কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ২য় খণ্ড

আগামীকাল (শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৬) প্রকাশিত হতে যাচ্ছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং দ্বিতীয় খণ্ড। বইটি সম্পর্কে নানান জনের নানান জিজ্ঞাসার জবাবগুলো সব একসাথে রাখার জন্যই এই পোস্ট।

বইয়ের নামঃ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ২য় খণ্ড

প্রকাশকঃ দ্বিমিক প্রকাশনী

পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৮০

মূল্যঃ (সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য) ২৫০ টাকা

বইতে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়েছে? সি (C)

কোথায় পাওয়া যাবে? নীলক্ষেতের হক লাইব্রেরি (ফোনঃ 01820-157181)মানিক লাইব্রেরিতে (ফোনঃ 01735-742908)। ঈদের ছুটির পরে রকমারি ডট কম (rokomari.com) -এ পাওয়া যাবে। যারা ঢাকার বাইরে থাকে, তাদের জন্য রকমারি থেকে কিনলেই সুবিধা, কুরিয়ারে বই পৌঁছে দিবে। যারা দেশের বাইরে থাকে, তারা কিভাবে কিনবে আমি জানি না।

পিডিএফ ভার্শন আছে? নাই।

বইতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?

অধ্যায় ১ – কম্পিউটার মেমোরি (Computer Memory) 18
১.১ – বিট ও বাইট 19
১.২ – ভ্যারেয়িবলের অ্যাড্রেস বা ঠিকানা 21
১.৩ – বিভিন্ন প্রকারের মেমোরি 24
অধ্যায় ২ – পয়েন্টার 27
২.১ – নাল পয়েন্টার 35
২.২ – স্ট্রিং ও পয়েন্টার 37
২.৩ – পয়েন্টারের পয়েন্টার 39
অধ্যায় ৩ – ফাইল (File) 42
অধ্যায় ৪ – রিকার্শন (Recursion) 63
৪.১ – লোকাল ও গ্লোবাল ভ্যারিয়েবল 63
৪.২ – স্ট্যাটিক ভ্যারিয়েবল 65
৪.৩ – বিভিন্ন প্রকারের মেমোরি 67
৪.৪ – রিকার্শন 69
অধ্যায় ৫ – বিটওয়াইজ অপারেশন (Bitwise Operation) 85
অধ্যায় ৬ – স্ট্রাকচার (Structure) ও ইউনিয়ন (Union) 99
৬.১ – স্ট্রাকচার (Structure) 99
৬.২ – ইউনিয়ন (Union) 112
৬.৩ – স্ট্রাকচারের মেমোরি অ্যালাইনমেন্ট 114
অধ্যায় ৭ – আরও পয়েন্টার 119
৭.১ – পয়েন্টারের হিসাব-নিকাশ 126
৭.২ – ভয়েড পয়েন্টার (void pointer) 129
৭.৩ – ফাংশন পয়েন্টার 130
৭.৪ – qsort ও bsearch ফাংশন 133
অধ্যায় ৮ – মজার কিছু প্রোগ্রাম 137
৮.১ – সময় পরিমাপ 137
৮.২ – র‍্যানডম নম্বর (random number) তৈরি 138
৮.৩ – নিজে হেডার ফাইল তৈরি করা 140
অধ্যায় ৯ – বিবিধ 142
৯.১ – কনস্ট্যান্ট (constant) ও ম্যাক্রো (Macro) 142
কনস্ট্যান্ট (constant) 142
ম্যাক্রো 143
৯.২ – এনিউমারেশন (enumeration) 146
৯.৩ – কমান্ড লাইন আর্গুমেন্ট (Command Line Argument) 150
৯.৪ – প্রোগ্রাম কম্পাইল হওয়ার ধাপসমূহ 154
৯.৫ – #typedef ও #define নিয়ে কিছু কথা 156
৯.৬ – main() ফাংশন ও return 0 158
৯.৭ – lvalue এবং rvalue 160
অধ্যায় ১০ – প্রোগ্রাম ডিবাগিং 164
১০.১ – ডিবাগিং কী? 164
১০.২ – সাধারণ ডিবাগিং 164
১০.৩ – কোডব্লকসে ডিবাগিং 169

বইটি কাদের জন্য উপযোগি?

