লুমিয়া ৪৩০ : সবচেয়ে কম মূল্যের উইন্ডোজ স্মার্টফোন

মাইক্রোসফট, নোকিয়া অধিগ্রহণের পর থেকে অনেকেই ধরে নিয়েছিল লুমিয়া স্মার্টফোন তাদের গুণগত মান হারিয়ে ফেলবে। একই সাথে স্মার্টফোনগুলো তাদের নানা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হারাবে বলেও অনেক শঙ্কিত ছিল। তবে মাইক্রোসফট অধিগ্রহণের পর থেকে যে সকল স্মার্টফোন ঘোষণা করেছে তার কোনটিই উইন্ডোজ ফোনের ফ্যানদের হতাশ করেনি। বরং এক অর্থে নকিয়ার স্মার্টফোনগুলোর তুলনায় নানা দিক থেকে এগুলো ছিল এগিয়ে। আর দামের দিক থেকেও এ ফোনগুলোর মূল্য ছিল যথেষ্ট কম। সেই একই ধারার সাথে তাল মিলিয়ে আজ মাইক্রোসফট ঘোষণা করল লুমিয়া সিরিজের সবচেয়ে কম দামি ফোন লুমিয়া ৪৩০।

প্রায় কয়েক মাস আগে ঘোষণা করা লুমিয়া ৪৩৫ এবং লুমিয়া ৫৩২ এর পর এবার মাইক্রোসফট ঘোষণা করল লুমিয়া ৪৩০। মাইক্রোসফটের দেয়া বিবৃতি মতে, এটি হবে মাইক্রোসফট লুমিয়া সিরিজের সবচেয়ে কম দামি ফোন। দামের দিক দিয়ে এই ফোনের দাম কম হলেও, সুবিধাসমূহ এর দিক থেকে ফোনটি কোনভাবেই পিছিয়ে নেই। যেখানে আগে নকিয়া দাম কম রাখার জন্যে নানা প্রয়োজনীয় ফিচারস বাদ দিয়ে দিত, মাইক্রোসফট এর কোন ভুলই করেনি। তাদের এই নতুন ফোনে প্রায় সকল উল্লেখযোগ্য ফিচারই বিদ্যমান।

লুমিয়ার এই নতুন ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ২০০ সিরিজের কর্টেক্স এ৭ ভিত্তিক প্রসেসর এবং সাথে আছে ১ গিগাবাইট র‍্যাম। ফলে উইন্ডোজ স্টোরের প্রায় সকল অ্যাপই এতে চালানো যাবে। এছাড়া অ্যাপ ইন্সটলের জন্যে আরও আছে ৮ গিগাবাইট স্টোরেজ। আর যদি এই স্টোরেজও কম মনে হয় তবে মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে এর স্টোরেজ ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে।

লুমিয়া ৪৩০, ছবি: verge.com
লুমিয়া ৪৩০, ছবি: verge.com

এর ৪ ইঞ্চি স্ক্রিনের রেজুলেশন রাখা হয়েছে ৮০০x৪৮০। ফলে এর প্রতি ইঞ্চে পিক্সেল রয়েছে ২৩৫। তবে এর স্ক্রিন আইপিএস নাকি অন্য প্রযুক্তির সেই বিষয়ে কোন ধারনা পাওয়া যায়নি। যেহেতু দাম অনেক কম তাই মাইক্রোসফট ফোনটিতে তাদের বিখ্যাত ডিস্পপ্লে প্রযুক্তিও ব্যবহার করেনি। আসল দাম কম রাখা হয়েছে মূলত এর ক্যামেরা এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২ মেগাপিক্সেল ফিক্সড ফোকাস ক্যামেরা আর সামনে আছে একটি ভিজিএ ক্যামেরা স্কাইপ এবং অন্যান্য ভিডিও কল করার জন্যে।

ব্যাটারির ব্যাকআপের জন্যে এতে আছে ১৫০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি। এখানে উল্লেখ্য যে, এই ফোন উইন্ডোজ ৮.১ এর ডেনিম আপডেটে চলে আর মাইক্রোসফট জানিয়েছে উইন্ডোজ ১০ বের হলে এই ফোন তার আপডেট পাবে।ফোনটিতে আরও আছে স্মার্টডুয়াল সিম সাপোর্ট সুতরাং এর ক্রেতা অনায়াসে এতে দুটি সিম ব্যবহার করতে পারবে।

