome.com/ সাইটে। এখানে প্রচুর প্লাগইন রয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সাইটটিতে ভিমের শর্টকাট ব্যবহার করে নেভিগেট করা যায়। যাহোক, আমি এখন gruvbox নামের একটি প্লাগইন ইনস্টল করে দেখাব। এটি মূলত একটি কালারস্কিম। একই পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনি পরে যেকোনো প্লাগইন ইনস্টল করতে পারবেন।

.vimrc ফাইল ওপেন করে Plugin ‘VundleVim/Vundle.vim’ লাইনের পরে নিচের লাইনটি যোগ করুন (স্ক্রিনশট দেখুন) –

Plugin 'morhetz/gruvbox'

লাইনটি অবশ্যই call vundle#end() লাইনের আগে হবে। এরপর ফাইলের একদম শেষে নিচের লাইনটি যোগ করুন –

colorscheme gruvbox

এখন আবার ভিমে প্রবেশ করে :PluginInstall কমান্ড চালান। কিছুক্ষণের মধ্যে প্লাগইনটি ইনস্টল হয়ে Done লেখা আসবে। ভিম থেকে বের হয়ে যান। .vimrc ফাইলটি ভিম দিয়ে ওপেন করলে নতুন কালারস্কিমটি দেখতে পাবেন।

Vundle বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং এর ব্যবহার শিখতে অবশ্যই এর গিটহাব পেজ থেকে রিডমি ফাইলটি পড়ে নেবেন। যেকোনো প্লাগইন ইনস্টলের জন্য প্লাগইনের গিটহাব পেজে চলে যেতে হবে, এবং ঠিকানা থেকে github.com/ অংশটি বাদ দিয়ে বাকি অংশ ওপরের পদ্ধতিতে .vimrc ফাইলে বসিয়ে দিতে হবে। বাকি কাজ Vundle করবে। যেমন : gruvbox-এর গিটহাব ঠিকানা হচ্ছে github.com/morhetz/gruvbox, আমরা তাই morhetz/gruvbox লিখেছি।

মোটামুটি এই ছিল আলোচনার বিষয়বস্তু। এখানে ভিমের অতি অল্প বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। ভিমের যেকোনো সমস্যায় সাহায্য পাওয়া যাবে :help কমান্ড থেকে। যেমন : :help window লিখলে window সম্পর্কে সাহায্য দেখা যাবে, :help quit লিখে quit সম্পর্কে সাহায্য পাওয়া যাবে। টার্মিনালে vimtutor কমান্ড লিখলে ভিম ব্যবহারের প্রয়োজনীয় তথ্যসমৃদ্ধ একটি ম্যানুয়েল পাওয়া যায়। পুরোটা পড়তে মোটামুটি ঘণ্টাখানেক লাগে। পড়ার সময় অবশ্যই সাথে সাথে অনুশীলন করতে হবে। এছাড়া ইন্টারনেট তো আছেই সাহায্যের জন্য।

প্রোগ্রামিং করার জন্য পরিপূর্ণভাবে ভিমের ওপর নির্ভরশীল হতে হলে আরো কিছু জিনিসের প্রয়োজন হবে, যেমন: কোড কমপ্লিশন ইত্যাদি। আর এ সবকিছুর জন্য ভিমের প্লাগইন রয়েছে। আশা করছি আগ্রহী পাঠক সেগুলো নিজে নিজেই ইনস্টল করে নিতে পারবেন। ফাইল ব্রাউজিংও একটু আয়ত্ব করে নিতে পারেন। আর কেবল এটুকুই আপনাকে দিতে পারে ভিমের অসাধারণ এক জগতের সন্ধান।

Solarized কালারস্কিম ও YouCompleteMe প্লাগইন ও JetBrains Mono ফন্টের সমন্বয়ে আমার বর্তমান ভিম।

—মোশারফ হোসেন

ভিম : সাধারণ লেখালেখি

প্রথম পর্বে আমাদের ভিমের সঙ্গে মোটামুটি পরিচয় হয়েছে। এই পর্বে বেশ কিছু বিষয় থাকবে, যা সাধারণ টেক্সট এডিটিং কিংবা প্রোগ্রামিংয়ের সময় কাজে লাগবে।

প্রথমেই দেখা যাক নেভিগেশন। ফাইলের মধ্যে ডানে-বাঁয়ে, ওপরে-নিচে যাওয়ার জন্য সাধারণভাবে অ্যারো কি ব্যবহার করা যায়। এছাড়া কমান্ড মোডে h (left), j (down), k (up), l (right) ব্যবহার করে নেভিগেট করা যায়। এগুলো যেহেতু সরাসরি হাতের নিচে থাকে, তাই অ্যারো কি-এর চেয়ে দ্রুত ব্যবহার করা যায়। প্রথম প্রথম এগুলো একটু ঝামেলার মনে হবে, কিছু সময় পর ঠিক হয়ে যাবে।

ওপরে বলা নেভিগেশন কি দিয়ে হয়তো এক ক্যারেক্টার বা এক লাইন করে নেভিগেট করা যায়। কিন্তু আমাদের যদি আরো দ্রুত নেভিগেশনের প্রয়োজন হয়? যেমন : কোনো ফাইলের শেষে বা শুরুতে, লাইনের শেষে/শুরুতে, কিংবা নির্দিষ্ট কোনো লাইনে যেতে হয়? এগুলোর জন্যও চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে ভিমে।

ফাইলের শুরুতে যেতে কমান্ড মোড থেকে টাইপ করতে হবে gg। ফাইলের শেষে যেতে চাইলে টাইপ করতে হবে G (অর্থাৎ Shift + g)। Shift + 4 ($) চাপলে কার্সর লাইনের শেষে চলে যাবে। Shift + 6 (^) চেপে যাওয়া যাবে লাইনের শুরুতে। এগুলো কিন্তু কেবল পড়ে গেলে হবে না। কোনো টেক্সট ফাইলে সবকিছু নিজে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। শুধু পড়ে/ভিডিও দেখে কখনো শেখা যায় না, অনুশীলন করে করে শিখতে হয়।

নির্দিষ্ট কোনো লাইনে যেতে চাইলে প্রথমে ওই লাইন নম্বর লিখতে হবে, এরপর gg টাইপ করতে হবে। যেমন : ১২নং লাইনে যেতে চাইলে টাইপ করতে হবে 12gg। একদম সহজ, তাই না? আচ্ছা, এখানে একটু সমস্যা হচ্ছে বোধহয়। ভিমে লাইন নম্বর দেখা যাচ্ছে না (অনেক সিস্টেমে দেখা যেতেও পারে, বিশেষ করে ভিম প্রি-ইনস্টলড থাকলে)। লাইন নম্বর দেখা না গেলে কমান্ড মোড থেকে টাইপ করুন :set number

চমৎকার! বাঁ পাশে এখন লাইন নম্বর দেখা যাচ্ছে। ভিম থেকে একবার বেরিয়ে গেলে লাইন নম্বর আবার হারিয়ে যাবে। হারিয়ে যাওয়া কীভাবে রোধ করতে হয়, তা তৃতীয় পর্বের আলোচ্য বিষয়। ভিম থেকে না বেরিয়ে লাইন নম্বর সরিয়ে ফেলতে টাইপ করুন :set nonumber

অনেক সময় আমাদের শব্দ ধরে ধরে এগোতে হতে পারে, সাধারণ এডিটরে Ctrl + left/right arrow যা করা যায় আর কি। ভিমে সেটি আরো সহজে করা যায়। w চেপে সামনের দিকে, b চেপে পেছনের দিকে যাওয়া যায়।

ধরুন, বড় একটি ফাইলের কোথাও পরিবর্তন করেছেন, এরপর ফাইলের অন্য স্থানে গিয়ে দেখলেন আগের পরিবর্তনটি করা ঠিক হয়নি। `. (ব্যাকটিক + ডট) চেপে সরাসরি যেখানে পরিবর্তন করেছিলেন, সেখানে চলে যেতে পারেন।

অনাকাঙ্খিত পরিবর্তনের পর আনডু (undo) করতে কমান্ড মোড থেকে u চাপুন। একাধিকবার আনডু করার জন্য একাধিকবার u চাপুন। রিডু (redo) করার জন্য Ctrl + r চাপুন।

