একুয়ারিস ই৪.৫ – উবুন্টু ফোন

উবুন্টু অনেক বছর ধরেই স্মার্টফোন এবং স্মার্টডিভাইস মার্কেটে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছে। তবে তাদের এই চেষ্টা সত্ত্বেও, খুব একটা সফল তারা হয়ে উঠতে পারেনি কোনো ডিভাইস প্রস্তুতকারক কোম্পানিকে তাদের স্মার্টডিভাইসকেন্দ্রিক ওএস এর প্রতি আকৃষ্ট করতে। তবে তারা তারপরও হাল ছাড়েনি। দেড় বছর আগে তারা ক্রাউডসোর্সের মাধ্যমে উবুন্টু এজ নামে একটি স্মার্টফোন আনার চেষ্টা করেছিল যা কিনা একই সাথে স্মার্টফোন এবং ডেস্কটপের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। যদিও তা বিফলে যায় তাদের বিশাল ৩২ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায়।

তবে উবুন্টু আবার স্মার্টডিভাইস প্রস্তুতের মাধ্যমে এই বাজারে প্রবেশ করার পরিকল্পনা করছে। অবশ্য তাদের এই ফোন তাদের প্রস্তাবিত উবুন্টু এজের মতন মনিটরের সাথে সংযোগ দিলে ডেস্কটপ কম্পিউটারে পরিনত হবে না। তাদের এই নতুন ফোন, যা কিনা একুয়ারিস ই৪.৫ নামে পরিচিত হবে, মূলত প্রথম দিককার ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপারদের কথা চিন্তা করে প্রস্তুত করা। এই নতুন ফোন একটি নতুন কার্ড এর ন্যায় ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করবে যা কিনা বর্তমান অ্যাপকেন্দ্রিক ওএস এর চেয়ে খানিকটা ভিন্ন।

উবুন্টু এই ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে চায়নার বিখ্যাত ব্র্যান্ড শাওমি, যা কিনা বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক হিসেবে পরিচিত, তার বিক্রয় পদ্ধতি অনুসরন করার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ তারা শাওমি এর মতন একাধিক ফ্ল্যাশ সেল করবে। এর মাধ্যমে তারা ফোন সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করবে। ফলে ফোনের প্রস্তুতকরণের উপর চাহিদা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হবে। উবুন্টুর এই সংস্করণের প্রস্তুতকারক ক্যানোনিক্যাল আগামী সপ্তাহ থেকেই ইউরোপে এই বিক্রয় ব্যবস্থা শুরু করবে। এটির মাধ্যমে দ্রুত ফিডব্যাক নিয়ে তার ফলাফল দিয়ে ওএস এ দ্রুত কাজ করাও সম্ভব হবে।

ক্যানোনিক্যালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান পারিনো বলেন, “এই একটি প্রতিষ্ঠিত পরিকল্পনা যা কিনা ফোনটি সঠিক মানুষের কাছে পৌছতে সাহায্য করে।” তিনি আরও বলেন যে, আমরা জানি আমরা পরিবেশকের কাছ থেকে সরে আসছি তবে আমরা এই পরিল্পনা নিয়েই এগোতে চাচ্ছি।”

নতুন এই উবুন্টু ফোন অ্যাপকে এইচটিমিএল৫ অথবা সরাসরি তার ন্যাটিভ কোড কিউএমএল এ চালাতে সক্ষম। তবে এর অপারেটিং সিস্টেম পুরো প্রক্রিয়াকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে এর ইন্টারফেসের মাধ্যমে। আর এর ইন্টারফেস সচরাচর অ্যাপ গ্রিড ভিউ এর পরিবর্তে থিম কার্ড পদ্ধতি অনুসরণ করে যার ফলে কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা একেকটি কার্ড প্রদান করে। ক্যানোনিক্যাল একে স্কোপ বলে যা কিনা খানিকটা গুগলের কার্ড সিস্টেম ইউজার ইন্টারফেস গুগল নাও এর সোয়াইপ কে প্রয়োগ করে বাস্তবায়িত। এটিকে তারা স্কোপস নাম দিয়েছে।

ফোনের হোম স্ক্রিন এখানে হবে আজকের স্কোপ, যেখানে কিনা এমন সব উইজগেট থাকবে যা কিনা ব্যবহারকারী ফোনের সাথে সচরাচর যে কাজ করে থাকে তা তুলে ধরবে। এর মধ্যে থাকতে পারে আবহাওয়া বার্তা , সেদিনকার হেডলাইন অথবা অন্য কোন খবর, টুইটার বার্তা অথবা ব্যবহারকারীর যাদের সাথে সর্বোচ্চ যোগাযোগ করে তা।

