উবুন্টুতে ফ্লাস্ক ইনস্টল করার প্রক্রিয়া

সাধারণ ছোটোখাটো প্রজেক্ট থেকে মাঝারি সাইজের প্রজেক্টের জন্য ফ্লাস্ক (Flask) একটি চমৎকার পাইথন ফ্রেমওয়ার্ক। আমি রেস্টফুল এপিআই তৈরির জন্য ফ্লাস্ক রেস্টফুল (Flask-RESTful) ব্যবহার করি। ডেভেলাপমেন্টের জন্য আমি ম্যাক ও উবুন্টু (Ubuntu) দুটোই ব্যবহার করি, আর সার্ভারে উবুন্টু। এখানে আমি উবুন্টুতে ফ্লাস্ক প্রজেক্ট ডেপ্লয় করার জন্য যা যা দরকার, সেগুলো লিখে রাখবো, যাতে পরবর্তি সময়ে আমার কিংবা অন্যদের সুবিধা হয়। কমান্ডগুলো উবুন্টু ১৪.০৪ ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রথমে চেক করতে হবে কম্পিউটারে উবুন্টুর সব প্যাকেজ হালনাগাদ করা হয়েছে কী না। না হলে আপডেট করে নিতে হবে। এর জন্য সহজ কমান্ড হচ্ছে :
sudo apt-get update && sudo apt-get upgrade

এখন পাইথন ও পিপ (pip) ইনস্টল করবো :

sudo apt-get install build-essential python-dev python-pip

তারপরের কাজ হচ্ছে ভার্চুয়াল এনভারনমেন্ট ইনস্টল করা।
sudo pip install virtualenv

এটি দরকারি এজন্য যে একেক প্রজেক্ট একেক সময়ে করা হয়, তাই সেই প্রজেক্টের জন্য দরকার মডিউল আলাদা করে ফেলা উচিত, যাতে পরবর্তি সময়ে অন্য প্রজেক্টে কাজ করার সময় কনফ্লিক্ট তৈরি না হয়।

এখন যেই ডিরেক্টরিতে অ্যাপ্লিকেশনটি রাখা হবে, সেটি তৈরি করে ফেলা যাক :

sudo mkdir -p /var/www/myapp

এখন পারমিশন পরিবর্তন করতে হবে। আমার ক্ষেত্রে ইউজার আইডি হচ্ছে www-data, ইউজার গ্রুপও হচ্ছে www-data। আপনার ক্ষেত্রে সেটি অন্যরকম হতে পারে। লক্ষ্য রাখতে হবে যে অনেক সময় ফাইল পরিবর্তন করলে সেটি রুট বা অন্য ইউজার-এর হয়ে যায়, তাই পরীক্ষা করতে হবে যে myapp ডিরেক্টরির সব ফাইল এবং সাব-ডিরেক্টরির পারমিশন ঠিক আছে কী না।
sudo chown -R www-data:www-data /var/www/myapp
cd /var/www/myapp

এখন ভার্চুয়াল এনভারমেন্ট তৈরি করি।
virtualenv venv --no-site-packages

ভার্চুয়াল এনভারমেন্ট একটিভেট করে সেখানে ফ্লাস্ক ইনস্টল করি।
source venv/bin/activate
pip install flask

এখানে আমরা আমাদের ফ্লাস্ক অ্যাপটি রাখবো।

লক্ষ্য রাখতে হবে যে হোস্ট সেট করতে হবে 0.0.0.0 তে (127.0.0.1-এ নয়)। আর অ্যাপ্লিকেশনের শুরুটা রাখতে হবে if __name__ == ‘__main__’: ব্লকের ভিতরে।

এরপরের কাজ হচ্ছে ওয়েব সার্ভার ইনস্টল করা (যদি ইনস্টল করা না থাকে)। আমি সাধারণত ইঞ্জিন-এক্স ব্যবহার করি। আর ইনস্টল করার আগে ভার্চুয়াল এনভারমেন্ট ডিএকটিভেট করে নিতে হবে এই কমান্ড দিয়ে :
deactivate
sudo apt-get install nginx

এখন আমি uwsgi ইনস্টল করবো, এটি ইঞ্জিনএক্স ও আমার ফ্লাস্ক অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করে দিবে, মানে এটিই আমার ফ্লাস্ক অ্যাপ্লিকেশনকে চালাবে। এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়, তবে ব্যবহার করলে ভালো। 🙂

sudo apt-get install uwsgi uwsgi-plugin-python

এখন একটা সকেট ফাইল তৈরি করা লাগবে যার মাধ্যমে ইঞ্জিনএক্স, uwsgi-এর সাথে যোগাযোগ করবে।
cd /tmp/
touch mapp.sock

ফাইলের পারমিশন পরিবর্তন করতে হবে যাতে ইঞ্জিনএক্স সেটি চালাতে পারে।
sudo chown www-data:www-data myapp.sock

এরপর ইঞ্জিনএক্সের কনফিগারেশন ফাইল তৈরি করতে হবে। এর জন্য প্রথমে /etc/nginx/sites-available ডিরেক্টরিতে যেতে হবে নিচের কমান্ড দিয়ে :
cd /etc/nginx/sites-available

তারপরে ডিফল্ট যেই কনফিগারেশন ফাইল আছে, সেটি মুছে ফেলতে হবে বা সরিয়ে রাখতে হবে।
sudo mv default _default

এবারে নতুন কনফিগারেশন ফাইল তৈরির জন্য আমরা নিচের কমান্ড ব্যবহার করতে পারি :
sudo vi myapp
এটি vi এডিটর দিয়ে খুলবে, চাইলে অন্য এডিটরও ব্যবহার করা যায়।

এখন নতুন ফাইলে নিচের জিনিসগুলো পেস্ট করতে হবে :

server {
    listen 80;
    server_tokens off;
    server_name myapp.com;

    location / {
        include uwsgi_params;
        uwsgi_pass unix:/tmp/myapp.sock;
    }

    location /static {
        alias /var/www/myapp/static;
    }
}

এখানে লক্ষ্যণীয় যে static ফাইলগুলো রাখার জন্য /var/www/myapp/static ডিরেক্টরি ব্যবহার করা হয়েছে। আপনি আপনার প্রয়োজনমতো ডিরেক্টরি তৈরি করে সেই লোকেশন এখানে লিখবেন।

যেই কনফিগারেশন ফাইলটি তৈরি করলাম, তার একটি লিঙ্ক তৈরি করতে হবে /etc/nginx/sites-enabled ডিরেক্টরিতে। এর জন্য নিচের কমান্ড দিতে হবে :
sudo ln -s /etc/nginx/sites-available/myapp /etc/nginx/sites-enabled/myapp

এবারে uwsgi এর জন্যও একটি কনফিগারেশন ফাইল তৈরি করা লাগবে, লোকোশনসহ ফাইলটি হচ্ছে /etc/uwsgi/apps-available/myapp.ini

ফাইলে নিচের জিনিসগুলো লিখতে হবে:

[uwsgi]
vhost = true
socket = /tmp/myapp.sock
venv = /var/www/myapp/venv
chdir = /var/www/myapp
module = api
callable = app

মডিউল হচ্ছে পাইথন স্ক্রিপ্ট যেই ফাইলে আছে তার নাম আর কলেবল হচ্ছে ওই স্ক্রিপ্টে যেই ফ্লাস্ক অবজেক্ট তৈরি করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ নিচের স্ক্রিপ্টটি আমরা দেখি:

from flask import flask
app = Flask(__name__)

@my_app.route('/')
def hello_world():
    return 'Hello World!'

if __name__ == '__main__':
    app.run(host='0.0.0.0')

এটি যদি api.py নামের ফাইলে সেভ করা হয়, তাহলে কনফিগারেশন ফাইলে module = api এবং callable = app লিখতে হবে।

তারপর নিচের কমান্ড দিয়ে লিঙ্ক করতে হবে:
sudo ln -s /etc/uwsgi/apps-available/myapp.ini /etc/uwsgi/apps-enabled/myapp.ini