ভিমে কপি/পেস্ট বিভিন্ন রকম হতে পারে। ভিমের ভেতর থেকে কপি করে ভিমের ভেতর পেস্ট করার জন্য ভিজ্যুয়াল (VISUAL) মোডে যেতে হবে। যে জায়গা থেকে কপি করতে চান, প্রথমে সেখানে যান। এরপর কমান্ড মোড থেকে v চেপে ভিজ্যুয়াল মোডে যান। এবার সাধারণ নেভিগেশন কি (h, j, k, l, w, b, $, ^, gg, G ইত্যাদি সবই) ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত টেক্সট সিলেক্ট করুন। সিলেক্ট করা হয়ে গেলে y চাপুন, টেক্সট কপি হয়ে যাবে। এখন এই টেক্সট ভিমের ভেতর যেকোনো জায়গায় পেস্ট করতে p চাপুন। লাইন ধরে সিলেক্ট করতে চাইলে Shift + v চাপুন। এতে VISUAL LINE মোড চালু হবে। Ctrl + v চেপে ভিজ্যুয়াল ব্লক মোডে যেতে পারেন। এই মোডে ব্লক আকারে টেক্সট সিলেক্ট করা যায়।

ভিমের ভেতর থেকে কপি করে বাইরে (যেমন : ব্রাউজারে) পেস্ট করার জন্য Shift চেপে ধরে মাউস দিয়ে কাঙ্ক্ষিত টেক্সট সিলেক্ট করে Ctrl + Shift + c চাপুন। উইন্ডোজে মাউস দিয়ে সরাসরি সিলেক্ট করে Ctrl + C চেপে কপি করা যাবে। এটি ভিমের নিজস্ব পদ্ধতি নয়, টার্মিনাল থেকে কপি করার পদ্ধতি। ভিমের নিজস্ব পদ্ধতি কিছু ক্ষেত্রে জটিল হতে পারে বলে এখানে এড়িয়ে যাওয়া হলো। বাইরে থেকে কপি করে ভিমে পেস্ট করতে টার্মিনালে পেস্ট করার শর্টকাট (সাধারণত Ctrl + Shift + v, উইন্ডোজে রাইট ক্লিক বা Ctrl + v) কাজ করবে। এছাড়া Shift + Insert চেপেও পেস্ট করা যায়।

ভিমে কাট (cut) আর ডিলিটের ধারণা একই। ভিমে যা কিছু ডিলিট করা হয়, তার সবই রেজিস্টারে থেকে যায়, যা পরে পেস্ট করা যায়। ভিজ্যুয়াল মোডে গিয়ে সিলেক্ট করে Delete কি বা x বা d চাপলে ডিলিট হবে। p চেপে টেক্সটকে এখন যেকোনো জায়গায় পেস্ট করা যাবে। কোনো লাইনে কার্সর রেখে dd চাপলে ওই লাইনটি ডিলিট হয়ে যাবে। কমান্ড মোডে d চাপলে ডিলিট অপারেশন শুরু হয়। এরপর নেভিগেশন কি ব্যবহার করে ডিলিট (তথা কাট) করা যায়। যেমন : লাইন ৫ থেকে লাইন ১০ পর্যন্ত কাট/ডিলিট করতে চাপতে হবে 5ggd10gg। দেখতে এটি হয়তো হিবিজিবি, কিন্তু ধারণা সহজ। 5gg চাপলে কার্সর চলে যাবে ৫নং লাইনে। এরপর d চাপলে ডিলিট অপারেশন শুরু হবে। 10gg টাইপ করার পর কার্সর চলে গেল ১০নং লাইন পর্যন্ত। মানে ৫ থেকে ১০ পর্যন্ত লাইনগুলো ডিলিট হয়ে গেল। কোনো শব্দের শুরুতে কার্সর নিয়ে dw লিখে শব্দটি ডিলিট করতে পারেন। শব্দের শেষ থেকে ডিলিট করতে db ব্যবহার করা যাবে।

কপি-পেস্ট নিয়ে মজার একটি ট্রিক বলি। যেকোনো জায়গা থেকে কোনো টেক্সট সিলেক্ট করে রেখে (কপি না করে) ভিমে এসে মাউসে মিডল ক্লিক (হুইলে চাপ দিন) করুন, সিলেক্ট করা টেক্সট পেস্ট হয়ে যাবে। এটি শুধু ভিম নয়, যেকোনো জায়গায় হবে। ভিমে যদি পেস্ট না হয়, তাহলে টার্মিনালের প্রিফারেন্স/সেটিংস ওপেন করে Middle click paste/Paste on middle click বা এ রকম কিছু চালু করে নিতে হবে। আধুনিক সব টার্মিনালে ডিফল্টভাবে এটি চালুই থাকে। উল্লেখ্য যে, এটি কেবল টার্মিনালে নয়, অন্যান্য সব জায়গায় কাজ করবে। টাচপ্যাডে তিন আঙুলে একসাথে ট্যাপ করলে মিডল ক্লিক হবে। উইন্ডোজে এটি কাজ করবে না।

এখন পর্যন্ত দেখলেন নেভিগেশন এবং কাট-কপি-পেস্ট। এবার সার্চ এবং রিপ্লেস দেখা যাক।

সার্চিংয়ের জন্য কমান্ড মোডে / (ফরওয়ার্ড সার্চ) বা ? (ব্যাকওয়ার্ড সার্চ) ব্যবহার করতে পারেন। ধরুন, আপনি hello শব্দটি খুঁজবেন। কমান্ড মোডে /hello লিখে এন্টার চাপুন। শব্দটি যেখানে প্রথম পাওয়া যাবে, কার্সর সেখানে চলে যাবে। যদি পাওয়া না যায়, তাহলে একটি এরর দেখা যাবে, Pattern not found। এখন শব্দটির পরের অবস্থানে যেতে n চাপুন। আগের অবস্থানে যেতে Shift + n চাপুন।

মনে করুন, আপনি search শব্দটিকে replace দিয়ে রিপ্লেস করবেন। কমান্ড মোড থেকে নিচের মতো টাইপ করুন,

:%s/search/replace/g

এতে search লেখাগুলো মুছে গিয়ে replace হয়ে যাবে। শেষের /g মানে হচ্ছে পুরো ডকুমেন্টে এই সার্চ এবং রিপ্লেসের ঘটনা ঘটবে। রিপ্লেস করার আগে কনফার্মেশনের জন্য c যোগ করে দেওয়া যায় –

:%s/replace/search/gc

এতে প্রতিবার রিপ্লেস করার আগে y/n দিয়ে নিশ্চিত করা যাবে।

এমন হতে পারে যে আপনি কোনো ফাইল ওপেন করেছেন, এতে কিছু পরিবর্তন করেছেন, কিন্তু সেভ না করেই বেরিয়ে যেতে চাইছেন। ভিম এক্ষেত্রে আপনাকে বাধা দেবে। জোর করে বেরিয়ে যেতে :q! ব্যবহার করুন। আবার ওপেন করা ফাইলটি হয়তো নতুন নামে সেভ করতে চাচ্ছেন (Save as-এর মতো), সেজন্য টাইপ করুন :w <filename>। এখন এই ফাইলে যা কিছু করবেন তার সবই <filename> ফাইলে সেভ হবে, মূল ফাইলটির কিছু হবে না।

মোটামুটি এডিটিংয়ের জন্য আমাদের এগুলোই লাগবে। তবে ভিমের চমৎকার একটি জিনিস, স্প্লিট স্ক্রিনের সাথে একটু পরিচয় করিয়ে দিই। একইসাথে উল্লেখ্য যে, অন্যান্য এডিটরের মতো ভিমেও বিল্টইন ফাইল ম্যানেজার রয়েছে। নিচে দেখানো স্প্লিট স্ক্রিন ফিচার, এবং ফাইল ম্যানেজিং ফিচারের সমন্বয়ে ভিমকে একটি আইডিই হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ফাইল ম্যানেজিং এই সিরিজের আওতাভুক্ত নয়। আপনি চাইলে সার্চ করে বা ম্যানুয়েল দেখে শিখে নিতে পারেন।

ভিমে একটি ফাইল ওপেন করুন। Ctrl + w চেপে v চাপুন। এডিটর দুইভাগে ভাগ হয়ে যাবে। অনুভূমিকভাবে ভাগ করতে Ctrl + w চেপে s চাপুন। এখন কিছু একটা লেখার চেষ্টা করুন, দেখবেন সবগুলো অংশেই একসাথে পরিবর্তন হচ্ছে, যেহেতু একই ফাইল সবগুলো উইন্ডোতে ওপেন হয়েছে। Ctrl + w + w চেপে আপনি একে একে সবগুলো উইন্ডোতে যেতে পারেন। এছাড়া Ctrl + w + h/j/k/l ব্যবহার করে বাঁয়ে/ নিচে/ওপরে/ডানে যেতে পারবেন। কোনো উইন্ডোতে কোনো ফাইল ওপেন করতে চাইলে ওই উইন্ডোতে গিয়ে কমান্ড মোডে লিখুন :open <filename>