যেসব শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে আমার কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ১ম খণ্ড বইটি শেষ করেছে, এই বইটি মূলত তাদের জন্য। এছাড়া কেউ যদি ৫২টি প্রোগ্রামিং সমস্যা ও সমাধান বইটি পড়ে থাকে এবং সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করে থাকে, তাহলে তার জন্য বইটি পড়া সহজ হবে।

বইয়ের ভূমিকাঃ

আমার কম্পিউটার প্রোগ্রামিং (যেটি পরবর্তী সময়ে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ১ম খণ্ড নামে প্রকাশ করা হয়) বইটি প্রকাশ হওয়ার পরে দেখতে দেখতে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। এই সময়ে আরও বেশ কয়েকটি বই লিখলেও কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ২য় খণ্ড লেখার কাজ অনেক ধীরগতিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বইটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আশা করি, ১ম খণ্ড পড়ার পরে এই বইটিকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের যেই প্রত্যাশা, সেটি পূরণে বইটি সক্ষম হবে।

আমি সবসময় মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের দিকে জোর দেই। কারণ কারও বেসিক খুব ভালো থাকলে সে বহুদূর যেতে পারবে। তাই এই বইতেও প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক কিছু বিষয় নিয়ে আলাপ করেছি। ১ম খণ্ডের মতো, এই বইতেও প্রোগ্রামিং ভাষা হিসেবে সি ব্যবহার করেছি। এই বইটি পড়ার পরে শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক জ্ঞান যেমন বাড়বে, তেমনি সি প্রোগ্রামিং ভাষায় দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবেবাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিংয়ের গড়পড়তা মান বৃদ্ধিতেও বইটি অবদান রাখতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

বইটির জন্য অনেক ছেলেমেয়ে আমাকে তাড়া দিয়েছে, ইমেইল করে, ফেসবুকে পোস্ট করে। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। বইটি রিভিউ করেছেন শাহরিয়ার মঞ্জুর, শহীদুল ইসলাম (সুমন), মীর ওয়াসি আহমেদ ও তাহমিদ রাফি। তাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। তাহমিদ রাফি বইটির সম্পাদনা ও পেজ মেকাপের কাজটি করেছে। সেই সঙ্গে কিছু কিছু অংশে বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করেছে, আর ডিবাগিং অধ্যায়টিও তার লেখা। এজন্য সে বিশেষ ধন্যবাদ প্রাপ্য। আর বই লেখার সময়কালে আমার পুত্র আরাভের দেখাশোনার কাজটি পুরোপুরি নিজের কাঁধে নিয়ে আমার লেখার সময় বের করে দেওয়ার জন্য আমার স্ত্রী পারমিতাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

পাঠকের চোখে কোনো ভুলত্রুটি কিংবা অসঙ্গতি ধরা পড়লে আমাকে ইমেইল করার অনুরোধ রইল, পরবর্তী সংস্করণে সংশোধন করার চেষ্টা করব

তামিম শাহরিয়ার সুবিন,
 গ্র্যাব আর এন্ড ডি সেন্টার, সিঙ্গাপুর।
 আগষ্ট, ২০১৬।

https://fb.com/tamim.shahriar.subeen
https://twitter.com/subeen

আলফাগো বনাম লি সেডল – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মানুষ

ডিপ ব্লু-এর পর এবার আলফাগো। আবারো কম্পিউটারের সঙ্গে খেলে মানুষের হার! ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলে। গুগলের ডিপমাইন্ড ইউনিটের তৈরি “গো” খেলার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রোগ্রাম “আলফাগো” পরপর তিনবার হারিয়ে দিলো ৩৩ বছর বয়সি পেশাদার কিংবদন্তী  “গো” খেলোয়ার লি সিডলকে। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চারটিতেই জিতেছে “আলফাগো”। পরপর তিনবার হারার পর চতুর্থ ম্যাচে এসে জয় পান লি সিডল। এই একটিমাত্র জয়কে তিনি “অমূল্য” হিসেবে গণ্য করেছেন। প্রথম গেমটিতে হারার পর লি সাংবাদিকদের বলেনঃ “আমি খুবই অবাক হয়েছি। আমি হারবো এটা কখনো ভাবিনি। আলফাগো এত ভাল খেলবে এটা আশা করিনি।”

