লিনাক্স কেন ব্যবহার করব?

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং—অনেক ভারী তিনটি শব্দ। কম্পিউটার শব্দটিকে যদিও অনেকে ভারী বলতে চাইবেন না। দৈনন্দিন কাজের প্রায় সবকিছুতেই কম্পিউটার ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে এটিকে আর বিশেষ কোনো যন্ত্র ভাবার সুযোগ নেই। আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করি আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম সহজ, দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার জন্য। আমাদের কাছে কম্পিউটার হচ্ছে বিভিন্ন কাজ করার সাধারণ একটা ‘টুল’ মাত্র। কিন্তু কম্পিউটার সায়েন্সের একজন শিক্ষার্থীর কাছে কম্পিউটার শুধু সাধারণ কাজের একটি ‘টুল মাত্র’ হলে চলে না। তার কম্পিউটার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এ জন্য তাকে কম্পিউটারকে বুঝতে হয়, জানতে হয় কম্পিউটার কোন কাজটি কীভাবে করে। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সম্পর্কে তার থাকতে হয় গভীর ধারণা।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের মাঝে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডোজ তৈরি হয়েছিল সাধারণ ডেস্কটপ ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে। মাইক্রোসফট তাই উইন্ডোজকে ডেস্কটপের সাধারণ ব্যবহারের জন্য যতটা উপযোগী করতে পেরেছে প্রোগ্রামিংয়ের জন্য ততটা উপযোগী করে তৈরি করতে পারেনি। সেটি করা খুব সহজও নয়। কারণ হচ্ছে এর গঠন-কাঠামো। কোনো সমস্যা হলে উইন্ডোজ একটা হেক্সাডেসিমেল এরর কোড দেখিয়ে বসে থাকে, কোনো বিস্তারিত তথ্য দেখায় না। ফলে সমস্যাটা আসলে কী, তা ব্যবহারকারী জানতে পারে না। আবার উইন্ডোজ ডায়াগনসিস নিজে নিজে অনেক সমস্যার সমাধান করে দেয়। ফলে আসল সমস্যাটি কী হয়েছিল এবং সেটি কীভাবে সমাধান হলো তা আর ব্যবহারকারী জানতে পারে না। সাধারণ ব্যবহারকারীদের এটা জানার দরকারও নেই। কিন্তু কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করা একজন শিক্ষার্থীর জন্য এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে লিনাক্স একেবারে প্রথম থেকেই সকলের জন্য উন্মুক্ত। এর সবকিছু খোলা। যে কেউ চাইলে সিস্টেমের যেকোনো অংশ দেখতে পারে। যে কেউ চাইলেই জানতে পারে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম বিভিন্ন ডিভাইসের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করে করে বা সেগুলোর মাধ্যমে কীভাবে সিগনাল গ্রহণ করে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে। একজন ডাক্তার যেমন রোগীর দেহের সব খুঁটিনাটি জানেন, কম্পিউটার বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থীরও কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের (অপারেটিং সিস্টেম) সব খুঁটিনাটি জানতে হয়। লিনাক্স এই জানার সুযোগটা পুরোপুরি দিয়ে থাকে। উইন্ডোজের কার্নেলটা এখন কেউ কয়েক বিলিয়ন ডলার দিয়েও পাবে না। লিনাক্সের কার্নেল কিন্তু ইন্টারনেট সংযোগ আছে এমন যেকোনো লোকই যেকোনো সময় দেখতে পারে, নিজের মতো পরিবর্তন করতে পারে, নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারে, অন্যকে দিতে পারে।

Tux, the Linux mascot.
টাক্স, লিনাক্সের মাসকট

যারা সফটওয়্যার ডেভেলপার, নিজে নিজে সবকিছু করতে পছন্দ করেন, তারা সাধারণত সব কিছু সম্পর্কেই বিস্তারিত জানতে আগ্রহী থাকেন। একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর জন্য এই আগ্রহ জরুরি। একজন প্রোগ্রামার সারাজীবনে যত কোড লেখে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অন্যের লেখা কোড পড়ে। লিনাক্সের প্রায় সবকিছু মুক্ত (ওপেনসোর্স) হওয়ায় কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর এর ভেতরের সবকিছু দেখে, কোড পড়ে, এমনকি চাইলে পরিবর্তন করে সবকিছু শিখতে পারে।