উবুন্টু একুয়ারিস ই৪.৫

এছাড়া ডান দিকে সোয়াইপ করলে অন্যান্য স্কোপস এ যাওয়া যাবে যেমন,

  • মিউজিক স্কোপ, যা কিনা সাউন্ডক্লাউড এবং অন্যান্য মিউজিক স্ট্রিমিং সাইট থেকে গান লোদ করে দেখাবে। কোথায় কি কনসার্ট হচ্ছে তা দেখাবে সংকিক অ্যাপ দ্বারা।
  • ভিডিও স্কোপ, যা কিনা ইউটিউব এবং অন্যান্য ভিডিও সার্ভিসের ভিডিও দেখাবে।
  • ফটো স্কোপ, যা কিনা ব্যবহারকারীর সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবি নিয়ে দেখাবে।
  • নিয়ার স্কোপ, যা কিনা আসেপাশের সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ে তথ্য দিবে। যেমন কোথায় ট্রাফিক জ্যাম, কোথায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পাওয়া যাবে এবং রেস্টুরেন্ট।
  • অ্যাপ স্কোপ, যা কিনা ক্যামেরা, ক্যালেন্ডার এবং অন্যান্য প্রোগ্রামে যেতে সাহায্য করবে।

ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব স্কোপও বানাতে পারবে এবং একটি নির্দিষ্ট সেবা তার নিজের স্কোপও পাবে চাইলে। এর মাধ্যমে ক্যাননিক্যালের মতে, ব্যবহারকারীরা যেমন কোন ধরনের বাধা ধরা ছাড়াই কাজ করতে পারবে ফোনে্, ডেভেলপাররা তেমন তাদের অ্যাপ কম খরচে স্কোপের মাধ্যমে তৈরি করতে পারবে যা কিনা একটি পুরনাঙ্গ অ্যাপের ন্যায় কাজ করতে পারবে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট পারিনো বলেন, আপনি যদি আরেকটা ওএস নিয়ে আসেন যার নিজের অ্যাপ এবং আইকন আছে তাহলে আপনার এবং অন্যান্য ওএস এর মধ্যে সত্যিকার অর্থে কোন পার্থক্য নেই। এতে আপনি শুধুমাত্র তখনই ডেভেলপারদের আকৃষ্ট করবেন যখন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যবহারকারী আপনার ওএস ব্যবহার করবে। শুধুমাত্র তখন তারা আপনার ওএস জন্যে অ্যাপ বানানোর কথা চিন্তা করবে আর এতে আপনি ব্যবহারকারীর কাছে তখনই ভাল হবে যখন আপনার অ্যাপ ভাল হবে।

আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে এই মডেল থেকে বের হয়ে আসা এবং এমন একটি অভিজ্ঞতা দেয়া যা কিনা নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবে। সুতরাং আপনি যতই বেশি সেবা প্রদান করবেন আপনার ফোন ততই ভাল হবে। তবে কিছু সেবা এখন পাওয়া যাবে না যেমন ওয়াটসঅ্যাপ, স্কাইপ, এবং ইন্সটাগ্রামের কিছু নির্দিষ্ট ফিচার।

ক্যানোনিক্যাল এখানে লাভ করবে প্রতিষ্ঠানকে সাপোর্ট সার্ভিস প্রদান করে। এই ফোনটি মূলত প্রস্তুত করেছে স্প্যানিশ এক প্রতিষ্ঠান বিকিউ যাদের কিনা ইতোমধ্যে ফোনটির একটি অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ রয়েছে। বিকিউ মুলত প্রায় অজানা একটি ট্যাবলেট এবং ই-রিডার প্রস্তুতকারক।

ফোনটির স্পেসিফিকেশন তেমন আকর্ষণীয় নয়। ৪.৫ ইঞ্চি (৫৪০x৯৬০ রেজুলেশন) স্ক্রিন সাইজের এই ফোনে আছে ১.৩ গিগাহার্জ কোয়াড কোর কর্টেক্স এ৭ ভিত্তিক মিডিয়াটেক প্রসেসর, মালি ৪০০ জিপিউ, ১ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ। ক্যামেরা হিসেবে আছে, ৮মেগাপিক্সেল রিয়ার এবং ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফোনে আরও ডাটা রাখতে এতে রয়েছে মাইক্রোএসডি কার্ড সাপোর্ট এছাড়া আছে ডুয়াল সিম সাপোর্ট। ব্যাকআপ দিতে এতে আছে ২১৫০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফোনটির দাম পড়বে প্রায় ১৯৫ ডলার।

ফোনটি মুলত যারা নতুন কিছু অভিজ্ঞতা করতে চায় এবং উবুন্টুর ভক্তদের মধ্যে একটি যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিষয়টি দ্রুত এমন হতে পারে যখন এসকল ব্যবহারকারী অ্যাপ এর ন্যায় অভিজ্ঞতা এই ফোনগুলো থেকে পেতে যাবে বর্তমান বাজার প্রেক্ষিতে। তবে ইতোমধ্যে দাম হিসেবে এই ফোনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে মটোরলা, মাইক্রোসফট লুমিয়ার মতন ফোন। এখন এবার ক্যানোনিক্যাল সফল হতে পারে কিনা তাদের এই উবুন্টু ওস দিয়ে তাই হল দেখার বিষয়।

আপডেট:

একজন ইউটিউবার প্রথম একটি উবুন্টু ফোনের আনবক্সিং ভিডিও রিলিজ করেছে।

– এহসানুল হক নিটোল।