লুমিয়া ৪৩০ : সবচেয়ে কম মূল্যের উইন্ডোজ স্মার্টফোন

মাইক্রোসফট, নোকিয়া অধিগ্রহণের পর থেকে অনেকেই ধরে নিয়েছিল লুমিয়া স্মার্টফোন তাদের গুণগত মান হারিয়ে ফেলবে। একই সাথে স্মার্টফোনগুলো তাদের নানা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হারাবে বলেও অনেক শঙ্কিত ছিল। তবে মাইক্রোসফট অধিগ্রহণের পর থেকে যে সকল স্মার্টফোন ঘোষণা করেছে তার কোনটিই উইন্ডোজ ফোনের ফ্যানদের হতাশ করেনি। বরং এক অর্থে নকিয়ার স্মার্টফোনগুলোর তুলনায় নানা দিক থেকে এগুলো ছিল এগিয়ে। আর দামের দিক থেকেও এ ফোনগুলোর মূল্য ছিল যথেষ্ট কম। সেই একই ধারার সাথে তাল মিলিয়ে আজ মাইক্রোসফট ঘোষণা করল লুমিয়া সিরিজের সবচেয়ে কম দামি ফোন লুমিয়া ৪৩০।

প্রায় কয়েক মাস আগে ঘোষণা করা লুমিয়া ৪৩৫ এবং লুমিয়া ৫৩২ এর পর এবার মাইক্রোসফট ঘোষণা করল লুমিয়া ৪৩০। মাইক্রোসফটের দেয়া বিবৃতি মতে, এটি হবে মাইক্রোসফট লুমিয়া সিরিজের সবচেয়ে কম দামি ফোন। দামের দিক দিয়ে এই ফোনের দাম কম হলেও, সুবিধাসমূহ এর দিক থেকে ফোনটি কোনভাবেই পিছিয়ে নেই। যেখানে আগে নকিয়া দাম কম রাখার জন্যে নানা প্রয়োজনীয় ফিচারস বাদ দিয়ে দিত, মাইক্রোসফট এর কোন ভুলই করেনি। তাদের এই নতুন ফোনে প্রায় সকল উল্লেখযোগ্য ফিচারই বিদ্যমান।

লুমিয়ার এই নতুন ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ২০০ সিরিজের কর্টেক্স এ৭ ভিত্তিক প্রসেসর এবং সাথে আছে ১ গিগাবাইট র‍্যাম। ফলে উইন্ডোজ স্টোরের প্রায় সকল অ্যাপই এতে চালানো যাবে। এছাড়া অ্যাপ ইন্সটলের জন্যে আরও আছে ৮ গিগাবাইট স্টোরেজ। আর যদি এই স্টোরেজও কম মনে হয় তবে মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে এর স্টোরেজ ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে।

লুমিয়া ৪৩০, ছবি: verge.com
লুমিয়া ৪৩০, ছবি: verge.com

এর ৪ ইঞ্চি স্ক্রিনের রেজুলেশন রাখা হয়েছে ৮০০x৪৮০। ফলে এর প্রতি ইঞ্চে পিক্সেল রয়েছে ২৩৫। তবে এর স্ক্রিন আইপিএস নাকি অন্য প্রযুক্তির সেই বিষয়ে কোন ধারনা পাওয়া যায়নি। যেহেতু দাম অনেক কম তাই মাইক্রোসফট ফোনটিতে তাদের বিখ্যাত ডিস্পপ্লে প্রযুক্তিও ব্যবহার করেনি। আসল দাম কম রাখা হয়েছে মূলত এর ক্যামেরা এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২ মেগাপিক্সেল ফিক্সড ফোকাস ক্যামেরা আর সামনে আছে একটি ভিজিএ ক্যামেরা স্কাইপ এবং অন্যান্য ভিডিও কল করার জন্যে।

ব্যাটারির ব্যাকআপের জন্যে এতে আছে ১৫০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি। এখানে উল্লেখ্য যে, এই ফোন উইন্ডোজ ৮.১ এর ডেনিম আপডেটে চলে আর মাইক্রোসফট জানিয়েছে উইন্ডোজ ১০ বের হলে এই ফোন তার আপডেট পাবে।ফোনটিতে আরও আছে স্মার্টডুয়াল সিম সাপোর্ট সুতরাং এর ক্রেতা অনায়াসে এতে দুটি সিম ব্যবহার করতে পারবে।