গো অথবা ষোলগুটি বা বাঘবন্দিঃ

“গো” নামক কয়েক হাজার বছরের পুরানো গেমের উদ্ভব হয় চীনে। খেলাটি অনেকটা আমাদের দেশের ষোলগুটি বা বাঘবন্দি খেলার মত। একটি নির্দিষ্ট বোর্ডে সাদা এবং কালো গুটি নিয়ে দুইপক্ষকে খেলতে হয়। উদ্দেশ্য থাকে প্রতিপক্ষের গুটি আটকে বোর্ডের দখল নেয়া। যে বোর্ডের অর্ধেকের বেশি এলাকা দখল করতে পারবে, সেই বিজয়ী। দাবা খেলার সাথে এই খেলার বড় পার্থক্য হচ্ছে, এখানে অসংখ্য সম্ভাবনাময় চাল থাকে। কেবলমাত্র গাণিতিক হিসাব করে সম্ভাব্য চাল বের করা অসম্ভব।

“গো” খেলার জন্য গুগল ডিপমাইন্ড “আলফা-গো” কম্পিউটার প্রোগ্রামটি তৈরি করেছে। এটির অ্যালগোরিদম মেশিন লার্নিং এবং ট্রি সার্চিং প্রযুক্তি সমন্বয়ে করা হয়েছে। এতে পলিসি এবং ভ্যালু নেটওয়ার্ক হিসেবে দুইটি নিউরাল নেটওয়ার্ক আছে। পলিসি নেটওয়ার্কটি সম্ভাব্য সেরা চালটি দ্রত হিসাব করতে পারে এবং ভ্যালু নেটওয়ার্কটি প্রতিটি চালের শুরুতে অপ্রয়োজনীয় চালগুলো বাদ দিয়ে সম্ভাব্য চালের পরিমাণ কমিয়ে ফেলে।মানুষের এই “অপ্রয়োজনীয়” চাল বাদ দেয়ার সক্ষমতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোরে অবশেষে ভাগ বসালো আলফাগো। আলফাগো-এর প্রাথমিক পর্যায়ে, একে বিভিন্ন এক্সপার্ট গেমারের ঐতিহাসিক গেমের চালগুলো মনে রাখতে বলা হয়েছিল, ৩০ মিলিয়ন চালের একটি ডাটাবেস থেকে। পরবর্তীতে একটি নির্ধারিত পর্যায়ের দক্ষতা অর্জনের পর রি-ইনফোর্সমেন্ট লার্নিং এর সাহায্যে আলফা-গো-এর সক্ষমতা এমনভাবে বৃদ্ধি করা হয় যে এটি নিজে নিজে খেলার দক্ষতা অর্জন করে।

আলফাগো বনাম লি সেডলঃ

আলফাগো বনাম লি সেডল-এর “গুগল ডিপমাইন্ড চ্যালেঞ্জ ম্যাচ” সিওলে ৯ মার্চ-এ শুরু হয়ে ১৫ মার্চ শেষ হয়। প্রথম ম্যাচটিতে আলফাগো জয়লাভ করে যদিও পুরো ম্যাচের বেশিরভাগ সময় জুড়েই ছিল লি-এর আধিপত্য। কিন্তু শেষ ২০ মিনিটে আলফাগো আধিপত্য বিস্তার করে ম্যাচ জিতে নেয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, খেলার প্রথমদিকে লি  আলফাগো-এর ক্ষমতা যাচাই করার জন্য বেশ বড়সড় একটি ভুল করে বসেন। সেই ভুলের উত্তরে আলফাগো-এর চালটি ছিল একেবারে নিখুঁত এবং কার্যকরী।

চতুর্থ ম্যাচ, যেটিতে লি জয়লাভ করে মানবজাতির মানসম্মান রক্ষা করে, সেখানেও ৭৮ নাম্বার চাল পর্যন্ত আলফাগো-এর জিতে যাওয়ার সম্ভবনা ছিল ৭০%। কিন্তু ৭৯ নাম্বার চালে ভুল করে ফেলার কারণে আলফাগো বঞ্চিত হয় লি সেডলকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ থেকে।

