কোন পথে যে চলি

কম্পিউটার সায়েন্সের গ্রাজুয়েশন শেষ বা শেষের পথে। তখন সবারই চিন্তা-ভাবনা থাকে চাকরী নিয়ে। আমার একজন ক্লাসমেট ও বন্ধু খুব ভাল মোটর সাইকেল চালাতো। প্রায়ই তার মোটর সাইকেলে চড়ে এদিক-সেদিক যেতাম। তার আবার এমনিতেই টেনশন একটু বেশি, সিরিয়াস টাইপের ছেলে তো। তো ফোর্থ ইয়ারে যখন পড়ি, তখন একদিন তার মোটরসাইকেলের পিছনে বসে ভার্সিটি থেকে শহরে যাচ্ছিলাম। তখন তার টেনশনের পরীক্ষা নিতে আমি পিছনে বসে কথা শুরু করলাম। “দোস্ত, চাকরির অবস্থা তো খুবই খারাপ, দেশে সফটওয়্যার কোম্পানী ছাড়া আমাদের অপশন নাই, আবার সফটওয়্যার কোম্পানীও বেশি নাই। বেতনও খুব কম। আর প্রাইভেট ভার্সিটিরও যে টিচার হব, সেই জিপিএ কী আমাদের আছে”। ঠাস করে সে ব্রেক কষল। তারপরও সামনের রিকশার সাথে ধাক্কাটা এড়াতে পারল না। জীবনে প্রথমবার আমি তাকে দেখলাম যে সে মোটর সাইকেল চালাতে কোনো ভুল করল।

confusion-311388_640

তো এখন আমি যেটা দেখি, সবাই একটা বিষয় নিয়ে খুব দ্বিধাগ্রস্ত থাকে। পিএইচপি নাকি জাভা? এন্ড্রয়েড অ্যাপ নাকি পাইথন? আবার অনেকের ধারণা, ডট নেটে কাজ করতে না পারলে তার জীবন ব্যর্থ। এরকম কনফিউশন থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না, বরং খুবই স্বাভাবিক। কয়েকদিন আগে সরকারের একটা প্রজেক্ট FTFL (Fast Track Future Leader)-এর শেষ সপ্তাহে প্রোগ্রামিং ট্রেনিং দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে এক মাসের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং (কমিউনিকেশন স্কিল, আদব-কায়দা, সফট স্কিল ও একটু প্রোগ্রামিং স্কিল) শেষে সবার জন্য বিভিন্ন ট্র্যাক দেওয়া হল। আগ্রহ ও দক্ষতার বিচার করে বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন ট্র্যাকে দেওয়া হলো। সেই ট্র্যাকের উপর ৩ মাসের প্রশিক্ষণ হবে। ট্র্যাকগুলো ছিলো ডট নেট, পিএচইপি (লারাভেল ফ্রেমওয়ার্ক), মোবাইল অ্যাপস্ (অ্যান্ড্রয়েড), জাভা ইত্যাদি। শিক্ষার্থীদের মাঝে এই ট্র্যাক নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক টেনশন! কয়েকজন আমার সাথে কথা বলল, ভাইয়া অমুক ট্র্যাক নিচ্ছি, ভুল করছি না তো?

সত্যি কথা হলো, এখানে আসলে ভুল করার কিছু নাই। সবগুলো সেক্টরেই দক্ষ লোকের প্রচুর চাহিদা। আর বেতনও নির্ধারিত হয় দক্ষতার ভিত্তিতে। ব্যাপারটা এমন না যে পাইথন ডেভেলাপারের বেতন জাভা ডেভেলাপারের চেয়ে বেশি। আসলে যারা কম্পিউটার সায়েন্স পড়ছে বা সদ্য পাস করেছে, তাদের মূল ফোকাস হওয়া উচিত প্রোগ্রামিং নিয়ে, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ভাষা (programming language) বা টেকনোলজি নিয়ে না। দুই বছর পিএচইপিতে কাজ করার পরে হয়ত তার পাইথনে কাজ করতে হতে পারে, কিংবা অ্যান্ড্রয়েডে এক বছর কাজ করার পরে আইফোন অ্যাপ বানানোর কাজও করতে হতে পারে। এর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই যাদের সারাজীবন শেখার মানসিকতা নাই, তারা মানে মানে কেটে পড়তে পারে।