মাইক্রোসফট মুলত ফোনটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে বের করেছে। ফোনটি আগামী এপ্রিলে এশিয়া, মিডল ইস্ট, আফ্রিকাতে উন্মুক্ত করা হবে। ট্যাক্স এবং অন্যান্য খরচের হিসেব বাদ দিলে এই ফোনের দাম হবে ৭০ ডলার অথবা ৫৪৬৫ টাকা।

লেখক : এহসানুল হক।

একুয়ারিস ই৪.৫ – উবুন্টু ফোন

উবুন্টু অনেক বছর ধরেই স্মার্টফোন এবং স্মার্টডিভাইস মার্কেটে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছে। তবে তাদের এই চেষ্টা সত্ত্বেও, খুব একটা সফল তারা হয়ে উঠতে পারেনি কোনো ডিভাইস প্রস্তুতকারক কোম্পানিকে তাদের স্মার্টডিভাইসকেন্দ্রিক ওএস এর প্রতি আকৃষ্ট করতে। তবে তারা তারপরও হাল ছাড়েনি। দেড় বছর আগে তারা ক্রাউডসোর্সের মাধ্যমে উবুন্টু এজ নামে একটি স্মার্টফোন আনার চেষ্টা করেছিল যা কিনা একই সাথে স্মার্টফোন এবং ডেস্কটপের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। যদিও তা বিফলে যায় তাদের বিশাল ৩২ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায়।

তবে উবুন্টু আবার স্মার্টডিভাইস প্রস্তুতের মাধ্যমে এই বাজারে প্রবেশ করার পরিকল্পনা করছে। অবশ্য তাদের এই ফোন তাদের প্রস্তাবিত উবুন্টু এজের মতন মনিটরের সাথে সংযোগ দিলে ডেস্কটপ কম্পিউটারে পরিনত হবে না। তাদের এই নতুন ফোন, যা কিনা একুয়ারিস ই৪.৫ নামে পরিচিত হবে, মূলত প্রথম দিককার ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপারদের কথা চিন্তা করে প্রস্তুত করা। এই নতুন ফোন একটি নতুন কার্ড এর ন্যায় ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করবে যা কিনা বর্তমান অ্যাপকেন্দ্রিক ওএস এর চেয়ে খানিকটা ভিন্ন।

উবুন্টু এই ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে চায়নার বিখ্যাত ব্র্যান্ড শাওমি, যা কিনা বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক হিসেবে পরিচিত, তার বিক্রয় পদ্ধতি অনুসরন করার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ তারা শাওমি এর মতন একাধিক ফ্ল্যাশ সেল করবে। এর মাধ্যমে তারা ফোন সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করবে। ফলে ফোনের প্রস্তুতকরণের উপর চাহিদা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হবে। উবুন্টুর এই সংস্করণের প্রস্তুতকারক ক্যানোনিক্যাল আগামী সপ্তাহ থেকেই ইউরোপে এই বিক্রয় ব্যবস্থা শুরু করবে। এটির মাধ্যমে দ্রুত ফিডব্যাক নিয়ে তার ফলাফল দিয়ে ওএস এ দ্রুত কাজ করাও সম্ভব হবে।

ক্যানোনিক্যালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান পারিনো বলেন, “এই একটি প্রতিষ্ঠিত পরিকল্পনা যা কিনা ফোনটি সঠিক মানুষের কাছে পৌছতে সাহায্য করে।” তিনি আরও বলেন যে, আমরা জানি আমরা পরিবেশকের কাছ থেকে সরে আসছি তবে আমরা এই পরিল্পনা নিয়েই এগোতে চাচ্ছি।”