সবশেষে nginx ও uwsgi আবার চালু করতে হবে।
sudo service nginx restart
sudo service uwsgi restart

সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে থাকলে ফ্লাস্ক অ্যাপ্লিকেশনটি এখন কাজ করবে।

Facebook Comments

অনুষ্ঠিত হল গুগল আই/ও ২০১৪

DSC_3200

গুগল আই/ও মূলত ডেভেলপারদের কনফারেন্স হিসেবে পরিচিত হলেও এর প্রতি সাড়া বিশ্বের মানুষেরই নানা কারনে আগ্রহ হয়ে থাকে। আর গুগলের ২০১৪ সালের আই/ও তার ব্যাতিক্রম নয়। আর এবারের মূল আকর্ষণ তৈরি করেছিল অ্যান্ড্রয়েডের ‘এল’ আদ্যক্ষরের নতুন সংস্করণ, এইচটিসি নেক্সাস, নেক্সাস সিরিজের বাদ যাওয়া, গুগলের নতুন অ্যান্ড্রয়েড সিলভার প্রোগ্রাম এবং গুগল অ্যান্ড্রয়েড টিভির মতন নানা গুজব। কতটুকু সত্যতা পেয়েছে এ গুজবগুলো? সে সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করতেই এই প্রবন্ধটি-

DSC_3210

কিছু পরিসংখ্যান
গুগলের ইভেন্টের সূচনা করে অ্যান্ড্রয়েড, ক্রোম এবং অ্যাপসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুন্দর পিচাই এর বক্তব্য দিয়ে। তিনি তার বক্তব্যে প্রকাশ করেন কিভাবে করে অ্যান্ড্রয়েড এবং গুগলের অন্যান্য সার্ভিসেস প্রভাব ফেলেছে বিগত বছরে। তাঁর বক্তব্য থেকে উঠে আসে স্মার্টফোন কত প্রকটভাবে মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলা শুরু করেছে। শুধুমাত্র গত বছরের শেষ প্রান্তিকেই স্মার্টফোন বাজারজাত করা হয়েছে ৩১৫ মিলিয়ন। আর এর মধ্যে অ্যান্ড্রয়েডের মাস হিসেবে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ বিলিয়নের উপরে। এছাড়া ট্যাবলেট মার্কেটেও আন্ড্রয়েডের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। শেষ হিসেব অনুযায়ী ট্যাবলেট মার্কেটের ৪৬ শতাংশ শেয়ার এখনও আন্ড্রয়েড এর দখলে। আর অ্যাপ ইন্সটলের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এসকল ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় ২৩৬ শতাংশ।

DSC_3247

অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান
এ সকল পরিসংখ্যান শেষ সুন্দর পিচাই ঘোষণা করেন তাদের নতুন আন্ড্রয়েড ওয়ান প্রোগ্রামের। যা মূলত উন্নয়নশীল বাজারগুলোকে কেন্দ্র করে কাজ করবে। এ জন্যে তারা পার্টনার হিসেবে নির্বাচন করেছে মাইক্রোম্যাক্স, স্পাইস এবং কার্বন ফোনকে। তাদের তৈরি করা ফোন সাড়া বিশ্বে বাজারজাত করা হবে। সুন্দর পিচাই উদাহরণ স্বরূপ মাইক্রোম্যাক্সের একটি ফোন দেখায় যে কিনা ডুয়াল সিম, ৪.৫ ইঞ্চি স্ক্রিন এবং এফএম রেডিও আছে। এর দাম হবে ১০০ ডলারের নিচে। এ সকল ফোন অ্যান্ড্রয়েডের গুগল সিরিজের মতনই সরাসরি গুগলের কাছ থেকে আপডেট পাবে এবং আন্ড্রয়েডের সকল সুবিধা এতে বিদ্যমান থাকবে।

DSC_3258

আন্ড্রয়েড এল ডেভেলপার প্রিভিউ
অতঃপর সুন্দর পিচাই ঘোষণা করেন তাদের নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের। নতুন সংস্করণ হলেও এর নাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। গুগল থেকে বর্তমানে একে অ্যান্ড্রয়েড এল বলা হচ্ছে। এটি মূলত একটি ডেভেলপার প্রিভিউ হিসেবে কাজ করবে। গ্রাহক পর্যায়ে এখনই উন্মুক্ত করা হবে না। এর পিছনে কারন হল অ্যান্ড্রয়েড এল এ নানা ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে এর রানটাইম থেকে শুরু করে ইউজার ইন্টারফেস সবকিছুতে। ডেভেলপারকে এর সাথে তাদের অ্যাপ নিয়ে কাজ করতেই এই সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের অ্যাপ ডিজাইন যেন সহজ হয় এর জন্যে আলাদা একটি ওয়েবসাইটও খুলেছে গুগল। বর্তমানে এই এল ডেভেলপার প্রিভিউ এর ফ্যাক্টরি ইমেজ শুধুমাত্র নেক্সাস ৫ এবং নেক্সাস ৭ ২০১৩ এডিশনের জন্যে পাওয়া যাবে। ফলে কেউ যদি ‘এল’ নিয়ে কাজ করতে চায় তাঁর এই ডিভাইস দুটির একটি থাকা লাগবে।

DSC_3661

অ্যান্ড্রয়েড ওয়েয়ার
প্রায় তিনমাস আগে গুগল প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ওয়েয়ার এর কথা ঘোষণা করলেও আজকে পুরোপুরি ভাবে উন্মোচন হল অ্যান্ড্রয়েড এর এই স্মার্টওয়াচ অপারেটিং সিস্টেম। আই/ও তে এর কিছু উল্লেখযোগ্য সুবিধাসমুহ দেখান হয়েছে যদি এটি এখনও উন্নয়নে রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি গুগল দুটি স্মার্টওয়াচ ও ঘোষণা করেছে একটি এলজি জি ওয়াচ এবং আরেকটি স্যামসাং গ্যালাক্সি লাইভ। দুটোই অ্যান্ড্রয়েড ওয়েয়ার এ চালিত এবং এর মধ্যে এলজি জি ওয়াচ আগেই নানা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। স্মার্টওয়াচ দুটির দাম যথাক্রমে ২৪৯ এবং ১৯৯ ডলার রাখা হয়েছে এবং আজকে থেকে এটি অর্ডার করা যাবে। তবে স্মার্টওয়াচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মটো ৩৬০ এখনই বাজারে আসবে না। গুগলের ভাষ্যমতে তা এ প্রান্তিকের শেষের দিকে বাজারজাত করা হবে।

DSC_3736

অ্যান্ড্রয়েড অটো
গুগল স্মার্টফোনের মতন গাড়ির ক্ষেত্রেও একটি সংঘঠন তৈরি করেছে বেশ কিছু মাস আগে। ওপেন অটোমোটিভ অ্যালায়েন্স এর উদ্দেশ্য হল গাড়ির ড্যাশবোর্ডকে আরও উন্নত করা। ড্রাইভারের কাছে আরও সহজ করে তোলা। আর এই উদ্দেশ্যে গুগল এই সংঘঠন প্রস্তুত করে। আর আজ গুগল ঘোষণা করল তাদের গাড়ির জন্যে তৈরি অ্যান্ড্রয়েড অটো। এটি গাড়ির ড্যাশবোর্ডের সাথে ড্রাইভারের অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে সংযুক্ত করে তাঁকে করবে আরও উন্নত এবং গাড়ি চালানোর সময় ফোনের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। গুগল আজ ঘোষণা করেছে তাদের এই অ্যালায়েন্সে আরও ৪০ টি প্রতিষ্ঠান যোগ দিয়েছে যা একটি বড় বিষয় বলেই দাবি করা যায়।