১৮টি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার বিজয়ী পেশাদার গো খেলোয়ার লি সেডল ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন যে শুরুর দিকে তিনি আলফাগো-এর খেলোয়াড়ি দক্ষতাকে অবজ্ঞা করেছিলেন। ডিপমাইন্ডের প্রতিষ্ঠাতা ডেমিস হাসাবিস বলেন, এ পরাজয় মূল্যবান। কারণ, এ থেকে আমরাও আমাদের প্রোগ্রামের দুর্বলতা খুঁজে বের করতে পারবো। “গুগল ডিপমাইন্ড চ্যালেঞ্জ”-এর বিজেতা হিসেবে আলফাগো এক মিলিয়ন ডলার পুরষ্কার জিতে নিয়েছে। ডিপমাইন্ড-এর বিবৃতি অনুযায়ি এই পুরষ্কারের অর্থ ইউনিসেফ, গো অর্গানাইজেশন এবং অন্যান্য দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা হবে। ম্যাচ শেষে “সাউথ কোরিয়া গো অ্যাসোসিয়েশন” আলফাগো-কে “গো গ্র্যান্ডমাস্টার” পদবী প্রদান করে।

লেখক : তামান্না নিশাত রিনি।

সার্গেই ব্রিন

বিশ্ববিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন “গুগল” এর নাম কে না জানে! “গুগল” ও সার্চ ইঞ্জিন আজ সমার্থক শব্দ। এই সার্চ ইঞ্জিন গুগলের অন্যতম কারিগর এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতার নাম সার্গেই ব্রিন। যাকে দ্যা ইকোনোমিস্ট পত্রিকা “নবজাগরনের দূত (Enlightened Men)” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

googleio20111291_610x407

সার্গেই মিখাইলোভিচ্‌ ব্রিন ১৯৭৩ সালের ২১ আগস্ট রাশিয়ার মস্কো শহরে  ইহুদী দম্পতি মিখালি ব্রিন এবং ইউজেনিয়া ব্রিনের সংসারে জন্মগ্রহণ করেন। সার্গেই ব্রিনের বাবা মিখালি ব্রিন ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক এবং মা ইউজেনিয়া ব্রিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসায় গবেষক হিসেবে কর্মরত।

সার্গেই ছোটবেলার কিছুসময় মস্কো শহরে বেড়ে উঠেন। রাশিয়া অর্থাৎ তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে ইহুদীদের অবস্থা ছিলো শোচনীয়। ইহুদীদের উপর চলমান নির্যাতন এড়াতে ব্রিন পরিবার ১৯৭৯ সালে আমেরিকার মেরীল্যান্ডে চলে আসেন। যদিও আমেরিকায় আসার ব্যাপারে সার্গেই ব্রিনের মায়ের মত ছিলো না।

মেরিল্যান্ডের মন্টেসেরী স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষার সময় সার্গেই ছবি আঁকার শাখায় ভর্তি হন। স্কুলের পড়ার পাশাপাশি গণিতবিদ বাবার উৎসাহে তিনি বাসায় গণিত চর্চা চালিয়ে যান এবং পরিবারের অন্যান্যদের সহায়তায় নিজের মাতৃভাষা রাশিয়ান ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হবার পর সার্গেই মেরিল্যান্ডের ইলেনর রুজভেল্ট হাই স্কুলে ভর্তি হন।

বাবার সাথে শিশু সার্গেই ব্রিন
বাবার সাথে শিশু সার্গেই ব্রিন

হাই স্কুল পাশ করার পর ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সার্গেই ব্রিন মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও গণিত বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৯৩ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।

স্নাতক শেষ করার পর ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের ফেলোশিপ নিয়ে  সার্গেই ব্রিন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং ১৯৯৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সার্গেই এর সাথে পরিচয় হয় আরেক জিনিয়াস ল্যারি পেজ-এর। প্রথম প্রথম সার্গেই এবং ল্যারি দুজন কখনোই কোন বিষয়ে  একমত হতে পারতেন না, কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁরা দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠেন। দুই বন্ধু মিলে পরবর্তীতে একটি পেপার লেখেন যার শিরোনাম ছিলঃ

