ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার

স্মার্টফোনের জন্য ফেসবুক মেসেঞ্জারের স্বতন্ত্র ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে ফেসবুক। তাই বলে ভাববেন না যে ফেসবুক বন্ধুদের সাথে চ্যাট করা বন্ধ করে দিয়েছে। ফেসবুক কখনোই মেসেঞ্জারকে ফেসবুক থেকে বাদ দিবে না। বরং আজ থেকে messenger.com দিয়ে মেসেঞ্জারের জন্য নতুন ওয়েব ব্রাউজার ভার্সন চালু করেছে, যেখানে আপনি বন্ধুদের সাথে শুধুমাত্র চ্যাট করতে পারবেন। আপনি যদি নিউজ ফিড আপডেট বা বন্ধুদের প্রোফাইল দেখতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে ফেসবুকের মূল ওয়েবসাইটে যেতে হবে । এই ফেসবুক মেসেঞ্জারের একটাই উদ্দেশ্য সেটা হচ্ছে তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদান (ম্যাসেজিং)। কেবল চালু হওয়া এই ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনটি মোবাইল এবং ডেক্সটপে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ডেস্কটপে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এখানে আপনি ছবি, স্টিকার, সিগনেচার ইত্যাদি পাঠাতে পারলেও এখনো ডেস্কটপে কোনো ভয়েস ম্যাসেজ রেকর্ড বা পাঠানোর সুবিধা যোগ করা হয়নি। একটি মেন্যু সেটিংস রয়েছে যেটি দিয়ে আপনি সাউন্ড ইফেক্ট বন্ধ বা চালু করতে পারবেন। তবে আপনি যদি কাউকে ব্লক করতে চান বা গোপনীয়তা পরিবর্তন করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে ফেসবুকের প্রধান ওয়েবসাইটে যেতে হবে। যদি আপনি শুধু মাত্র চ্যাট করতে চান তবে এটি আপনার জন্য একটি চমৎকার অ্যাপ।

লেখকঃ ইমরান হোসেন।

লুমিয়া ৪৩০ : সবচেয়ে কম মূল্যের উইন্ডোজ স্মার্টফোন

মাইক্রোসফট, নোকিয়া অধিগ্রহণের পর থেকে অনেকেই ধরে নিয়েছিল লুমিয়া স্মার্টফোন তাদের গুণগত মান হারিয়ে ফেলবে। একই সাথে স্মার্টফোনগুলো তাদের নানা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হারাবে বলেও অনেক শঙ্কিত ছিল। তবে মাইক্রোসফট অধিগ্রহণের পর থেকে যে সকল স্মার্টফোন ঘোষণা করেছে তার কোনটিই উইন্ডোজ ফোনের ফ্যানদের হতাশ করেনি। বরং এক অর্থে নকিয়ার স্মার্টফোনগুলোর তুলনায় নানা দিক থেকে এগুলো ছিল এগিয়ে। আর দামের দিক থেকেও এ ফোনগুলোর মূল্য ছিল যথেষ্ট কম। সেই একই ধারার সাথে তাল মিলিয়ে আজ মাইক্রোসফট ঘোষণা করল লুমিয়া সিরিজের সবচেয়ে কম দামি ফোন লুমিয়া ৪৩০।

প্রায় কয়েক মাস আগে ঘোষণা করা লুমিয়া ৪৩৫ এবং লুমিয়া ৫৩২ এর পর এবার মাইক্রোসফট ঘোষণা করল লুমিয়া ৪৩০। মাইক্রোসফটের দেয়া বিবৃতি মতে, এটি হবে মাইক্রোসফট লুমিয়া সিরিজের সবচেয়ে কম দামি ফোন। দামের দিক দিয়ে এই ফোনের দাম কম হলেও, সুবিধাসমূহ এর দিক থেকে ফোনটি কোনভাবেই পিছিয়ে নেই। যেখানে আগে নকিয়া দাম কম রাখার জন্যে নানা প্রয়োজনীয় ফিচারস বাদ দিয়ে দিত, মাইক্রোসফট এর কোন ভুলই করেনি। তাদের এই নতুন ফোনে প্রায় সকল উল্লেখযোগ্য ফিচারই বিদ্যমান।

লুমিয়ার এই নতুন ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ২০০ সিরিজের কর্টেক্স এ৭ ভিত্তিক প্রসেসর এবং সাথে আছে ১ গিগাবাইট র‍্যাম। ফলে উইন্ডোজ স্টোরের প্রায় সকল অ্যাপই এতে চালানো যাবে। এছাড়া অ্যাপ ইন্সটলের জন্যে আরও আছে ৮ গিগাবাইট স্টোরেজ। আর যদি এই স্টোরেজও কম মনে হয় তবে মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে এর স্টোরেজ ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে।

লুমিয়া ৪৩০, ছবি: verge.com
লুমিয়া ৪৩০, ছবি: verge.com

এর ৪ ইঞ্চি স্ক্রিনের রেজুলেশন রাখা হয়েছে ৮০০x৪৮০। ফলে এর প্রতি ইঞ্চে পিক্সেল রয়েছে ২৩৫। তবে এর স্ক্রিন আইপিএস নাকি অন্য প্রযুক্তির সেই বিষয়ে কোন ধারনা পাওয়া যায়নি। যেহেতু দাম অনেক কম তাই মাইক্রোসফট ফোনটিতে তাদের বিখ্যাত ডিস্পপ্লে প্রযুক্তিও ব্যবহার করেনি। আসল দাম কম রাখা হয়েছে মূলত এর ক্যামেরা এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২ মেগাপিক্সেল ফিক্সড ফোকাস ক্যামেরা আর সামনে আছে একটি ভিজিএ ক্যামেরা স্কাইপ এবং অন্যান্য ভিডিও কল করার জন্যে।