আমরা যখন একজন সদ্য পাস করা কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্টের ইন্টারভিউ নেই, আমরা তাকে কীভাবে যাচাই করি? প্রোগ্রামিংয়ের বেসিক জ্ঞান তার আছে কী না, সে প্রোগ্রামিং কনটেস্ট করেছে কী না, সে ভার্সিটিতে কী কী প্রজেক্ট করেছে এবং সেগুলো নিজে করেছে কী না, অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিংয়ে তার ধারণা ঠিকঠাক আছে কী না, খুব সাধারণ গাণিতিক বুদ্ধি-শুদ্ধি আছে কী না, ডাটা স্ট্রাকচার ও অ্যালগরিদম বিষয়ে ধারণা কেমন, অপারেটিং সিস্টেম ও কম্পিউটার আর্কিটেকচার পড়েছে কী না, এসব। আর এসব বিষয় তার ভার্সিটির সিলেবাসেরই অন্তর্গত। কারণ যেই ছেলেটার বা মেয়েটার বেসিক জ্ঞান শক্ত এবং যথেষ্ট প্রোগ্রামিং প্র্যাকটিস করেছে (হয় অনেক কনটেস্ট করেছে অথবা প্রজেক্ট করেছে) সে অনায়াসেই নতুন কিছু শিখে নিতে পারবে। পরিশ্রম করার মানসিকতা, ধৈর্য্য ও সাহসটাই গুরুত্বপূর্ণ।

আমার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যারিয়ারের প্রথম চাকরিতে পার্ল (Perl) প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করতে হত। কিন্তু আমি এই চাকরি নেওয়ার আগে পার্ল জানতাম না। আর ইন্টারভিউতে আমাকে পার্ল নিয়ে কোনো প্রশ্নও করা হয় নি, বরং আমি কী জানতাম, সেটার উপরই প্রশ্ন হয়েছে। তেমনি দ্বিতীয় চাকরিতে মূল কাজ ছিল পিএচইপি ও জাভা স্ক্রিপ্ট। কিন্তু পিএচইপি ও জাভা স্ক্রিপ্টে আমার জ্ঞান ছিল একেবারে সামান্য। তাতে কিন্তু ইন্টারভিউ ফেস করতে কোনো সমস্যা হয় নি। আবার ওই অফিসে এক বছর পিএচইপিতে কাজ করার পরে হঠাৎ আমি (এবং আরো কয়েকজন) নতুন প্রজেক্টে ঢুকে গেলাম যেখানে মূল ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল একশন স্ক্রিপ্ট (action script)। কিছুই পারতাম না, কিন্তু সেটা শিখে নিতে সময় লাগে নি। আমি চাইলে পিএচইপি ছাড়া আমি বাঁচবো না বলে জানালা দিয়ে লাফ দিতে পারতাম, কিন্তু সেটা দেই নাই। আমার অন্য কলিগরাও দেয় নাই। আমার মতো সাধারণ মেধার মানুষেরও ক্যারিয়ার এমন সহজ হওয়ার কারণ ছিল আমি ভার্সিটিতে কয়েক হাজার ঘণ্টা কোড করেছিলাম। আর এখন আমার বেশিরভাগ কাজই পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষায়।

তাই তোমাদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে আজকে অমুক ল্যাঙ্গুয়েজ, কালকে তমুক ল্যাঙ্গুয়েজ, জানুয়ারি মাসে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, ফেব্রুয়ারি মাসে এইচটিএমএল না শিখে তোমার বেসিক শক্ত করার ব্যাপারে জোর দেওয়া। ভার্সিটির ফার্স্ট থেকে থার্ড ইয়ার পর্যন্ত প্রোগ্রামিং প্র্যাকটিস করা, অনেক প্রবলেম সলভ করা। থার্ড ও ফোর্থ ইয়ারে ভালো কয়েকটা প্রজেক্ট করা। এছাড়া বিভিন্ন একটিভিটিতে (activity) জড়িত থাকা, সেটা খেলাধূলা হোক, গানবাজনা কিংবা অন্যকিছু, যেটা তোমার ভালো লাগে।