মাইক্রোসফট মুলত ফোনটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে বের করেছে। ফোনটি আগামী এপ্রিলে এশিয়া, মিডল ইস্ট, আফ্রিকাতে উন্মুক্ত করা হবে। ট্যাক্স এবং অন্যান্য খরচের হিসেব বাদ দিলে এই ফোনের দাম হবে ৭০ ডলার অথবা ৫৪৬৫ টাকা।

লেখক : এহসানুল হক।

ইন্টারভিউ | গোলাম কাওসার বিলাশ

বিলাশ ভাইয়ের পুরো নাম গোলাম হাক্কানী কাওসার। উনি সাস্টে আমার তিন ব্যাচ সিনিয়র ছিলেন। তবে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়ার কারণে আমাদের মাঝে বেশ অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। উনি সাস্টের ছাত্র থাকাকালীন সময়েই দারুণ প্রোগ্রামার ছিলেন। পরে উনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মাস্টার্স করেন, তারপর মাইক্রোসফটে যোগ দেন। বিলাশ ভাইয়ের সাথে আমার দুই ঘণ্টার আলাপচারিতা, আমার ব্লগের পাঠকদের জন্য।

bilash_bhai

Tamim Shahriar
বিলাশ ভাই, কেমন আছেন?
Golam Kawsar
ভালো আছি। অনেকেই অবশ্য আমার নাম যে তালব্য শ দিয়ে লিখি সেটা জানে না।
Tamim Shahriar
আমি আবার সবার নামের ব্যাপারে সচেতন, এই যেমন শেহাব, সিহান ভাই, এই বানানগুলো আমি সচেতনভাবেই ঠিকঠাক লিখি।
Golam Kawsar
মানুষের নামের বানান ঠিক করে করলে তাদের সুদৃষ্টিতে পরার প্রথম অংশটা হয়ে যায়। 🙂
Tamim Shahriar
আপনি এখন কোথায় কাজ করছেন?
Golam Kawsar
আমি এখন Selerity নামের একটা স্টার্টআপ কোম্পানিতে কাজ করছি। ওয়েবসাইট : http://www.seleritycorp.com/
Tamim Shahriar
এটা কী ধরণের কোম্পানী? কী কাজ হয়?
Golam Kawsar
এটা একটা সফটওয়ার কোম্পানি। আমরা ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে কম্পিউটারকে দিয়ে নিউজ পড়াই। এরপর নিউজ পার্সিং করে যে মেটাডেটা পাই সেটা বিভিন্ন কম্পানীর কাছে বিক্রি করি। প্লাস আমরা সবচেয়ে দ্রুত গতিতে নিউজ পার্সিং করি, অন্য কোনো কম্পানী আমাদের আগে নিউজ পার্সিং করে মেটাডেটা বের করে ক্লায়েন্টদের কাছে দিতে পারেনা।
Golam Kawsar
সরি আমি এতক্ষন আমার নতুন কেনা ম্যাক ব্যবহার করছিলাম।
এখন উইন্ডজে ফিরে আসছি।
ম্যাকে বাংলা ঠিক মতো আসছিলোনা।
Tamim Shahriar
আপনার নতুন ম্যাকের কনফিগারেশনটা কী পাঠকদের জন্য বলবেন? আমি অবশ্য জানি। 🙂
Golam Kawsar
হাহা।
আমি বিগ ডেটা নিয়ে কাজ করি। আমার অনেক স্পিড আর মেমরি দরকার হয়ঃ ৮ কোর আই ৭, ৩২ গিগা র‍্যাম, ১ টেরা হার্ড ডিস্ক।
Tamim Shahriar
বিগ ডেটার কথা প্রায়ই শুনি। আসলে কাজটা কী?
Golam Kawsar
বিগ ডেটা এক ধরণের বাজওয়ার্ড বলতে পারো। বেসিক্যালি যখন কেউ অনেক ডেটা নিয়ে কাজ করে তখনি তাকে বিগ ডেটা বলে। এই বিগ ডেটা সাধারণত আনস্ট্রাকচার্ড ডেটার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
অর্থ্যাৎ, ডেটা এমনভাবে আছে যে সরাসরি ব্যবহার করার উপায় নাই।
তখন বিভিন্ন এলগরিদম ব্যবহার করে সেই ডেটা থেকে নানা তথ্য উপাত্ত বের করা হয়।