ব্যাটারির ব্যাকআপের জন্যে এতে আছে ১৫০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি। এখানে উল্লেখ্য যে, এই ফোন উইন্ডোজ ৮.১ এর ডেনিম আপডেটে চলে আর মাইক্রোসফট জানিয়েছে উইন্ডোজ ১০ বের হলে এই ফোন তার আপডেট পাবে।ফোনটিতে আরও আছে স্মার্টডুয়াল সিম সাপোর্ট সুতরাং এর ক্রেতা অনায়াসে এতে দুটি সিম ব্যবহার করতে পারবে।

মাইক্রোসফট মুলত ফোনটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে বের করেছে। ফোনটি আগামী এপ্রিলে এশিয়া, মিডল ইস্ট, আফ্রিকাতে উন্মুক্ত করা হবে। ট্যাক্স এবং অন্যান্য খরচের হিসেব বাদ দিলে এই ফোনের দাম হবে ৭০ ডলার অথবা ৫৪৬৫ টাকা।

লেখক : এহসানুল হক।

ফেসবুক দিয়ে অর্থ আদান-প্রদান

বিগত কয়েক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছিল যে ফেসবুক তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থ আদান প্রদানের ব্যবস্থা শুরু করবে। আর গত বছরের অক্টোবরে যখন একটি কোড ফাঁস হয় এই বিষয়ে তখন প্রায় সকলেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে দ্রুতই এই সুবিধা হয়তোবা চালু হবে। আর আজ ফেসবুক পুরোপুরি ভাবে এই সুবিধা সকল ইউএস নাগরিকের জন্যে চালু করল।

ফেসবুক আজ তাদের অফিশিয়াল ব্লগে এই বিষয়ে একটি খবর প্রকাশ করে। তাদের দেয়া তথ্যমতে, খুব দ্রুতই সেই সুবিধাটি অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস এবং ডেস্কটপে চালু করা হবে। আর ফেসবুক এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। অবশ্য, ফেসবুক ২০০৭ সাল থেকে নানা গেম এবং বিজ্ঞাপন দাতাদের জন্যে ট্র্যান্স্যাকশন নিয়ন্ত্রন করে থাকে আর বর্তমানে তা প্রতিদিন ১০ লক্ষ এর অধিক হয়। সুতরাং মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এই নতুন সুবিধায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের জন্যে খুব একটা সমস্যা হবে না।

নিরাপত্তার বিষয়ে ফেসবুক তাদের ব্লগে বলেছে, “অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ফেসবুক সবসময় নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ত দিয়েছে। আমরা এমন এক মাধ্যম ব্যবহার করি যেখানে সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এনক্রিপ্ট করা হয় এবং এটি ফেসবুক, ব্যবহারকারীর কার্ডের তথ্য সকল ক্ষেত্রেই। আমরা এক্ষেত্রে সর্বাধুনিক হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার করি। একটি এন্টি ফ্রড বিশেষজ্ঞ দল সর্বক্ষণ সকল লেনদেন পর্যবেক্ষণ করে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে।”

ফেসবুকে এই সুবিধা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। এটি বর্তমানে ফেসবুকের ইউএস এর ব্যবহারকারী পাবে। আর এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর ইউএস ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে সংযুক্ত ডেবিট কার্ড থাকতে হবে। ক্রেডিট কার্ডে এ এই সুবিধা রাখা হয়নি নিরাপত্তা এবং অতিরিক্ত ফি এড়ানোর জন্যে।

অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে যা করতে হবে-

১। যাকে পাঠাতে চান তার সাথে মেসেঞ্জারে কনভারসেশনটি চালু করুন
২। ‘$’ ডলার এর এই আইকনটিতে ট্যাপ করুন এবং কত অর্থ পাঠাতে চান তা লিখুন
৩। পে নামক অপশনটিতে ট্যাপ করুন এবং ডেবিট কার্ডের তথ্য দিন

অর্থ গ্রহন করতে যা করতে হবে-

১। কনভারসেশনটি খুলুন
২। ডেবিট কার্ডের তথ্য দিয়ে অর্থ গ্রহন করুন

যদিও অর্থ পাঠানোর সাথে সাথে গ্রাহক তা পাবে তবে তা ব্যাংকে দেখাতে ২-৩ দিন অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। ব্যবহারকারী চাইলে ডেবিট কার্ডের তথ্য দিয়ে সুরক্ষার জন্যে একটি পিন নির্বাচন করতে পারবে। এছাড়া আইওএস ব্যবহারকারীরা টাচ আইডি সুবিধা পাবে। অতিরিক্ত হিসেবে আরেকটি নিরাপত্তা পিনও দেয়া যাবে।