সাধারণভাবে উইন্ডোগুলো সমান দৈর্ঘ-প্রস্থের হবে। Ctrl + w চেপে <, >, -, + চাপলে উইন্ডোগুলোর আকার বিভিন্ন দিকে ছোট-বড় হবে। সেটি আপনি নিজে নিজে কিছুক্ষণ পরীক্ষা করে দেখে নিন। সবগুলো সমান করতে Ctrl + w চেপে = চাপুন।

কোনো নির্দিষ্ট উইন্ডো বন্ধ করতে সেখানে গিয়ে কমান্ড মোডে লিখুন :close। কোনো উইন্ডোতে :open <filename> ব্যবহার করে একাধিক ফাইল ওপেন করতে পারেন। পূর্বের ফাইলে ফিরে যেতে :bp, পরের ফাইলে যেতে :bn কমান্ড ব্যবহার করুন।

এই লেখায় মোটামুটি এই পর্যন্তই। এখানে অল্প কিছু জিনিস দেখানোর চেষ্টা করলাম। দৈনন্দিন কাজে মোটামুটি এগুলোই লাগবে। লিনাক্সে যারা নতুন, তাদের বুঝতে একটু সমস্যা হতে পারে। চেষ্টা করেছি যথাসম্ভব সহজ করে লেখার, তারপরও কঠিন হলে আপাতত কিছু করার নেই।

ভিমকে নিজের প্রয়োজন ও রুচি অনুসারে সাজিয়ে নেওয়া জরুরি। শেষ পর্বে এ নিয়ে কিছুটা লেখার চেষ্টা করেছি।

— মোশারফ হোসেন

ভিম : পরিচিতি

(যারা ভিমের সঙ্গে কিছুটা পরিচিত, তারা সরাসরি দ্বিতীয় পর্বে চলে যেতে পারেন।)

ভিম (Vim – Vi IMproved) হচ্ছে ইউনিক্সভিত্তিক এডিটর ভি (Vi)-এর একটি উন্নত সংস্করণ। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী, সহজ (?), হাইলি কনফিগারেবল এডিটর। এই আর্টিকেল লেখা পর্যন্ত ভিমের সর্বশেষ সংস্করণ হচ্ছে ৮.২, আমি ৮.১ ব্যবহার করছি। আপনার সিস্টেমে অন্য কোনো সংস্করণ থাকলেও সমস্যা নেই। ভিম না থাকলে ইনস্টল করে নিতে হবে। ডেবিয়ান/উবুন্টুভিত্তিক ডিস্ট্রোগুলোতে sudo apt install vim, আর্চ/মানজারোতে sudo pacman -S vim কমান্ড দিয়ে ইনস্টল করা যাবে। উইন্ডোজের জন্য ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে – https://www.vim.org/download.php

কমান্ডলাইনভিত্তিক, শক্তিশালী, হালকাপাতলা, আধুনিক ফিচারসমৃদ্ধ হওয়ায় ভিম অত্যন্ত জনপ্রিয়। সার্ভার কম্পিউটার বা যেখানে গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস নেই, বিশেষ ক্ষেত্রে পার্সোনাল কম্পিউটারে ছোট-বড় বিভিন্ন ফাইল এডিট করার জন্য ভিম অদ্বিতীয়। যদিও এসব কাজে ন্যানো (nano) ব্যবহার করা যায়, কিন্তু নামের মতো ফিচারেও এটি ন্যানো। প্রোগ্রামিং করার জন্যও এটি একটি অসাধারণ এডিটর। দ্রুত নেভিগেশনের জন্য, ভিজ্যুয়াল স্টুডিও কোড, জেটব্রেইনসের সব আইডিই, ইকলিপ‍্স ইত্যাদিতে ভিমের জন্য প্লাগইন কিংবা এক্সটেনশন রয়েছে।

আপনি যদি না জানেন যে ভিম ‘কেন’ ব্যবহার করবেন, তাহলে ইন্টারনেটে একটু খুঁজে নিন। এখানে কেবল ‘কীভাবে’ নিয়ে কথা বলব। এখানে দেখানো সবকিছু যে বসে বসে মুখস্ত করতে হবে, তা নয়। অনেক কিছুই সাধারণত প্রয়োজন হবে না, বা একবার কনফিগার করে নিলেই হবে। পরে যা কিছু দরকার হবে প্রয়োজনমতো দেখে নেওয়া যাবে। এই সিরিজে আমি কেবল দরকারি কিছু বিষয় দেখানোর চেষ্টা করব। কারণ, আমিও বেশি কিছু জানি না। তবে এগুলো জানলেই মোটামুটি ভিম নিয়ে সুখে সংসার করা যাবে।

প্রাথমিকভাবে এই সিরিজটি আমি তিন ভাগে লিখব বলে ভাবছি –

  1. এডিটর পরিচিতি
  2. সাধারণ এডিটিং
  3. কনফিগারেশন এবং কাস্টমাইজেশন

তো পরিচিতিটা সেরে নেওয়া যাক। টার্মিনাল খুলে vim লিখে এন্টার চাপলে নিচের মতো ইন্টারফেস দেখা যাবে –

এখানে বেশ কিছু তথ্য দেখা যাচ্ছে। যেহেতু কোনো close কিংবা quit বাটন দেখা যাচ্ছে না, তাই প্রথমে আমাদের জানতে হবে যে, এখান থেকে বের হওয়া যায় কীভাবে (অবশ্যই টার্মিনাল বন্ধ না করে)। আপনি নিশ্চয়ই একটি লাইন দেখতে পাচ্ছেন – type :q<Enter> to exit

অর্থাৎ :q লিখে এন্টার চাপলে আমরা এখান থেকে বের হতে পারব। এখানে q মানে quit; চাইলে :quit লিখেও বের হওয়া যায়।

অসাধারণ! আপনি ভিমে প্রবেশ করে বের হয়ে গেলেন! এই বের হওয়াটা অনেক কঠিন, এতই কঠিন যে এ নিয়ে শত শত মিম (meme) ইন্টারনেটে ঘুরছে। তো এত কঠিন যেহেতু, এটা শেখার দরকার কী? ভালো কথা, হোঁচট খাওয়ার ভয়ে হাঁটতে না শেখার মতো।

এবার তাহলে আসল কাজ শুরু করা যাক। ভিম ব্যবহার করে একটি ফাইলে ‘hello vim’ কথাটি লিখতে হবে। সে জন্য টার্মিনালে প্রথমে নিচের কমান্ড দিয়ে একটি ফাইল তৈরি করে নিন –

$ touch hello.txt

(কমান্ডের আগে $ চিহ্নের মানে হচ্ছে এটি শেল কমান্ড। অর্থাৎ একে টার্মিনালে চালাতে হবে। টার্মিনালে লেখার সময় $ চিহ্ন বর্জন করতে হবে। # চিহ্ন থাকলে বুঝতে হবে কমান্ডটি রুট প্রিভিলেজসহ চালাতে হবে, অর্থাৎ কমান্ডের আগে sudo যোগ করে নিতে হবে।)

এতে hello.txt নামের একটি খালি (Empty) ফাইল তৈরি হবে। এবার ফাইলটি ভিমে ওপেন করতে হবে। সেজন্য নিচের কমান্ডটি লিখুন –

$ vim hello.txt

আপনার ফাইলটি ভিমে ওপেন হয়ে গেল। একটি ফাঁকা উইন্ডো দেখবেন, যার একেবারে শেষে নিচের মতো একটি লাইন থাকবে।

এখানে বেশ কিছু তথ্য রয়েছে। একেবারে বাম দিকে আছে ফাইলের নাম। তারপরে আছে 0L, 0C, মানে ফাইলটিতে বর্তমানে 0টি লাইন, 0টি ক্যারেক্টার রয়েছে, অর্থাৎ কিছুই নেই। ডান দিকে আছে কার্সরের অবস্থান, এবং ফাইলটির কতটুকু অংশ এই উইন্ডোতে দেখা যাচ্ছে। এগুলো এখনই না বুঝলেও সমস্যা নেই। শেখার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হচ্ছে “ব্যবহার করতে করতে শেখা”।

এবার আমরা আমাদের লেখালেখি শুরু করতে পারি। কিবোর্ড থেকে h চাপুন, কিছু দেখতে পাচ্ছেন? না। ভিমে অনেকগুলো মোড (mode) আছে। কোনো ফাইল ওপেন করলে শুরুতে ভিম থাকে কমান্ড মোডে (একে নরমাল মোডও বলা হয়)। অর্থাৎ এই মোডে বিভিন্ন কমান্ড চালানো যায়। লেখালেখি করার জন্য আমাদের দরকার ইনসার্ট মোড। ইনসার্ট মোডে যাওয়ার জন্য কিবোর্ড থেকে ‘i’ চাপতে হবে। ‘i’ চাপার সঙ্গে সঙ্গে টার্মিনালের নিচে দেখুন ছবির মতো -- INSERT -- লেখা উঠেছে –