Tamim Shahriar
এই অ্যালগরিদমগুলো কি মেশিন লার্নিং ও ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিংয়ের সাথে সম্পর্কিত?
Golam Kawsar
বেশির ভাগ সময় মেশিন লার্নিং আর ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এগুলো ছাড়াও শুধু পরিসংখ্যান, লিনিয়ার এলজেবরা, কিংবা স্ট্রিং প্রসেসিং করেও অনেক তথ্য উপাত্ত বের করে ফেলা যায়।
তবে হ্যাঁ, মেশিন লার্নিং প্রায় সব ডেটা সায়েন্সের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়।
Tamim Shahriar
আপনি এর আগে কোথায় কাজ করতেন?
Golam Kawsar
এটা আসলে আমার ৪ নম্বর চাকুরী আমেরিকাতে 🙂 আমার চাকুরী জীবন শুরু হয় মাইক্রোসফটে। এরপর ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক গোল্ডম্যান স্যাক্স, এবং তারপর ফ্যাক্টসেট নামের আরেকটা কম্পানী। এবং সর্বশেষ সেলেরিটিতে।
Tamim Shahriar
আপনি তো আমেরিকাতে মাস্টার্স করেছেন? সেটা কি আপনাকে মাইক্রোসফটের চাকরি পেতে সাহায্য করেছে? কিংবা অন্যান্য চাকরিগুলোর ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে?
Golam Kawsar
হ্যাঁ এখানে এসে মাস্টার্স করেছি। মাস্টার্স থাকায় ইম্প্রেশন কিছুটা ভালো হয়েছে মনে হয়। কিন্তু আমি আসলে মাইক্রোসফটের চাকুরী পেয়েছি মাস্টার্স শেষ করার প্রায় এক বছর আগে! বলতে পারো আমার সাস্ট এর ব্যাচেলর ডিগ্রির উপর ভিত্তি করেই আমি মাইক্রোসফটে চাকুরী পেয়েছি।
ডিগ্রির কথা যখন বলছো, মাইক্রোসফটে আমার প্রথম বস সম্ভবত ব্যাচেলরও কমপ্লিট করেনি!
Tamim Shahriar
প্রায়ই শিক্ষার্থীরা আমাকে প্রশ্ন করে, বিশেষ করে প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সময়। অমুক ভার্সিটিতে সিএসই পড়লে চাকরি বেশি নাকি তমুক ভার্সিটিতে? মানে ক্যারিয়ারের জন্য কোনটা ভালো? আপনি এই প্রশ্নের উত্তরে কী বলবেন?
Golam Kawsar
অনেকদিন দেশে না থাকায় দেশের চাকুরীদাতাদের বর্তমান মনোভাব খুব একটা জানিনা। তবে আমার মনে হয় সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকুরী পাবার ক্ষেত্রে স্কিল সেট হচ্ছে সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট। প্রোগ্রামিং এবং সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট স্কিলস ভালো থাকলে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসই পড়লেও চাকুরী পেতে তো অসুবিধা হবার কথা না। তবে তুলনামূলকভাবে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে একটা ভালো প্রাথমিক ইম্প্রেশন হতেই পারে। কিন্তু এই ইম্প্রেশনের পর ইন্টারভিউতে ভালো না করলে সেই একই ইম্প্রেশন আবার তার বিরুদ্ধে যাবে! কারণ নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বাজে ইন্টারভিউ দেওয়া মানে তুমি তোমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টাকে কোনো কাজে লাগাওনি।