ফেসবুক এ সুবিধা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে চালু করার ফলে মুলত মেসেঞ্জারের গ্রহণযোগ্যতা সকলের কাছে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। গত বছর চ্যাট করার জন্যে আরেকটি অতিরিক্ত অ্যাপ হিসেবে মেসেঞ্জার ব্যবহার করতে সকল ব্যবহারকারীকে বাধ্য করলে নানা সমালোচনার মুখে পরে ফেসবুক। এ নতুন সুবিধা ফলে এটি থেকে কিছুটা উঠে আসতে পারবে ফেসবুক। এছাড়া যদি ফেসবুক ভবিষ্যৎ এ ক্রয় বিক্রয় করার সুবিধা চালু করে তবে আরেকটি নতুন ডাটা পাবে তারা ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে।

তবে বর্তমানে ফেসবুক তাদের ব্যবহারকারিদের এ মাধ্যমে ব্যবহারের সময় বৃদ্ধির দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ফেসবুকে গড়ে ২১ মিনিট করে দিনে সময় কাটায় একজন ইউএস ব্যবহারকারী। যা কিনা একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মোট ব্যবহারের ৬%। হিসেবের দিক থেকে ফেসবুক বর্তমানে গুগলের পিছনে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এ দিক দিয়ে। এখন দেখা যাক ফেসবুকের এই নতুন সুবিধা ব্যবহারকারীর সময় ব্যয়ে কী পরিমাণে পরিবর্তন আনতে পারে।

লেখকঃ এহসানুল হক।

ইউটিউব-এ ৩৬০ ডিগ্রী ভিডিও

জানুয়ারিতে গুগল ঘোষণা করেছিল যে তারা ইউটিউবে খুব জলদিই ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও সার্ভিস চালু করবে। এর ফলে, ইউটিউবে কিছু ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে দর্শককে শুধুমাত্র ক্যামেরার একটি নির্দিষ্ট কোন থেকেই তা দেখতে পারবে না, বরং এর চারিদিক দেখতে পারবে। যে কারনে দর্শক ভিডিও নতুন ভাবে দেখার সুযোগ পাবে যা তারা আগে কখনও পায়নি। অবশ্য জানুয়ারিতে ঘোষণা করা হলেও গুগল সম্প্রতি এই সুবিধা ইউটিউবে চালু করে।

এটি ইউটিউবে একটি নতুন মাধ্যমের সুচনা করে, যেখানে খুব দ্রুতই একাধিক ৩৬০ ডিগ্রি সমৃদ্ধ ইউটিউব ভিডিও দেখার সুযোগ পাবেন। ফলে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও রেকর্ডিং ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরার চাহিদাও ব্যাপাকহারে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা যায়। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে এসকল ক্যামেরা এর দাম মূলত ৩০০-১০০০ ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। আর ইউটিউবের ভিডিও ফরম্যাট যেসকল ক্যামেরা সাপোর্ট করে তার মধ্যে বাবল্ক্যাম, জাইরপ্টিক এর থ্রিসিক্সটিক্যাম, আইসি রিয়েলটেকের অ্যালি, কোডাকের এসপি৩৬০ এবং রিকো থেটা উল্লেখ্য।

ইউটিউবের এ নতুন সুচনার মাধ্যমে ভারচুয়াল রিয়েলিটি হেডসেটগুলোর চাহিদাও এখন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা যায়। এক্ষেত্রে ফেসবুকের ওকুলাস ভিআর এবং গুগলের কার্ডবোর্ড চাহিদার শীর্ষে থাকবে। এ চাহিদা বৃদ্ধি পাবার কারন হবে যে, ভিআর এর মাধ্যমে দর্শক সম্পূর্ণভাবে ওই ভিডিও হবার মুহূর্তে নিজেকে নিয়ে যেতে পারবে। বর্তমানে ইউটিউবের এই নতুন সুবিধা শুধুমাত্র ইউটিউবের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ এবং কম্পিউটারে ক্রোম ব্রাউজারে পাওয়া যাবে। অ্যাপলের আইওএস এর জন্যেও এটি খুব দ্রুত এটি চালু করা হবে বলে গুগল জানিয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের ক্ষেত্রে ফোনটি কিভাবে করে ধরা রয়েছে সে বিবেচনায় ভিডিও কোন দিকে যাবে তা নির্ধারণ করবে অপরদিকে ব্রাউজারের ক্ষেত্রে কার্সর দিয়ে দিয়ে নাড়িয়ে দিক পরিবর্তন করা যাবে।

এ বিষয়ে একটি ব্লগপোস্টে ইউটিউবের এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, “আমরা সকলেই আমাদের নানা ধরনের ভিডিও আমাদের দর্শকদের সাথে শেয়ার করে থাকি। কিন্তু কেমন হত যদি আমরা তার চেয়েও বেশি কিছু শেয়ার করতে পারতাম? যেমন, ভিডিও করার মুহূর্তের পুরো ক্ষণটি?”