এখন আমরা যা ইচ্ছা তাই লিখতে পারি। চটপট hello vim লিখে ফেলুন তাহলে। এবার লেখাটি সেভ করতে হবে। সেভ করার জন্য আবার কমান্ড মোডে ফিরে যেতে হবে। কমান্ড মোডে যাওয়ার জন্য চাপতে হবে Esc কি (F1-এর বাঁ পাশে)। এবার সেভ করার জন্য নিচের কমান্ডটি লিখুন –

:write

সামনের কোলন চিহ্নটি দিতে ভুলবেন না। এটি লিখে এন্টার চাপলেই ফাইলটি সেভ হয়ে যাবে। এবার তাহলে আমাদের ভিম থেকে বের হতে হবে। কীভাবে মনে আছে তো? :quit বা :q। টার্মিনালে cat hello.txt কমান্ড দিয়ে দেখতে পারেন যে সত্যিই ফাইলটি সেভ হয়েছে কি না।

এবার আমরা নতুন একটি ফাইল তৈরি করব। আগের মতো touch কমান্ড ব্যবহার করার দরকার নেই, সরাসরি ভিম ব্যবহার করেই ফাইল তৈরি করা যায়। ফাইল ওপেন করার যে পদ্ধতি, ফাইল তৈরি করারও সেই একই পদ্ধতি। তাহলে টার্মিনালে লিখে ফেলুন –

$ vim file.txt

এতে ভিম উইন্ডো খুলবে। উল্লেখ্য যে, ফাইলটি কিন্তু এখনো তৈরি হয়নি (আসলে একটি অস্থায়ী ফাইল তৈরি হয়েছে। তবে সেটি নিয়ে আমরা পরে মাথা ঘামাব), :write লিখে সেভ করলেই ফাইলটি তৈরি হবে। এবার i চেপে এতে ইচ্ছেমতো কিছু লিখুন। এরপর Esc চেপে লিখুন :wq। কী হলো? ফাইলটি সেভ হলো, ভিমও বন্ধ হলো। :write কমান্ডটিকে সংক্ষেপে :w লেখা যায়, আর :q-এর সঙ্গে তো আগে থেকেই পরিচিত। এই দুটি কমান্ডকে সংক্ষেপে একত্রে :wq লেখা যায়। এটি লেখা সহজ ও দ্রুততর। এখন থেকে আমরা এভাবেই লিখব।

ওপরের আলোচনার সারমর্ম হলো :

  • vim <filename> দিয়ে যেকোনো ফাইল খোলা/তৈরি করা যাবে
  • লেখালেখির আগে ইনসার্ট মোডে যেতে হবে
  • কমান্ড চালানোর জন্য (যেমন : ফাইল সেভ করা) কমান্ড মোডে যেতে হবে
  • i চেপে ইনসার্ট মোড, Esc চেপে কমান্ড মোডে যেতে হবে
  • :wq দিয়ে একইসঙ্গে সেভ করা এবং ভিম থেকে বের হওয়া যাবে

পরের পর্বে রয়েছে দৈনন্দিন লেখালেখির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়।

—মোশারফ হোসেন

ক্রন জবের ধারণা ও ব্যবহার

ক্রন (cron) হচ্ছে ইউনিক্স-সদৃশ অপারেটিং সিস্টেমের টাস্ক শিডিউলার প্রোগ্রাম। এর কাজ হচ্ছে নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্দিষ্ট কাজ করা, ভালো করে বললে নির্দিষ্ট কোনো প্রোগ্রাম বা কমান্ড বা স্ক্রিপ্ট এক্সিকিউট করা। মনে করুন, আপনার একটি ব্যাশ বা পাইথন স্ক্রিপ্ট আছে, যেটি প্রতিদিন সকালে কম্পিউটার চালু করেই এক্সিকিউট করতে হয়। আপনি হয়তো প্রতি সপ্তাহে একবার দরকারি ফাইলগুলোর ব্যাকআপ নিয়ে থাকেন, বা লগ ফাইলগুলো পরিষ্কার করেন। এই কাজগুলো একটি স্ক্রিপ্ট লিখে ক্রনের সাহায্যে অটোমেটিক করে ফেলতে পারেন।

ক্রন হচ্ছে একটি ডিমন (daemon)। ডিমন হচ্ছে এক ধরনের প্রোগ্রাম যা সবসময় ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে, যার ওপর সাধারণ ইউজারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ক্রন প্রতি মিনিটে ক্রনট্যাব (crontab; cron table-এর সংক্ষিপ্ত নাম) নামক একটি ফাইল পরীক্ষা করে, এবং ওই মিনিটে কোনো জব থাকলে তা এক্সিকিউট করে। ক্রনট্যাবে যেসব প্রোগ্রাম বা কমান্ড লেখা থাকে, সেগুলোকে বলে ক্রন জব।

ক্রনট্যাব হচ্ছে একটি টেক্সট ফাইল। ক্রনট্যাব এডিট করার জন্য নিচের কমান্ডটি চালাতে হয় –

$ crontab -e

প্রথমবার এটি চালালে একটি এডিটর সিলেক্ট করতে বলতে পারে। আমি এক্ষেত্রে ভিম ব্যবহার করি, আপনারা চাইলে nano ব্যবহার করতে পারেন। ফাইলটি ওপেন হলে কিছু কমেন্টেড লেখা দেখা যাবে। একেবারে শেষে নিচের মতো একটি লাইন পাওয়া যাবে –

# m h  dom mon dow   command

এটি ক্রন জব লেখার ফরম্যাট। এখানে প্রথম পাঁচটি কলাম ক্রন জব চলার সময় নির্ধারণ করে। কলামগুলো হলো :

  • m – মিনিট (0–59)
  • h – ঘণ্টা (0–23; ২৪ ঘণ্টা ফরম্যাটে)
  • dom – তারিখ (1–31)
  • mon – মাস (1–12)
  • dow – বার (0–6; 0 হচ্ছে রবিবার)
  • command – যে কমান্ড বা প্রোগ্রামটি এক্সিকিউট হবে তার পাথ।

এখানে এই m h dom mon dow command ক্রম খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই ওপরের লাইনটি ক্রনট্যাব ফাইলে না থাকলে নিজে যোগ করে নিতে হবে। এতে ভবিষ্যতে কোনো ক্রন জব যোগ করতে সুবিধা হবে, কলামগুলোর ক্রম মুখস্ত করে রাখতে হবে না।

এবার তাহলে পরীক্ষার জন্য আমরা একটি ক্রন জব সেট করে দেখতে পারি। আমাদের এই ক্রন জবটি “hello” লেখাটিকে একটি ফাইলে সেভ করবে। সে জন্য টার্মিনালে crontab -e কমান্ড দিয়ে ক্রনট্যাব খুলুন (যদি না খোলা থাকে)। এরপর ফাইলের একেবারে শেষে গিয়ে নিচের লাইনটি যোগ করুন (প্রয়োজনে স্ক্রিনশট দেখুন) –

34   *    *    *    *    echo "hello cron" > ~/hello

এখানে 34-এর জায়গায় আপনার কম্পিউটারের সময় দেখে বর্তমান মিনিটের চেয়ে পাঁচ মিনিট পরের সময় দিন। এখন ফাইলটি সেভ করুন। পাঁচ মিনিট পর আপনার হোম ডিরেক্টরিতে hello নামের একটি ফাইল তৈরি হবে, যেখানে লেখা থাকবে hello cron।

ওপরে চারটি কলামে * চিহ্নের মানে হচ্ছে কলামগুলো সব সময় এক্সিকিউট হবে। ক্রন জবটি প্রতি ঘণ্টার 25তম মিনিটে এক্সিকিউট হবে। আমরা যদি চাই যে এপ্রিল মাসের 22 তারিখ রাত 11টা 20 মিনিটে একটি ক্রন জব চালাব, তাহলে ক্রনট্যাবে নিচের লাইনটি যোগ করতে হবে –

20    23    22    4    *    /path/to/job

এখানে সপ্তাহের দিন * দিয়েছি, এতে 22 তারিখ যে বারই হোক না কেন, জবটি চলবে। এবং এই জবটি ক্রনট্যাবে কয়েক বছর রেখে দিলে প্রতি বছর 22শে এপ্রিল 11টা 20 মিনিটে এক্সিকিউট হবে। উল্লেখ্য যে, 22শে এপ্রিল একেক বছর একেক বার হবে।