Tamim Shahriar
আপনি ক্যারিয়ার শুরু করেছেন মাইক্রোসফটের মতো বিশাল এবং বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে। আর এখন কাজ করছেন স্টার্টআপে। মাঝখানে গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর মতো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে। এগুলোতে কাজের ধরন, পরিবেশ ও সংস্কৃতির যদি একটু তুলনা করতেন।
Golam Kawsar
বড় কম্পানী এবং ছোট স্টার্ট-আপ কম্পানীর কালচার সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আর টেক কম্পানী এবং ফাইনানশিয়াল কম্পানীর কালচারও অনেক ভিন্ন।
মাইক্রোসফট হচ্ছে সফটওয়ার নিয়ে যারা কাজ করতে চায় তাদের জন্যে স্বর্গ রাজ্য। সফটওয়ারের এমন কোনো দিক নাই যেটা নিয়ে তারা কাজ করেনা। প্লাস ওখানে কাজের চাপ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কেউ বেশি কাজ করতে চাইলে অসুবিধা নাই, কিন্তু কেউ বেশি এবং দ্রুত কার করার জন্যে চাপাচাপি করবে না। সফটওয়ার ডেভেলপমেন্টের নানান দিক শেখার জন্যে মাইক্রোসফট একটা চমৎকার জায়গা।
গোল্ডম্যান স্যাক্স হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে নামকরা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক। ওরা ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার হ্যান্ডল করে। ওখানে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়াররা হচ্ছে এক ধরণের টুল। ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ হচ্ছে ফাইনানশিয়াল ডিপার্টমেন্টগুলোকে সাপোর্ট দেওয়া। যদিও ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া ওরা একদিনও চলতে পারবেনা, তবুও ট্রেডিং এর সাথে জড়িত ইঞ্জিনিয়াররা ছাড়া বাকি সবাইকে কস্ট সেন্টার ধরা হয়। মানে লস খাত। প্লাস কাজের অনেক প্রেশার। ওরা মনে করে সকাল সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত কাজ করাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার!
এবার আসি স্টার্ট-আপ কালচারে। আজকে যে গুগল বা ফেইসবুক দেখছো, এগুলো কিছুদিন আগেও স্টার্ট-আপ ছিলো।
মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এই কোম্পানীগুলো কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের বিশ্বখ্যাত কোম্পানীতে পরিণত হয়েছে!
স্টার্ট-আপ কোম্পানীর মূল বিষয় হচ্ছে এটাকে তুমি নিজের কোম্পানীর মতো ট্রিট করবা। এরপর নিজের সব মেধা এবং শ্রম দিয়ে এটাকে আস্তে আস্তে বড়ো করতে থাকবা।
ওদের কাজের একটা মন্ত্র প্রায়ই থাকে “break fast, fix fast”। অর্থাৎ, দরকার হলে সিস্টেম এর একটু ক্ষতি হোক, কিন্তু নতুন নতুন এক্সপেরিমেন্ট করতে থাকো!
Tamim Shahriar
নিয়মিত চাকরির কাজের বাইরে আপনি আর কী কী করেন?
Golam Kawsar
করার তো ইচ্ছা অনেক কিছু, কিন্তু আমাদের ছেলে হওয়ার পর থেকে আর খুব বেশি কিছু করা হয় না। আমি নিজে নিজে কিছু সফটওয়ার প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করি। আশা করছি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটা/দুইটা সফটওয়ার রিলিজ করতে পারবো। মাঝে মাঝে github এ কিছু কোড আপলোড করি। মাঝে মাঝে প্রোগ্রামিং ব্লগ লিখি। কখনো কখনো বাংলা ব্লগ লিখি। জিম করি। আমার চৌদ্দ মাস বয়সী ছেলের সাথে খেলি। এবং সবচেয়ে বেশি যেটা করি সেটা হচ্ছে প্রচুর পড়ি!
Tamim Shahriar
আমি আপনাকে প্রায়ই শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে বিভিন্ন আর্টিকেল শেয়ার করতে দেখি। এমনকী আপনি নিজেও মাঝে মাঝে লিখেন এসব নিয়ে। বিষয়টা কী এতই গুরত্বপূর্ণ?