তিনি আরও বলেন, “আপনি এখন আপনার দর্শককে আশেপাশের সব কিছু দেখতে দিতে পারবেন হোক তা কনসার্টে, আকাশে অথবা কোন নির্দিষ্ট জায়গায়। অথবা আপনি নিজের একটি অ্যাডভেঞ্চার ভিডিও বানাতে পারেন যেখানে আপনি নির্ধারণ করতে পারবেন কোন দিকে তাকালে দর্শক আসলে কি দেখতে পারবে।”

বর্তমানে কেউ ভিডিও আপলোড করতে চাইলে তাকে গিটহাবে গিয়ে এ বিষয়ে টেকনিক্যাল তথ্য জেনে নিতে হবে এবং একটি পাইথন স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করতে হবে ভিডিও এর মেটাডাটা ঠিক রাখতে। যদিও ইউটিউব চায় পুরো ব্যাপারটি স্বয়ংক্রিয় রাখতে কিন্তু বর্তমানে এই স্ক্রিপ্ট থাকা জরুরী।

অবশ্য এদিকে আরেকটি উল্লেখ্য বিষয় এর ভিডিও কোয়ালিটি সাধারণ ইউটিউবের ভিডিও এর চেয়ে কম হবে কারন এটি সাধারনের তুলনায় ৪-৫ গুণ ব্যান্ডিউইথ বেশি ব্যবহার করে। আর যেহেতু ভিডিওগুলো ২৪- ৩০ ফ্রেম এ চলবে প্রতি সেকেন্ডে তাই কোয়ালিটি খুব বেশি হবে না। বর্তমানে ইউটিউব একটি লিস্ট করে দিয়েছে কিছু ৩৬০ ভিডিও এর যা যে কেউ চাইলে দেখতে পারবে।

লেখকঃ এহসানুল হক।

একুয়ারিস ই৪.৫ – উবুন্টু ফোন

উবুন্টু অনেক বছর ধরেই স্মার্টফোন এবং স্মার্টডিভাইস মার্কেটে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছে। তবে তাদের এই চেষ্টা সত্ত্বেও, খুব একটা সফল তারা হয়ে উঠতে পারেনি কোনো ডিভাইস প্রস্তুতকারক কোম্পানিকে তাদের স্মার্টডিভাইসকেন্দ্রিক ওএস এর প্রতি আকৃষ্ট করতে। তবে তারা তারপরও হাল ছাড়েনি। দেড় বছর আগে তারা ক্রাউডসোর্সের মাধ্যমে উবুন্টু এজ নামে একটি স্মার্টফোন আনার চেষ্টা করেছিল যা কিনা একই সাথে স্মার্টফোন এবং ডেস্কটপের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। যদিও তা বিফলে যায় তাদের বিশাল ৩২ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায়।

তবে উবুন্টু আবার স্মার্টডিভাইস প্রস্তুতের মাধ্যমে এই বাজারে প্রবেশ করার পরিকল্পনা করছে। অবশ্য তাদের এই ফোন তাদের প্রস্তাবিত উবুন্টু এজের মতন মনিটরের সাথে সংযোগ দিলে ডেস্কটপ কম্পিউটারে পরিনত হবে না। তাদের এই নতুন ফোন, যা কিনা একুয়ারিস ই৪.৫ নামে পরিচিত হবে, মূলত প্রথম দিককার ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপারদের কথা চিন্তা করে প্রস্তুত করা। এই নতুন ফোন একটি নতুন কার্ড এর ন্যায় ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করবে যা কিনা বর্তমান অ্যাপকেন্দ্রিক ওএস এর চেয়ে খানিকটা ভিন্ন।

উবুন্টু এই ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে চায়নার বিখ্যাত ব্র্যান্ড শাওমি, যা কিনা বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক হিসেবে পরিচিত, তার বিক্রয় পদ্ধতি অনুসরন করার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ তারা শাওমি এর মতন একাধিক ফ্ল্যাশ সেল করবে। এর মাধ্যমে তারা ফোন সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করবে। ফলে ফোনের প্রস্তুতকরণের উপর চাহিদা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হবে। উবুন্টুর এই সংস্করণের প্রস্তুতকারক ক্যানোনিক্যাল আগামী সপ্তাহ থেকেই ইউরোপে এই বিক্রয় ব্যবস্থা শুরু করবে। এটির মাধ্যমে দ্রুত ফিডব্যাক নিয়ে তার ফলাফল দিয়ে ওএস এ দ্রুত কাজ করাও সম্ভব হবে।

ক্যানোনিক্যালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান পারিনো বলেন, “এই একটি প্রতিষ্ঠিত পরিকল্পনা যা কিনা ফোনটি সঠিক মানুষের কাছে পৌছতে সাহায্য করে।” তিনি আরও বলেন যে, আমরা জানি আমরা পরিবেশকের কাছ থেকে সরে আসছি তবে আমরা এই পরিল্পনা নিয়েই এগোতে চাচ্ছি।”

নতুন এই উবুন্টু ফোন অ্যাপকে এইচটিমিএল৫ অথবা সরাসরি তার ন্যাটিভ কোড কিউএমএল এ চালাতে সক্ষম। তবে এর অপারেটিং সিস্টেম পুরো প্রক্রিয়াকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে এর ইন্টারফেসের মাধ্যমে। আর এর ইন্টারফেস সচরাচর অ্যাপ গ্রিড ভিউ এর পরিবর্তে থিম কার্ড পদ্ধতি অনুসরণ করে যার ফলে কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা একেকটি কার্ড প্রদান করে। ক্যানোনিক্যাল একে স্কোপ বলে যা কিনা খানিকটা গুগলের কার্ড সিস্টেম ইউজার ইন্টারফেস গুগল নাও এর সোয়াইপ কে প্রয়োগ করে বাস্তবায়িত। এটিকে তারা স্কোপস নাম দিয়েছে।