বেসিক জ্ঞান শক্ত কর, আত্মবিশ্বাসী হও, আচার-আচরণে ভদ্র হও। তোমাদের জন্য শুভকামনা।

অনুষ্ঠিত হল গুগল আই/ও ২০১৪

DSC_3200

গুগল আই/ও মূলত ডেভেলপারদের কনফারেন্স হিসেবে পরিচিত হলেও এর প্রতি সাড়া বিশ্বের মানুষেরই নানা কারনে আগ্রহ হয়ে থাকে। আর গুগলের ২০১৪ সালের আই/ও তার ব্যাতিক্রম নয়। আর এবারের মূল আকর্ষণ তৈরি করেছিল অ্যান্ড্রয়েডের ‘এল’ আদ্যক্ষরের নতুন সংস্করণ, এইচটিসি নেক্সাস, নেক্সাস সিরিজের বাদ যাওয়া, গুগলের নতুন অ্যান্ড্রয়েড সিলভার প্রোগ্রাম এবং গুগল অ্যান্ড্রয়েড টিভির মতন নানা গুজব। কতটুকু সত্যতা পেয়েছে এ গুজবগুলো? সে সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করতেই এই প্রবন্ধটি-

DSC_3210

কিছু পরিসংখ্যান
গুগলের ইভেন্টের সূচনা করে অ্যান্ড্রয়েড, ক্রোম এবং অ্যাপসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুন্দর পিচাই এর বক্তব্য দিয়ে। তিনি তার বক্তব্যে প্রকাশ করেন কিভাবে করে অ্যান্ড্রয়েড এবং গুগলের অন্যান্য সার্ভিসেস প্রভাব ফেলেছে বিগত বছরে। তাঁর বক্তব্য থেকে উঠে আসে স্মার্টফোন কত প্রকটভাবে মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলা শুরু করেছে। শুধুমাত্র গত বছরের শেষ প্রান্তিকেই স্মার্টফোন বাজারজাত করা হয়েছে ৩১৫ মিলিয়ন। আর এর মধ্যে অ্যান্ড্রয়েডের মাস হিসেবে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ বিলিয়নের উপরে। এছাড়া ট্যাবলেট মার্কেটেও আন্ড্রয়েডের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। শেষ হিসেব অনুযায়ী ট্যাবলেট মার্কেটের ৪৬ শতাংশ শেয়ার এখনও আন্ড্রয়েড এর দখলে। আর অ্যাপ ইন্সটলের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এসকল ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় ২৩৬ শতাংশ।

DSC_3247

অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান
এ সকল পরিসংখ্যান শেষ সুন্দর পিচাই ঘোষণা করেন তাদের নতুন আন্ড্রয়েড ওয়ান প্রোগ্রামের। যা মূলত উন্নয়নশীল বাজারগুলোকে কেন্দ্র করে কাজ করবে। এ জন্যে তারা পার্টনার হিসেবে নির্বাচন করেছে মাইক্রোম্যাক্স, স্পাইস এবং কার্বন ফোনকে। তাদের তৈরি করা ফোন সাড়া বিশ্বে বাজারজাত করা হবে। সুন্দর পিচাই উদাহরণ স্বরূপ মাইক্রোম্যাক্সের একটি ফোন দেখায় যে কিনা ডুয়াল সিম, ৪.৫ ইঞ্চি স্ক্রিন এবং এফএম রেডিও আছে। এর দাম হবে ১০০ ডলারের নিচে। এ সকল ফোন অ্যান্ড্রয়েডের গুগল সিরিজের মতনই সরাসরি গুগলের কাছ থেকে আপডেট পাবে এবং আন্ড্রয়েডের সকল সুবিধা এতে বিদ্যমান থাকবে।

DSC_3258

আন্ড্রয়েড এল ডেভেলপার প্রিভিউ
অতঃপর সুন্দর পিচাই ঘোষণা করেন তাদের নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের। নতুন সংস্করণ হলেও এর নাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। গুগল থেকে বর্তমানে একে অ্যান্ড্রয়েড এল বলা হচ্ছে। এটি মূলত একটি ডেভেলপার প্রিভিউ হিসেবে কাজ করবে। গ্রাহক পর্যায়ে এখনই উন্মুক্ত করা হবে না। এর পিছনে কারন হল অ্যান্ড্রয়েড এল এ নানা ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে এর রানটাইম থেকে শুরু করে ইউজার ইন্টারফেস সবকিছুতে। ডেভেলপারকে এর সাথে তাদের অ্যাপ নিয়ে কাজ করতেই এই সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের অ্যাপ ডিজাইন যেন সহজ হয় এর জন্যে আলাদা একটি ওয়েবসাইটও খুলেছে গুগল। বর্তমানে এই এল ডেভেলপার প্রিভিউ এর ফ্যাক্টরি ইমেজ শুধুমাত্র নেক্সাস ৫ এবং নেক্সাস ৭ ২০১৩ এডিশনের জন্যে পাওয়া যাবে। ফলে কেউ যদি ‘এল’ নিয়ে কাজ করতে চায় তাঁর এই ডিভাইস দুটির একটি থাকা লাগবে।