DSC_3826

অ্যান্ড্রয়েড টিভি
গুগলের টিভি বাজারে নতুন করে ঢোকার প্রচেষ্টা হল অ্যান্ড্রয়েড টিভি। এর মাধ্যমে গুগল যে কোন ডিভাইসের মাধ্যমে টিভিকে একটি অ্যান্ড্রয়েড টিভিতে রুপান্তর করবে। যা কিনা ব্যবহারকারীর চাহিদা হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে সক্ষম। এটি সম্পূর্ণ টিভিকে একটি এন্টারটেইনমেন্ট বক্স হিসেবে প্রস্তুত করে তুলবে। গুগলের ভাষ্যমতে তারা এর মাধ্যমে টিভিকে মোবাইল এবং ট্যাবলেটের সমান মনোযোগ দিচ্ছে। গুগল ঘোষণা করেছে ২০১৪ সালের সকল সনি স্মার্টটিভি এবং ২০১৫ সালের সকল শার্প স্মার্টটিভি এই অ্যান্ড্রয়েড টিভিতে চলবে। এছাড়া আরও নানা টিভি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এতে যোগ দিবে খুব দ্রুতই।

DSC_3938

ক্রোমে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ
ক্রোমেও আসছে নানা পরিবর্তন। খুব শীঘ্রই ক্রোমে অ্যান্ড্রয়েডের সকল অ্যাপ সমর্থন করবে। ফলে গুগল সার্ভিস ব্যবহারকারী যেখানেই যাক না কেন সে তাঁর গুগলের সকল সার্ভিসেস খুব সহজেই পেতে পারবে।

এসকলের বাইরে গুগল আরও নানা সুবিধা এবং নতুন কার্যক্রম ঘোষণা করেছে যার মধ্যে আছে অ্যান্ড্রয়েড নতুন ডিজাইন, গুগল প্লে সার্ভিসেস, ড্রাইভ, নিরপত্তা, প্রজেক্ট ভোল্টা প্রভৃতি। এ সকল বিষয়ে বিস্তারিত পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে। তবে এত কিছুর মধ্যে গুগলের এই ইভেন্টে নতুন নেক্সাস ডিভাইস, সিলভার কার্যক্রম অথবা নেক্সাস সিরিজ বন্ধ হয়ে যাবার কোন ঘোষণা আসেনি। অবশ্য কোন নেক্সাস ডিভাইস ঘোষণা না হওয়ায় একটি বড় বিষয়। তবে সবমিলিয়ে গুগলের তিনঘন্টার এই কিনোট অনুষ্ঠান যথেষ্ট পরিমাণ উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমে পূর্ণ ছিল বলে দাবি করা যায়।

Facebook Comments

পাইকন ঢাকা নিয়ে বিস্তারিত

পাইথন কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের একটি জনপ্রিয় ভাষা। এটি একটি বহুল ব্যবহৃত হাই-লেভেল প্রোগ্রামিং ভাষা যা বর্তমানকালে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বা ওয়েব এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ছাড়াও বিভিন্ন গবেষণাধর্মী কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভাষার প্রোগ্রামারদের শক্তিশালী কমিউনিটি রয়েছে। প্রতি বছরই এই কমিউনিটির সদস্যরা আয়োজন করেন পাইথন কনফারেন্স যা পাইকন নামে পরিচিত। এই কনফারেন্সগুলো মূলত অনুষ্ঠিত হয় স্বেচ্ছাসেবক পাইথনপ্রেমীদের উদ্যোগে। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই অনুষ্ঠানটি বেশ ঘটা করে আয়োজন করা হয়ে থাকে।

banner

অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও পাইথন ডেভেলপারদের একটি কমিউনিটি রয়েছে যা বাংলাদেশ পাইথন ইউজার গ্রুপ নামে পরিচিত। আর সেই কমিউনিটির সদস্যদের উদ্যোগেই গত ২১শে জুন, ২০১৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো দেশের প্রথম পাইথন কনফারেন্স, পাইকন ঢাকা ২০১৪। সকাল ৯টায় বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে অবস্থিত গ্রীন গ্রানডিউরের ১০ম তলায় এটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে যোগ দেন প্রায় ২০০ জন পাইথন প্রোগ্রামার, যাদের বেশিরভাগই সফটওয়্যার নির্মাতা।

2

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সকাল ৯:৩০ মিনিটে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তামিম শাহরিয়ার সুবিন। অনুষ্ঠানটিতে ছিল মোট দুটি প্রেজেন্টেশন সেশন। প্রতি সেশনে ৫টি করে ভিন্ন ভিন্ন পাইথন লাইব্রেরী নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন। প্রথম সেশন শুরু হয় বেলা ১০:০০ টায়। এই সেশনের প্রথম বক্তা মাফিনার খান। তিনি বর্তমানে প্যানাসিয়া সিস্টেমস লিমিটেড এ প্রডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি আলোচনা করেন পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষার আকর্ষণীয় সব ফিচার নিয়ে।

4

পরবর্তি প্রেজেন্টেশন এর বিষয় ছিল রেস্ট এপিআই (REST API)। ‘টেস্ট ইওর রেস্ট এপিআই’ শীর্ষক এই প্রেজেন্টেশনের বক্তা মুক্ত সফটওয়্যার লিমিটেড এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক তামিম শাহরিয়ার সুবিন। রেস্ট এপিআইয়ের পরে পাইথনের লাইব্রেরী বিউটিফুলসুপ (BeautifulSoup) এর উপরে প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন নর্থ সাউথ বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইনাম মিজবাহ নূর। তিনি তার বক্তব্যে দেখান কিভাবে বিউটিফুলসুপ ব্যবহার করে HTML পার্সিং করা যায়। ওয়েব ক্রলিং ও স্ক্র্যাপিংয়ের জন্য বিউটিফুলসুপ একটি জনপ্রিয় লাইব্রেরী।

8

‘জ্যাঙ্গো ইন লার্জ স্কেল অটোমেশন’ শিরোনামে পরবর্তি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন মুক্ত সফটওয়্যার লিমিটেড এর সিটিও মাহফুজুর রহমান মাসুম। জ্যাঙ্গো হচ্ছে পাইথনে তৈরী জনপ্রিয় একটি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক যার সাহায্যে অনেক সহজে খুব বড় স্কেলের প্রজেক্ট তৈরী করা যায়।

9

প্রথম সেশনের সর্বশেষ বক্তা ছিলেন গোর্কি সাখাওয়াত সোবহান। তিনি ফাইন্ডার ভেহিকেল ট্ট্যাকিং সার্ভিসের পরিচালক এবং তার প্রেজেন্টেশনের বিষয় ছিলো পাইথনের আরেকটি লাইব্রেরী যার নাম টর্নেডো। টর্নেডো একটি এসিনক্রোনাস বা নন-ব্লকিং ওয়েব সার্ভার ও ওয়েব এপ্লিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক যার পুরোটাই পাইথনে লিখা। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ১১;৩০ মিনিটে শেষ হয় অনুষ্ঠানের প্রথম সেশন। প্রথম সেশনের পরে ছিল ৩০ মিনিটের একটি নেটওয়ার্কিং ব্রেক। এই নেটওয়ার্কিং ব্রেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকেরা একে অপরের সাথে আলোচনা ও মত বিনিময় করেন। এ সময় নেসক্যাফে’র পক্ষ থেকে সকলকে বিনামূল্যে কফি বিতরন করা হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশন শুরু হয় বেলা ১২ টায়। এই সেশনে ছিলো আরো পাঁচটি প্রেজেন্টেশন। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই একটি ভিন্নধর্মী বিষয় নিয়ে হাজির হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুহশান আহমেদ আবীর। তিনি জেনেটিক্স ডিপার্টমেন্টের একজন শিক্ষার্থী। তিনি ব্যখ্যা করেন বায়‌োইনফরমেটিক্স কি এবং বায়‌োইনফরমেটিক্স এর বিভিন্ন ক্ষেত্র যেমন FASTA ফাইল পার্সিং, ডিএনএ থেকে আরএনএ ট্রান্সক্রিপশন, প্রোটিনের হোমোলজি মডেলিংয়ে কিভাবে পাইথন লাইব্রেরী ব্যবহৃত হয়। তারপরে আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিংয়ের জন্য লেখা পাইথন লাইব্রেরী NLTK নিয়ে আলোচনা করেন ফাসিউল কবির। তিনি এসসেনিক (Escenic) নামক প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং হচ্ছে বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যেখানে কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভাষতত্বের জ্ঞান ব্যবহার করে কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে কথ্য ও লিখিত ভাষা পার্সিং ও তার অর্থ অনুধাবন এবং অর্থবোধক বাক্য গঠন সংক্রান্ত গবেষণা করা হয়। সহজ করে বলতে গেলে মানুষ এবং যন্ত্রের মধ্যে মনের ভাব আদান প্রদানের জন্য যে শাখায় গবেষণা করা হয় তাই হচ্ছে ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং। আর এই কাজের জন্য পাইথনে রয়েছে চমৎকার একটি লাইব্রেরী যার নাম ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ টুলকিট বা NLTK।