ফোনের হোম স্ক্রিন এখানে হবে আজকের স্কোপ, যেখানে কিনা এমন সব উইজগেট থাকবে যা কিনা ব্যবহারকারী ফোনের সাথে সচরাচর যে কাজ করে থাকে তা তুলে ধরবে। এর মধ্যে থাকতে পারে আবহাওয়া বার্তা , সেদিনকার হেডলাইন অথবা অন্য কোন খবর, টুইটার বার্তা অথবা ব্যবহারকারীর যাদের সাথে সর্বোচ্চ যোগাযোগ করে তা।

উবুন্টু একুয়ারিস ই৪.৫

এছাড়া ডান দিকে সোয়াইপ করলে অন্যান্য স্কোপস এ যাওয়া যাবে যেমন,

  • মিউজিক স্কোপ, যা কিনা সাউন্ডক্লাউড এবং অন্যান্য মিউজিক স্ট্রিমিং সাইট থেকে গান লোদ করে দেখাবে। কোথায় কি কনসার্ট হচ্ছে তা দেখাবে সংকিক অ্যাপ দ্বারা।
  • ভিডিও স্কোপ, যা কিনা ইউটিউব এবং অন্যান্য ভিডিও সার্ভিসের ভিডিও দেখাবে।
  • ফটো স্কোপ, যা কিনা ব্যবহারকারীর সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবি নিয়ে দেখাবে।
  • নিয়ার স্কোপ, যা কিনা আসেপাশের সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ে তথ্য দিবে। যেমন কোথায় ট্রাফিক জ্যাম, কোথায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পাওয়া যাবে এবং রেস্টুরেন্ট।
  • অ্যাপ স্কোপ, যা কিনা ক্যামেরা, ক্যালেন্ডার এবং অন্যান্য প্রোগ্রামে যেতে সাহায্য করবে।

ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব স্কোপও বানাতে পারবে এবং একটি নির্দিষ্ট সেবা তার নিজের স্কোপও পাবে চাইলে। এর মাধ্যমে ক্যাননিক্যালের মতে, ব্যবহারকারীরা যেমন কোন ধরনের বাধা ধরা ছাড়াই কাজ করতে পারবে ফোনে্, ডেভেলপাররা তেমন তাদের অ্যাপ কম খরচে স্কোপের মাধ্যমে তৈরি করতে পারবে যা কিনা একটি পুরনাঙ্গ অ্যাপের ন্যায় কাজ করতে পারবে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট পারিনো বলেন, আপনি যদি আরেকটা ওএস নিয়ে আসেন যার নিজের অ্যাপ এবং আইকন আছে তাহলে আপনার এবং অন্যান্য ওএস এর মধ্যে সত্যিকার অর্থে কোন পার্থক্য নেই। এতে আপনি শুধুমাত্র তখনই ডেভেলপারদের আকৃষ্ট করবেন যখন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যবহারকারী আপনার ওএস ব্যবহার করবে। শুধুমাত্র তখন তারা আপনার ওএস জন্যে অ্যাপ বানানোর কথা চিন্তা করবে আর এতে আপনি ব্যবহারকারীর কাছে তখনই ভাল হবে যখন আপনার অ্যাপ ভাল হবে।

আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে এই মডেল থেকে বের হয়ে আসা এবং এমন একটি অভিজ্ঞতা দেয়া যা কিনা নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবে। সুতরাং আপনি যতই বেশি সেবা প্রদান করবেন আপনার ফোন ততই ভাল হবে। তবে কিছু সেবা এখন পাওয়া যাবে না যেমন ওয়াটসঅ্যাপ, স্কাইপ, এবং ইন্সটাগ্রামের কিছু নির্দিষ্ট ফিচার।

ক্যানোনিক্যাল এখানে লাভ করবে প্রতিষ্ঠানকে সাপোর্ট সার্ভিস প্রদান করে। এই ফোনটি মূলত প্রস্তুত করেছে স্প্যানিশ এক প্রতিষ্ঠান বিকিউ যাদের কিনা ইতোমধ্যে ফোনটির একটি অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ রয়েছে। বিকিউ মুলত প্রায় অজানা একটি ট্যাবলেট এবং ই-রিডার প্রস্তুতকারক।

ফোনটির স্পেসিফিকেশন তেমন আকর্ষণীয় নয়। ৪.৫ ইঞ্চি (৫৪০x৯৬০ রেজুলেশন) স্ক্রিন সাইজের এই ফোনে আছে ১.৩ গিগাহার্জ কোয়াড কোর কর্টেক্স এ৭ ভিত্তিক মিডিয়াটেক প্রসেসর, মালি ৪০০ জিপিউ, ১ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ। ক্যামেরা হিসেবে আছে, ৮মেগাপিক্সেল রিয়ার এবং ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফোনে আরও ডাটা রাখতে এতে রয়েছে মাইক্রোএসডি কার্ড সাপোর্ট এছাড়া আছে ডুয়াল সিম সাপোর্ট। ব্যাকআপ দিতে এতে আছে ২১৫০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফোনটির দাম পড়বে প্রায় ১৯৫ ডলার।