আবার আপনি হয়তো কোনো জব প্রতি 5 মিনিট পর পর চালাতে চাচ্ছেন। তাহলে ক্রনট্যাবে নিচের মতো করে জবটি যোগ করে নিন –

*/5   *    *    *    *    /path/to/job

এই ক্রন জবটি প্রতি 5 মিনিট পর পর চলতে থাকবে। আবার আপনি হয়তো কোনো জব প্রতি ঘণ্টায় 5, 17 ও 49 মিনিটে একবার করে চালাতে চাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে নিচের মতো করে কমা দিয়ে মিনিট উল্লেখ করে দিন –

5,17,49  *    *    *    *    /path/to/job

একইভাবে দিন, মাস ইত্যাদিও ঠিক করে দেওয়া যায়। হাইফেন দিয়ে রেঞ্জ উল্লেখ করে দেওয়া যায় –

5    6-11   *    *    *    /path/to/job

এই ক্রন জবটি সকাল ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় চলবে (৬টা ৫, ৭টা ৫, …, ১১টা ৫ মিনিটে)।

কোনো জব যদি প্রতি ঘণ্টা/সপ্তাহ/মাস/বছরে একবার করে চালানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে ওপরের মতো * দিয়ে সব সিলেক্ট না করে কিছু বিশেষ স্ট্রিং-ও ব্যবহার করতে পারেন। যেমন : কোনো জব যদি প্রতিবার কম্পিউটার চালু হওয়ার পর এক্সিকিউট করার প্রয়োজন হয়, তাহলে @reboot স্ট্রিং ব্যবহার করতে পারেন।

@reboot    /path/to/job

এভাবে @hourly, @daily, @weekly, @monthly, @yearly ব্যবহার করে যেকোনো ক্রন জব সেট করা যায়।

রুট হিসেবে কোনো ক্রন জব সেট করতে চাইলে রুট ইউজার হিসেবে লগ ইন করে নিতে হবে। অথবা sudo crontab -e ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনো ইউজারের ক্রনট্যাব এডিট করতে চাইলে –

$ crontab -u <username> -e

তো ক্রন জবের মৌলিক বিষয়গুলো আমরা মোটামুটি শিখে ফেললাম। এবার একটি প্রজেক্ট করা যাক 😉

প্রতিদিন আমরা অনেক প্রকার ফাইল ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করি। সেগুলো সাধারণত Downloads ডিরেক্টরিতে গিয়ে জমা হয়। এখন আমরা একটি সহজ ব্যাশ স্ক্রিপ্ট লিখব, স্ক্রিপ্টটি Downloads থেকে মিউজিক, ভিডিও, ছবি, ডকুমেন্ট যথাক্রমে Music, Videos, Pictures ও Documents ডিরেক্টরিতে, এবং বাকি ফাইলগুলো Others ডিরেক্টরিতে নিয়ে রাখবে। এতে আমাদের ফাইলগুলো গোছানো থাকবে, প্রয়োজনের সময় খুঁজে পেতে সুবিধা হবে। স্ক্রিপ্টটি আমরা ক্রনট্যাবে যোগ করে দেব, যাতে প্রতিবার কম্পিউটার অন করার পর Downloads ফোল্ডারটি পরিষ্কার হয়ে যায়।

#!/usr/bin/env bash

# redirect standard error to a black hole ;)
exec 2> /dev/null

# create Others directory, if not present
if [[ ! -d ~/Others/ ]]
then
    mkdir ~/Others/
fi

# move files to their destination
cd ~/Downloads/
mv *.jpg *.jpeg *.png *.gif *.svg  ~/Pictures/
mv *.mp4 *.mkv *.webm              ~/Videos/
mv *.mp3 *.wav *.aac *.m4a         ~/Music/
mv *.docx *.doc *.odt *.uot *.pdf  ~/Documents/

# move the rest to ~/Others
mv *                               ~/Others/

ওপরের স্ক্রিপ্টটি লিখে (বা কপি করে) ~/.my_scripts/ ডিরেক্টরিতে নিয়ে রাখুন। ফাইলের এক্সটেনশন হবে .sh। ধরি ফাইলটির নাম cleaner.sh। এখন ফাইলটিকে এক্সিকিউশন পারমিশন দিতে হবে –

$ chmod u+x ~/.my_scripts/cleaner.sh

এবার ক্রনট্যাব ওপেন করে (crontab -e) নিচের লাইনটি যোগ করুন (আগে যোগ করা ক্রন জবগুলো মুছে ফেলতে পারেন)।

@reboot    ~/.my_scripts/cleaner.sh

ফাইলটি সেভ করে নিন। এবার সারাদিনে যা কিছুই ডাউনলোড করুন না কেন, পরেরবার কম্পিউটার অন করার পরে Downloads ফোল্ডারটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। এতে নতুন ডাউনলোড করা ফাইলগুলো সহজে খুঁজে পাবেন। যদি প্রতিবার রিবুটে ফাইলগুলো সরাতে না চান, তাহলে @reboot-এর পরিবর্তে @weekly সেট করতে পারেন। এতে প্রতি রবিবার ফাইলগুলো যার যার নির্ধারিত ফোল্ডারে চলে যাবে।

এবার আপনার কাজ হচ্ছে রবিবারের পরিবর্তে জবটি প্রতি শুক্রবারে সেট করা। যদি করতে পারেন, তাহলে ক্রন জবের ব্যবহার আপনার কাছে পরিষ্কার, না পারলে আর্টিকেলটি কিছুক্ষণ পর আবার পড়তে পারেন।

ক্রন নিয়ে আরো জানতে চাইলে উবুন্টুর কমিউনিটি হেল্প উইকি দেখতে পারেন – https://help.ubuntu.com/community/CronHowto

মোশারফ হোসেন

প্যালিনড্রোম

একটি স্ট্রিংকে উল্টে দিলে যদি সেই স্ট্রিংটি আবার পাওয়া যায়, তাকে বলা হয় Palindrome (প্যালিনড্রোম)। বেশিরভাগ প্রোগ্রামারই এর সঙ্গে পরিচিত, বিশেষ করে প্রথম প্রোগ্রামিং শেখার সময় অনেক বইতেই এই বিষয়ের ওপর অনুশীলনী বা উদাহরণ দেওয়া থাকে।

source – https://www.deviantart.com/rose-xx-15412/art/Palindrome-Cow-364640478

একটি স্ট্রিং প্যালিন্ড্রোম কী না, সেটি পরীক্ষা করার উপায় কী? একটি উপায় হচ্ছে, স্ট্রিংটি উলটে দিয়ে আরেকটি স্ট্রিং তৈরি করা। তারপর তাদের মধ্যে তুলনা করে দেখা।

কাজটি আমরা পাইথন ব্যবহার করে খুব সহজেই করে ফেলতে পারি।

def is_palindrome(s):
    return s == s[::-1]

আবার আমরা স্ট্রিংয়ের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে একটি একটি করে অক্ষর তুলনা করেও প্যালিনড্রেম পরীক্ষা করতে পারি।

def is_palindrome(s):
    l = len(s)
    indx1 = l // 2 - 1
    indx2 = (l + 1) // 2
    while indx1 >= 0 and indx2 < l:
        if s[indx1] != s[indx2]:
            return False
        indx1, indx2 = indx1 - 1, indx2 + 1

    return True

দুটি ফাংশনই একই উদ্দেশ্য সাধন করবে, কিন্তু একটু আলাদভাবে। এখন পাঠকদের কাছে প্রশ্ন – প্রথম ও দ্বিতীয় ফাংশনের টাইম ও স্পেস কমপ্লেক্সিটি কত?