Golam Kawsar
হ্যাঁ। বিষয়টা অসম্ভব গুরুত্মপূর্ণ!
Tamim Shahriar
কেন? আমরা তো এসব কিছু করি না। ভালোই তো আছি। 🙂
Golam Kawsar
তুমি কখনো শারীরিক বা মানসিকভাবে অসুস্থ বা দূর্বল মানুষকে জীবনে সফল হতে দেখেছো?
আসলে কি আমরা সবাই ভালো আছি? আমি আমার কাছাকাছি বয়সের অনেক বন্ধুবান্ধবকে দেখি একটা নধর ভূড়ি নিয়ে ঘুরতে। আরেকটু বয়স হলে এদের অনেকের ডায়াবেটিস ধরা পড়বে (আল্লাহ না করুক), কিংবা স্বাস্থগত অন্যান্য জটিলতা ধরা পড়বে। তখন কি এরা ইয়াং বয়সের মতো কাজে কর্মে প্রোডাক্টিভ থাকতে পারবে?
আর একটা বয়সের ভারে দূর্বল জনগোষ্ঠিকে বসে বসে খাওয়ানো বা পরানোর মতো অবস্থা কি আমাদের দেশের আছে?
আমেরিকাতে আমি দেখি আশি নব্বই বছর বয়সের মানুষেরা নিজের কাজ নিজে করে, বাড়ির সামনের লনের ঘাস কাটে, ড্রাইভ করে, রান্না করে।
শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে বলেই তারা এগুলো করতে পারে।
শরীর সুস্থ আর শক্ত থাকলে আমাদের ব্রেইনও সুস্থ আর শক্ত থাকে। আর ব্রেইন হচ্ছে আমাদের প্রডাক্টিভিটি সেন্টার! ব্রেইন সুস্থ না থাকা মানে হচ্ছে মানসিক ব্যাধি!
আরো অনেক কিছু বলা যায়। ইন ফ্যাক্ট আমার একটা বই লেখার ইচ্ছা আছে এটা নিয়ে। 🙂
Tamim Shahriar
কিন্তু আমরা তো সময় পাই না, এগুলো নিয়ে ভাবার কিংবা কিছু করার। আপনারা এত সময় পান কীভাবে?
Golam Kawsar
হাহা, শুধু ফেইসবুকের নিইজফিডের দিকে তাকিয়ে থাকলেই দেখবা আমাদের কতো সময় আছে 🙂
সিরিয়াসলি বললে, সময় বের করে নিতে হবে। আমি সারাদিন অফিস শেষ করে জিমে যাই। জিমে যেয়ে আড়াইশ পাউন্ড ওজনের ডেডলিফট করি। জিম শেষ করার পর আমার শরীরে সব ভালো ভালো হরমোন কাজ করা শুরু করে দেয়। আর তাতে আমার সারা দিনের সব ক্লান্তি চলে যেয়ে শরীর মন সতেজ হয়ে যায়। এটা যেকোনো মানুষের জন্যেই সত্যি! পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী ড্রাগের নাম হচ্ছে ব্যায়াম। মানুষের জৈবিক এবং সভ্যতাগত বিবর্তনের দিকে তাকালে দেখবা  চেয়ার টেবিলে বসে কাজ করার ব্যাপারটি একেবারেই নতুন। হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা ঘর থেকে বের হয়ে সারা দিন কাজ করতো, দৌড়াদৌড়ি করে খাবার সংগ্রহ করতো। আমাদের শরীর বসে থাকার মতো করে তৈরি হয়নি। ব্যায়াম আমাদেরকে আমাদের সত্যিকারের জৈবিক ফর্মে নিয়ে যায় এবং শরীর এবং মনকে সুস্থ রাখে।
Tamim Shahriar
সকালে ব্যায়াম করা ভালো নাকি সন্ধ্যায়?
Golam Kawsar
যে কোনো সময় ব্যায়াম করা একই ফল দেয়। আমি আগে সকালে করতাম অফিসে যাওয়ার আগে। কিন্তু আমার ছেলে সকালে আমাকে আটকে রাখে বলে বিকেলে/সন্ধ্যায় যাওয়া শুরু করেছি।
Tamim Shahriar
আপনি আরেকটা বিষয় বললেন যে প্রচুর বই পড়েন? কী ধরণের বই?
ইবুক বেশি পড়েন নাকি হার্ডকপি?
Golam Kawsar
আসলে আমি বলেছি আমি প্রচুর পড়ি – সেটা বই হতে পারে আবার নানা ধরণের আর্টিকল হতে পারে। আগে হার্ড কপি পড়তাম বেশি। এখন ইবুক/পিডিএফ বেশি পড়ি। আমার অফিসে যাওয়া আসা ট্রেইনে, তাই ওই সময় পড়ার জন্যে একটা দারুণ সময়!
আমি সাধারনত নন-ফিকশন বেশি পড়ি। সায়েন্স, টেকনলজি, ইত্যাদি বিষয়ে আমার চরম কৌতুহল। পলিটিক্স, অর্থনীতি, ধর্ম, দর্শনও বাদ যায় না।
Tamim Shahriar
আমি নিজেও প্রচুর আর্টিকেল পড়ি। তবে আমি লক্ষ্য করেছি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর্টিকেল পড়লে নিজের তথ্যাভান্ডার সমৃদ্ধ হয়, কিন্তু deep insight তৈরির ক্ষেত্রে মনে হয় বই পড়ার বিকল্প নাই। আপনার কী এরকম কিছু মনে হয়?