10

ফাসিউল কবিরের চমৎকার প্রেজেন্টেশনের পরে কম্পিউটার বিজ্ঞানের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা ‘মেশিন লার্নিং’ নিয়ে আলোচনা করেন নিউজক্রেডে কর্মরত রাসেল মাহমুদ। মেশিন লার্নিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি প্রশাখা যেখানে প্রদত্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পূর্বাভাষ দেওয়া বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংক্রান্ত গবেষণা করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসা ক্ষেত্র, আবহাওয়ার, বিপণনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেশিন লার্নিং ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয়। রাসেল মাহমুদ আলোচনা করেন কিভাবে পাইথন এর বিভিন্ন লাইব্রেরী ব্যবহার করে মেশিন লার্নিংয়ের বিভিন্ন এলগরিদম বাস্তবায়ন করা যায়।

12

পরবর্তি প্রেজেন্টেশনের বিষয় ছিল পাইথনের Ansible লাইব্রেরী। আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার অটোমেশন ও ম্যানেজমেন্ট, মাল্টিপল নোড সফটওয়্যার ডেপ্লয়মেন্ট, কনফিগারেন ম্যানেজমেন্টের জন্য তৈরী আনসিবল একটি ওপেন সোর্স পাইথন সফটওয়্যার। আনসিবল নিয়ে আলোচনা করেন নিউজক্রেডে কর্মরত প্রকৌশলী শাইখুল ইসলাম চৌধুরী ও প্রকৌশলী ফাইয়াজ আহমেদ।

সর্বশেষ প্রেজেন্টেশন টপিক নিয়ে হাজির হন নিউজক্রেডের রুবাইয়াত ইসলাম ও শিপলু মোকাদ্দিম। তাদের আলোচনার বিষয় ছিল ‘ডিস্ট্রিবিউটেড টাস্ক ম্যানেজমেন্ট উইথ সেলেরী’। সেলেরী ডিস্ট্রিবিউটেড মেসেজ পাসিং এর উপর ভিত্তি করে পাইথনে তৈরী একটি এসিনক্রোনাস টাস্ক কিউ (রিয়াল টাইম এবং সিডিউলিং)।এটি একটি শক্তিশালী ওপেন সোর্স সফটওয়্যার যা অনেক বেশী ডাটা নিয়ে কাজ করতে সক্ষম। যে সকল সিস্টেমে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাস্ক/জব নিয়ে কাজ করতে হয় সেখানে সাধারনত সেলেরী ব্যবহৃত হয়। এই প্রেজেন্টেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পাইকনের দ্বিতীয় সেশন।

11

5

এছাড়াও অনুষ্ঠানে পাইথন শিক্ষার্থীদের পাইথন শিখতে উৎসাহিত করে বক্তব্য প্রদান করেন মুনির হাসান। অনুষ্ঠানের শেষে ছিল একটি সাধারন প্রশ্নোত্তর পর্ব। উপস্থিত দর্শকরা বিভিন্ন প্রশ্ন এবং উত্তর প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষ হয় বেলা দুইটায়। পুরো অনুষ্ঠানটির ভিডিওতে ধারন করে বিডিওএসএন। শীঘ্রই ভিডিওগুলো ইউটিউবে আপলোড করা হবে বলে জানিয়েছেন অনুষ্ঠানের আয়োজকদের একজন, দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুলের সিইও তাহমিদ রাফি।

1314

অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহায়তা করেছে দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক। দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান যারা বিভিন্ন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন কোর্সের আয়োজন করে থাকে। আর বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক হচ্ছে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার জনপ্রিয় করতে কাজ করে। সাথে ছিলো বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম।

banner-logo

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকলকে স্পনসরদের পক্ষ থেকে টি-শার্ট, গিফট প্যাক ও দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হয়। পাইকন ঢাকা ২০১৪-এর স্পন্সর ছিলো নিউজক্রেড, ওয়াইডস্পেস, বিডিজবস, মুক্তসফট, ফাইন্ডার এলবিএস, অনলাইন কেনাকাটা, ট্রান্সেনডিও ও নেসক্যাফে। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করে আয়োজকরা বলেন, ‘বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মত আমরা পাইথন ডেভেলপারদের জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত পাইকন ঢাকা ২০১৪ করেছি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখে আমরা অভিভূত’। তারা ভবিষ্যতে পাইথন প্রোগ্রামারদের আরো বড় সম্মেলন আয়োজন করার ইচ্ছা ব্যাক্ত করেন। তারা আরো জানান, dhaka.pycon.org ইউআরএল এ ইভেন্টের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

6

Facebook Comments

উন্নয়নশীল দেশের জন্যে ফেসবুকের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে পরিবর্তন

facebook-645x250

ফেসবুক প্রায় দু বছর আগে ঘোষণা করেছিল যে তারা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে মোবাইল কেন্দ্রিক হিসেবে গড়ে তুলবে। এ উদ্দেশ্যে তারা অনেক কাজই করেছে তবে এবার তারা নজর দিয়েছে স্বল্পোন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে কিনা ইন্টারনেট ডাটার খরচ প্রচুর। আর তাই তারা তাদের ফেসবুক অ্যাপটি নতুন করে গঠন করেছে।

ফেসবুক সম্প্রতি এ বছরের শুরু দিকে আফ্রিকায় কিছু গবেষণা চালিয়েছে। তারা লক্ষ্য করেছে কিভাবে করে তাদের ফেসবুক অ্যাপ আফ্রিকায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই গবেষণার কারন এখানে অধিকাংশ মানুষই নিম্নমানের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকে এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সাধারণ মানের। তাই এই অঞ্চলের মানুষরা ফেসবুক কিভাবে ব্যবহার করে সে গবেষণা থেকে কিভাবে করে তাদের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহার কিভাবে করে বাড়ানো যায় তাও উঠে আসবে। আর এই গবেষণার ফলাফল হল নতুন অ্যান্ড্রয়েড আপডেট যা কিনা ফেসবুকের দাবিমতে নানা ক্ষেত্রে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এর মধ্যে যে সকল বিষয়গুলো আছে তা হল-

  • অ্যাপটি চালু হতে ৫০ শতাংশ কম সময় নিবে
  • অ্যাপটি ৫০ শতাংশ কমে ইন্টারনেট ডাটা খরচ করবে
  • ফেসবুকে অ্যাপের ইমেজ লোড ব্যর্থতার পরিমাণ ৯০ শতাংশ হ্রাস করবে
  • অ্যাপটির আকার ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করা হয়েছে

এই সকল ক্ষেত্রে উন্নত করতে ফেসবুককে নানা ধরনের সমাধানের আশ্রয় নিতে হয়েছে। যার মধ্যে আছে গুগলের নতুন ইমেজ ফরম্যাট ওয়েবপি এর ব্যবহার যা কিনা ইতোমধ্যে গুগল ক্রোম এবং অপেরা ম্যাক্স ব্রাউজারে ব্যবহার করা হয়। এই ইমেজ ফরম্যাট ব্যবহারের ফলে ফেসবুকে ইমেজ ক্ষেত্রে ডাটা বাচবে প্রায় ২৫-৩৫ শতাংশ জেপিজি এর তুলনায় এবং পিএনজি এর তুলনায় ৮০ শতাংশ। আর এর সবকিছুই সম্ভব হবে ছবির মানের উপর কোন প্রকার খারাপ প্রভাব না ফেলে।