নিরাপত্তা কথাটি আজকাল এতো বেশি শুনতে হয় যে এটা নিয়ে কিছু না বলে থাকা যায় না। ইন্টারনেটের এই যুগে প্রায়ই দেখা যায় বিশাল বিশাল তথ্য ফাঁস, তথ্য চুরিসহ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অজস্র ঘটনা। নিজে কিছুটা সচেতন হলে হয়তো কিছুটা নিরাপদ থাকা যায়। কিন্তু আমরা মানুষ, তাই স্বভাবতই আজীবন সর্তক হয়ে থাকতে পারি না। উইন্ডোজে বিশাল বিশাল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিশাল বিশাল নিরাপত্তা সফটওয়্যার পাওয়া যায় যেগুলো আবার কম্পিউটারের কার্যক্ষমতার বিশাল একটা অংশ দখল করে বসে থাকে। ফলে আপনার হাতির ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারটি কাজ করতে পারে বলদের ক্ষমতায়। আবার সেই সফটওয়্যারটি হয়ত নতুন একটা ভাইরাস/ম্যালওয়্যারকে চিনতে পারে না। সুতরাং বলদ কম্পিউটারটিও যেকোনো সময় শুয়ে পড়তে পারে—নিরাপত্তা নিয়ে এমন একটা ভয় তো আছেই। লিনাক্সে সেই ভয়টি নেই। লিনাক্সে নিরাপত্তা আপডেটগুলো সব সময় চলমান থাকে। যেকোনো নিরাপত্তা-ত্রুটির জন্য প্যাচ (patch) পাওয়া যায় প্রায় সঙ্গে সঙ্গে। সে জন্য অ্যান্টিভাইরাস নামক অন্য এক দানব ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। সিস্টেমের ফাইল/প্রোগ্রামগুলো সামান্য পরিবর্তন করতে হলে লিনাক্সে পাসওয়ার্ড লাগে। কোনো ক্ষতিকর প্রোগ্রাম তাই চাইলেও সিস্টেমের কোনো ক্ষতি করতে পারে না।

লিনাক্সের প্রায় সব সফটওয়্যার ডিস্ট্রিবিউটরদের নিজস্ব নিরাপদ রিপোজিটরিতে থাকে। সেখানে ম্যালওয়্যার থাকার সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি। আর থার্ডপার্টি পরিচিত সফটওয়্যারগুলো নিজস্ব ওয়েবসাইটে থাকায় সেগুলো নিরাপদ। উইন্ডোজের অনেক সফটওয়্যারই ইন্টারনেটের বিভিন্ন জানা-অজানা ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে হয়, যেগুলোতে ম্যালওয়্যার থাকা প্রায় স্বাভাবিক ঘটনা। নিজে নিরাপদ থাকতে, নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে তাই লিনাক্সই একমাত্র নির্ভরযোগ্য অপারেটিং সিস্টেম ।

লিনাক্সকে নিজের ইচ্ছামতো সাজানো যায়, কনফিগার করা যায়। এটা লিনাক্সের অন্যতম বড় শক্তি। আমার সিস্টেম আমি নিজের ইচ্ছামতো সাজাব, সবকিছু আমার সুবিধামতো আমার হাতের কাছে থাকবে। আমি যা চাইব শুধু তাই থাকবে। লিনাক্সের ফাইল সিস্টেম উন্মুক্ত। সবকিছু নির্দিষ্ট ধারা মেনে চলে। আগের কোনো ধারণা না থাকলেও সহজ ও সরল হওয়ায় যে কেউ কয়েক ঘণ্টা ফাইল ম্যানেজার নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের মোটামুটি গঠনটা বুঝে ফেলতে পারবে। কম্পিউটার বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থীর জন্য নিজের অপারেটিং সিস্টেমের গঠনটা বোঝা জরুরি।