Golam Kawsar
কিছুটা ঠিক। কিন্তু আমি যখন কোনো বিষয়ে আর্টিকেল পড়ি তখন সাধারণত অনেক লেখকের অনেকগুলো আর্টিকেল পড়ি। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন লেখকের দৃষ্টিকোণ থেকে একটা বিষয় সম্পর্কে জানা যায়। তবে বই যেহেতু অনেক দীর্ঘ, সেটাতে insight অবশ্যই বেশি হবে।
Tamim Shahriar
এবারে একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। আপনি কোন কোন স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করেছেন?
Golam Kawsar
আমি প্রাইমারি স্কুলে পড়েছি নোয়াখালীর এক প্রত্যন্ত গ্রামে, নাম বললে কেউ চিনবেনা। স্কুলের নাম হরি কৃষ্ণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটা নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নে অবস্থিত। হাই স্কুলে পড়েছি ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে। কলেজ নটর ডেম।
Tamim Shahriar
ভার্সিটিতে পড়ার সময় এবং পরবর্তি সময়ের কর্মজীবনে স্কুলের লেখাপড়ার প্রভাব কেমন?
Golam Kawsar
স্কুলের লেখাপড়ার প্রভাব বলার চেয়ে স্কুলজীবনের প্রভাব বলাটা মনে হয় বেশি যুক্তিসঙ্গত। স্কুলজীবনে ছেলেমেয়েদের কৌতুহল তৈরি হয়, বাবা-মা এবং বন্ধুবান্ধব থেকে তারা সেই কৌতুহল মেটায়। শুধু পড়ালেখার প্রভাব আমার মনে হয় খুব বেশি না।
Tamim Shahriar
কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার কারণ কী?
Golam Kawsar
এক কথায় বললে কারণ এটা আমাদের সময় একটা হট সাবজেক্ট ছিলো ।:-) কিন্তু পড়তে শুরু করার পর অবশ্য আমি কম্পিউটার সায়েন্সকে ভালোবাসতে শুরু করি। যদিও আমার আসলে পদার্থবিজ্ঞান পড়ার ইচ্ছা ছিলো।
Tamim Shahriar
ভার্সিটিতে একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী তার নিয়মিত লেখাপড়ার বাইরে আর কী কী করতে পারে?
Golam Kawsar
কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে যে তার সাবজেক্টে কাজ করার জন্যে শুধু একটা কম্পিউটার হলেই যথেষ্ট।
আর যাদের থিওরেটিকাল দিক নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছা তারা বাদের প্রায় সবারই প্রোগ্রামিং করে খেতে হবে। তাই প্রোগ্রামিং এ খুব ভালো হবার জন্যে প্র্যাকটিস করে যেতে হবে।
আর পড়ালেখার বাইরে যেকেনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের প্রেম করা উচিৎ। যে কারণেই হোক, বিপরীত লিঙ্গের মানুষের কাছে থাকলে আমরা কাজে কর্মে একটু বেশি উদ্দীপ্ত হই। 🙂 ভালোবাসার মানুষটির কাছে নিজের দাম বাড়ানোর জন্যেও অনেকে অনেক অসম্ভব কাজ করে ফেলে!
Tamim Shahriar
কোনো সন্দেহ নাই যে আপনার সাফল্যের রহস্য কোথায়। 🙂 আচ্ছা, প্র্যাকটিস কীভাবে করা যায়? আর ভালো সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার জন্য কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিংয়ের গুরুত্ব কতটুকু (যাকে আমরা এসিএম প্রোগ্রামিং বলে থাকি)?
Golam Kawsar
প্র্যাকটিস করার জন্যে কয়েক লক্ষ আইডিয়া আছে। 🙂 নিজে নিজে একটা ছোট ফেইসবুক এর মতো সোশাল নেটওয়ার্ক সাইট বানাতে পারে, একটা ছোট সার্চ ইঞ্জিন বানাতে পারে, একটা ই-কমার্সের ওয়েবসাইট বানাতে পারে, কতো রকম অ্যাপ বানানো যায়!
এসিএম প্রোগ্রামিং এর ব্যাপারটা এভাবে বলা যায়ঃ এসিএম প্রোগ্রামিং এ ভালো হলে প্রায় সব সময়েই ভালো সফটওয়ার প্রকৌশলী হওয়া যায়, কিন্তু ভালো সফটওয়ার প্রকৌশলী হওয়ার জন্যে সব সময় এসিএম প্রোগ্রামিং লাগে না!
Tamim Shahriar
বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে মুক (MOOC) একটি বাজওয়ার্ড। মুক বিষয়ে আপনার মতামত কী?
Golam Kawsar
MOOC আমার মনে হয় একটা চমৎকার জিনিস। আমি নিজে কোর্সেরা থেকে কয়েকটি কোর্স করেছি। আমি কখনো স্ট্যানফোর্ডে চান্স পাই নাই, কিন্তু MOOC এর কল্যাণে স্ট্যানফোর্ডের প্রফেসরদের ক্লাস বিনামূল্যে করার সুযোগ পেয়েছি!
Tamim Shahriar
অনলাইন কোর্স থেকে আসলে কতটুকু শেখা যায়?
Golam Kawsar
সত্যি কথা বলতে কি শেখার ব্যাপারটা অনেকটাই শিক্ষার্থীর কাছে। আমি নিজে আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে খুব কম ক্লাশই খুব মনোযোগ দিয়ে করেছি। যা শেখার পরে নিজে বাসায় এসে পড়েছি! ক্লাশে ভালো শিক্ষক পাওয়া এবং তার সাথে ইন্টারএকশন করে ভালো করে কিছু শেখা আসলে সবসময় হয়ে ওঠেনা।
কিন্তু যারা অনলাইনে কিছু শিখতে যাবে তারা আগ্রহ আছে বলেই যাবে। সেই আগ্রহ থেকেই শেখার ব্যাপারটা সহজ হয়ে যায়।
তাই শেখার সম্ভাবনাটাও বেশি।
Tamim Shahriar
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত ও এর সম্ভাবনা নিয়ে আপনার কী মনে হয়? প্রশ্নটা একটু সুনির্দিষ্ট করে বলি। বাংলাদেশে কম্পিউটার সায়েন্স এডুকেশন, সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ, বিভিন্ন সেক্টরে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার। এসব বিষয়ে আপনার কী মনে হয়?
Golam Kawsar
সত্যি কথা বলতে কি গতো বিশ বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়ে যেরকম উৎসাহ-উদ্দীপনা বিভিন্ন ভাবে তৈরি হয়েছে সেভাবে এটা এখনো একটা শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেনি আমাদের দেশে। বিশ বছর একটা বড় সময়। বিশ বছর ধরেই এই খাত এখনো “উদীয়মান” খাত হিসেবে রয়ে গেছে। এখনো একটা পরিপূর্ণ শিল্প হয়ে উঠেনি।
আমার মনে হয় এর একটা বড় কারণ আমাদের কম্পিটার সায়েন্স শিক্ষা ব্যবস্থা। আমি নিজের চোখে আমার বন্ধুদের প্রোগ্রাম মুখস্ত করে পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পেতে দেখেছি! কম্পিউটার বিজ্ঞান একটা ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট, এখানে ছাত্রছাত্রীদের কম্পিউটার দিয়ে কাজ করানো শিখতে হয়। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায়ই ছেলেমেয়েরা শুধু ভালো গ্রেইডের জন্যে পড়ালেখা করে। অনেকেই আসলে জানেনা একটা কম্পিউটার ঠিক কিভাবে কাজ করে।
দ্বিতীয় কারণ আমাদের দেশে সফটওয়ারের ব্যবহার খুবই কম। এটা ঠিক সফটওয়ারের আন্তর্জাতিক বাজার অনেক বড়, কিন্তু একটা মোটামুটি সাইজের দেশীয় বাজার থাকলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা সহজেই দেশীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়ার লেখার সুযোগ পেতো। যেটার জন্যে তারা এখন আন্তর্জাতিক বাজারে ইন্ডিয়া, চায়না, পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইতাদি দেশের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।
এরপর আছে সরকার। দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সরকার। সরকার যদি বিপুলভাবে সফটওয়ার ব্যবহার করতো তাহলেও আমাদের দেশে একটা দেশীয় সফটওয়ার বানানোর উদ্দ্যোগ শুরু হতো।
আর একটা ব্যাপার হচ্ছে আমাদের ইংরেজী জ্ঞান। ইংরেজীতে ভালো না হলে সফটওয়ার কেনো কোনো কিছুতেই আন্তর্জাতিক বাজার ধরা যায়না। আজকে যদি আমাদের গার্মেন্টস কর্মীদের ইংরেজী জানতে হতো তাহলে আমাদের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি কোনোভাবেই এতো ভালো পর্যায়ে আসতে পারতো না।