এছাড়া বিভিন্ন স্ক্রিন রেজুলেশনের, প্রসেসর এবং র‍্যামের ডিভাইসের জন্যে বিভিন্ন ধরনের এপিকে ফাইল গুগল প্লে স্টোরে সংযোজন করেছে ফেসবুক। ফলে ব্যবহারকারী যেই ধরনের ফোনই ব্যবহার করুক না কেন সে পাবে সর্বশেষ আপডেটেড ফেসবুক সংস্করণ এবং তাঁর সকল সুবিধা। এছাড়া অ্যাপটি কাজ করবে দ্রুত, লোড হতে সময় নিবে কম আর এর আকার হবে ছোট।

এছাড়া ইমেজ লোডিং ব্যর্থতার মান কমাতে তারা নতুন নেটওয়ার্ক কনসেপ্ট তাদের মোবাইল অ্যাপে ব্যবহার করা শুরু করেছে। যা হল OkHttp।

ফেসবুকের ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার এলেক্স সৌরভ এ বিষয়ে বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র উচ্চমানের স্মার্টফোন এবং উন্নত এলটিই নেটওয়ার্কে ভাল অভিজ্ঞতা দেয়া নয়। আমরা চাই ফেসবুক সকলের জন্যে কাজ করুক- তা যেই অঞ্চল হোক না কেন, নেটওয়ার্ক এর অবস্থা যাই হোক না কেন এবং যেই মোবাইল ফোনই হোক না কেন।”

সৌরভ তাদের এই গবেষণা করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতার কথাও বর্ণনা করে। যেমন তারা তাদের মাসিক ইন্টারনেট ডাটা ফেসবুক অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র ৪০ মিনিটেই খরচ করে ফেলে। এছাড়া আছে মেমরি সমস্যা, লোড হতে অতিরিক্ত সময় লাগা, অ্যাপ ক্র্যাশ করা এবং অন্যান্য সমস্যা যা কিনা স্বল্পোন্নত দেশে চিরচেনা কিন্তু তাদেরকে একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে।

ফেসবুকের এই কার্যক্রমকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছে। কারন স্বল্পোন্নত অথবা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ফেসবুকের নজর দেয়া উচিত। তবে ফেসবুক যেখানে পশ্চিমা বাজারে প্রায় পূর্ণতা পেয়ে গেছে সেক্ষেত্রে ফেসবুক যে এ সকল দেশে আগে কিংবা পরে নজর দিতে বাধ্য তা বোধগম্য।

Facebook Comments

প্রোগ্রামিং কনটেস্ট

কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রোগ্রামিং, যা সফটওয়্যার নির্মাণ কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিষয়টি অন্যান্য লেখাপড়ার মতো নয় যে বই পড়লাম, কিছু প্রশ্নের উত্তর শিখে ফেললাম, পরীক্ষা দিয়ে সব ভুলে গেলাম। প্রোগ্রামিং হচ্ছে একটি দক্ষতা (skill)। ব্যাপারটিকে সংগীতের সাথে তুলনা করা যায়। প্রোগ্রামিং চর্চার মাধ্যমেই ভালো প্রোগ্রামার হওয়া যায়, প্রোগ্রামিংয়ে উৎকর্ষ সাধন করা যায়।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং চর্চাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় আয়োজনের নাম হচ্ছে ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতার নাম আইসিপিসি (ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট)। আইসিপিসি’র মূল আয়োজক হচ্ছে এসিএম (ACM: এসোসিয়েশন অব কম্পিউটার মেশিনারিজ), তাই একসাথে একে এসিএম আইসিপিসি বলা হয়ে থাকে।

এসিএম আইসিপিসি মূলত দুইটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা (রিজিওনাল কনটেস্ট) ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ (ওয়ার্ল্ড ফাইনালস)। অনেক জায়গায় আবার আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার আগে অনলাইনে একটি বাছাই প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। এসব প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বা একাধিক দল অংশ নিতে পারে। আর হ্যাঁ, প্রতিযোগিদের কিন্তু কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী হতে হবে এমন কোনো কথা নেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারে।

বাংলাদেশ ১৯৯৮ সাল থেকে নিয়মিত এসিএম আইসিপিসি’র চূড়ান্ত পর্ব অর্থাৎ ওয়ার্ল্ড ফাইনালসে অংশ নিয়ে আসছে। এবছরও রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এসিএম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালসে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে সাস্ট (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) ও বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে একটি করে দল। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ একবারই সেরা ২০টি দলের মধ্যে ঢুকতে পেরেছিল। ১৯৯৯ সালে বুয়েটের একটি দল সেটি সম্ভব করেছিল বিশ্বের বড় বড় অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে ১১তম স্থান অর্জন করে। অনেকদিন ধরে অংশ নিয়ে আসলেও বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা এখনও খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে নি, সেটি প্রোগ্রামিং সম্পর্কে না জানার কারণেই হোক, কিংবা কষ্ট করে নতুন কিছু শেখার প্রতি তরুণ প্রজন্মের অনীহার কারণেই। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় আসলে কী হয়? এসিএম আইসিপিসি বা এই ধরনের প্রতিযোগিতায় তিনজন প্রোগ্রামার মিলে একটি দল হিসেবে অংশগ্রহন করে। প্রতিটি দলকে দেওয়া হয় একটি কম্পিউটার, এক সেট প্রোগ্রামিং সমস্যা (৯ থেকে ১২ টি) এবং সেগুলো সমাধানের জন্য ৫ ঘণ্টা সময়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেই দল সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সমস্যার সমাধান করতে পারে, সেই দল বিজয়ী হয়। সমান সংখ্যক সমস্যার সমাধান করলে যারা কম সময়ে করেছে এবং পেনাল্টি কম (সমাধান ভুল হলে ২০ মিনিট পেনাল্টি হয়), তারা rank-list-এ ওপরে থাকে। সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি সমস্যা এমন দেওয়া হয় যেন সেটি সব দলই সমাধান করতে পারে, আরেকটি থাকে এমন যাতে কোনো দলই সমাধান করতে না পারে।

প্রোগ্রামিং সমস্যাগুলো তৈরি করেন কারা? যারা ইতিপূর্বে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় সাফল্য লাভ করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকেই কয়েকজন প্রোগ্রামিং সমস্যাগুলো তৈরি করেন এবং প্রতিযোগিতার বিচারক হন। আর আমাদের শাহ্‍‍রিয়ার মঞ্জুর তো এসিএম আইসিপিসি’র চূড়ান্ত পর্বের বিচারক, তাও গত ১২ বছর ধরে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। প্রোগ্রামিং সমস্যা তৈরি হওয়ার পরে যিনি সমস্যাটি তৈরি করেন, তিনি সেটির সমাধান করার জন্য প্রোগ্রাম লেখেন এবং ডাটা সেট তৈরি করেন, যেগুলো দিয়ে সমাধান পরীক্ষা করা হবে। তারপর জাজ প্যানেলের আরেকজন সেই সমস্যাটির একট বিকল্প সমাধান তৈরি করেন এবং সেটি জাজ ডাটা সেট দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। সবকিছু ঠিকঠাক মতো হলেই সমস্যাটি প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচন করা হয়। এগুলো সবই করা প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার বেশ কিছুদিন আগে। প্রতিযোগিতার সময় কেউ যখন কোনো সমস্যা সমাধান করে জমা দেয়, তখন জাজ ডাটা দিয়ে সেটি পরীক্ষা করা হয়। প্রোগ্রামটি যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রান করে সঠিক আউটপুট দেয়, তবেই সেটি সমাধান হয়েছে বলে গ্রহন করা হয় এবং সাথে সাথে সেই দলকে সেটি জানিয়ে দেওয়া হয়। আবার সমাধান সঠিক না হলেও সেটি জানিয়ে দেওয়া হয় যাতে তারা আবার চেষ্টা করতে পারে। এসব কাজ করা হয় একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে।