DSC_3661

অ্যান্ড্রয়েড ওয়েয়ার
প্রায় তিনমাস আগে গুগল প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ওয়েয়ার এর কথা ঘোষণা করলেও আজকে পুরোপুরি ভাবে উন্মোচন হল অ্যান্ড্রয়েড এর এই স্মার্টওয়াচ অপারেটিং সিস্টেম। আই/ও তে এর কিছু উল্লেখযোগ্য সুবিধাসমুহ দেখান হয়েছে যদি এটি এখনও উন্নয়নে রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি গুগল দুটি স্মার্টওয়াচ ও ঘোষণা করেছে একটি এলজি জি ওয়াচ এবং আরেকটি স্যামসাং গ্যালাক্সি লাইভ। দুটোই অ্যান্ড্রয়েড ওয়েয়ার এ চালিত এবং এর মধ্যে এলজি জি ওয়াচ আগেই নানা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। স্মার্টওয়াচ দুটির দাম যথাক্রমে ২৪৯ এবং ১৯৯ ডলার রাখা হয়েছে এবং আজকে থেকে এটি অর্ডার করা যাবে। তবে স্মার্টওয়াচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মটো ৩৬০ এখনই বাজারে আসবে না। গুগলের ভাষ্যমতে তা এ প্রান্তিকের শেষের দিকে বাজারজাত করা হবে।

DSC_3736

অ্যান্ড্রয়েড অটো
গুগল স্মার্টফোনের মতন গাড়ির ক্ষেত্রেও একটি সংঘঠন তৈরি করেছে বেশ কিছু মাস আগে। ওপেন অটোমোটিভ অ্যালায়েন্স এর উদ্দেশ্য হল গাড়ির ড্যাশবোর্ডকে আরও উন্নত করা। ড্রাইভারের কাছে আরও সহজ করে তোলা। আর এই উদ্দেশ্যে গুগল এই সংঘঠন প্রস্তুত করে। আর আজ গুগল ঘোষণা করল তাদের গাড়ির জন্যে তৈরি অ্যান্ড্রয়েড অটো। এটি গাড়ির ড্যাশবোর্ডের সাথে ড্রাইভারের অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে সংযুক্ত করে তাঁকে করবে আরও উন্নত এবং গাড়ি চালানোর সময় ফোনের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। গুগল আজ ঘোষণা করেছে তাদের এই অ্যালায়েন্সে আরও ৪০ টি প্রতিষ্ঠান যোগ দিয়েছে যা একটি বড় বিষয় বলেই দাবি করা যায়।

DSC_3826

অ্যান্ড্রয়েড টিভি
গুগলের টিভি বাজারে নতুন করে ঢোকার প্রচেষ্টা হল অ্যান্ড্রয়েড টিভি। এর মাধ্যমে গুগল যে কোন ডিভাইসের মাধ্যমে টিভিকে একটি অ্যান্ড্রয়েড টিভিতে রুপান্তর করবে। যা কিনা ব্যবহারকারীর চাহিদা হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে সক্ষম। এটি সম্পূর্ণ টিভিকে একটি এন্টারটেইনমেন্ট বক্স হিসেবে প্রস্তুত করে তুলবে। গুগলের ভাষ্যমতে তারা এর মাধ্যমে টিভিকে মোবাইল এবং ট্যাবলেটের সমান মনোযোগ দিচ্ছে। গুগল ঘোষণা করেছে ২০১৪ সালের সকল সনি স্মার্টটিভি এবং ২০১৫ সালের সকল শার্প স্মার্টটিভি এই অ্যান্ড্রয়েড টিভিতে চলবে। এছাড়া আরও নানা টিভি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এতে যোগ দিবে খুব দ্রুতই।