ফোনটি মুলত যারা নতুন কিছু অভিজ্ঞতা করতে চায় এবং উবুন্টুর ভক্তদের মধ্যে একটি যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিষয়টি দ্রুত এমন হতে পারে যখন এসকল ব্যবহারকারী অ্যাপ এর ন্যায় অভিজ্ঞতা এই ফোনগুলো থেকে পেতে যাবে বর্তমান বাজার প্রেক্ষিতে। তবে ইতোমধ্যে দাম হিসেবে এই ফোনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে মটোরলা, মাইক্রোসফট লুমিয়ার মতন ফোন। এখন এবার ক্যানোনিক্যাল সফল হতে পারে কিনা তাদের এই উবুন্টু ওস দিয়ে তাই হল দেখার বিষয়।

আপডেট:

একজন ইউটিউবার প্রথম একটি উবুন্টু ফোনের আনবক্সিং ভিডিও রিলিজ করেছে।

– এহসানুল হক নিটোল।

ফায়ারফক্স হ্যালো

সরাসরি ভিডিও-র মাধ্যমে আলাপচারিতার জন্য ফায়ারফক্স নিয়ে এলো ফায়ারফক্স হ্যালো। এটি ফায়ারফক্স ব্রাউজারের লেটেস্ট ভার্শনে বিল্ট-ইন আছে। ফায়ারফক্স হ্যালোতে ওয়েবআরটিসি (WebRTC) নামক একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই কেবল ফায়ারফক্স নয়, ওয়েবআরটিসি প্রযুক্তি বিশিষ্ট অন্যান্য ব্রাউজার যেমন গুগল ক্রোম কিংবা অপেরাতেও চলবে ফায়ারফক্স হ্যালো।

ফায়ারফক্স হ্যালো দিয়ে অডিও এবং ভিডিও মাধ্যমে আলাপচারিতা করা যাবে। যেহেতু এটি ফায়ারফক্সে বিল্ট-ইন হিসেবে থাকছে, তাই এটি বেশ নিরাপদ বলেই দাবি করেছে ফায়ারফক্সে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মজিলা।

ffh2

ফায়ারফক্স ব্রাউজারের সাম্প্রতিক ভার্শন থাকলে কোনো একাউন্ট তৈরি বা সাইন-ইন করার প্রয়োজন পড়বে না। হ্যালো চালু করে যার সাথে আলাপ করতে চান, তাকে একটি লিঙ্ক পাঠাতে হবে। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলে দুজনের আলাপচারিতা শুরু করা যাবে।

আপনার ব্রাউজারে হ্যালো বাটন খুঁজে না পেলে কিভাবে সেটি খুঁজে পেতে হবে জানতে এখানে ক্লিক করুন। ফায়ারফক্স হ্যালো সম্পর্কে আরো জানা যাবে ওদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে

কোড ইট গার্লের প্রোগ্রামিং কর্মশালা

শেষ হল Code it, Girl-এর প্রথম ইভেন্ট – প্রোগ্রামিংয়ের ওপর দিনব্যাপী কর্মশালা। ২৩ টি স্কুল/ কলেজ থেকে মোট ৪৩ জন ছাত্রী কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছে।  ওয়ার্কশপটি ছিল আট ঘণ্টার এবং ওয়ার্কশপে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার ব্যবহার করে হাতে-কলমে প্রোগ্রামিং করে। কর্মশালার বেশিরভাগ সময়ই তারা কাটায় পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে নানান রকমের প্রোগ্রামিং করে। এছাড়া সার্চ ইঞ্জিনের ব্যবহার ও লিনাক্সের ব্যবহার সম্পর্কে তারা ধারণা লাভ করে ও আওয়ার অব কোড-এ অংশ নেয়।

10931001_895620120470590_5378801531121384549_n10940492_10153018552575797_3949335118392846653_n

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন দ্বিমিক কম্পিউটিং-এর তামিম শাহরিয়ার সুবিন এবং তাহমিদ রাফি। তাদের সাথে আরো ছিলেন সফটওয়্যার প্রকৌশলী আশিকুর রহমান মুশফিক এবং রাশিদুল হাসান সৈকত।

10580036_10153018552515797_7995244114120466878_n

ইভেন্টটি স্পন্সর করেছে হাফিযা খাতুন মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। এই ইভেন্টের ভেন্যু পার্টনার হিসাবে ছিল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়। ইন্সপিরেশন পার্টনার ছিল কিশোর আলো। পার্টনার হিসাবে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। আর ওয়ার্কশপের পরিকল্পনা ও সকল প্রকার একাডেমিক সহযোগীতায় ছিল দ্বিমিক কম্পিউটিং।

সন্ধ্যায় ওয়ার্কশপ-এর সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব মুনির হাসান, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান তৌহিদ ভুঁইয়া, ভ্যানটেজ ল্যাবস এর ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মোজাম্মেল হক, Code it, girl এর মেনটর এবং দ্বিমিক কম্পিউটিং এর সহপ্রতিষ্ঠাতা তামিম শাহরিয়ার সুবিন, স্পন্সর হাফিযা খাতুন মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এর পক্ষ থেকে ফেরদৌস বাপ্পি এবং আরো অনেকে। আর Code it, girl আয়োজকদের পক্ষ থেকে কথা বলেন আফরীন হোসেন। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাফর ইকবাল স্যার অনুষ্ঠানে আসতে না পারলেও ফোন করে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন এবং এই উদ্যোগ এর সাথে নিজের একাত্মতা প্রকাশ করেন। সমাপনী পর্বে আয়োজকরা দেশে ও বিদেশে বড় বড় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সফল নারীদের নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশান প্রদর্শন করেছেন যেটা অংশগ্রহণকারীদের প্রোগ্রামিং শিখতে আরও উৎসাহিত করেছে।