প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে কী জানা লাগবে? প্রথমেই একটি প্রোগ্রামিং ভাষায় উপর ভালো দখল প্রয়োজন। সি (C) বা সি প্লাস প্লাস (C++) এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো। কারণ এ দুটি ভাষা মোটামুটি সব ধরণের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ব্যবহার করা হয়। অনেকক্ষেত্রে জাভাও ব্যবহার করা যায়, তবে কিছু কিছু সমস্যার সমাধান জাভা দিলে লেখা হলে সেগুলো রান করতে বেশি সময় লাগে। সি এর চেয়ে সি প্লাস প্লাস ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ এই জন্য যে সেখানে এসটিএল (STL : স্ট্যান্ডার্ড টেমপ্লেট লাইব্রেরি) বলে খুব কার্যকরী লাইব্রেরি আছে, যেটির ব্যবহার কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক সময় বাঁচিয়ে দেয়। তবে সি এবং সি প্লাস প্লাস-এর মধ্যে মিল অনেক বেশি এবং সি দিয়ে প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করলে সি প্লাস প্লাস শিখতে খুব একটা সময় লাগবে না। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় যারা অংশগ্রহন করতে ইচ্ছুক, তাদের কথা মাথায় রেখে অনলাইনে একটি প্রোগ্রামিং কোর্স তৈরি করা হয়েছে, সেটিতে অংশ নেওয়ার জন্য যেতে হবে এখানে : http://dimikcomputing.com/course/introduction-to-programming-online-course/ , কোর্সটি সবার জন্য বিনামূল্যে দেওয়া আছে এবং নিজের সুবিধামতো সময়ে সেটি করা যাবে। তারপর কোর্সটি করা শেষ হলে কিংবা প্রোগ্রামিং ভাষা মোটামুটি শেখা হলে প্রবলেম সলভ করা শুরু করতে হবে। শুরুটা করার জন্য এখানে কিছু প্রোগ্রামিং সমস্যা আছে যেগুলোর বর্ণনা বাংলাতে লেখা : http://goo.gl/wsJPQV

প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ভালো করতে হলে দুটি জিনিস পাশাপাশি চালিয়ে যেতে হয়, প্রবলেম সলভিং ও লেখাপড়া। প্রবলেম সলভ করার জন্য ভালো কিছু ওয়েবসাইট হচ্ছে :

CodeForces (http://codeforces.com/)
TopCoder (http://www.topcoder.com/)
CodeChef (https://www.codechef.com/)
SPOJ (http://www.spoj.com/)
LightOJ (http://lightoj.com)

এসব ওয়েবসাইটে প্রবলেম সলভিংয়ের চর্চা তো করা যায়ই, সেই সাথে বিভিন্ন অনলাইন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যায়। অনেকের ভুল ধারণা থাকে যে সব লেখাপড়া শেষ করে তারপরে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুরু করবে, সেটি ঠিক নয়। দুটি কাজই একসাথে চালিয়ে যেতে হবে।

বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবলেম সলভ করার সময় অনেকে একই রকম অনেক প্রবলেম সলভ করে। সেটি না করে বিভিন্ন রকম প্রবলেম সলভ করার পেছনে সময় দেওয়াটাই শ্রেয়। অনেক সময় কঠিন কিছু প্রবলেমের পেছনে বেশ কয়েকদিন লেগে থাকতে হয়। সমস্যা সমাধানের জন্য এই লেগে থাকার ব্যাপারটা বিরক্তিকর ঠেকালেও হতাশ হওয়া চলবে না।

প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার পরে শিখতে হবে ডাটা স্ট্রাকচার আর অ্যালগরিদম। এগুলো ভালো বুঝার জন্য আবার ডিসক্রিট ম্যাথ বা বিচ্ছিন্ন গণিতের উপর ভালো দখল থাকা চাই। ডিসক্রিট ম্যাথ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সিলেবাসে আছে। আর নিজে নিজে শিখতে চাইলে বইয়ের সাহায্য নেওয়া যায় কিংবা অনলাইনে ডিসক্রিট ম্যাথের উপর একটি ফ্রি কোর্স আছে, সেটিতে অংশ নেওয়া যায় : http://dimikcomputing.com/course/discrete-mathematics-online-course/। ডাটা স্ট্রাকচার এবং  অ্যালগরিদম শেখার সময় বেশ কয়েকটি বই পড়তে হবে। আর প্রতিটি অ্যালগরিদম শেখার পরে সেই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কয়েকটি সমস্যা সমাধান করে ফেলতে হবে। ইন্টারনেটে এরকম কিছু তালিকা পাওয়া যায় যে একটি অ্যালগরিদম দিয়ে কোন কোন ওয়েবসাইটে কোন কোন সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়। অ্যালগরিদম ছাড়াও গণিতের বেশ কিছু বিষয়ে ভালো দখল থাকতে হবে। যেমন : জ্যামিতি, সংখ্যাতত্ত্ব, কম্বিনেটরিক্স। তবে এগুলো আলাদাভাবে না শিখে এই সংক্রান্ত প্রবলেম সলভ করতে করতে শেখাটাই বেশি কার্যকরি – এমন মতামত দিয়েছেন মীর ওয়াসি আহমেদ, যিনি বুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র থাকাকালীন অংশ নিয়েছেন এসিএম আইসিপিসি’র চূড়ান্ত পর্বে (২০১২ সালে)। তাঁর মতে প্রথমে একটি সমস্যা নিয়ে সেটি নিজে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। যথেষ্ট সময় চেষ্টা করার পরে সেটি সমাধান করতে না পারলে, সেটির সমাধান দেখে শিখে নিতে হবে। নিজে কোড লেখার পাশাপাশি অন্যের লেখা কোড পড়ে বোঝাটাও অনের দরকারি।

অ্যালগরিদম শেখার ব্যাপারে একটি কথা। অ্যালগরিদমটি কীভাবে কাজ করে কেবল সেটি জানাই এখন যথেষ্ট নয়। অ্যালগরিদম সংক্রান্ত বইয়ের অনুশীলনীর সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে, যাতে সেটির গভীরে প্রবেশ করা যায়। আর তার সাথে প্রবলেম সলভিং তো চলবেই।

ব্যক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পরে নজর দিতে হবে দলীয় দক্ষতা বাড়ানোর প্রতি। যেহেতু তিনজন মিলে একটি দল এবং সেই দলের জন্য একটি মাত্র কম্পিউটার ও একসেট প্রশ্ন, তাই দলের সদস্যদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া থাকা চাই। দল হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। সেখানে অংশ নেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে তিনজন মিলে যেন একটি কম্পিউটার ব্যবহার করে। সমস্যাগুলোও একসেট প্রিন্ট করে সেটি ব্যবহার করা উচিত। দলের প্রত্যেক সদস্যের অপর সদস্যদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে হবে। যেই বিষয়ের উপর যে দক্ষ, সেই বিষয়ের সমাধানের দায়িত্ব তার উপরই দেওয়া উচিত। আর অনেক সময় একটি প্রবলেম নিয়ে দুজন মিলে আলোচনা করলে দ্রুত সমাধান চলে আসে। প্রোগ্রামিং কনটেস্টের দলগত কৌশলের ব্যাপারে একটি চমৎকার লেখা আছে, টিমওয়ার্ক ইন প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (লিঙ্ক : http://goo.gl/wBPBON)। এটি সবার পড়া আবশ্যক।