এরকম ১২টি সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে “প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার গাইডলাইন : এক ডজন প্রোগ্রামারের কথা”। বইটি পাওয়া যাচ্ছে নীলক্ষেতের হক লাইব্রেরি ও রকমারি ডট কম-এ। বিস্তারিত জানতে ওপরের ছবিতে ক্লিক করুন।

Tamim Shahriar
প্রযুক্তির প্রাথমিক পাঠ যদি আমরা বাংলায় নিতাম, তাহলে কি আমরা আরো বেশি সংখ্যক প্রযুক্তি কর্মী তৈরি করতে পারতাম না? কিংবা প্রথমবার প্রোগ্রামিং বা ডাটা স্ট্রাকচার শেখার সময় আমরা যদি বাংলা বইয়ের সাহায্য নেই, তাহলে কি সেটা আমাদের জন্য ভালো ব্যাপার হবে?
Golam Kawsar
সোজা কথায় বললে, না! উত্তরটা হ্যাঁ হতো যদি আমাদের প্রায় সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বই ইংরেজীতে হতো। যেমনটা চীনের ক্ষেত্রে ঘটছে। ওদের সবকিছু ওদের ভাষায়। আমাদের একটা দুইটা বই বাংলায় হলে উল্টো আমাদের ক্ষতি হবে। কয়েকটা কন্সেপ্ট বাংলায় আর বাকিগুলোর জন্যে ইংরেজী বই নিয়ে দৌড়াদৌড়ি খুব একটা ভালো জিনিস না নতুন জিনিস শেখার ক্ষেত্রে!
Tamim Shahriar
সবকিছু বাংলায় হলে কি ভালো হবে? মানে সবাইকে মোটামুটি মানের ইংরেজি শেখানো সহজ হবে নাকি প্রযুক্তির জ্ঞানকে বাংলা ভাষায় নিয়ে আসাটা বেশি সহজ হবে আমাদের জন্য?
Golam Kawsar
আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব বই বাংলায় থাকলে আমাদের তো আর ইংরেজী খুব বেশি জানার দরকার হবে না। শুধু বিদেশীদের সাথে কমিউনিকেশনের জন্যে যা দরকার সেটা লাগবে। লক্ষ করো আমি বলেছি সব বই। মানে সব ধরণের ইঞ্জিনিয়ারিং – ইলেক্ট্রিকাল, মেকানিকাল, সিভিল, সব ধরণের বিজ্ঞান – পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ইত্যাদি ইত্যাদি। চীনারা ঠিক এটাই করে। ওদের এতো বেশি অধ্যাপক এবং গবেষক আছে যে ওরা অসংখ্য বই নিজেরা নিজেদের ভাষায় লিখে ফেলে। বাইরের বিখ্যাত বইগুলো চাইনিজ ভাষায় অনুবাদ করে নেয়। তায় ওদের প্রায় সব পড়ালেখাই চাইনিজ ভাষায়। আমাদের যেহেতু সেই রকম অবস্থা নাই, তাই আমার মনে হয় আমরা ইংরেজীতে সব করলেই আমাদের জন্যে ভালো হবে।
Tamim Shahriar
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে এত সময় দেওয়ার জন্য।
Golam Kawsar
তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ আমার ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্যে!