উন্মোচন হল অ্যামাজনের ফায়ার ফোন

অবশেষে মুক্তি পেল বহুল প্রতীক্ষিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের স্মার্টফোন। প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা নানা গুজবের ইতি ঘঠিয়ে অ্যামাজনের সিইও জেফ বেজস গত ১৯ তারিখ তাদের এই নতুন স্মার্টফোন ঘোষণা করে। আর এই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ট্যাবলেট প্রস্তুতকারন প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন এবার প্রবেশ করল স্মার্টফোন বাজারে।

অ্যামাজনের ঘোষণা করা এই নতুন স্মার্টফোনের নাম হল ‘অ্যামাজন ফায়ার ফোন’। ৪.৭ ইঞ্চি স্ক্রিনের এই স্মার্টফোনটি নিয়ে বেশ আশাবাদী অ্যামাজন। আর এটি তাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে উল্লেখ্য পরিমানে ভুমিকা রাখবে বলে ধারনা করা যায়। অ্যামাজনের ঘোষণা করা এই স্মার্টফোনের দুটো উল্লেখ্য ফিচার হল এর ‘ডাইনেমিক প্রাস্পেকটিভ’ এবং ‘ফায়ারফ্লাই’। উল্লেখ্য এই দুই ফিচারের মাধ্যমে অ্যামাজন নিজেদের অন্যান্য স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে ডাইনামিক প্রাস্পেকটিভ এর মাধ্যমে কিছুটা থ্রিডি অভিজ্ঞতা প্রদান করা হবে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। আর এর জন্যে স্মার্টফোনটির সামনে ব্যবহার করা হয়েছে চারটি ক্যামেরা। যা কিনা ব্যবহারকারীর চোখ, মাথার দিকভঙ্গি সকল কিছু পর্যবেক্ষণ করবে এবং সে হিসেবে স্ক্রিনের ছবিতে একটি ডেপথ অথবা গভীরতা তৈরির চেষ্টা করবে। অপরদিকে ‘ফায়ারফ্লাই’ হল একটি ক্যামেরা সংক্রান্ত ফিচার যা কিনা ক্যামেরার মাধ্যমে যেকোনো বস্তু অথবা ছবিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে এবং সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়ার দিবে। আর সেটি যদি কোন পন্য হয় তবে অ্যামাজন তাদের স্টোরের মাধ্যমে এটি কেনার সুযোগও তৈরি করে দিবে। অ্যামাজন তাদের এই ফিচার নিয়ে এতটাই আশাবাদী যে তারা এর জন্যে একটি নির্দিষ্ট কি-বোটনও তৈরি করেছে ফোনে।

উল্লেখ্য ফিচার দুটির বাইরে ফোনটির অন্যান্য স্পেসিফিকেশন হল- একটি ৪.৭ ইঞ্চি ১২৮০x৭২০ রেজুলেশনের আইপিএস ডিসপ্লে। এই ডিসপ্লে ৫৯০ নিট পর্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে যার ফলে যেকোনো আলোতে এতে সহজেই কাজ করা যাবে। প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়াল্কম স্ন্যাপড্রাগন ৮০০ কোয়াড কোর প্রসেসর যা কিনা ২.২ গিগাহার্জে ক্লক করা এবং জিপিউ হিসেবে আছে অ্যাড্রেনো ৩৩০ জিপিউ। আরও আছে ২ গিগাবাইট র‍্যাম, ৩২ এবং ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ সুবিধা এবং অ্যামাজন ক্লাউডে আনলিমিটেড ছবি বিনামূল্যে রাখার সুবিধাও। ক্যামেরা হিসেবে আছে ১৩ মেগাপিক্সেল ফাইভ এলিমেন্ট লেন্স f/2.0 ক্যামেরা যা কিনা স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৫ এবং আইফোন ৫এস এর সাথে তুলনীয় বলে অ্যামাজন দাবি করে। ক্যামেরাতে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ফিচার হল এর ওআইএস অথবা অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন যার ফলে ছবি কম ব্লার হবে এবং কম আলোতে ছবি তোলা আরও সহজ হবে।

ফোনটি অ্যামাজনের নিজস্ব ফায়ার ওএস ৩.৫ এ চলে যা কিনা মূলত অ্যান্ড্রয়েডেরই একটি সংস্করণ। এর ইউআই অ্যামাজনের ট্যাবলেট সংস্করণের মতনই এবং এটি গ্রাহককে তাদের পন্য আরও সহজে কিনতে সাহায্য করবে। তবে এটি অ্যামাজনের নিজস্ব ওএস হওয়ায় এতে নেই কোন গুগল অ্যাপস অথবা গুগল প্লে স্টোর।

অ্যামাজনের এই ফোনটি যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রি-অর্ডার করা যাচ্ছে এটিএন্ডটির মাধ্যমে। ফোনটির মূল্য ৩২ জিবি স্টোরেজের জন্যে ৬৪৯ ডলার এবং ৬৪ জিবি স্টোরেজের জন্যে ৭৪৯ ডলার। এই দাম অনেককেই অবাক করেছে কারন ধারনা করা হয়েছিল অ্যামাজনের ট্যাবলেটের মতন এর দামই কম হবে। কিন্তু অন্যান্য সকল স্মার্টফোনের মতনই এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যামাজন এর পরও আশা করছে তারা এ বছর প্রায় ২-৩ মিলিয়ন ফায়ার ফোন বিক্রি করতে পারবে।