২০০৭ সালের আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালসে অংশগ্রহনকারী, বিগত সাত বছর ধরে এসিএম আইসিপিসির বিচারক ও মুক্তসফটের সিইও মোহাম্মাদ মাহমুদুর রহমান এর মতে – “প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এমন একটি কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি যা থেকে শেখার আছে অনেক – দ্রুত ও নিখুত কোডিং, জটিল সমস্যার সমাধান করা, ধৈর্য্য, অধ্যবসায়, টিমওয়ার্ক, চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রাখা এরকম আরো অনেক কিছু। সবচেয়ে যেটা জরুরি, এটি এমন একটি ইভেন্ট যা কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই একজন শিক্ষার্থীকে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দেয়, নিজেকে চ্যালেঞ্জ করে দেখ​, তোমার পক্ষে যেকোন কিছু জয় করা সম্ভব। কনটেস্টে ভালো করতে হলে চাই পরিশ্রম, জেদ, আত্নবিশ্বাস। শুধুমাত্র গতবাধা কোডিং-এর চেয়ে অনেক চিন্তা করে একটি কঠিন প্রবলেম সলভ করা লাভজনক। ধাঁধাঁ বা গাণিতিক সমস্যা সমাধানের অভ্যাস কাজে আসবে অনেক। ইংরেজিতে দখল-ও জরুরি। সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ, উপভোগ করতে হবে। কনটেস্টকে পরীক্ষা হিসেবে না নিয়ে খেলা হিসেবে চিন্তা করতে পারলে ভালো হয় – কম্পিটিটিভ লার্নিং-এর মূল কথা কিন্তু এটিই।”

প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় সাফল্য লাভের জন্য যতটুকু না মেধার প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিশ্রম, চর্চা ও অধ্যাবসায়ের। বাইরে থেকে দেখলে অনেকর মনেই প্রশ্ন জাগবে, এরা একটা প্রতিযোগিতার জন্য এভাবে নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছে কেন? আর এমন করে আদৌ কোনো লাভ আছে? এসিএম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালসের বিচারক শাহ্‍‍রিয়ার মঞ্জুর এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন ও নিয়মিত চর্চা করলে সমস্যা সমাধানের একটা দক্ষতা তৈরি হয়, সেই সাথে নিজেকে অন্যদের চেয়ে বুদ্ধিমান ও উন্নত বলে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। এটিই প্রোগ্রামারদের অনেক বড় পাওয়া। আর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি হওয়ার ফলে তখন কেবল প্রোগ্রামিং সমস্যাই নয়, সমাজের অন্য অনেক সমস্যাও অনেক সহজ মনে হয়। যারা ছাত্রজীবনে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার সাথে যুক্ত থাকে, তারা কর্মক্ষেত্রেও অনেক সমস্যার সমাধান অন্যদের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে করতে পারে।” তাঁর একথা যে সত্যি, সেটি প্রমাণ হয় যে গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট-এর মতো বিশ্বের বড় বড় কোম্পানীগুলোও সফটওয়্যার প্রকৌশলী নেওয়ার সময় যারা প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় খুব ভালো করে, তাদেরকেই বেশি অগ্রাধিকার দেয়।

সুশৃংখলভাবে প্রোগ্রামিং চর্চা এবং প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের ফলে কেবল প্রোগ্রামিং উৎকর্ষই বাড়বে না, মানুষ হিসেবে নিজেকে আরো উন্নত করে গড়ে তোলা যাবে। আর জাতি হিসেবেও আমদের এগিয়ে নেবে।

বি.দ্র. আমার এই লেখাটি প্রথম আলো’র প্রজন্ম ডট কম পাতায় প্রকাশিত হয় ২০ জুন ২০১৪ তারিখে।

প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য দ্বিমিক প্রকাশনীর তিনটি বই –

Facebook Comments

উন্মোচন হল অ্যামাজনের ফায়ার ফোন

অবশেষে মুক্তি পেল বহুল প্রতীক্ষিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের স্মার্টফোন। প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা নানা গুজবের ইতি ঘঠিয়ে অ্যামাজনের সিইও জেফ বেজস গত ১৯ তারিখ তাদের এই নতুন স্মার্টফোন ঘোষণা করে। আর এই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ট্যাবলেট প্রস্তুতকারন প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন এবার প্রবেশ করল স্মার্টফোন বাজারে।

অ্যামাজনের ঘোষণা করা এই নতুন স্মার্টফোনের নাম হল ‘অ্যামাজন ফায়ার ফোন’। ৪.৭ ইঞ্চি স্ক্রিনের এই স্মার্টফোনটি নিয়ে বেশ আশাবাদী অ্যামাজন। আর এটি তাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে উল্লেখ্য পরিমানে ভুমিকা রাখবে বলে ধারনা করা যায়। অ্যামাজনের ঘোষণা করা এই স্মার্টফোনের দুটো উল্লেখ্য ফিচার হল এর ‘ডাইনেমিক প্রাস্পেকটিভ’ এবং ‘ফায়ারফ্লাই’। উল্লেখ্য এই দুই ফিচারের মাধ্যমে অ্যামাজন নিজেদের অন্যান্য স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে ডাইনামিক প্রাস্পেকটিভ এর মাধ্যমে কিছুটা থ্রিডি অভিজ্ঞতা প্রদান করা হবে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। আর এর জন্যে স্মার্টফোনটির সামনে ব্যবহার করা হয়েছে চারটি ক্যামেরা। যা কিনা ব্যবহারকারীর চোখ, মাথার দিকভঙ্গি সকল কিছু পর্যবেক্ষণ করবে এবং সে হিসেবে স্ক্রিনের ছবিতে একটি ডেপথ অথবা গভীরতা তৈরির চেষ্টা করবে। অপরদিকে ‘ফায়ারফ্লাই’ হল একটি ক্যামেরা সংক্রান্ত ফিচার যা কিনা ক্যামেরার মাধ্যমে যেকোনো বস্তু অথবা ছবিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে এবং সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়ার দিবে। আর সেটি যদি কোন পন্য হয় তবে অ্যামাজন তাদের স্টোরের মাধ্যমে এটি কেনার সুযোগও তৈরি করে দিবে। অ্যামাজন তাদের এই ফিচার নিয়ে এতটাই আশাবাদী যে তারা এর জন্যে একটি নির্দিষ্ট কি-বোটনও তৈরি করেছে ফোনে।

উল্লেখ্য ফিচার দুটির বাইরে ফোনটির অন্যান্য স্পেসিফিকেশন হল- একটি ৪.৭ ইঞ্চি ১২৮০x৭২০ রেজুলেশনের আইপিএস ডিসপ্লে। এই ডিসপ্লে ৫৯০ নিট পর্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে যার ফলে যেকোনো আলোতে এতে সহজেই কাজ করা যাবে। প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়াল্কম স্ন্যাপড্রাগন ৮০০ কোয়াড কোর প্রসেসর যা কিনা ২.২ গিগাহার্জে ক্লক করা এবং জিপিউ হিসেবে আছে অ্যাড্রেনো ৩৩০ জিপিউ। আরও আছে ২ গিগাবাইট র‍্যাম, ৩২ এবং ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ সুবিধা এবং অ্যামাজন ক্লাউডে আনলিমিটেড ছবি বিনামূল্যে রাখার সুবিধাও। ক্যামেরা হিসেবে আছে ১৩ মেগাপিক্সেল ফাইভ এলিমেন্ট লেন্স f/2.0 ক্যামেরা যা কিনা স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৫ এবং আইফোন ৫এস এর সাথে তুলনীয় বলে অ্যামাজন দাবি করে। ক্যামেরাতে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ফিচার হল এর ওআইএস অথবা অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন যার ফলে ছবি কম ব্লার হবে এবং কম আলোতে ছবি তোলা আরও সহজ হবে।

ফোনটি অ্যামাজনের নিজস্ব ফায়ার ওএস ৩.৫ এ চলে যা কিনা মূলত অ্যান্ড্রয়েডেরই একটি সংস্করণ। এর ইউআই অ্যামাজনের ট্যাবলেট সংস্করণের মতনই এবং এটি গ্রাহককে তাদের পন্য আরও সহজে কিনতে সাহায্য করবে। তবে এটি অ্যামাজনের নিজস্ব ওএস হওয়ায় এতে নেই কোন গুগল অ্যাপস অথবা গুগল প্লে স্টোর।

অ্যামাজনের এই ফোনটি যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রি-অর্ডার করা যাচ্ছে এটিএন্ডটির মাধ্যমে। ফোনটির মূল্য ৩২ জিবি স্টোরেজের জন্যে ৬৪৯ ডলার এবং ৬৪ জিবি স্টোরেজের জন্যে ৭৪৯ ডলার। এই দাম অনেককেই অবাক করেছে কারন ধারনা করা হয়েছিল অ্যামাজনের ট্যাবলেটের মতন এর দামই কম হবে। কিন্তু অন্যান্য সকল স্মার্টফোনের মতনই এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যামাজন এর পরও আশা করছে তারা এ বছর প্রায় ২-৩ মিলিয়ন ফায়ার ফোন বিক্রি করতে পারবে।