ডেটাবেজে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ – ১

ডেটাবেজে নিরাপদভাবে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা।

একবার একটা ওয়েবসাইটে ভুল পাসওয়ার্ড দিয়েছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড যে ভুল, সেই এরর মেসেজ স্ক্রিনে চলে আসল – “Hi subeen, your given password doesn’t match with the correct password a1b2c3. Please try again!”. ওই ওয়েবসাইটের প্রোগ্রামার আসলেই অনেক পরোপকারী (এর মানে হচ্ছে হেল্পফুল)। তো সবাই আবার ব্যবহারকারীর জন্য এত বেশি চিন্তা করে না। কয়েকবছর আগে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইকমার্স ওয়েবসাইটে (যেখান থেকে সবাই বই কিনে) পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ায় সেটা রিসেট করতে দিই। তখন ইমেইলে ওরা সঠিক পাসওয়ার্ড পাঠিয়ে দেয়। কী চমৎকার, আমার আর কষ্ট করে নতুন পাসওয়ার্ড দিতে হলো না। বুঝা গেল যে তাদের প্রোগ্রামাররাও বেশ ভালো মানুষ, ব্যবহারকারীদের বেশি কষ্ট দিতে চান না। কিন্তু একটা কথা আছে, বেশি ভালো ভালো না। এজন্যই আজকের এই আর্টিকেল।

ডেটাবেজে আসলে পাসওয়ার্ড কখনও সরাসরি সংরক্ষণ করতে হয় না। করলে কী সমস্যা? অনেকেই একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করে। এখন কেউ যদি ডেটাবেজে প্রবেশ করে একজনের পাসওয়ার্ড জেনে যায়, তাহলে তার একাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলো। আবার ওই ব্যক্তির অন্যান্য ওয়েবসাইটের একাউন্টেও ওই পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, যদি সে অন্য জায়গায়ও একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। তাই ডেটাবেজে কখনো সরাসরি পাসওয়ার্ড সেভ করতে হয় না। তাহলে উপায় কী?

ডেটাবেজে পাসওয়ার্ড সেভ করার জন্য সাধারণত পাসওয়ার্ডকে একটি হ্যাশ ফাংশনের মাধ্যমে পরিবর্তন করে তারপরে সেভ করতে হয়। এতে করে কেউ ডেটাবেজে একসেস পেয়ে গেলেও আসল পাসওয়ার্ড জানতে পারবে না। তাহলে একাউন্ট তৈরির সময় পাসওয়ার্ড সেভ করার অ্যালগরিদমটি কীরকম হবে?

  • ধরি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সময় কেউ তার ইউজারনেম u এবং পাসওয়ার্ড p দিল। u ও p এখানে স্ট্রিং।
  • ব্যাকএন্ডে, p-কে একটি হ্যাশ ফাংশনের মাধ্যমে আরেকটি স্ট্রিং hp-তে রূপান্তর করা হলো। এমন হ্যাশ ফাংশন ব্যবহার করতে হবে যেন, hp জানলে কেউ সেটি থেকে p বের করতে না পারে।
  • ডেটাবেজে ইউজারনেম u এবং পাসওয়ার্ড hp সেভ করা হলো।

এখন ধরা যাক একাউন্ট তৈরি করা হয়ে গেছে। লগিন করার সময় কীভাবে পাসওয়ার্ড পরীক্ষা করতে হবে?

  • লগিন করার সময় ইউজারনেম u এবং পাসওয়ার্ড p দেওয়া হলো।
  • একাউন্ট তৈরির সময় পাসওয়ার্ডের জন্য যেই হ্যাশ অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়েছিল, একই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে p-কে p1-এ রূপান্তর করতে হবে।
  • ডেটাবেজে কুয়েরি চালিয়ে ইউজারনেম u-এর সাথে পাসওয়ার্ড যেটি আছে, সেটি বের করে আনা হলো। ধরা যাক, সেটি হচ্ছে p2.
  • p1 ও p2 স্ট্রিংদুটি যদি সমান হয়, তাহলে পাসওয়ার্ড সঠিক।

এখন কথা হচ্ছে, আমরা কীরকম হ্যাশিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করবো? হ্যাশিংয়ের জন্য বিভিন্ন রকম অ্যালগরিদম রয়েছে, এর মধ্যে কিছু অ্যালগরিদম অনেক শক্তিশালী, আবার কিছু হচ্ছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল। তাই বিষয়টি জেনেশুনে ব্যবহার করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষায় হ্যাশিংয়ের জন্য লাইব্রেরি থাকে এবং সেখানে বিভিন্ন অ্যালগরিদম ইমপ্লিমেন্ট করে দেওয়া থাকে। তাই নিজে নতুন করে ইমপ্লিমেন্ট না করে লাইব্রেরি ফাংশন ব্যবহার করতে হবে, তাহলে বাগ থাকার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।

এই লেখায় আমি ডেটাবেজে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করার যেই ধারণা দিলাম, এটি হচ্ছে মূল ধারণা। তবে এর সঙ্গে কিছু জিনিস সংযোগ করে বিষয়টি আরো নিরাপদ করা যায়। পরবর্তী কোনো সময়ে সেই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার ইচ্ছা রইল।

পাইথন দিয়ে এপিআই ব্যবহার – ৩য় পর্ব

আমরা আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার জন্য একটি প্রোগ্রাম মোটামুটি দাঁড় করিয়ে ফেলেছি। প্রোগ্রামটি Open Weather API ব্যবহার করে বর্তমান সময়ের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য সংগ্রহ করে। তারপর সেটি ডেটাবেজে সংরক্ষণ করে। আমরা এখানে বেশ কয়েকটি কাজ করছি, কিন্তু সবগুলো কাজ একই জায়গায় করছি। আমাদের উচিত, কাজগুলো আলাদা ফাংশনে করা এবং ফাংশনগুলো এমনভাবে তৈরি করা যেন একটি ফাংশন একটি নির্দিষ্ট কাজ করে।

আমাদের প্রথম কাজটি ছিল ডেটাবেজ টেবিল তৈরি করা। তারপরের কাজ হচ্ছে আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করা। সবশেষের কাজ হচ্ছে আবহাওয়ার তথ্য ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা। তাহলে আমরা প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা ফাংশন তৈরি করতে পারি।

আমি নিচে ফাংশনগুলো দেখিয়ে দিলাম। ফাংশনগুলো পুরোপুরি তৈরি করার দায়িত্ব পাঠকের।

def create_table():
   pass


def get_weather_data():
   pass


def store_weather_data():
   pass


if __name__ == "__main__":
   # create database connection
   conn = sqlite3.connect('example.db')
   c = conn.cursor()

   # create table if it doesn't exist
   create_table()

   # get weather info from open weather map api
   temperature, humidity = get_weather_data()

   # store weather data into database
   store_weather_data(temperature, humidity)

   # close database connection
   conn.close()

ওপরের কোডকে আমরা বলতে পারি মডিউলার (modular) কোড। প্রোগ্রামটি এখন পড়তে ও বুঝতে আগের চেয়ে সহজ। নতুন প্রোগ্রামাররা প্রায়শই মডিউলার কোড লিখতে পারে না, সবকিছু এক জায়গায় লিখে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলে। তাই মডিউলার কোড লেখা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রোগ্রাম তো আগের চেয়ে সুন্দরভাবে লেখা হলো। কিন্তু আমরা আমাদের প্রোগ্রামে কোথাও এক্সেপশন হ্যান্ডেল করি নি। এক্সেপশন হ্যান্ডেল করার বিষয়টি আমি “পাইথন দিয়ে প্রোগ্রামিং শেখা ২য় খণ্ড” বইতে আলোচনা করেছি। এখন কথা হচ্ছে, কোন কোন জায়গায় এক্সেপশন হ্যান্ডেল করা উচিত? আমাদের প্রোগ্রামে আমি তিনটি জায়গা দেখতে পাচ্ছি যেখানে ঝামেলা হতে পারে – 

  • আমরা যখন এপিআই কল করছি, সেখানে যদি ইন্টারনেট কানেকশনে কোনো ঝামেলা হয়, কিংবা সার্ভারে কোনো সমস্যা হয়, তখন আমাদের প্রোগ্রাম ক্র্যাশ করবে।
  • আমরা যখন জেসন (json) ডেটা থেকে তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতা নিচ্ছি, সেখানে ডিকশনারি ব্যবহার করা হচ্ছে। যদি কি (key) না থাকে, তখন প্রোগ্রাম ক্র্যাশ করতে পারে।
  • এসকিউএল কুয়েরি (যেমন, ডেটা ইনসার্ট) ঠিকভাবে না চললে, তখন এরর দিবে এবং সেটিও কোডে ঠিকঠাক হ্যান্ডেল করতে হবে।

পাইথন দিয়ে এপিআই ব্যবহার – ২য় পর্ব

আগের লেখায় আমরা আবহাওয়ার তথ্য কেবল স্ক্রিনে প্রিন্ট করেছিলাম। এবারে সেটি ডেটাবেজে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করবো। ডেটাবেজ হিসেবে এসকিউলাইট ব্যবহার করা হবে। ডেটাবেজ নিয়ে যাদের কোনো ধারণা নেই, তারা আমার এসকিউলাইট পরিচিতি ভিডিও সিরিজ দেখে নিলে সুবিধা হবে।

