একজন প্রোগ্রাম প্রহরীর গল্প : ডোনাল্ড নুথ (Donald Knuth)

এই লিখাটার শিরোনামটি অদ্ভুত – প্রোগ্রাম প্রহরীর গল্প। হয়তো শিরনামটি দেখেই অনেকে নড়ে চড়ে বসেছেন, আবার অনেকেই হয়তো তার নিচের নামটি দেখেই বুঝে ফেলেছেন যে আজকের এই লেখাটি কাকে নিয়ে। এই লেখায় এমন একজনকে নিয়ে আজ কথা বলব যিনি কম্পিউটার প্রোগ্রামিংকে দিয়েছেন এক নতুন মাত্রা – সেই ব্যক্তিটির নাম হল ডোনাল্ড নুথ, যিনি অনেক কিছুই করেছেন এই প্রোগ্রামিং জগতের জন্য কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেরই হয়তো তাঁর নামটি অজানা।

ডোনাল্ড নুথ

আসুন সংক্ষেপে ডোনাল্ড নুথ সম্পর্কে কিছু মজার ও আকর্ষনীয় তথ্য জেনে নিই-
প্রথমেই শুরু করছি একটি মজার তথ্য দিয়ে –আজ আমরা যেই নুথকে দেখছি , মাধ্যমিক এর ছাত্র থাকাকালীন নুথ ছিলেন সম্পুর্ন আলাদা। জীবনের সেই পর্যায়ে প্রোগ্রামিং এর প্রতি তার কোন আগ্রহ ছিল না, তখনকার নুথ ছিলেন সঙ্গীতপ্রেমী। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি তাঁর বাদ্যযন্ত্রের সাথেই সময় কাটাতেন। পাইপ অর্গান ছিল তার সবথেকে প্রিয় বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে একটি। যেই হাত কখনও হয়তো পিয়ানো বাজিয়েছে, সেই হাত আজ কি-বোর্ডের বোতাম চেপে চেপে কোড লিখছে- কি অবাক করা ব্যাপার, তাই না?

ডোনাল্ড নুথ এর পুরো নাম হচ্ছে ডোনাল্ড এরভিন নুথ। ১৯৩৮ সালের ১০ই জানুয়ারিতে আমেরিকাতে জন্মগ্রহন করেন তিনি। তিনি কেইস ইন্সটিটিউট হতে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন এবং ১৯৬৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট থেকে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন এবং সেখানেই শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৬৮  সালে তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং সেই সনেই তার রচিত বিখ্যাত বই “The Art of Programming” এর প্রথম খন্ড বের হয় । এই বইটি কম্পিউটার জগতের একটি উজ্জ্বল পথ-প্রদর্শক হিসেবে আজও স্মরণীয়। বইটি সংকলনের জন্য তিনি ACM(Association of Computing Machinery) কর্তৃক Turing Award লাভ করেন। নুথ এর আরও একটি  উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হল টেক্স নামক টাইপসেটিং সিস্টেম যা গাণিতিক ফর্মুলা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

নুথ সম্পর্কে আরো একটি মজার তথ্য আছে – কোন ব্যাক্তি যদি নুথ এর বই-এ কোনো ভুল ধরিয়ে দেন, তাহলে নুথ ওই ব্যাক্তিকে $২.৫৬ পুরষ্কার দিয়ে থাকেন, আর কেউ যদি তাকে তার কাজ-সম্পর্কিত কোনধরনের সদুপদেশ দিয়ে থাকেন তিনি পান $০.৩২ । বাংলাদেশ থেকেও একাধিক ব্যক্তি নুথের বইয়ের ভুল ধরে পুরষ্কার পেয়েছেন।

আর একটি অবাক করা বিষয় হল -ডোনাল্ড নুথ এখন আর ই-মেইল ব্যবহার করেন না । কারো সাথে যোগাযোগের মাধ্যম এখন তাঁর জন্য ডাকচিঠি। কারন তাঁর ধারণা, তিনি তাঁর জীবনের খুব বড় একটি সময় এই ইমেইল ব্যবহারের পিছনে ব্যয় করে ফেলেছেন। উল্লেখ্য, নুথ ১৯৭৯ সালে আমেরিকার জাতীয় বিজ্ঞান এওয়্যার্ড লাভ করেন।

পরিচয়পর্ব আজ এই পর্যন্তই । আশা করি,আগামীতে ডোনাল্ড নুথের আবিষ্কৃত টেক্স ও তার সংকলিত বই “The Art of Programming” নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে পারব । সবাই ভাল থাকুন আর প্রোগ্রামিং এর সাথেই থাকুন, প্রোগ্রামিং এর মাঝেই থাকুন। আল্লাহ হাফেজ ।

লেখক : মোহাম্মাদ দিদারুল ইসলাম রাব্বি (Mohammad Didarul Islam Rabbi)