Facebook Comments

পাইকন ঢাকা ২০১৪

বর্তমান বিশ্বে জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পাইথন (Python)। এটি একটি ওপেন সোর্স প্রোগ্রামিং ভাষা যেটি তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজটি করে পাইথন সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন।

PyCon Dhaka 2014
PyCon Dhaka 2014

সারা পৃথিবীতে পাইথন প্রোগ্রামারদের যেই সম্মেলনগুলো অনুষ্ঠিত হয়, সেটির নাম হচ্ছে পাইকন (পাইথন কনফারেন্স)। সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে “পাইকন ঢাকা ২০১৪” নামে বাংলাদেশে সেটি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই জুন মাসের ২১ তারিখ। ইতিমধ্যে পাইথন ফাউন্ডেশন থেকে অনুমতিও পাওয়া গেছে। তারা তাদের ওয়েবসাইটে ঢাকার এই অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেছে।

তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে পাইথন-এর বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও পাইথন প্রোগ্রামারদের নিজেদের মধ্যে পরিচিতিরও সুযোগ থাকছে এখানে। ইতিমধ্যে রেজিস্ট্রেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৭০ জন পাইথন প্রোগ্রামার পাইকন ঢাকা-তে রেজিস্ট্রেশন করেছেন বলে জানা গেছে।

সম্পূর্ণ ইভেন্টটি ভিডিও করা হবে যেন পরববর্তি সময়ে ইউটিউব থেকে আলোচনাগুলো দেখার সুযোগ থাকে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক বাংলাদেশ পাইথন ইউজার গ্রুপ, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক ও দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল। পার্টনার হিসেবে আছে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম। পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে নিউজক্রিড, ওয়াইডস্পেস, মুক্তসফট, বিডিজবস, ট্রান্সেনডিও, অনলাইন-কেনাকাটা, ফাইন্ডার এলবিএস এবং নেসক্যাফে।

পাইকন ঢাকা-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট : http://dhaka.pycon.org/

Facebook Comments

ন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ২০১৪

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) আয়োজনে ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সহযোগিতায় গত শুক্রবার ‘ড্যাফোডিল জাতীয় কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (এনসিপিসি) ২০১৪ অনুষ্ঠিত হয় ৷ এই প্রোগ্রামিং কনটেস্টে অংশগ্রহণ করে দেশের ৫২ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫টি দল।

National Colegiate Programme

এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ম্যাক্স+৭ এই দলটি মোট ১১ টি সমস্যার মধ্যে ৭ টি সমস্যার সমধান করে ৭২৬ পয়েন্ট পেয়ে প্রথমস্থান অধিকার করে৷ এ দলের সদস্যরা হলেন প্রত্যয় মজুমদার, প্রসেনজিৎ বড়ুয়া ও মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দীন। রানারআপও হয়েছে বুয়েট৷ এ দলটির নাম ওনিয়ন এরা মোট ৬টি সমস্যার সমধান করে (মো. কায়সার আবদুল্লাহ, সাদিয়া নাহরিন ও সাকিব সাফায়াত)৷

প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাস্ট ব্যাট বিট্যান্স (ধনঞ্জয় বিশ্বাস, দেওয়ান মাহমুদ রায়হান, যীশু ব্যানার্জি) মোট ৫ টি সমস্যার সমাধান করে। চতুর্থ স্থান অর্জন করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিআইইউ প্রাইমেটিভ দল (মো. সামিউল ইসলাম, শরীফ আহমেদ ও শুভ কর্মকার) যারা মোট ৫ টি সমস্যার সমাধান করে ৷

সমস্যা গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমাধান হয়েছে A, C,এবং J নং সমস্যাটি, তবে ৭ টি সমস্যার মধ্যে B , D এবং H এই তিনটি সমস্যা কোন দলই সমধান করতে পারেনি। সম্পূর্ণ ফলাফল এখানে পাওয়া যাবে : https://algo.codemarshal.com/contests/bd-ncpc-2014/standings

Facebook Comments

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ডেভেলাপার কনফারেন্স

আগামীকাল শুক্রবার (৬ জুন) ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে অনুষ্ঠিত হবে সফটওয়্যার নির্মাতাদের একটি বিশেষ সম্মেলন।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন সফটওয়্যার নির্মাতা। অনুষ্ঠানটি হবে ঢাকার আগারগাঁতে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত, কোনো রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই। তবে সেখানে আসনসংখ্যা সীমিত বিধায়, যারা আগে আসবেন, তারাই সেখানে বসার সুযোগ পাবেন। অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল ৯:৩০ মিনিটে এবং চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

নিচে আলোচনার বিষয় ও আলোচকদের নাম দেওয়া হলো।

1. User Experience – sell the experience, not the product by Azec Elahi, Senior UX Engineer, The Jaxara IT Ltd

2. Getting the most out of Chrome Developer Tools – M. Mahbubur Rahman , CTO, iViveLabs

3. Beyond PHP4 – The beautiful world of cutting edge PHP – Mohammad Emran Hasan , Founder and CTO, Right Brain Solutions Ltd.

4. CSS Preprocessor, Why and How – Mizanur Rahman , Development Manager, Trustpilot at GraphicPeople

5. Playing with Composer – Tareq Hasan, Founder, WeDevs

6. Introduction to Machine Learning, Nhm Tanveer Hossain Khan, Sr backend Engr at Tweek.tv

7. Power debugging and profiling – Abu Ashraf Masnun , Software Engr at AirCourt

8. Angular JS – Mafinar Khan, System Analyst at Panacea Ltd

9. Introduction to Laravel 4 – Mozammel Haque , Development Manager, Vantage labs Dhaka

10. Explore Awesomeness of Cutting Edge JS Tools by Rifat Nabi , Technical Architect, Tasawr Interactive

Facebook Comments

বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কার্ড চালু হচ্ছে!

বাংলাদেশের মোবাইল ফোন এ্যাপ্লিকেশন ডেভেলাপারদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যুক্ত হতে এতদিন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিলো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি অন লাইনে লেনদেনের সুযোগ না থাকা। এই অসুবিধাটি অনুধাবন করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রচেষ্টায় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বাংলাদেশে অনুমোদন পেল ভার্চুয়াল কার্ড।

ভার্চুয়াল কার্ড

জুন ০২, ২০১৪ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায় যে ইন্টারনাশনাল চেম্বার অব কমার্স-এর অর্ন্তভূক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ ব্যক্তিগত পর্যায়ে মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন এবং গেম নির্মাণকারীদের আর্ন্তজাতিক ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের জন্য ‘ভার্চুয়াল কার্ড’ ইস্যু করবার সুবিধা প্রদান করবে। জাতীয় পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপস উন্নয়নে সচেতনতা ও দক্ষতাবৃদ্ধি কর্মসূচীর আওতায় অংশগ্রহণকারী ডেভেলাপার, বেসিস বা এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং অন্যান্য স্বীকৃত একাডেমিক বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আয়োজিত নানা ধরণের বুট ক্যাম্প, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ইত্যাদিতে সনদপ্রাপ্ত ডেভেলপার ও ফ্রীল্যান্সারগণ অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এই কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সংযুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশী ডেভেলাপারদের প্রধান বাঁধা দূর হলো।

তবে এ ধরণের কার্ড দিয়ে এক বছরে ৩০০ মার্কিন ডলার বা তার সমমূল্যের বেশি অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হবে না। তবে বিভিন্ন ফী এর জন্য বছরে ৩০০ ডলার যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন অ্যাপ ডেভেলাপার।

নিচের ছবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিটি যুক্ত করে দেওয়া হলো।

vcard_circular

Facebook Comments