আমরা পাইথন প্রোগ্রাম থেকেই temperature নামে একটি টেবিল তৈরি করবো। এই টেবিলের প্রথম কলাম হবে একটি id নামক একটি ইন্টিজার। এটিকে আমরা প্রাইমারি কি, নট নাল এবং অটো-ইনক্রিমেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে দিবো। যারা এই কথাটির অর্থ বুঝতে পারে নাই, তাদের চিন্তার কিছু নাই। এই কথার অর্থ না বুঝলেও লেখাটি পড়তে ও প্রোগ্রাম করতে কোনো সমস্যা হবে না। টেবিলে আমরা তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতা ছাড়াও তারিখ ও সময় সংরক্ষণ করব। 

পাইথন দিয়ে কিভাবে এসকিউলাইট ব্যবহার করতে হয়, সেটি জানা যাবে এখানে – https://docs.python.org/3/library/sqlite3.html। এখন টেবিল তৈরি করার জন্য আমরা এই কোড ব্যবহার করতে পারি –

import sqlite3
conn = sqlite3.connect('example.db')
c = conn.cursor()
c.execute('''CREATE TABLE IF NOT EXISTS temperature (id INTEGER PRIMARY KEY AUTOINCREMENT, temp REAL, humidity REAL, datetime TEXT)''')

আর বর্তমান তারিখ ও সময় বের করার জন্য এরকম কোড লিখব –

import datetime
current_time = datetime.datetime.now()

তাহলে আমার পুরো প্রোগ্রামটি দাঁড়াবে এরকম –

import requests
import json
import sqlite3
import datetime

conn = sqlite3.connect('example.db')
c = conn.cursor()
c.execute('''CREATE TABLE IF NOT EXISTS temperature (id INTEGER PRIMARY KEY AUTOINCREMENT, temp REAL, humidity REAL, datetime TEXT)''')

BASE_URL = "http://api.openweathermap.org/data/2.5/weather"

payload = {"id": "1337179", "APPID": "your api key"}

r = requests.get(BASE_URL, params=payload)
result = r.json()

temperature = result["main"]["temp"]
humidity = result["main"]["humidity"]

current_time = datetime.datetime.now()

c.execute('INSERT INTO temperature (temp, humidity, datetime) VALUES(?, ?, ?)', (temperature, humidity, current_time))

conn.commit()
conn.close()

এখন ওপরের প্রোগ্রামটি রান করলে ডেটাবেজে তাপমাত্রার তথ্য সংরক্ষিত হবে। আমরা টার্মিনাল থেকে বিষয়টি পরীক্ষা করতে পারি। যেই ফোল্ডার বা ডিরেক্টরি থেকে আমরা weather_info.py ফাইলটি রান করেছি, টার্মিনাল থেকে সেখানে গিয়ে আমরা এসকিউলাইট চালু করে তারপর টেবিলের ডেটা দেখতে পারি।

$ sqlite3 example.db
SQLite version 3.24.0 2018-06-04 14:10:15
Enter ".help" for usage hints.
sqlite> select * from temperature;
1|292.18|56.0|2019-07-29 23:35:32.797251

আমার কম্পিউটারে প্রোগ্রামটি ঠিকঠাক রান করেছে এবং ডেটাবেজেও ডেটা সংরক্ষিত হয়েছে। আশা করি, প্রোগ্রামটি লিখতে পেরে অনেকেই আনন্দিত হয়েছে। কিন্তু আমি যদি চাকরির ইন্টারভিউতে কাউকে এই কাজটি করতে দিই, এবং সে এরকম কোড লিখে, তাহলে তাকে আমি ইন্টারভিউতে পাশ করাব না। তাহলে কিরকম কোড লিখতে হবে? আলোচনা করব পরবর্তী পর্বে

পাইথন দিয়ে এপিআই ব্যবহার – ১ম পর্ব

পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনেক ডেটা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে। সেই সঙ্গে তারা এপিআই (API)-এর মাধ্যমে সেসব ডেটা যেন অন্যরা পেতে পারে, তার ব্যবস্থাও রাখে। অনেক সময় সেই ডেটা পেতে হলে যেই এপিআই ব্যবহার করতে হয়, সেজন্য মূল্য পরিশোধ করতে হয়, আবার কখনও কখনও বিনামূল্যেও অনেক ডেটা পাওয়া যায়। আবহাওয়া সংক্রান্ত ডেটা, শেয়ার বাজারের ডেটা, মুদ্রার বিনিময় হার, ভৌগলিক বিভিন্ন ডেটা ইত্যাদি অনেক রকমের ডেটাই এপিআই ব্যবহার করে পাওয়া যায়। এখন এই লেখায় আমরা দেখবো, পাইথন প্রোগ্রামে আবহাওয়া সংক্রান্ত এপিআই ব্যবহার করে কিভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হয়।

আমরা যদি Weather API লিখে গুগলে সার্চ করি, তাহলে প্রথম পৃষ্ঠাতেই ওপেন ওয়েদার ম্যাপ-এর একটি লিঙ্ক আসবে (https://openweathermap.org/api)। এখানে বিভিন্ন এপিআই আছে, যেখানে বর্তমান সময়ের আবহাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়, আবার আবহাওয়ার পূর্বাভাস (forecast) পাওয়ার জন্যও সেখানে এপিআই আছে। আমরা দেখবো বর্তমান সময়ের আবহাওয়ার তথ্য কিভাবে পেতে পারি। সেজন্য আমাদের যেতে হবে Current weather data সেকশনে। এখন, এই এপিআই ব্যবহার করার জন্য একটি এপিআই কি (API Key) প্রয়োজন হবে, আর এই বিষয়ে বিস্তারিত লেখা আছে https://openweathermap.org/appid লিঙ্কে। ওখানে গিয়ে appid (যা আসলে API Key) সেই সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। নতুন যেকোনো এপিআই ব্যবহার করার সময় আমাদেরকে ডকুমেন্টেশন পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। অনেক সময় ডকুমেন্টেশন না পড়ে কেবল উদাহরন বা নমুনা কোড দেখলেই বুঝা যায় যে এপিআই কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, তবে আমার পরামর্শ হবে, সবসময় ডকুমেন্টেশন পড়ার চেষ্টা করা। তাতে হয়ত ঘণ্টা খানেক বেশি সময় লাগবে, কিন্তু একটা জিনিস ভালোভাবে জানা হয়ে গেলে ব্যবহার করা সহজ হয় এবং অনাকাঙ্খিত অনেক ঝামেলা এড়ানো যায়।

ওপেন ওয়েদার ম্যাপের এপিআই কি পেতে হলে সেখানে সাইন আপ করতে হবে বা একাউন্ট তৈরি করতে হবে। একাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে https://home.openweathermap.org/api_keys পেজ থেকে এপিআই কি পাওয়া যাবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন এপিআই কি তৈরি করতে হবে।
এখন আমরা চলে যাব, এপিআই-এর ডকুমেন্টেশনে, যেখান থেকে জানা যাবে যে, এপিআই কীভাবে ব্যবহার করতে হবে। ডকুমেন্টেশনের লিঙ্ক হচ্ছে https://openweathermap.org/current। আমরা ঢাকা শহরের জন্য আবহাওয়ার তথ্য জানতে চাইব, আর সেজন্য city id ব্যবহার করতে হবে। ঢাকা শহরের city id জানার জন্য http://bulk.openweathermap.org/sample/ ওয়েবপেজ থেকে city.list.josn ফাইলটি ডাউনোড করে dhaka লিখে সেই ফাইলে সার্চ করতে হবে। তো আমি এভাবে জানতে পারলাম যে, ঢাকার city id হচ্ছে 1337179. তাহলে ওয়েব ব্রাউজারে আমরা যদি http://api.openweathermap.org/data/2.5/weather?id=1337179&APPID=xyz ঠিকানায় যাই, তাহলে আমরা ঢাকা শহরের আবহাওয়ার তথ্য দেখতে পাবো। xyz-এর জায়গায় এপিআই কি বসাতে হবে। এখন, এই তথ্য আমরা পাইথন প্রোগ্রামের সাহায্যে পাওয়ার ব্যবস্থা করবো। এজন্য আমরা requests মডিউল ব্যবহার করবো। এই মডিউল সম্পর্কে উদাহরণসহ আলোচনা করেছি “পাইথন দিয়ে প্রোগ্রামিং শেখা দ্বিতীয় খণ্ড” বইতে।

import requests

URL = "http://api.openweathermap.org/data/2.5/weather"
payload = {"id": "1337179", "APPID": "7dd241yyyycd16xxxx"}

r = requests.get(URL, params=payload)

print(r.text)