নতুন এই উবুন্টু ফোন অ্যাপকে এইচটিমিএল৫ অথবা সরাসরি তার ন্যাটিভ কোড কিউএমএল এ চালাতে সক্ষম। তবে এর অপারেটিং সিস্টেম পুরো প্রক্রিয়াকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে এর ইন্টারফেসের মাধ্যমে। আর এর ইন্টারফেস সচরাচর অ্যাপ গ্রিড ভিউ এর পরিবর্তে থিম কার্ড পদ্ধতি অনুসরণ করে যার ফলে কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা একেকটি কার্ড প্রদান করে। ক্যানোনিক্যাল একে স্কোপ বলে যা কিনা খানিকটা গুগলের কার্ড সিস্টেম ইউজার ইন্টারফেস গুগল নাও এর সোয়াইপ কে প্রয়োগ করে বাস্তবায়িত। এটিকে তারা স্কোপস নাম দিয়েছে।

ফোনের হোম স্ক্রিন এখানে হবে আজকের স্কোপ, যেখানে কিনা এমন সব উইজগেট থাকবে যা কিনা ব্যবহারকারী ফোনের সাথে সচরাচর যে কাজ করে থাকে তা তুলে ধরবে। এর মধ্যে থাকতে পারে আবহাওয়া বার্তা , সেদিনকার হেডলাইন অথবা অন্য কোন খবর, টুইটার বার্তা অথবা ব্যবহারকারীর যাদের সাথে সর্বোচ্চ যোগাযোগ করে তা।

উবুন্টু একুয়ারিস ই৪.৫

এছাড়া ডান দিকে সোয়াইপ করলে অন্যান্য স্কোপস এ যাওয়া যাবে যেমন,

  • মিউজিক স্কোপ, যা কিনা সাউন্ডক্লাউড এবং অন্যান্য মিউজিক স্ট্রিমিং সাইট থেকে গান লোদ করে দেখাবে। কোথায় কি কনসার্ট হচ্ছে তা দেখাবে সংকিক অ্যাপ দ্বারা।
  • ভিডিও স্কোপ, যা কিনা ইউটিউব এবং অন্যান্য ভিডিও সার্ভিসের ভিডিও দেখাবে।
  • ফটো স্কোপ, যা কিনা ব্যবহারকারীর সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবি নিয়ে দেখাবে।
  • নিয়ার স্কোপ, যা কিনা আসেপাশের সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ে তথ্য দিবে। যেমন কোথায় ট্রাফিক জ্যাম, কোথায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পাওয়া যাবে এবং রেস্টুরেন্ট।
  • অ্যাপ স্কোপ, যা কিনা ক্যামেরা, ক্যালেন্ডার এবং অন্যান্য প্রোগ্রামে যেতে সাহায্য করবে।

ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব স্কোপও বানাতে পারবে এবং একটি নির্দিষ্ট সেবা তার নিজের স্কোপও পাবে চাইলে। এর মাধ্যমে ক্যাননিক্যালের মতে, ব্যবহারকারীরা যেমন কোন ধরনের বাধা ধরা ছাড়াই কাজ করতে পারবে ফোনে্, ডেভেলপাররা তেমন তাদের অ্যাপ কম খরচে স্কোপের মাধ্যমে তৈরি করতে পারবে যা কিনা একটি পুরনাঙ্গ অ্যাপের ন্যায় কাজ করতে পারবে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট পারিনো বলেন, আপনি যদি আরেকটা ওএস নিয়ে আসেন যার নিজের অ্যাপ এবং আইকন আছে তাহলে আপনার এবং অন্যান্য ওএস এর মধ্যে সত্যিকার অর্থে কোন পার্থক্য নেই। এতে আপনি শুধুমাত্র তখনই ডেভেলপারদের আকৃষ্ট করবেন যখন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যবহারকারী আপনার ওএস ব্যবহার করবে। শুধুমাত্র তখন তারা আপনার ওএস জন্যে অ্যাপ বানানোর কথা চিন্তা করবে আর এতে আপনি ব্যবহারকারীর কাছে তখনই ভাল হবে যখন আপনার অ্যাপ ভাল হবে।

আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে এই মডেল থেকে বের হয়ে আসা এবং এমন একটি অভিজ্ঞতা দেয়া যা কিনা নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবে। সুতরাং আপনি যতই বেশি সেবা প্রদান করবেন আপনার ফোন ততই ভাল হবে। তবে কিছু সেবা এখন পাওয়া যাবে না যেমন ওয়াটসঅ্যাপ, স্কাইপ, এবং ইন্সটাগ্রামের কিছু নির্দিষ্ট ফিচার।

ক্যানোনিক্যাল এখানে লাভ করবে প্রতিষ্ঠানকে সাপোর্ট সার্ভিস প্রদান করে। এই ফোনটি মূলত প্রস্তুত করেছে স্প্যানিশ এক প্রতিষ্ঠান বিকিউ যাদের কিনা ইতোমধ্যে ফোনটির একটি অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ রয়েছে। বিকিউ মুলত প্রায় অজানা একটি ট্যাবলেট এবং ই-রিডার প্রস্তুতকারক।

ফোনটির স্পেসিফিকেশন তেমন আকর্ষণীয় নয়। ৪.৫ ইঞ্চি (৫৪০x৯৬০ রেজুলেশন) স্ক্রিন সাইজের এই ফোনে আছে ১.৩ গিগাহার্জ কোয়াড কোর কর্টেক্স এ৭ ভিত্তিক মিডিয়াটেক প্রসেসর, মালি ৪০০ জিপিউ, ১ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ। ক্যামেরা হিসেবে আছে, ৮মেগাপিক্সেল রিয়ার এবং ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফোনে আরও ডাটা রাখতে এতে রয়েছে মাইক্রোএসডি কার্ড সাপোর্ট এছাড়া আছে ডুয়াল সিম সাপোর্ট। ব্যাকআপ দিতে এতে আছে ২১৫০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফোনটির দাম পড়বে প্রায় ১৯৫ ডলার।

ফোনটি মুলত যারা নতুন কিছু অভিজ্ঞতা করতে চায় এবং উবুন্টুর ভক্তদের মধ্যে একটি যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিষয়টি দ্রুত এমন হতে পারে যখন এসকল ব্যবহারকারী অ্যাপ এর ন্যায় অভিজ্ঞতা এই ফোনগুলো থেকে পেতে যাবে বর্তমান বাজার প্রেক্ষিতে। তবে ইতোমধ্যে দাম হিসেবে এই ফোনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে মটোরলা, মাইক্রোসফট লুমিয়ার মতন ফোন। এখন এবার ক্যানোনিক্যাল সফল হতে পারে কিনা তাদের এই উবুন্টু ওস দিয়ে তাই হল দেখার বিষয়।

আপডেট:

একজন ইউটিউবার প্রথম একটি উবুন্টু ফোনের আনবক্সিং ভিডিও রিলিজ করেছে।

– এহসানুল হক নিটোল।

উন্মোচন হল অ্যামাজনের ফায়ার ফোন

অবশেষে মুক্তি পেল বহুল প্রতীক্ষিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের স্মার্টফোন। প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা নানা গুজবের ইতি ঘঠিয়ে অ্যামাজনের সিইও জেফ বেজস গত ১৯ তারিখ তাদের এই নতুন স্মার্টফোন ঘোষণা করে। আর এই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ট্যাবলেট প্রস্তুতকারন প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন এবার প্রবেশ করল স্মার্টফোন বাজারে।