DSC_3938

ক্রোমে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ
ক্রোমেও আসছে নানা পরিবর্তন। খুব শীঘ্রই ক্রোমে অ্যান্ড্রয়েডের সকল অ্যাপ সমর্থন করবে। ফলে গুগল সার্ভিস ব্যবহারকারী যেখানেই যাক না কেন সে তাঁর গুগলের সকল সার্ভিসেস খুব সহজেই পেতে পারবে।

এসকলের বাইরে গুগল আরও নানা সুবিধা এবং নতুন কার্যক্রম ঘোষণা করেছে যার মধ্যে আছে অ্যান্ড্রয়েড নতুন ডিজাইন, গুগল প্লে সার্ভিসেস, ড্রাইভ, নিরপত্তা, প্রজেক্ট ভোল্টা প্রভৃতি। এ সকল বিষয়ে বিস্তারিত পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে। তবে এত কিছুর মধ্যে গুগলের এই ইভেন্টে নতুন নেক্সাস ডিভাইস, সিলভার কার্যক্রম অথবা নেক্সাস সিরিজ বন্ধ হয়ে যাবার কোন ঘোষণা আসেনি। অবশ্য কোন নেক্সাস ডিভাইস ঘোষণা না হওয়ায় একটি বড় বিষয়। তবে সবমিলিয়ে গুগলের তিনঘন্টার এই কিনোট অনুষ্ঠান যথেষ্ট পরিমাণ উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমে পূর্ণ ছিল বলে দাবি করা যায়।

উন্মোচন হল অ্যামাজনের ফায়ার ফোন

অবশেষে মুক্তি পেল বহুল প্রতীক্ষিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের স্মার্টফোন। প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা নানা গুজবের ইতি ঘঠিয়ে অ্যামাজনের সিইও জেফ বেজস গত ১৯ তারিখ তাদের এই নতুন স্মার্টফোন ঘোষণা করে। আর এই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ট্যাবলেট প্রস্তুতকারন প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন এবার প্রবেশ করল স্মার্টফোন বাজারে।

অ্যামাজনের ঘোষণা করা এই নতুন স্মার্টফোনের নাম হল ‘অ্যামাজন ফায়ার ফোন’। ৪.৭ ইঞ্চি স্ক্রিনের এই স্মার্টফোনটি নিয়ে বেশ আশাবাদী অ্যামাজন। আর এটি তাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে উল্লেখ্য পরিমানে ভুমিকা রাখবে বলে ধারনা করা যায়। অ্যামাজনের ঘোষণা করা এই স্মার্টফোনের দুটো উল্লেখ্য ফিচার হল এর ‘ডাইনেমিক প্রাস্পেকটিভ’ এবং ‘ফায়ারফ্লাই’। উল্লেখ্য এই দুই ফিচারের মাধ্যমে অ্যামাজন নিজেদের অন্যান্য স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে ডাইনামিক প্রাস্পেকটিভ এর মাধ্যমে কিছুটা থ্রিডি অভিজ্ঞতা প্রদান করা হবে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। আর এর জন্যে স্মার্টফোনটির সামনে ব্যবহার করা হয়েছে চারটি ক্যামেরা। যা কিনা ব্যবহারকারীর চোখ, মাথার দিকভঙ্গি সকল কিছু পর্যবেক্ষণ করবে এবং সে হিসেবে স্ক্রিনের ছবিতে একটি ডেপথ অথবা গভীরতা তৈরির চেষ্টা করবে। অপরদিকে ‘ফায়ারফ্লাই’ হল একটি ক্যামেরা সংক্রান্ত ফিচার যা কিনা ক্যামেরার মাধ্যমে যেকোনো বস্তু অথবা ছবিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে এবং সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়ার দিবে। আর সেটি যদি কোন পন্য হয় তবে অ্যামাজন তাদের স্টোরের মাধ্যমে এটি কেনার সুযোগও তৈরি করে দিবে। অ্যামাজন তাদের এই ফিচার নিয়ে এতটাই আশাবাদী যে তারা এর জন্যে একটি নির্দিষ্ট কি-বোটনও তৈরি করেছে ফোনে।