“দ্যা এনাটমি অফ অ্যা লার্জ স্কেল হাইপার টেক্সচুয়্যাল ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন।”

এই পেপারটি আজও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রিয়তম একটি প্রকাশনা।

দুই বন্ধু ল্যারি পেজ(বামে) এবং সার্গেই ব্রিন (ডানে)
দুই বন্ধু ল্যারি পেজ(বামে) এবং সার্গেই ব্রিন (ডানে)

সার্গেই যখন স্ট্যানফোর্ডে পড়েছিলেন, তখনি ইন্টারনেটের প্রতি তাঁর আকর্ষণ বাড়তে থাকে। ডাটা–মাইনিং এবং প্যাটার্ন–এক্সট্রাকসনের উপর তিনি একাধিক পেপার লিখে ফেলেন। এর পাশাপাশি তিনি একটি সফটওয়ার তৈরী করেন যা টেক্স ফরম্যাটে লেখা বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে ওয়েব পেইজে রূপান্তর করতে পারে।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের বিশাল লিংক ভান্ডার এবং কনটেন্ট নিয়ে পেজ এবং সার্গেই ব্রিন একটি গবেষণা প্রজেক্ট করেন যার নাম দেন ব্যাকরাব (BackRub)। তাঁরা দুইবন্ধু মিলে “পেজ র‍্যাঙ্ক” এ্যালগোরিদম উদ্ভাবন করেন এবং বুঝতে পারেন যে এই এ্যালগোরিদম ব্যবহার করে উচ্চতর ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করা সম্ভব।

সার্গেই ব্রিন বন্ধু ল্যারি পেজকে সাথে নিয়ে এর পর নেমে গেলেন স্ট্যানফোর্ডের গবেষণা প্রকল্প হিসেবে সার্চ ইঞ্জিন তৈরির কাজে। ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহৃত হতে লাগলো ল্যারি পেজের ডরমেটরী কক্ষটি। তাঁরা বিভিন্ন সস্তা কম্পিউটারের অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ দিয়ে বিভিন্ন ডিভাইস তৈরি করা শুরু করেন। সেই ডিভাইসগুলো দিয়ে তাঁরা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের সাথে তাঁদের সার্চ ইঞ্জিনের সংযোগ স্থাপন করেন।

যন্ত্রপাতি তৈরি করতে করতে একসময় ল্যারি পেজের ঘর যন্ত্রপাতি দিয়ে ভর্তি হয়ে গেল। তাই দুইবন্ধু পেজ এবং ব্রিন এবার চলে এলেন সার্গেই ব্রিনের ডরমেটরিতে। ব্রিনের ডরমেটরি পরিণত হয় তাঁদের অফিস এবং প্রোগ্রামিং সেন্টারে যেখানে তাঁরা তাঁদের সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবে কেমন ফলাফল  দিচ্ছে সেটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যান। ধীরে ধীরে তাঁদের তৈরি করা সার্চ ইঞ্জিন স্ট্যানফোর্ডের ব্যবহারকারিদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

গাণিতিক ধারণা “গোগোল” এর নাম থেকে ব্রিন-পেজ তাঁদের তৈরি করা সার্চ ইঞ্জিনের নাম দেন “গুগল”। ১৯৯৪ সালে তাঁদের এক বন্ধুর ব্যক্তিগত গ্যারেজে প্রতিষ্ঠিত হয় গুগলের সার্ভার। ১৯৯৬ সালের আগস্ট মাসে “গুগল”-এর প্রাথমিক সংস্করণ সকল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

সার্চ ইঞ্জিন তৈরি হলেও নতুন একটি কোম্পানি শুরু করার মত অর্থ দুই বন্ধুর কাছে ছিলো না। ব্রিন এবং পেজ তখন নেমে গেলেন অর্থ যোগানের কাজে। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১ মিলিয়ন ডলার যোগার করে ১৯৯৮ সালে দুই বন্ধু মিলে তাঁদের কোম্পানি “গুগল ইনকর্পোরেট” শুরু করেন। গুগলের সার্চ রেজাল্ট ঐ সময়ের সার্চ ইঞ্জিনগুলোর চেয়ে ভাল অবস্থান করে ফেলে। সেই থেকে গুগল হয়ে উঠে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন যেটির গড় সার্চ রেট দিনপ্রতি এখন ৫.৯ বিলিয়ন।