বলা হয়ে থাকে যে লিনাক্স প্রোগ্রামারদের জন্য প্রোগ্রামারদের দ্বারা তৈরি। তাই প্রোগ্রামিং-সংক্রান্ত কাজগুলো লিনাক্সে খুব সহজ ও স্বাভাবিকভাবে করা যায়। সি/সি++ বা পাইথনের মতো ভাষায় কাজ করতে গেলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লাইব্রেরি ব্যবহার করতে হয়। লিনাক্সে এগুলো ইনস্টল ও ব্যবহার করা একেবারে সহজ। লিনাক্স থেকে ওয়েব প্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ও সফটওয়্যার ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ। অপরদিকে উইন্ডোজে কোনো লাইব্রেরি ইনস্টল করা যেমন ঝামেলার, ব্যবহারও ঝামেলার (ব্যাপারটি অবশ্য আপেক্ষিক)।

লিনাক্সের অন্যতম বড় শক্তি হচ্ছে এর কমান্ডলাইন। এটা এর অন্যতম শক্তি হলেও, বেশিরভাগ মানুষ শুরুতে লিনাক্সকে ভয় পায় একমাত্র এই কমান্ডলাইনের কারণেই। তবে এখন দিন পাল্টেছে। একজন ব্যবহারকারী মাসের পর মাস কমান্ডলাইনে না গিয়ে শুধু গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস দিয়েই তার সব কাজ চালিয়ে নিতে পারে। আগে লিনাক্স না ব্যবহার করার আরেকটি অজুহাত ছিল—লিনাক্সে প্রয়োজনীয় কাজের সফটওয়্যার পাওয়া যায় না। এখন এই অজুহাত মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। লিনাক্সে এখন ছবি সম্পাদনা থেকে শুরু করে সুপারহিট কমার্শিয়াল অ্যানিমেশন মুভি পর্যন্ত বানানো যায়। উদাহরণস্বরূপ, পিক্সার (Pixar Animation Studio) লিনাক্স ব্যবহার করে। ওপেনসোর্স অ্যানিমেশন তৈরির সফটওয়্যার ‘ব্লেন্ডার’ দিয়ে তারা চমৎকার সব অ্যানিমেশন মুভি উপহার দিচ্ছে। তবে কমান্ডলাইন যে কী জিনিস তা প্রত্যেক অভিজ্ঞ লিনাক্স ব্যবহারকারীই জানে। কমান্ডলাইনে এমন সব কাজ কয়েক সেকেন্ডে করে ফেলা যায় যেগুলো সাধারণভাবে করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। লিনাক্স শেল ও শেল স্ক্রিপ্টের সঙ্গে পরিচিত হয়ে গেলে যেকোনো কাজ অটোমেটিক করে ফেলা সম্ভব—যেগুলো নিজে নিজে করা যায়।

লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনগুলো একেবারে সব কাজের জন্য তৈরি হয়ে আসে। ইনস্টলের পরপরই ছবি সম্পাদনার জন্য জনপ্রিয় ওপেনসোর্স সফটওয়্যার গিম্প, ভেক্টর গ্রাফিক সম্পাদনার জন্য ইংকস্কেপ, অফিস স্যুট হিসেবে লিব্রাঅফিস বা ওপেনঅফিসের পুরো প্যাকেজ, ব্রাউজার হিসেবে ফায়ারফক্স, একটি ইমেইল ক্লায়েন্ট, টরেন্ট ক্লায়েন্ট, জনপ্রিয় ওপেনসোর্স মিডিয়া প্লেয়ার ভিএলসি, টেক্সট এডিটর হিসেবে সাধারণ একটি এডিটরের পাশাপাশি চমৎকার কমান্ডলাইন এডিটর ভিম, ইম্যাকস বা ন্যানো পাওয়া যায়। লিনাক্স যেহেতু ডেভেলপারের জন্য, সেহেতু এখানে পাইথন, জাভাস্ক্রিপ্ট, পার্লের মতো জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষাগুলো আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকে। অন্য প্রোগ্রামিং ভাষাগুলো ইনস্টল করাও একটা কমান্ডের ব্যাপার। বেশিরভাগ প্রোগ্রামিং টুল প্রধানত লিনাক্সের জন্য তৈরি হয়।