অ্যামাজনের ঘোষণা করা এই নতুন স্মার্টফোনের নাম হল ‘অ্যামাজন ফায়ার ফোন’। ৪.৭ ইঞ্চি স্ক্রিনের এই স্মার্টফোনটি নিয়ে বেশ আশাবাদী অ্যামাজন। আর এটি তাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে উল্লেখ্য পরিমানে ভুমিকা রাখবে বলে ধারনা করা যায়। অ্যামাজনের ঘোষণা করা এই স্মার্টফোনের দুটো উল্লেখ্য ফিচার হল এর ‘ডাইনেমিক প্রাস্পেকটিভ’ এবং ‘ফায়ারফ্লাই’। উল্লেখ্য এই দুই ফিচারের মাধ্যমে অ্যামাজন নিজেদের অন্যান্য স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে ডাইনামিক প্রাস্পেকটিভ এর মাধ্যমে কিছুটা থ্রিডি অভিজ্ঞতা প্রদান করা হবে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। আর এর জন্যে স্মার্টফোনটির সামনে ব্যবহার করা হয়েছে চারটি ক্যামেরা। যা কিনা ব্যবহারকারীর চোখ, মাথার দিকভঙ্গি সকল কিছু পর্যবেক্ষণ করবে এবং সে হিসেবে স্ক্রিনের ছবিতে একটি ডেপথ অথবা গভীরতা তৈরির চেষ্টা করবে। অপরদিকে ‘ফায়ারফ্লাই’ হল একটি ক্যামেরা সংক্রান্ত ফিচার যা কিনা ক্যামেরার মাধ্যমে যেকোনো বস্তু অথবা ছবিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে এবং সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়ার দিবে। আর সেটি যদি কোন পন্য হয় তবে অ্যামাজন তাদের স্টোরের মাধ্যমে এটি কেনার সুযোগও তৈরি করে দিবে। অ্যামাজন তাদের এই ফিচার নিয়ে এতটাই আশাবাদী যে তারা এর জন্যে একটি নির্দিষ্ট কি-বোটনও তৈরি করেছে ফোনে।

উল্লেখ্য ফিচার দুটির বাইরে ফোনটির অন্যান্য স্পেসিফিকেশন হল- একটি ৪.৭ ইঞ্চি ১২৮০x৭২০ রেজুলেশনের আইপিএস ডিসপ্লে। এই ডিসপ্লে ৫৯০ নিট পর্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে যার ফলে যেকোনো আলোতে এতে সহজেই কাজ করা যাবে। প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়াল্কম স্ন্যাপড্রাগন ৮০০ কোয়াড কোর প্রসেসর যা কিনা ২.২ গিগাহার্জে ক্লক করা এবং জিপিউ হিসেবে আছে অ্যাড্রেনো ৩৩০ জিপিউ। আরও আছে ২ গিগাবাইট র‍্যাম, ৩২ এবং ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ সুবিধা এবং অ্যামাজন ক্লাউডে আনলিমিটেড ছবি বিনামূল্যে রাখার সুবিধাও। ক্যামেরা হিসেবে আছে ১৩ মেগাপিক্সেল ফাইভ এলিমেন্ট লেন্স f/2.0 ক্যামেরা যা কিনা স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৫ এবং আইফোন ৫এস এর সাথে তুলনীয় বলে অ্যামাজন দাবি করে। ক্যামেরাতে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ফিচার হল এর ওআইএস অথবা অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন যার ফলে ছবি কম ব্লার হবে এবং কম আলোতে ছবি তোলা আরও সহজ হবে।

ফোনটি অ্যামাজনের নিজস্ব ফায়ার ওএস ৩.৫ এ চলে যা কিনা মূলত অ্যান্ড্রয়েডেরই একটি সংস্করণ। এর ইউআই অ্যামাজনের ট্যাবলেট সংস্করণের মতনই এবং এটি গ্রাহককে তাদের পন্য আরও সহজে কিনতে সাহায্য করবে। তবে এটি অ্যামাজনের নিজস্ব ওএস হওয়ায় এতে নেই কোন গুগল অ্যাপস অথবা গুগল প্লে স্টোর।

অ্যামাজনের এই ফোনটি যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রি-অর্ডার করা যাচ্ছে এটিএন্ডটির মাধ্যমে। ফোনটির মূল্য ৩২ জিবি স্টোরেজের জন্যে ৬৪৯ ডলার এবং ৬৪ জিবি স্টোরেজের জন্যে ৭৪৯ ডলার। এই দাম অনেককেই অবাক করেছে কারন ধারনা করা হয়েছিল অ্যামাজনের ট্যাবলেটের মতন এর দামই কম হবে। কিন্তু অন্যান্য সকল স্মার্টফোনের মতনই এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যামাজন এর পরও আশা করছে তারা এ বছর প্রায় ২-৩ মিলিয়ন ফায়ার ফোন বিক্রি করতে পারবে।