Code it, girl! একটি অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, এর উদ্যোক্তারা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। আয়োজকরা হলেন আফরীন হোসেন, মিরফাত শারমিন, রিজভী বিন ইসলাম, মোশ্তাক আহমেদ ম্যাক, তাপস পাল, আশিকুর রহমান মুশফিক, শুভ্র সরকার, রাশিদুল হাসান সৈকত, ওয়াজদা আখতার এবং নাদিয়া রাহমান বৃষ্টি। আয়োজকরা সবাই এক সময় ওয়ালট ডিজনির অংশ, প্লেডম বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডে গেম ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করতেন।

Code it, girl! এর চেষ্টা থাকবে অনলাইন গ্রুপ এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন টিউটোরিয়াল, ব্লগ, বই, তথ্য এবং প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মেয়েদের কে নিজে নিজে প্রোগ্রামিং শিখতে সাহায্য করা। গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে আছেন বেশ কিছু দক্ষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যারা এই কাজে সাহায্য করবেন।  আর সুযোগ পেলে এরকম কিছু ওয়ার্কশপের আয়োজন করারও ইচ্ছা আছে এই প্রতিষ্ঠানের। উদ্যোক্তারা আশা করেন ধীরে ধীরে মেয়েরা কম্পিউটার সায়েন্সে পড়তে এবং প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করতে আরও বেশি উৎসাহিত হবে তাদের এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

ফেসবুক গ্রুপ এর লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/groups/292738210923130/
পেইজের লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/codeitgirl

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

গুগল ডোমেইন

বিশ্বখ্যাত টেক কোম্পানী গুগল তাদের সার্ভিসগুলোর মধ্যে একটি নতুন সেবা যোগ করল, সেটি হচ্ছে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস। বর্তমানে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও খুব দ্রুত এই সার্ভিস বিশ্বের অন্যান্য দেশেও চালু হবে। শুরুতে প্রতিবছরের জন্য ১২ ডলার করে দিতে হবে । গুগল আপনাকে একটা ডোমেইন নামের সাথে ব্যক্তিগত নিবন্ধন, ফ্রি জিমেইল থেকে ইমেইল ফরওয়ার্ড করা, প্রায় ১০০টির তম সাব-ডোমেইনের জন্য সাপোর্ট নিশ্চিত করবে ।

ইতিমধ্যে গুগল কিছু কোম্পানিকে নিজেদের অংশভুক্ত করেছে যেন ব্যবহারকারীদেরকে দ্রুত ওয়েবসাইট তৈরি করতে সাহায্য করা যায়। যেমন : Squrespace, Weebly, Wix, তবে এদের সেবা নিতে হলে আপনাকে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে। গুগল ঘোষণা করেছে যে, Blogger ব্যবহারকারীরাও নিজস্ব ডোমেইনে ব্লগার ব্যবহার করতে পারবে ।

গুগল আরও কিছু নতুন সুবিধা যোগ করছে, যেমনঃ ডোমেইন পরিচালনা করার জন্য সহজ ড্যাশবোর্ড, ওয়েবসাইট এবং ইমেইল সেটিংস, উন্নত সার্চ এবং সাজেশন, ডাইনামিক DNS ইন্টিগ্রেশন এবং প্রায় ৬০টি নতুন ডোমেইন Ending।

গুগলের এই সার্ভিসটি বর্তমানে বেটা হিসেবে আছে। গত বছরের জুন মাসে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প কিছু ব্যবহারকারীর জন্য গুগল সার্ভসটি চালু করে। বর্তমান সার্ভিসের বেশির ভাগ উন্নয়ন করা হয়েছে আগেকার টেস্টারদের পরামর্শের উপর নির্ভর করে। ধারণা করা হচ্ছে GoDaddy সহ অন্যান্য শীর্ষ ডোমেইন বিক্রেতারা এবার বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেই পড়তে যাচ্ছে।

বিস্তারিত জানা যাবে এখানে : https://domains.google.com/about/

– ইমরান হোসেন।

কোড ইট গার্লের উদ্যোগে পাইথন নিয়ে কর্মশালা

Code it, girl! একটি অনলাইন কমিউনিটি, যার যাত্রা শুরু হয়েছে মেয়েদেরকে প্রোগ্রামিং শিখতে উৎসাহিত করার লক্ষে। আমাদের দেশে খুব কম সংখ্যক মেয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ে এবং তার মধ্যেও একটা খুব ছোট অংশ কাজ করতে আসে। এর একটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে মেয়েদেরকে ছোটবেলা থেকেই প্রোগ্রামিং শিখতে সাহায্য করা এবং উৎসাহিত করা, এবং এই দক্ষতার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন পেশা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা।