লিনাক্স ব্যবহারের আরেকটা কারণ হচ্ছে ছাত্র এবং পেশাগত জীবনে এর ব্যবহার। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল পড়তে গেলে অপারেটিং সিস্টেম নামে এক বা একাধিক কোর্স থাকে। সেই কোর্সে একটা অপারেটিং সিস্টেমের মৌলিক খুঁটিনাটি শেখানো হয়। লিনাক্সের সোর্সকোড উন্মুক্ত বলে এই কোর্স লিনাক্স দিয়েই করানো হয়। পাশাপাশি অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করার ইচ্ছা আছে যাদের, তাদের তো লিনাক্স কার্নেল ছাড়া গতি নেই। তাই লিনাক্স ব্যবহার এবং এর মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর পরিষ্কার ধারণা থাকা আবশ্যক। প্রফেশনাল জীবনে যারা বড়সড় বা মাঝারি ধরনের কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করবে তাদের জন্য লিনাক্স জানা বাধ্যতামূলক। খুব দক্ষ হতে হবে এমন নয়, মৌলিক ধারণাগুলো—কমান্ডলাইন ব্যবহার, মৌলিক ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য কমান্ডগুলো, কোনো একটা কমান্ডলাইন এডিটর (ভিম, ন্যানো, ইম্যাকস) ব্যবহার, কমান্ডলাইনে গিট (git) ব্যবহার ইত্যাদি জানতে হয়। যারা সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হবে বা সার্ভার নিয়ে কাজ করবে, ৯০% সম্ভাবনা আছে তাদের অবশ্যই লিনাক্স ব্যবহার করতে হবে। কারণ নিরাপত্তার জন্য ইতিমধ্যে বেশিরভাগ কোম্পানি লিনাক্স সার্ভার ব্যবহার করে। যারা করে না তাদের বড় একটা অংশও লিনাক্সে চলে যাচ্ছে বা যাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। খোদ মাইক্রোসফটও লিনাক্স সার্ভার ব্যবহার করে। আর লিনাক্স সার্ভারে কোনো গুই, অর্থাৎ গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস নেই। সার্ভারের সব কাজ কমান্ডলাইনে করতে হয়। এটা শুনে (পড়ে) ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কমান্ডলাইন ব্যবহার করা শুনতে যত কঠিন মনে হয় বাস্তবে ঠিক ততটাই সহজ ও মজার।

এমনিতে দেখা যায় লিনাক্স ব্যবহার করে যারা অভ্যস্ত, অন্যদের তুলনায় তারা অনেক এগিয়ে থাকে। লিনাক্সে প্রোগ্রামিং করতে গেলে দেখা যায় অনেক কিছু কমান্ড লিখে করতে হয় (আজকাল ভারী ভারী আইডিই থাকার কারণে হয়তো সব সময় এটা করতে হয় না, তবে শুরুতে করতে হয়)। এই কারণে তাদের অনেক কিছু জানতে হয়। একজন মোটামুটি নতুন লিনাক্স ব্যবহারকারী প্রোগ্রামার যা জানে, একজন উইন্ডোজ ব্যবহারকারী মোটামুটি অভিজ্ঞ প্রোগ্রামারও তা জানে না। লিনাক্স ব্যবহারকারীরা যেসব বিষয় জানে, সেসব বিষয় যে জানতে হয়—উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা সেটাই জানে না, সেসব জানবে তো দূর। এই কথার সত্যতা আপনারা নিজের ক্লাসমেটদের দিয়েই যাচাই করতে পারেন।

সবকিছুর পরে কে কী ব্যবহার করবে তা একান্তই ব্যক্তিগত ইচ্ছা। আমি এখানে লিনাক্সের কিছু সুবিধার কথা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। আপনার কাছে যদি সুবিধাজনক মনে হয়, তাহলে লিনাক্সের দুনিয়া থেকে একটু ঘুরে আসতে পারেন। আশা করি ভালো লাগবে।

Facebook Comments

Leave a Reply