উল্লেখ্য ফিচার দুটির বাইরে ফোনটির অন্যান্য স্পেসিফিকেশন হল- একটি ৪.৭ ইঞ্চি ১২৮০x৭২০ রেজুলেশনের আইপিএস ডিসপ্লে। এই ডিসপ্লে ৫৯০ নিট পর্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে যার ফলে যেকোনো আলোতে এতে সহজেই কাজ করা যাবে। প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়াল্কম স্ন্যাপড্রাগন ৮০০ কোয়াড কোর প্রসেসর যা কিনা ২.২ গিগাহার্জে ক্লক করা এবং জিপিউ হিসেবে আছে অ্যাড্রেনো ৩৩০ জিপিউ। আরও আছে ২ গিগাবাইট র‍্যাম, ৩২ এবং ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ সুবিধা এবং অ্যামাজন ক্লাউডে আনলিমিটেড ছবি বিনামূল্যে রাখার সুবিধাও। ক্যামেরা হিসেবে আছে ১৩ মেগাপিক্সেল ফাইভ এলিমেন্ট লেন্স f/2.0 ক্যামেরা যা কিনা স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৫ এবং আইফোন ৫এস এর সাথে তুলনীয় বলে অ্যামাজন দাবি করে। ক্যামেরাতে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ফিচার হল এর ওআইএস অথবা অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন যার ফলে ছবি কম ব্লার হবে এবং কম আলোতে ছবি তোলা আরও সহজ হবে।

ফোনটি অ্যামাজনের নিজস্ব ফায়ার ওএস ৩.৫ এ চলে যা কিনা মূলত অ্যান্ড্রয়েডেরই একটি সংস্করণ। এর ইউআই অ্যামাজনের ট্যাবলেট সংস্করণের মতনই এবং এটি গ্রাহককে তাদের পন্য আরও সহজে কিনতে সাহায্য করবে। তবে এটি অ্যামাজনের নিজস্ব ওএস হওয়ায় এতে নেই কোন গুগল অ্যাপস অথবা গুগল প্লে স্টোর।

অ্যামাজনের এই ফোনটি যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রি-অর্ডার করা যাচ্ছে এটিএন্ডটির মাধ্যমে। ফোনটির মূল্য ৩২ জিবি স্টোরেজের জন্যে ৬৪৯ ডলার এবং ৬৪ জিবি স্টোরেজের জন্যে ৭৪৯ ডলার। এই দাম অনেককেই অবাক করেছে কারন ধারনা করা হয়েছিল অ্যামাজনের ট্যাবলেটের মতন এর দামই কম হবে। কিন্তু অন্যান্য সকল স্মার্টফোনের মতনই এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যামাজন এর পরও আশা করছে তারা এ বছর প্রায় ২-৩ মিলিয়ন ফায়ার ফোন বিক্রি করতে পারবে।

বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কার্ড চালু হচ্ছে!

বাংলাদেশের মোবাইল ফোন এ্যাপ্লিকেশন ডেভেলাপারদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যুক্ত হতে এতদিন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিলো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি অন লাইনে লেনদেনের সুযোগ না থাকা। এই অসুবিধাটি অনুধাবন করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রচেষ্টায় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বাংলাদেশে অনুমোদন পেল ভার্চুয়াল কার্ড।

ভার্চুয়াল কার্ড

জুন ০২, ২০১৪ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায় যে ইন্টারনাশনাল চেম্বার অব কমার্স-এর অর্ন্তভূক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ ব্যক্তিগত পর্যায়ে মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন এবং গেম নির্মাণকারীদের আর্ন্তজাতিক ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের জন্য ‘ভার্চুয়াল কার্ড’ ইস্যু করবার সুবিধা প্রদান করবে। জাতীয় পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপস উন্নয়নে সচেতনতা ও দক্ষতাবৃদ্ধি কর্মসূচীর আওতায় অংশগ্রহণকারী ডেভেলাপার, বেসিস বা এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং অন্যান্য স্বীকৃত একাডেমিক বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আয়োজিত নানা ধরণের বুট ক্যাম্প, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ইত্যাদিতে সনদপ্রাপ্ত ডেভেলপার ও ফ্রীল্যান্সারগণ অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এই কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সংযুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশী ডেভেলাপারদের প্রধান বাঁধা দূর হলো।

তবে এ ধরণের কার্ড দিয়ে এক বছরে ৩০০ মার্কিন ডলার বা তার সমমূল্যের বেশি অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হবে না। তবে বিভিন্ন ফী এর জন্য বছরে ৩০০ ডলার যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন অ্যাপ ডেভেলাপার।

নিচের ছবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিটি যুক্ত করে দেওয়া হলো।

vcard_circular