প্রোগ্রামটি রান করলে নিচের মতো একটি আউটপুট পাবো –

{"coord":{"lon":90.42,"lat":24.17},"weather":[{"id":721,"main":"Haze","description":"haze","icon":"50n"}],"base":"stations","main":{"temp":300.15,"pressure":1001,"humidity":88,"temp_min":300.15,"temp_max":300.15},"visibility":3500,"wind":{"speed":3.6,"deg":90},"clouds":{"all":75},"dt":1564268448,"sys":{"type":1,"id":9145,"message":0.0091,"country":"BD","sunrise":1564269901,"sunset":1564317863},"timezone":21600,"id":1337179,"name":"Dhaka Division","cod":200}

এখন আমরা এই আউটপুট কপি করে https://jsonformatter.org/json-pretty-print ওয়েবসাইটে বসিয়ে সুন্দর করে দেখতে পারি। অথবা পাইথন প্রোগ্রামটি একটু পরিবর্তন করেও দেখা যায়। আগের কোডে নিচের দুটি লাইন যুক্ত করতে হবে – 

result = r.json()
print(json.dumps(result, indent=4))

আর প্রোগ্রামের শুরুতে json মডিউল ইমপোর্ট করতে হবে। এখন প্রোগ্রাম রান করলে সুন্দরভাবে আউটপুট দেখা যাবে। 

আমাদের দরকার আজকের দিনের বর্তমান তাপমাত্রা, যেটি আমরা পাব result[“main”][“temp”]-এ। আর সেই সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতার তথ্যও আমরা নেব, আর সেটি পাব result[“main”][“humidity”]-তে। এখন তাপমাত্রা আমরা কোন এককে পাচ্ছি? এটি ডকুমেন্টেশন পড়লেই বুঝা যাবে (এখানে – https://openweathermap.org/current#current_JSON)। 

আমাদের প্রোগ্রামটি এখন দাঁড়াচ্ছে এমন – 

import requests
import json

BASE_URL = "http://api.openweathermap.org/data/2.5/weather"

payload = {"id": "1337179", "APPID": "7dd241yyyycd16xxxx"}

r = requests.get(BASE_URL, params=payload)
result = r.json()

print("Temperature", result["main"]["temp"])
print("Humidity", result["main"]["humidity"])

পরের লেখায় আমরা দেখবো, কিভাবে এই তথ্য আমরা একটি ডেটাবেজে সংরক্ষণ করতে পারি।

নোট – ওপরের প্রোগ্রামগুলোতে 7dd241yyyycd16xxxx এর বদলে নিজের একাউন্ট থেকে সঠিক APP ID বসাতে হবে।

পাইথন দিয়ে সর্টিং – ২য় পর্ব

পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষায় সর্ট করার পদ্ধতি।

আগের পর্বে আমরা দেখেছি কীভাবে পাইথনের বিল্টইন ফাংশন ব্যবহার করে সর্টিং করা যায়। এই লেখায় আমরা আরেকটু জটিল সর্টিংয়ের কাজ করব, তবে বিল্টইন ফাংশন ব্যবহার করেই কাজগুলো করা হবে।

ধরা যাক, একটি লিস্টে বিভিন্ন ফলের নাম এবং সেই ফল কতগুলো করে আছে, সেটি দেওয়া আছে – fruits = [(‘orange’, 3), (‘apple’, 3), (‘banana’, 2), (‘mango’, 10), (‘guava’, 5)]

এখন এই লিস্টকে আমরা যদি সর্ট করি, তাহলে ফলের নাম অনুসারে সর্ট হয়ে যাবে –

>>> fruits = [('orange', 3), ('apple', 3), ('banana', 2), ('mango', 10), ('guava', 5)]
>>> print(sorted(fruits))
[('apple', 3), ('banana', 2), ('guava', 5), ('mango', 10), ('orange', 3)]

ফলের নাম অনুসারে সর্ট হওয়ার কারণ কী? ফলের সংখ্যা অনুসারেও তো সর্ট হতে পারত। এখানে প্রতিটি টাপলের প্রথম উপাদান সেই টাপলের প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন, টাপলে আমরা যদি আগে সংখ্যা লিখতাম, তারপরে ফলের নাম লিখতাম, তাহলে সংখ্যা অনুযায়ী সর্ট হতো।

কিন্তু আমরা যদি চাই, আমাদেরকে যেই লিস্ট দেওয়া আছে সেটি ফলের নাম নয়, বরং সংখ্যা অনুসারে সর্ট করা হবে, তখন কী করতে হবে? প্রতিটি টাপলের দ্বিতীয় উপাদানটি যদি সেই টাপলের প্রতিনিধিত্ব করত, তাহলে কিন্তু আমরা কাঙ্ক্ষিত উপায়ে সর্ট করতে পারতাম। sorted() ফাংশনে key নামে একটি প্যারামিটার আছে, যার মাধ্যমে আমরা বলে দিতে পারি, কোন উপাদানটির ওপর ভিত্তি করে সর্ট করার কাজটি হবে। key-তে আসলে একটি ফাংশন দেওয়া হয়, আর যেই লিস্ট সর্ট করতে হবে, তার প্রতিটি উপাদান সেই ফাংশনের মধ্যে পাঠানো হয়। ফাংশনটি একটি উপাদান রিটার্ন করবে, যার ওপর ভিত্তি করে সর্টিং হবে। তাহলে আমরা এখানে যেই কাজটি করতে চাচ্ছি, সেখানে এমন একটি ফাংশন লিখতে হবে, যা (‘apple’, 3) ইনপুট নিবে আর 3 রিটার্ন করবে।

def compare_fnc(item):
    return item[1]

fruits = [('orange', 3), ('apple', 3), ('banana', 2), ('mango', 10), ('guava', 5)]
print(sorted(fruits, key=compare_fnc))

ওপরের কোড রান করলে দেখা যাবে ফলের সংখ্যা অনুযায়ী ছোট থেকে বড় ক্রমে সর্ট করা হয়ে গিয়েছে।

[('banana', 2), ('orange', 3), ('apple', 3), ('guava', 5), ('mango', 10)]

বড় থেকে ছোট ক্রমে সর্ট করতে চাইলে লিখতে হবে sorted(fruits, key=compare_fnc, reverse=True).

পাইথনে operator মডিউলে একটি ফাংশন আছে itemgetter, যেটি ব্যবহার করে আমরা ওপরের কাজটি আরো সহজে করতে পারি, আমাদের নিজেদের কষ্ট করে ফাংশন তৈরি করতে হবে না।

from operator import itemgetter

fruits = [('orange', 3), ('apple', 3), ('banana', 2), ('mango', 10), ('guava', 5)]
print(sorted(fruits, key=itemgetter(1)))

ওপরের কোডে itemgetter(1) এর বদলে itemgetter(0) লিখলে ফলের নাম অনুযায়ী সর্ট হয়ে যাবে। এখন আমরা যদি চাই, প্রথমে ফলের সংখ্যা অনুযায়ী সর্ট হবে, তারপরে যেসব ফলের সংখ্যা সমান, তাদের মধ্যে নাম অনুযায়ী সর্ট হবে, তাহলে কী করতে হবে? মানে আমাদের আউটপুট (‘orange’, 3′), (‘apple’, 3) ক্রমে না এসে (‘apple’, 3), (‘orange’, 3) ক্রমে আসবে। কাজটি সহজেই করা যায় এভাবে –

>>> fruits = [('orange', 3), ('apple', 3), ('banana', 2), ('mango', 10), ('guava', 5)]
>>> print(sorted(fruits, key=itemgetter(1, 0)))
[('banana', 2), ('apple', 3), ('orange', 3), ('guava', 5), ('mango', 10)]

এখান আমরা itemgetter(1, 0) ব্যবহার করেছি। কিন্তু এখন আমরা যদি চাই, ফলের সংখ্যার বড় থেকে ছোট ক্রমে সর্ট হবে আর যেসব ফলের সংখ্যা সমান, তারা নাম অনুযায়ী ছোট থেকে বড় ক্রমে সর্ট হবে, তখন কী করতে হবে? তাহলে দুইবার সর্ট করার কাজটি করতে হবে –

>>> fruits = [('orange', 3), ('apple', 3), ('banana', 2), ('mango', 10), ('guava', 5)]
>>> print(fruits)
[('orange', 3), ('apple', 3), ('banana', 2), ('mango', 10), ('guava', 5)]
>>> fruits = sorted(fruits, key=itemgetter(0))
>>> print(fruits)
[('apple', 3), ('banana', 2), ('guava', 5), ('mango', 10), ('orange', 3)]
>>> fruits = sorted(fruits, key=itemgetter(1), reverse=True)
>>> print(fruits)
[('mango', 10), ('guava', 5), ('apple', 3), ('orange', 3), ('banana', 2)]

ওপরের পদ্ধতি কাজ করে, কারণ পাইথনের sorted() ফাংশন stable সর্ট করে। sort()-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।