গুগল ছাড়াও সার্গেই ব্রিন অন্যান্য কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পছন্দ করেন। Google.org এর মাধ্যমে সার্গেই ব্রিন পৃথিবীর পরিবেশ এবং শক্তির রূপান্তর সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য বিনিয়োগ করেন। এছাড়াও সার্গেই ব্রিন গুগল গ্লাস এবং চালকবিহীন গুগল গাড়ি প্রকল্পের সাথেও যুক্ত ছিলেন।

২০০৬ সালে সার্গেই ব্রিন ও ল্যারি পেজের গুগল কোম্পানি ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারে ইউটিউব কিনে নেয়।

২০০৭ সালে সার্গেই ব্রিন বায়োটেক বিশেষজ্ঞ এবং উদ্যোক্তা অ্যান উজেকেকি-কে বিয়ে করেন। অ্যানের স্বাস্থ্য  সংক্রান্ত তথ্যের উপর বিশেষ আগ্রহ থাকায় তিনি এবং সার্গেই ব্রিন দুজনে মিলে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এসব তথ্য ব্যবহার আরো সহজ করার জন্য কাজ করেন। “হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট”-এ কাজ করা গবেষকদের মধ্যে ব্রিন এবং অ্যান এর নাম অন্যতম। জেনেটিক, কম্পিউটিং সমস্যা এবং ডাটাবেজে দুইজনের সমান আগ্রহ থাকায় এই দম্পতি “23AndMe” নামে একটি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন।

স্ত্রী অ্যান উজেকেকি-এর সাথে সার্গেই ব্রিন
স্ত্রী অ্যান উজেকেকি-এর সাথে সার্গেই ব্রিন

অ্যান এবং ব্রিন দম্পতির সাত বছরের একটি ছেলে এবং চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে এই দম্পতি আলাদা বসবাস করছেন।

২০০৮ সালে সার্গেই মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেডিসিনে অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন যেখানে তাঁর মা পারকিনসন্স রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ব্রিন “23AndMe” এর সেবা গ্রহণ করে জানতে পারলেন পারকিনসন্স বংশগত কোন রোগ না হলেও তিনি এবং তাঁর মা ইউজেনিয়া LRRK2 জিনের একটি মিউটেশন বহন করছেন যেটার কারণে ভবিষ্যতে তাঁর পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২০%-৮০% । দ্যা ইকোনোমিস্ট পত্রিকা তাঁদেরসম্পাদকীয়তে এ সম্পর্কে লিখেছিলঃ

“ব্রিন মনে করেন LRRK2 এর মিউটেশন হচ্ছে তাঁরব্যক্তিগত কোডের একটি বাগ এবং অন্যান্য কম্পিউটার প্রোগ্রামের বাগের মত একজন গুগল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি প্রতিদিনই এই বাগটি ঠিক করে যাচ্ছেন।”

সার্গেই ব্রিন যৌথভাবে ল্যারি পেজের সাথে দুইটি বোয়িং জেটের মালিক। বিমান দুটিতে পরীক্ষালব্ধ উপাত্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নাসা স্থাপন করে দিয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাটলসে বর্তমানে সার্গেই ব্রিন বসবাস করছেন। স্নাতকোত্তর পড়া শেষ হবার পর যদিও তিনি পিএইচডি করার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু সেই পিএইচডি তাঁর শেষ করা হয়ে উঠেনি। ২০০৮ সালে তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে বিরতি গ্রহন করছেন। ২০১৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৯.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালে ফোর্বস্‌ সাময়িকী যৌথভাবে তাঁকে পৃথিবীর পঞ্চম ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। এছাড়াও সার্গেই ব্রিন এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ টিআর১০০ এর ঘোষণা অনুযায়ী ৩৫ বছরের কম বয়সী ১০০ জন আবিষ্কারকের তালিকায় আসেন। ২০১৪ সালে ব্যক্তিগত ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পত্তির মালিক হিসেবে ফোর্বস্‌ সাময়িকি সার্গেই ব্রিনকে বিশ্বের ২০তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।  

লেখক : তামান্না নিশাত রিনি।