এই উদ্দেশেই Code it, girl! এর প্রথম ইভেন্ট – নবম, দশম এবং একাদশ শ্রেণীর ছাত্রীদের জন্য দিনব্যাপী প্রোগ্রামিং ওয়ার্কশপ। এটি অনুষ্ঠিত হবে জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ (শনিবার) ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শুক্রাবাদ ক্যাম্পাসে। ওয়ার্কশপে পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে প্রোগ্রামিং জগতের সাথে মেয়েদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। ওয়ার্কশপটি পরিচালনা করবেন ‘কম্পিউটার প্রোগ্রামিং’ বইয়ের লেখক তামিম শাহরিয়ার সুবিন ও দ্বিমিক কম্পিউটিংয়ের পরিচালক তাহমিদ রাফি। এই ইভেন্টে সকল প্রকার একাডেমিক সহায়তা প্রদান করবে তথ্যপ্রযুক্তি শেখার অনলাইন স্কুল – দ্বিমিক কম্পিউটিং। প্রথম ইভেন্টটি স্পন্সর করছে হাফিযা খাতুন মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। এই ইভেন্টের ভেন্যু পার্টনার হিসাবে থাকছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়। ইন্সপিরেশন পার্টনার হচ্ছে কিশোর আলো। আর পার্টনার হিসাবে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। ওয়ার্কশপ এর সমাপনী পর্বে উপস্থিত থাকবেন সাস্টের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বুয়েটের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব মুনির হাসান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক নোভা আহমেদ। সমাপনী পর্বটি অনুষ্ঠিত হবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে, শুরু হবে সন্ধ্যা ৭ টায় এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সমাপনী পর্বে আয়োজকরা দেশে ও বিদেশে বড় বড় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সফল নারীদের নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশান প্রদর্শন করবে যেটা অংশগ্রহণকারীদের প্রোগ্রামিং শিখতে আরও উৎসাহিত করবে।

Code it, girl! একটি অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, এর উদ্যোক্তারা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। আয়োজকরা হলেন আফরীন হোসেন, মিরফাত শারমিন, রিযভি বিন ইসলাম, মোশ্তাক আহমেদ ম্যাক, তাপস পাল, আশিকুর রহমান মুশফিক, শুভ্র সরকার, রাশিদুল হাসান সৈকত, ওয়াজদা আখতার এবং নাদিয়া রাহমান বৃষ্টি।

Code it, girl! এর চেষ্টা থাকবে অনলাইন গ্রুপ এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন টিউটোরিয়াল, ব্লগ, বই, তথ্য এবং প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মেয়েদের কে নিজে নিজে প্রোগ্রামিং শিখতে সাহায্য করা। এমন কিছু বাংলা টিউটোরিয়াল এবং বই আছে যার মাধ্যমে খুব সহজে প্রোগ্রামিং এর বেসিক শেখা সম্ভব, অনেকের জন্যই ইংরেজি বই দিয়ে শুরু করা কঠিন হতে পারে। শুধু বাংলায় নয়, যেকোনো ভাল টিউটোরিয়াল পেলেই শেয়ার করে দেয়া হবে ফেইসবুক গ্রুপে। গ্রুপের মেম্বারদের মধ্যে আছেন বেশ কিছু দক্ষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যারা এই কাজে সাহায্য করবেন।  আর সুযোগ পেলে এরকম কিছু ওয়ার্কশপের আয়োজন করার ও ইচ্ছা আছে এই প্রতিষ্ঠানের। উদ্যোক্তারা আশা করেন ধীরে ধীরে মেয়েরা কম্পিউটার সায়েন্সে পড়তে এবং প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করতে আরও বেশি উৎসাহিত হবে তাদের এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

ফেসবুক গ্রুপ এর লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/groups/292738210923130/

পেইজের লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/codeitgirl

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

কোডিং নিয়ে এক ঘণ্টা

ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষা সপ্তাহ পালন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা ও শিক্ষার্থীদের এর প্রতি আকৃষ্ট করা। কারণ বিশ্বব্যাপী যত সংখ্যক দক্ষ প্রোগ্রামারের চাহিদা রয়েছে, তত সংখ্যক দক্ষ প্রোগ্রামার কিন্তু নেই। আর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দক্ষ প্রোগ্রামারের চাহিদা অনেক!

কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে যেসব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, তার অন্যতম হচ্ছে Hour of Code বা কোডিং নিয়ে এক ঘণ্টা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে এটি পালন করা হয়। code.org ওয়েবসাইটে বেশ কিছু জিনিস আছে, যেগুলো ব্যবহার করে এক ঘণ্টা কোডিং নিয়ে মাতামাতি করা হয়।

বাংলাদেশে এবছর এটি যৌথভাবে পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। ঢাকার বেশ কটি কলেজে ও স্কুলে ডিসেম্বর মাসের ৮ থেকে ১১ তারিখ এই অনুষ্ঠান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রথম তিরিশ মিনিট বক্তৃতা, তারপর এক ঘণ্টার কোডিং, তারপর তিরিশ মিনিট কুইজ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব হবে।

তবে সব জায়গায় যাওয়া তো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, স্কুল-কলেজগুলো, বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যারা, নিজেরা নিজেরা এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে ফেলতে পারে। কোনো পরামর্শের প্রয়োজন হলে ফেসবুকে তাহমিদ রাফি‘র সাথে যোগাযোগ করা যাবে।

আর কোনো কারণে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না পারলে বাসায় বসেই করে ফেলা যাবে এক ঘণ্টার কোডিং, এই ওয়েবসাইট থেকে : http://learn.code.org/

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে থাকবে না!